প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দারিদ্র্য ও বৈষম্য জয় করে বিচারক হলেন 'তুরি' সন্তান কাজল
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত মাধাই গ্রামে বইছে আনন্দের ফল্গুধারা। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সনাতনী সমাজের জন্য এক ঐতিহাসিক বার্তা বয়ে নিয়ে এসেছেন ওই গ্রামের ছেলে কাজল পাড়ে (২৯)। শত বাধা, দারিদ্র্য আর প্রান্তিক জীবনের প্রতিকূলতা পেরিয়ে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সহকারী জজ (সিভিল জজ) হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। শুধু তুরি জাতিগোষ্ঠীই নয়, সমগ্র উত্তরবঙ্গের সমতল আদিবাসী ও সনাতনী সম্প্রদায়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিচার বিভাগে এমন অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কাজল।মাধাই গ্রামটির অধিকাংশ মানুষই কৃষিজীবী, দিন এনে দিন খাওয়া খেটে খাওয়া মানুষ। সেই ভূমিহীন কৃষক নরেশ পাঁড়ে ও পঞ্চমী জেড়ির একমাত্র সন্তান কাজল। শৈশব থেকেই অতি কষ্টে দিনাতিপাত করা কাজল ২০১৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়েই সংকল্প করেছিলেন বিচার বিভাগের ক্যাডার হওয়ার। কিন্তু এই যাত্রা সহজ ছিল না। ভর্তির ফি ও শীতের পোশাকের টাকা না থাকায় নিজের পোষা গরু বিক্রি করে ভাইয়ের হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন কাজলের বড় বোন কল্পনা পাঁড়ে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় টিউশনি করে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সাহায্য করতে হয়েছে তাকে। জীবনের এই চরম লড়াই শেষে কাজলের সাফল্য যেন কেবল একজন ব্যক্তির নয়, বরং হাজার বছর ধরে বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক সনাতনী অধিকারকামী মানুষের এক মহা বিজয়।বুধবার সন্ধ্যায় ফলাফল প্রকাশের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে কাজল রাজশাহী থেকে গ্রামে ফিরলে স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাকে পুষ্পমাল্যে বরণ করে নেন। আনন্দের এই মাহেন্দ্রক্ষণে অশ্রুসজল চোখে কাজলের বাবা নরেশ পাঁড়ে তাদের আঞ্চলিক ভাষায় মনের আবেগ প্রকাশ করে বলেন, “ভাগয়ান কার আশীর্বাদে হাম জজ’কা চাকরি পালো। হামনি গরিব মানুষ, মাটি লাড়িচাড়ী দিন খাই। হামি চাই হামার ছোয়া মাটি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবে, ভাগয়ান যেই দায়িত্বটুকু দেইছে সোঠা যেন ভালো হয়।” (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের অধিকার, স্বাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এই যুগে কাজলের মতো মেধা ও যোগ্যতাসম্পন্ন তরুণ বিচার বিভাগে যুক্ত হওয়া সামগ্রিক সমাজ ব্যবস্থার জন্য এক ইতিবাচক বার্তা।কাজলের এই অনন্য অর্জনে গর্বিত সমগ্র আদিবাসী ও সনাতন সমাজ। মাধাই গ্রামের মোড়ল নিরঞ্জন তিরকি প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, “কাজল আমাদের অহংকার। ছোটবেলা থেকে চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে সে বড় হয়েছে। এর আগে আমাদের গ্রাম বা সমাজ থেকে কেউ এত উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তাকে দেখে আমাদের তরুণ প্রজন্ম লেখাপড়া ও নিজেদের অধিকার আদায়ে আরও উৎসাহিত হবে।” অন্যদিকে, আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সভাপতি অনিল গজার জানান, উত্তরবঙ্গের সমতল আদিবাসীদের ইতিহাসেই কাজল পাড়ে প্রথম জুডিশিয়াল সার্ভিসে সুযোগ পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন। সর্বস্তরের বৈষম্য নিরসন এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজলের এই অর্জন অনগ্রসর ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন অধিকারকর্মীরা।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news