প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
ভুট্টাক্ষেতে মিললো ধর্ষণের শিকার শিশু নন্দিনীর বস্তাবন্দী লাশ: লালমনিরহাটে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে জনতা, ডিসির গাড়িসহ ৭ গাড়ি ভাঙচুর
||
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সাত বছরের এক নিষ্পাপ সনাতনী শিশু কন্যাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দী অবস্থায় মাটিচাপা দেওয়ার এক লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের এক ভুট্টাখেত থেকে মঙ্গলবার সকালে নন্দিনী রানী বর্মণ নামের ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত নন্দিনী স্থানীয় একটি ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ওই গ্রামের সাধারণ কৃষক নলনী বর্মণের কন্যা। গতকাল সোমবার বিকেল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন চারদিকে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। আজ মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় গ্রামবাসীরা জাবেদ আলীর ভুট্টাখেতে কিছু গাছ ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান এবং সেখানে একটি সদ্য খোঁড়া গর্তের ভেতর বস্তাবন্দী লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।সন্তানহারা পিতা নলনী বর্মণ কান্নায় ভেঙে পড়ে সংবাদ মাধ্যমকে জানান যে, তিনি একজন অতি সাধারণ কৃষক এবং কারো সাথে তার কোনো শত্রুতা ছিল না। গতকাল দুপুরেও তিনি মেয়ের সাথে একসাথে খেয়েছিলেন। তিনি তার অবুঝ কন্যাকে নির্যাতন ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানান। অন্যদিকে, মা সাবিত্রী রানী বর্মণ অভিযোগ করেছেন যে, তার ফুটফুটে মেয়েটিকে জোরপূর্বক ভুট্টাখেতে তুলে নিয়ে গিয়ে পাশবিক ও অমানুষিক নির্যাতনের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। সনাতনী এই শিশুটির ওপর এমন বর্বরতার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় এবং ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অপরাধীকে চিহ্নিত করতে নামলে জানা যায়, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় একই গ্রামের বিধান নামের এক মাদকাসক্ত যুবককে ওই ভুট্টাখেত থেকে কোদাল হাতে ফিরতে দেখেছিল এক প্রতিবেশী। এই সন্দেহের জেরে দুপুরের দিকে উত্তেজিত জনতা বিধানের বাড়িতে চড়াও হয়। স্থানীয়দের দাবি, মাদকাসক্ত বিধান প্রতিবেশী শিশু নন্দিনীকে ফুসলিয়ে নির্জন ভুট্টাখেতে নিয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে মাটিতে পুঁতে রাখে।গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্ত বিধান ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে ভেতরে আত্মগোপন করেছিল। বিক্ষুব্ধ জনতা ঘরের তালা ভেঙে তাকে আটক করে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করলে আদিতমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। কিন্তু উত্তেজিত এলাকাবাসী খুনিকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের হাতেই তাৎক্ষণিক বিচার করতে চায়। পুলিশ এতে অস্বীকৃতি জানালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও প্রশাসনের অন্তত সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) ও আদিতমারী থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হন। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই তুমুল সংঘর্ষের পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে রণজিৎ কুমার ও তার ছেলে বিধান চন্দ্র রায়কে আটক করে।এই মর্মন্তুদ ঘটনাটি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে আবারও এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়েছে। দেশের সচেতন নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীদের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন জেগেছে। কিছুদিন আগে ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় যেভাবে দল-মত নির্বিশেষে সারা বাংলাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল, অবহেলিত সনাতনী কন্যা নন্দিনী রানী বর্মণের ক্ষেত্রেও কি আমরা তেমন তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখতে পাবো? বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রামিসার শোকার্ত পিতার কাছে ছুটে গিয়েছিলেন এবং সান্ত্বনা দিয়েছিলেন, এই দুঃখী সনাতনী কৃষক বাবার কাছেও কি তিনি একইভাবে ছুটে যাবেন? সর্বোপরি, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যেভাবে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বিচারকার্য শেষ করে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, ঠিক একইভাবে কি এই ৭ বছর বয়সী সংখ্যালঘু শিশু নন্দিনী রানী বর্মণের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও আইন এবং বিচারের সমপ্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে? দেশের সকল নাগরিকের সমান মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে এই বর্বরোচিত ঘটনার দ্রুত ও কঠোরতম বিচার এখন সময়ের দাবি।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news