প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
জাতীয়তা যাই হোক, মানবিক মর্যাদা রক্ষা করুন: 'পুশ-ইন' বিতর্কে দুই দেশের সরকারকে কড়া বার্তা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের
||
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সীমান্ত ব্যবস্থাপনা যেন কোনোভাবেই মানুষের মৌলিক মানবিক মর্যাদা এবং মানবাধিকারের বিনিময়ে না হয়—এমনটাই আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সম্প্রতি কোনো প্রকার আইনি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে বাংলাভাষী মুসলিমদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এই জোরপূর্বক বিতাড়ন এবং বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবির প্রতিরোধের কারণে সীমান্তের শূন্য রেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) শিশু ও নারীসহ বহু পরিবারকে খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বী ও সকল জাতি-গোষ্ঠীর সমান মানবাধিকারের আদর্শে বিশ্বাসী যেকোনো সচেতন নাগরিকের জন্যই সীমান্তে মানুষের এমন অবমাননাকর পরিস্থিতি অত্যন্ত পীড়াদায়ক।বিজিবির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সীমান্ত জেলাগুলোতে শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে পুশ-ইন করার অন্তত ২১টি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়ী হওয়ার পর নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির ঘোষণা দেন। এই নীতির অধীনেই বাংলাদেশি ‘অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে বিতাড়ন করার দাবি করেছে তার সরকার। তবে তাড়াহুড়ো করে করা বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে রাজ্যটির প্রায় ৯০ লাখ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা বর্তমান সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')এই অমানবিক পুশ-ইন প্রক্রিয়ার শিকার সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে এইচআরডব্লিউ এশিয়ার ডেপুটি ডিরেক্টর মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, “ভারত মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পরিবারগুলোকে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে কিংবা সীমান্তে আটকে রাখছে। ভারত সরকারের উচিত বেআইনিভাবে মানুষ বিতাড়ন অবিলম্বে বন্ধ করা এবং তাদের প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা। মুসলমানদের প্রতি এই হতাশাজনক বিদ্বেষের অবসান ঘটিয়ে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, জাতীয়তা যাই হোক না কেন, সশস্ত্র রক্ষীদের মাঝে খোলা মাঠে কাউকে রাত কাটাতে বাধ্য করা চরম অমানবিক।সীমান্তবর্তী পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও তেঁতুলবাড়িয়া এলাকায় রাতের অন্ধকারে বিএসএফ কর্তৃক পুশ-ইনের বেশ কিছু ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শীরা বর্ণনা করেছেন। পঞ্চগড়ের এক গ্রামবাসী জানান, গত ৫ জুন শিশুসহ ১০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হলে তারা টানা ৭৫ ঘণ্টা বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে আটকে ছিলেন। পরবর্তীতে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নেয়। পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির একটি পরিবারের উদাহরণ দিয়ে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি জানান, আধার কার্ড থাকা এবং চারবার ভোট দেওয়ার ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় একটি পরিবারকে আটক করে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী যেকোনো প্রত্যাবাসন স্বেচ্ছামূলক হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু সীমান্তে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া এবং বন্দিশিবিরে আটকে রাখার এই ভয়ের পরিবেশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই উভয় দেশের সরকারেরই উচিত সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মানুষের জাত-পাত ও ধর্ম নির্বিশেষে মৌলিক অধিকার রক্ষা করা।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news