প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
সাতকানিয়ায় চলন্ত গাড়ি থামিয়ে সনাতনী প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও ফাইল ছিনতাই বিএনপি নেতার
||
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিদ্যালয় পরিচালনার অ্যাডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বাজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিল্টন বিকাশ দাশকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও ফাইল ছিনিয়ে নেওয়ার ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা তসলিম উদ্দিন ও তার ছোট ভাই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন সম্মানিত প্রধান শিক্ষকের ওপর ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক প্রভাবশালী দলের এমন ন্যক্কারজনক হামলায় স্থানীয় সনাতনী সমাজ ও শিক্ষক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান শিক্ষক মিল্টন বিকাশ দাশ বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশে চলন্ত টমটমে রওয়ানা হলে ফকিরপাড়ার প্রবেশপথে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য তসলিম উদ্দিন ও ধর্মপুর ইউনিয়ন বিএনপির সঙ্গে যুক্ত তার ছোট ভাই মহিউদ্দিন দলবল নিয়ে তার গতিপথ রোধ করে। তাকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং অ্যাডহক কমিটির ফাইলটি জোর করে হাতিয়ে নেওয়ার জন্য চরমভাবে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রধান শিক্ষক বাধ্য হয়ে অ্যাডহক কমিটির ফাইলটি অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদের জন্য স্নাতক পাসের সনদের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বিএনপি নেতা তসলিম উদ্দিনের মনোনীত প্যানেলের তিনজন প্রার্থীর কারও শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রমাণপত্র দেওয়া হয়নি। অযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফাইলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য প্রধান শিক্ষকের ওপর দীর্ঘ দিন ধরে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। নীতি ও নিয়মের তোয়াক্কা না করে একজন সংখ্যালঘুর প্রশাসনিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা সার্বিক মানবাধিকার ও শিক্ষা পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলেছে।তবে অভিযুক্ত তসলিম উদ্দিন ও মহিউদ্দিন দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাদের দাবি অনুযায়ী, শিক্ষার মানোন্নয়নে আবদুল ওহাবকে সভাপতি করার সুপারিশ করা হয়েছিল এবং পরে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বাসা থেকে ফাইল এনে ইউএনও অফিসে পাঠানো হয়। এ প্রসঙ্গে মনোনীত সভাপতি আবদুল ওয়াহাব কোনো হেনস্তার ঘটনা স্বীকার করেননি। তবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া জানান, ঘটনাটি সত্যি হলে ভুক্তভোগী শিক্ষকের আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। সাতকানিয়া থানার এসআই মামুন ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশীষ বরণ দেব জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে। সনাতনী অধিকার রক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি উঠেছে।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news