প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মা ভেরিফিকেশনে আটকে গেছে': প্রাথমিকে চূড়ান্ত সুপারিশের পরও বাদ পড়ে প্রার্থীদের হাহাকার
শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক ||
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রদানকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সৃষ্টি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও তীব্র ক্ষোভ। নিয়োগপ্রক্রিয়ার সবকটি ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করার পরও চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ভেরিফিকেশনের অজুহাতে অসংখ্য যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় সমস্ত বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরেও শেষ মুহূর্তে পুলিশের নেতিবাচক রিপোর্টের দোহাই দিয়ে তাদের নিয়োগপত্র আটকে দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের সনাতনী সমাজসহ অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী সন্তানরা এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য ও মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন। চূড়ান্ত ফলে নাম আসার পর অর্জিত সরকারি চাকরির আনন্দের বার্তা পরিবারকে জানানোর পর হঠাৎ করে বাদ পড়ার এই অন্যায় সিদ্ধান্ত প্রার্থীদের জীবনকে এক অন্ধকার সুরঙ্গে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কোনো অপরাধে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও শুধু ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়ে তাদের স্বপ্ন চুরমার করার অভিযোগ তুলছেন স্বজন ও মানবাধিকার কর্মীরা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ভাসছে চাকরিপ্রার্থীদের করুণ আর্তনাদ ও হাহাকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের অধিবাসী রাহুল দাসের একটি আবেগঘন পোস্ট নেটিজেনদের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। যোগ্য প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও ভেরিফিকেশনে আটকে যাওয়ার পর নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, যে মুখ দিয়ে মাকে বলেছিলেন চাকরি পাওয়ার কথা, সেই মুখে এখন মায়ের মুখোমুখি হওয়ার সাহস পাচ্ছেন না তিনি। চাকরি পাওয়ার আশায় ঢাকা ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসা রাহুল দাস এখন মানসিক যন্ত্রণায় জর্জরিত হয়ে জীবিকার তাগিদে হাওরে মাছ ধরার মতো কাজে বাধ্য হচ্ছেন। এই ধরনের বৈষম্য ও রাজনৈতিক ভেনডেটার শিকার হয়ে অসংখ্য মেধাবী তরুণ আজ সমাজ ও পরিবারের সামনে অপমানিত হচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর এমন অমানবিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণ মানুষের মৌলিক মানবাধিকার এবং কর্মসংস্থানের অধিকারকে মারাত্মকভাবে হরণ করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী ও অধিকারকর্মীদের মধ্যেও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রেখে শেষ মুহূর্তে বাদ দেওয়া রাষ্ট্রীয় নিপীড়নেরই শামিল।প্রশাসনিক এই স্বেচ্ছাচারিতার কারণে অনেক প্রার্থী ইতিমধ্যে তাঁদের পূর্বের চাকরি ছেড়েছেন, অনেকের উচ্চশিক্ষা স্থগিত হয়েছে, এমনকি নতুন জীবন শুরু করা প্রার্থীরাও এখন পারিবারিক ভাঙন ও চরম সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রসেস সম্পন্ন হওয়ার দীর্ঘ সাত মাস পর এসে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে এক ধরণের নিষ্ঠুর প্রতারণা হিসেবে দেখছেন। একটি গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে সবার জন্য সমান অধিকার ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের কথা, সেখানে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়কে ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ জোর দাবি জানিয়েছেন যেন অনতিবিলম্বে নীতি-নির্ধারকেরা তাঁদের এই অমানবিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন এবং অন্যায়ভাবে বাদ পড়া সমস্ত যোগ্য শিক্ষকপ্রার্থীকে অবিলম্বে তাঁদের প্রাপ্য নিয়োগপত্র বুঝিয়ে দিয়ে বেকারত্বের এই দীর্ঘ মানসিক নির্যাতন থেকে মুক্তি প্রদান করেন।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news