প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
পেশা দেখেই অন্ধ হচ্ছেন অভিভাবকরা? মলি-ইন্দ্রজিতের বিচ্ছেদ সনাতন সমাজের জন্য এক বড় শিক্ষা
||
একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের বৈবাহিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক অধিকারের বিষয়টি বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে। শত চেষ্টার পরেও শেষ রক্ষা হলো না মলি মল্লিকের। চিকিৎসক স্বামীর সাথে ঘর বাঁধার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল তার। সামাজিক ও আইনি নানান টানাপোড়েনের পর অবশেষে এক সালিশি মীমাংসার মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনের ইতি টানতে বাধ্য হলেন তিনি। তবে এই বিচ্ছেদের বিনিময়ে খোরপোশ বা ভরণপোষণ বাবদ মলি মল্লিককে ৩০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছে তার স্বামী ডা. ইন্দ্রজিৎ।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মলি মল্লিক শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের সংসার টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। একজন সনাতনী নারী হিসেবে দাম্পত্য জীবনের মর্যাদা রক্ষা করতে তিনি বদ্ধপরিকর ছিলেন। কিন্তু স্বামী ডা. ইন্দ্রজিৎ কোনোভাবেই সংসার করতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এই বিচ্ছেদ মেনে নিতে হয়। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, যে পুরুষ স্বেচ্ছায় স্ত্রীর দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে, তার সাথে জোর করে সংসার করা কেবল কষ্টদায়কই নয়, বরং নারীর মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষার জন্যও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এই বিবেচনা থেকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এক নরকযন্ত্রণা থেকে মলি মল্লিকের এই মুক্তি আসলে তার জীবনের একটি নতুন ও নিরাপদ অধ্যায়ের সূচনা।(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং মলি মল্লিককে আইনি ও সামাজিকভাবে এক ঘোর অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন খুলনা মহানগরীর লবণচোরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তাদের নিরপেক্ষ ও মানবিক মধ্যস্থতার কারণেই সালিশি বৈঠকে মলি মল্লিকের ন্যায়সংগত অধিকার এবং ৩০ লাখ টাকার খোরপোশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজ প্রশাসনের এই আন্তরিক সহায়তার জন্য ওসি মোশাররফ হোসেন ও স্থানীয় নেতাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।এই ঘটনাটি সমসাময়িক হিন্দু সমাজ তথা সামগ্রিক মানবসমাজের জন্য এক বড় বার্তা দিয়ে গেল। আজকাল অনেক সনাতনী বাবা-মা পাত্রের কেবল 'ডাক্তার' বা ভালো প্রফেশন দেখেই অন্ধ হয়ে যান। ভাবেন, মেয়েকে ভালো পেশার বরের হাতে তুলে দিতে পারলেই বুঝি মেয়ের কপাল খুলে যাবে এবং জীবনের সব সুখ নিশ্চিত হবে। কিন্তু মলি মল্লিকের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, কেবল উজ্জ্বল পেশা বা সামাজিক আভিজাত্যই একটি সুখী দাম্পত্যের গ্যারান্টি হতে পারে না। ভুল মানুষের সাথে জীবন জড়ানোর পরিণতি কখনো কখনো বিষাদে রূপ নেয় এবং জীবনে ঘোর অমানিশা ও অনিশ্চয়তা ডেকে আনে। তাই কন্যা সম্প্রদানের আগে পাত্রের পেশার চেয়ে তার মানসিকতা, নৈতিকতা এবং নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধের বিষয়টি যাচাই করা প্রতিটি অভিভাবকের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news