প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা পূজার পুণ্যলগ্ন: সনাতনী ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নির্মাণকলার শাস্ত্রীয় ইতিহাস
||
আগামীকাল ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরম আরাধ্য দেবশিল্পী ও প্রকৌশল বিদ্যার ঈশ্বর শ্রী শ্রী বিশ্বকর্মা পূজা। আবহমানকাল ধরে সনাতনী সংস্কৃতি ও সভ্যতায় কারিগরি দক্ষতা, সৃষ্টিশীলতা এবং নির্মাণকলার মূল উৎস হিসেবে ভগবান বিশ্বকর্মাকে আরাধনা করা হয়। তিনি কেবল জড় জগতের স্থপতি নন, বরং সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী তিনি সর্বজ্ঞ ও সর্বদর্শী; পরা বিদ্যার পাশাপাশি পুষ্পশিল্প, লৌহশিল্প, মৃৎশিল্প, অলংকারশিল্প, বয়নশিল্প, স্থাপত্য বেদসহ বিবিধ কলা ও প্রকৌশলবিদ্যার অধীশ্বর। প্রাচ্যের মহাকাব্য শ্রীমদ্ভাগবত ও রামায়ণে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার অপার মহিমা ও অলৌকিক নির্মাণশৈলীর বহু বিবরণ বিস্তৃতভাবে বিধৃত রয়েছে।মহাকাব্য রামায়ণের বিভিন্ন কাণ্ডে বিশ্বকর্মা ও তাঁর ঐশ্বরিক সৃষ্টির উল্লেখ পাওয়া যায়। মহর্ষি ভরদ্বাজের আশ্রমে ভরত যখন সমগ্র সেনাবাহিনী নিয়ে উপস্থিত হন, তখন ঋষি ভরদ্বাজ বিশ্বকর্মাকে আহ্বান করে ঐশ্বরিক আতিথ্য সৎকার ও সকল সামরিক সদস্যের ভোজনের সুব্যবস্থা করেছিলেন। এছাড়াও বিশ্বকর্মার স্থাপত্যকলা ও অপূর্ব নিপুণতার অন্যতম সেরা নিদর্শন ছিল সমুদ্রপরিবেষ্টিত সুবর্ণ লঙ্কাপুরী। রামায়ণের উত্তরকাণ্ডে উল্লেখ আছে, ধনাধ্যক্ষ কুবেরের বসবাসের জন্য দক্ষিণ সমুদ্রতীরের ত্রিকূট পর্বতের শিখরে দেবরাজ ইন্দ্রের অমরাবতীর ন্যায় স্বর্ণ ও বৈদূর্যমণির তোরণে সুশোভিত লঙ্কাপুরী বিশ্বকর্মাই নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে রাক্ষসদের অধিকার থেকে মুক্ত সেই শূন্য লঙ্কাপুরীতে পিতা বিশ্রবার নির্দেশে কুবের তাঁর বাসস্থান স্থাপন করেন।(News copied from- 'HINDUS NEWS')লঙ্কায় সীত উদ্ধারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার সময় বিশাল মহাসমুদ্র অতিক্রম করা যখন অসম্ভব হয়ে পড়েছিল, তখন শ্রীরামচন্দ্রকে সমুদ্রদেব পরামর্শ দেন বিশ্বকর্মাপুত্র নলের দ্বারস্থ হতে। বিশ্বকর্মার প্রদত্ত বর ও প্রকৌশল শক্তিতে বলীয়ান মহাবলশালী বানরবীর নল সমুদ্রের বুকে শত যোজন দীর্ঘ ও দশ যোজন চওড়া এক অনন্য সেতু নির্মাণ করেন। নলের এই অবিশ্বাস্য প্রকৌশল বিদ্যা ও স্থাপত্য নিপুণতা দেখে আকাশে অবস্থানরত দেব, গন্ধর্ব, সিদ্ধ ও মহর্ষিগণ বিস্মিত হয়ে পড়েছিলেন। সমুদ্রের তরঙ্গে ভাসমান সেই অপূর্ব নলসেতু গগনে স্বাতীপথ বা ছায়াপথের ন্যায় দীপ্তিমান হয়ে উঠেছিল, যা সনাতনী ঐতিহ্য ও বিশ্বকর্মার দৈব কারিগরি ধারার এক চিরন্তন স্মারক।বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল সনাতনী ও শোষিত-বঞ্চিত মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং অধিকার রক্ষায় দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার সৃজনশীল শক্তির চেতনা সদা জাগ্রত থাকুক। প্রকৌশল, শিল্প ও সভ্যতার এই মহান রূপকারের চরণে পূজা প্রাক্কালে কোটি কোটি সনাতনীর সশ্রদ্ধ প্রণাম।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news