প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
মার্শাল আর্টের আড়ালে আল-কায়েদা: বাংলাদেশে নতুন জঙ্গি নেটওয়ার্কের নীল নকশা
||
বাংলাদেশে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)-এর আদলে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার এক ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে। আল-জাজিরার প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের সংগৃহীত তথ্যে জানা গেছে, ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ (এফসিএস) নামের একটি সংগঠন দেশের বিভিন্ন জেলায় তরুণদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে একটি বিপজ্জনক সশস্ত্র কাঠামো তৈরি করছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহ আমানত সাবির নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে এই চক্রের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই নেটওয়ার্কের সাথে আফগানিস্তান ফেরত উগ্রপন্থীদের সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে। রাজধানীর বসিলায় বিদেশি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অর্থের সহায়তায় গড়ে তোলা একটি আবাসন প্রকল্পের আড়ালে মূলত টিটিপি-র জন্য সদস্য রিক্রুটমেন্ট বা নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এই চক্রটির মূল লক্ষ্য হলো পাকিস্তানের টিটিপির অনুকরণে ‘তেহরিকে তালেবান বাংলাদেশ’ (টিটিবি) গঠন করা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা।বর্তমানে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম খুলনা, যশোর ও চাঁদপুর জেলাসহ খুলনার সুতারখালী ও যশোরের অভয়নগর উপজেলায় তাদের মার্শাল আর্ট সেন্টারগুলো পরিচালনা করছে। দৃশ্যত স্থানীয় স্টেডিয়ামগুলোতে তারা সাধারণ আত্মরক্ষা শেখানোর নাম করে কাজ শুরু করলেও, তাদের আসল কর্মকাণ্ড চলে পর্দার আড়ালে। গোপনীয়তা বজায় রাখতে তারা টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে টিটিপি ও আল-কায়েদার উগ্রবাদী বয়ান প্রচার করে। সেখানে তরুণদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করার পর নির্দিষ্ট কয়েকজনকে চূড়ান্ত প্রশিক্ষণের জন্য বাছাই করা হয়। পরবর্তীতে এই বাছাইকৃত যুবকদের কিশোরগঞ্জের নিকলীর ছাতির চরের মতো দুর্গম চরাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে এদের অনেককে আফগানিস্তানে যুদ্ধ করতে পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে এই চক্রের।
এই বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডে শাহ আমানত সাবিরের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন মোঃ মাহফুজুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাংলাস্তানের জঙ্গি’ নামক একটি বিতর্কিত ফেসবুক পেজ পরিচালনার মাধ্যমে তিনি প্রচারণা চালান এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় এফসিএস-এর আখড়াগুলোতে পরিদর্শক হিসেবে গিয়ে সদস্যদের বাছাই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গেছে, এই সংগঠনের প্রচারণায় ব্যবহৃত সকল মোবাইল নম্বরগুলো অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যা মূলত অপরাধ আড়াল করার একটি কৌশল।এখন পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত মূল হোতা হিসেবে শাহ আমানত সাবির, মোঃ মাহফুজুর রহমান, মোঃ হেমায়েত হোসেন, মোঃ শাদাত এবং আবু সুফিয়ানকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় এই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা সংস্থাসমূহ দ্রুততার সাথে এই উগ্রবাদী জাল ছিন্ন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news