প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬
'মব জাস্টিস' ও সংখ্যালঘুদের আর্তনাদ: ক্ষমতার নতুন সমীকরণে বাংলাদেশে বিপন্ন সনাতনী সমাজ
||
বাংলাদেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার রূপান্তরের পর প্রান্তিকতার সংজ্ঞা ও এর অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের নতুন গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তনের পর থেকে 'সাবঅল্টার্ন' বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসা এবং ভিন্নমত দমনে 'মব জাস্টিস' বা বিশৃঙ্খল জনতার আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের গভীর ভাবনায় ফেলেছে। গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক তাঁর বিশ্বখ্যাত প্রবন্ধ 'ক্যান দ্য সাবঅল্টার্ন স্পিক?'-এ দেখিয়েছেন কীভাবে সমাজে ক্ষমতাহীন ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর সবসময় কাঠামোর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত বা বিকৃত হয়, যার ফলে তারা কখনো নিজেদের ভাষায় সরাসরি কথা বলতে পারে না। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যখন একদা নির্যাতিত বা প্রান্তিক হিসেবে দাবিদার গোষ্ঠীসমূহ ক্ষমতার কেন্দ্রস্থলে আরোহণ করে রাষ্ট্র ও সমাজের চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে, তখন স্পিভাকের তত্ত্বের এক নতুন ও জটিল রূপ দৃশ্যমান হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে যে, রাজনৈতিক আনুকূল্য এবং ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার পর এই কথিত সাবঅল্টার্নদের একাংশ রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে ভয়ঙ্কর এক 'মব রাজ্য' বা বিশৃঙ্খল শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা নিজেদের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভিন্নমত দমন, সামাজিক ও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর বলপ্রвой এবং শারীরিক বা প্রতীকী শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে কার্যত এক নতুন স্বৈরাচারী কাঠামোর জন্ম দিচ্ছে।(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এই পরিস্থিতির গভীরতম ও সবচেয়ে বেদনাদায়ক ক্ষতটি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়ের ওপর। ক্ষমতার এই ভারসাম্যহীন পরিবর্তনের সুযোগে মব সংস্কৃতির প্রধানতম শিকারে পরিণত হয়েছে সনাতনী হিন্দু সমাজ, যারা যুগের পর যুগ ধরে এ দেশের প্রকৃত প্রান্তিক ও অধিকারবঞ্চিত সাবঅল্টার্ন হিসেবে নিপীড়িত হয়ে আসছে। সনাতনীদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উপাসনালয়ের ওপর একের পর এক আক্রমণ, মব জাস্টিসের নামে সনাতনী শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছনা এবং জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, মানবাধিকার এবং প্রান্তিকতার বুলি আওড়ানো নতুন ক্ষমতাসীনেরা আসলে শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অমোঘ বাণীর মতো ক্ষমতার ঈশ্বরের অধিষ্ঠান আজও কেবল সুনির্দিষ্ট কিছু সুবিধাবাদী মহলে, প্রকৃত প্রান্তিক সনাতনীদের পল্লিতে মানবাধিকারের কোনো আলো পৌঁছায়নি। মব কখনো সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না, কারণ এর মূল শিকার সবসময় দুর্বল ও সংখ্যালঘু সমাজ। এই পরিবর্তিত বাস্তবতা আমাদের শেখায় যে সাবঅল্টার্ন কোনো স্থায়ী পরিচয় নয়, বরং ক্ষমতার সম্পর্কের একটি তুলনামূলক অবস্থান মাত্র। যে মুহূর্তে একজন তথাকথিত সাবঅল্টার্ন রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত হয়ে অন্যের মুখ বন্ধ করতে বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন চালাতে 'মব' বা উন্মত্ত জনতাকে লেলিয়ে দেয়, ঠিক সেই মুহূর্তেই সে তার নৈতিক বৈধতা হারিয়ে একজন পুরোদস্তুর অত্যাচারী ও আধিপত্যবাদী শক্তিতে পরিণত হয়।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news