প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গণতন্ত্রের আধুনিক রাষ্ট্রে মুসলমানদের বিচারপতি অমুসলমান হলে সমস্যা কোথায়?
মো:রেদোয়ান সরকার , স্যোশাল এক্টিভিটিস ||
জনসংখ্যাগত সংখ্যাগরিষ্ঠতা একটি বাস্তবতা; রাষ্ট্রব্যবস্থা একটি সাংবিধানিক-আইনি কাঠামো। এই দুটো এক নয়। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও দেশের আইনি কাঠামো মূলত ঔপনিবেশিক ও পশ্চিমা সাংবিধানিক ধারার উত্তরাধিকার বহন করে। যাঁরা মনে করেন একটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতির রাজনৈতিক পরিচয় শুধু জনমিতিক নয়, বরং তার আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রকৃতির মধ্যেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত, তাঁদের কাছে এই ফারাকটাই মূল আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে।রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রশ্নে আসল সিদ্ধান্তটা তাই বিচারপতির ধর্ম নিয়ে নয়; সিদ্ধান্তটা হলো, রাষ্ট্র কোন আইনি কর্তৃত্বের অধীনে চলবে। বাংলাদেশ যদি বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় থাকে, তাহলে বিচারপতির ধর্ম প্রশ্ন তোলার আইনি ভিত্তি নেই। কিন্তু যাঁরা মনে করেন একটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের উচিত তার আইনি সার্বভৌমত্বকে শরিয়াহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে পুনর্গঠন করা, তাঁদের যুক্তি হলো এই পুনর্গঠনের একটি স্বাভাবিক অংশ হবে বিচার বিভাগের জন্য ইসলামী যোগ্যতার শর্ত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। অর্থাৎ সমস্যাটা “একজন অমুসলিম ব্যক্তি” নয় সমস্যাটা একটি কাঠামোগত প্রশ্ন: কোন আইন, কার কর্তৃত্বে চলবে। আর সেই প্রশ্নের সমাধান বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে ছোট সংশোধনী দিয়ে হয় না। এর জন্য দরকার একটি সচেতন, সাংগঠনিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া, যেখানে বিচার বিভাগ সহ রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো নতুন ভিত্তির ওপর পুনর্বিন্যস্ত হয়।অমুসলিমদের অধিকার নিয়ে দুশ্চিন্তার জবাবশরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্রের কথা শুনলে অনেকেই আশঙ্কা করেন যে এতে অমুসলিমরা বঞ্চিত হবেন। এই আশঙ্কা দূর করা জরুরি। ইসলামী ইতিহাসে অমুসলিম নাগরিকদের (আহলে জিম্মা) জান, মাল, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্পত্তি রক্ষার নির্দিষ্ট বিধান বরাবরই ছিল। খলিফা ওমর (রাঃ)-এর শাসনামল থেকে উসমানীয় খিলাফত পর্যন্ত বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিলে অমুসলিমদের উপাসনালয় সুরক্ষা, বিচার পাওয়ার অধিকার ও ধর্মীয় স্বায়ত্তশাসনের নজির পাওয়া যায়। শরিয়াহভিত্তিক ব্যবস্থায় মুসলিম বিচারপতির শর্ত থাকার অর্থ এই নয় যে অমুসলিমদের নিজস্ব বিষয়ে (যেমন পারিবারিক আইন) তাঁদের নিজস্ব বিধান অনুযায়ী বিচার পাওয়ার সুযোগ থাকবে না বরং ইতিহাসে এমন ব্যবস্থাও দেখা গেছে যেখানে অমুসলিমরা নিজেদের সম্প্রদায়গত বিষয়ে নিজস্ব বিচারকের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি পেতেন। তাই এই রূপান্তরকে “অমুসলিমদের বিরুদ্ধে” হিসেবে না দেখে, একটি ন্যায়ভিত্তিক কাঠামো হিসেবে দেখা উচিত, যেখানে প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য উপযুক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত থাকে, কিন্তু রাষ্ট্রের চূড়ান্ত সার্বভৌম বিধান থাকে আল্লাহর আইন।সারকথামুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া আর শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র হওয়া এক জিনিস নয় এই ফারাকটাই আমাদের বুঝতে হবে। জনসংখ্যাগত সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো রাষ্ট্রকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসলামী করে না; সেজন্য দরকার সচেতন, সাংগঠনিক পরিবর্তন, আইন, বিচারব্যবস্থা ও শাসনকাঠামোর পুনর্গঠন। “অমুসলিম বিচারপতি সমস্যা কি না” প্রশ্নটি তাই আসলে একটি বৃহত্তর প্রশ্নের দরজা খুলে দেয়: আমরা কি বর্তমান ঔপনিবেশিক-উত্তরাধিকারী সাংবিধানিক কাঠামোতেই থাকব, নাকি আল্লাহর বিধানকে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব? মুসলমানদের জন্য এই প্রশ্নের উত্তরই হওয়া উচিত রূপান্তরের সূচনাবিন্দু।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news