প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪২ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের বিনা ভাড়ায় নদী পার করছেন মাঝি কমলেশ চন্দ্র
||
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সুতারচাপর ঘাটে প্রায় ৪২ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের বিনা ভাড়ায় নদী পার করে আসছেন মাঝি কমলেশ চন্দ্র। জীবিকার জন্য নৌকা চালালেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পারাপারের কোনো ভাড়া নেন না তিনি। দীর্ঘদিন ধরে নীরবে এই মানবিক দায়িত্ব পালন করে আসা কমলেশ চন্দ্র স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন একজন সহানুভূতিশীল মাঝি হিসেবে।সুতারচাপর ঘাটটি কালী বানার, সুতিয়া ও ধামকা নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত। ঘাটটি ব্যবহার করে প্রতিদিন নিগুয়ারী বাজারের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা। নৌকায় নদী পারাপারের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ না নিয়ে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন কমলেশ।জানা যায়, কমলেশ চন্দ্রের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই খেয়া পারাপারের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর পরিবারে তিন প্রজন্মেরও বেশি সময় ধরে এই ঘাটে নৌকা চালানোর সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার কাছ থেকে নৌকা চালানোর কাজ শেখেন কমলেশ। এরপর ধীরে ধীরে তিনিও পরিবারের ঐতিহ্যবাহী এই পেশার সঙ্গে যুক্ত হন এবং শিক্ষার্থীদের বিনা ভাড়ায় পারাপারের যে মানবিক ধারাটি তাঁর পরিবারে ছিল, সেটিও ধরে রাখেন।প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে একইভাবে শিক্ষার্থীদের নদী পার করে দিচ্ছেন তিনি। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে প্রয়োজন অনুযায়ী নৌকা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে পৌঁছে দেন। নদীর পানি, আবহাওয়া কিংবা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর এই সেবা অব্যাহত রয়েছে।তবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভাড়া না নেওয়ায় তাঁর নিজের সংসার চালানোও সহজ নয়। নৌকার বিভিন্ন খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রতিদিন তাঁর আয় থাকে আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এই সামান্য আয় দিয়েই পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করতে হয় তাঁকে। তারপরও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পারাপারের টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি দীর্ঘদিন ধরে এড়িয়ে চলেছেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, নিজের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কমলেশ চন্দ্র যেভাবে বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন, তা নিঃসন্দেহে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর নৌকা শুধু নদী পারাপারের মাধ্যম নয়, বহু শিক্ষার্থীর প্রতিদিনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথও সহজ করে দিয়েছে।প্রায় ৪২ বছর ধরে নীরবে এই দায়িত্ব পালন করে চলেছেন কমলেশ চন্দ্র। কোনো প্রচার বা প্রতিদানের প্রত্যাশা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের বিনা ভাড়ায় নদী পারাপারের এই কাজ তাঁর দীর্ঘ জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। আর্থিকভাবে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর এই সহযোগিতা স্থানীয় মানুষের কাছে মানবিকতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে রয়েছে।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news