প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
বিজ্ঞান ও ভক্তির অপূর্ব সমন্বয়: শ্রীমান অমল কৃষ্ণ দাস প্রভুর অনন্য অর্জন।
জয় দাশ ( রাউজান প্রতিনিধি), স্টাফ রিপোর্টার ||
বর্তমান যুগে বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতাকে অনেক সময় একে অপরের বিপরীত বলে মনে করা হয়। কিন্তু শ্রীমান অমল কৃষ্ণ দাস প্রভু, যাঁর প্রাতিষ্ঠানিক নাম ড. অভিনব গ্রোভার, তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে জ্ঞান, গবেষণা ও ভক্তি একসাথে মানবকল্যাণের সর্বোচ্চ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। তিনি একাধারে আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষক; অন্যদিকে কৃষ্ণভাবনামৃতের একজন নিবেদিতপ্রাণ সাধক ও প্রচারক।বর্তমানে তিনি Jawaharlal Nehru University-এর স্কুল অব বায়োটেকনোলজিতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি Indian Institute of Technology Delhi-এ সিনিয়র প্রজেক্ট সায়েন্টিস্ট হিসেবে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কম্পিউটেশনাল বায়োলজি, বায়োইনফরমেটিক্স, ড্রাগ ডিজাইন এবং প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তিনি অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। আইআইটি-জেইই পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ অবস্থান, গেট পরীক্ষায় উচ্চ র্যাংক এবং পরবর্তীতে আইআইটি দিল্লি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন প্রতিভাবান গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। গবেষণাকালীন সময়ে তিনি ফ্রেঞ্চ এমব্যাসি স্কলারশিপ, DAAD ফেলোশিপ এবং ইন্দো-সুইস যৌথ গবেষণা ফেলোশিপের মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও লাভ করেন।বিজ্ঞানক্ষেত্রে তাঁর অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। ২০১২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তিনি ১২০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর গবেষণাপত্রের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বখ্যাত Stanford University-এর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে তিনি বিশ্বের শীর্ষ ৫% বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান অর্জন করেন, যা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।তাঁর অসামান্য গবেষণাকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি “INSA Medal for Young Scientists” এবং “NASI Young Scientist Award”-এর মতো ভারতের মর্যাদাপূর্ণ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। চিকিৎসা ও জৈবপ্রযুক্তি গবেষণায় তাঁর অবদান আধুনিক বিজ্ঞানকে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেছে।তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে অনন্য দিক হলো—এই উচ্চ পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক সাফল্যের মধ্যেও তিনি আধ্যাত্মিক জীবন ও বৈষ্ণব আদর্শে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত। আধ্যাত্মিক জগতে তিনি “শ্রীমান অমল কৃষ্ণ দাস প্রভু” নামে পরিচিত এবং ISKCON Dwarka-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে তরুণ সমাজ ও শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মধ্যে ভগবদ্গীতা ও বৈদিক দর্শনের আলো ছড়িয়ে চলেছেন।তাঁর বক্তৃতা ও সেমিনারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—তিনি আধুনিক বিজ্ঞান, যুক্তি ও আধ্যাত্মিকতাকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে একত্রিত করে উপস্থাপন করেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে তাঁর আলোচনা অত্যন্ত জনপ্রিয়, কারণ তিনি দেখাতে সক্ষম হয়েছেন যে বিজ্ঞান কখনোই ভক্তির বিরোধী নয়; বরং সঠিকভাবে পরিচালিত বিজ্ঞান মানুষকে সত্য ও চেতনার গভীরে পৌঁছে দিতে পারে।শ্রীমান অমল কৃষ্ণ দাস প্রভুর এই অসাধারণ অর্জন কেবল বৈজ্ঞানিক জগতের জন্য নয়, বরং সমগ্র সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, যখন জ্ঞান ও মেধা নৈতিকতা, মানবসেবা এবং ঈশ্বরচেতনার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের উন্নতির শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে ওঠে।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news