প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
জবি শিক্ষার্থীর ফেসবুক আইডিতে দেবীকে কটাক্ষ: সনাতনীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, শাস্তির দাবি
||
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সনাতন ধর্মের দেবী ও ধর্মীয় অনুভূতি অবমাননার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম মবিন আরাফাত, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭তম ব্যাচের ছাত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সনাতন ধর্মভিত্তিক একটি পেজের পোস্টে তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে করা চরম অবমাননাকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সব জাতির মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর এমন আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ‘ট্রেন্ডস ইন বেঙ্গল’ নামের একটি ফেসবুক পেজের পোস্টে সনাতন ধর্মের দেবীকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও কটাক্ষমূলক মন্তব্য করা হয়। মবিন আরাফাতের আইডি থেকে করা সেই মন্তব্যের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত লাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সচেতন সমাজ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। তারা বলছেন, বাকস্বাধীনতার নামে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের অনুভূতি ও বিশ্বাসকে এভাবে অবমাননা করা স্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন।অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত মবিন আরাফাতের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তিনি প্রথমে লাইনটি কেটে দেন। পরবর্তীতে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত দায়সারাভাবে অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই সময়ে ফোনটি নাকি তার কাছে ছিল না এবং তার পরিবারের ছোট শিশুরা অসাবধানতাবশত এই মন্তব্য করে থাকতে পারে। নিজেকে নির্দোষ দাবি করার এই খোঁড়া যুক্তি ও শিশুদের ওপর দোষ চাপানোর কৌশলটি সচেতন মহলে আরও বেশি ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি এমন অবমাননাকর আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয় এবং সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ বা তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী কঠোর ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সব জাতির সমান অধিকার এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি। জবি প্রশাসন অনতিবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে সনাতনী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজমান ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা দূর করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দেশের মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ নাগরিকরা।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news