প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: মামলা করতেই উসাইমং মার্মাকে এক্স-ফোর্সেস এসোসিয়েশন এর 'কুকি চিন' তকমা
||
ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিজ সন্তান হারিয়েছেন উসাইমং মারমা। সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে বিচার চাইতে গিয়ে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন এই পাহাড়ি সংখ্যালঘু বাবা। গত ৭ মে তিনি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও বিমানবাহিনী প্রধানসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করার পর থেকেই উসাইমং মারমার জীবনে নেমে এসেছে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ। উসাইমং মারমার অভিযোগ, মামলার আবেদন করার পর থেকেই পুলিশ তার রাঙ্গামাটির বাড়িতে এবং কর্মস্থলে দফায় দফায় অভিযান চালাচ্ছে। এমনকি সেনাবাহিনী থেকেও তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের অবস্থান ও কর্মসংস্থান নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার আতঙ্কে তিনি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে সব স্বপ্ন চুরমার হওয়ার পর বিচার চাওয়াটাই কি এখন তার অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে? সংখ্যালঘু জাতিসত্তার একজন নাগরিক হিসেবে তিনি এখন নিজ দেশে পরবাসীর মতো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।এদিকে উসাইমং মারমার এই বিচার চাওয়ার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা শুরু করেছে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন নামে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্যদের একটি সংগঠন। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফ উসাইমং মারমাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ বা কেএনএফ-এর সদস্য হিসেবে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের উসাইমং মারমার ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেন। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে এই মামলার আবেদন করিয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনের প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করতেই বিমান বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। যদিও বিমান বাহিনীর ভেতর ‘উগ্রপন্থার’ উপস্থিতির বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনকে তারা গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, একজন সন্তানহারা বাবা যখন আইনি পথে বিচার চান, তখন তাকে উগ্রবাদী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা দেওয়া কতটুকু ন্যায়সঙ্গত? বিচার পাওয়ার অধিকার কি পাহাড়ি বা সংখ্যালঘু নাগরিকদের নেই? উসাইমং মারমার এই অসহায়ত্ব আজ দেশের মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে এক কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news