প্রিন্ট এর তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অন্তরঙ্গ ভিডিও করে ব্ল্যাকমেল করায় নিরঞ্জনকে হত্যা : পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ময়মনসিংহ নগরের বেগুনবাড়ী এলাকার স্লুইসগেটের পানিতে ড্রামের ভেতর বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নিরঞ্জন ধরকে (৫৪) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় শামীম মিয়া (৩৮) নামের একজনকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।শামীম মিয়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৃষ্টপুর গ্রামের বাসিন্দা জালাল মিয়া ছেলে। তবে তিনি ময়মনসিংহ নগরের গলগণ্ডা এলাকায় বসবাস করতেন।পিবিআই বলছে, ভিডিও ধারণ করে শামীমকে ব্ল্যাকমেল ও টাকা দাবি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিরঞ্জনকে হত্যা করা হয়। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পিবিআই ময়মনসিংহ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।পিবিআইয়ের ভাষ্য, গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজারের বটতলা এলাকার সরদার মার্কেট থেকে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সেখানে তাঁর শ্যালক মাসুদ রানার ভাড়া বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বিভিন্ন স্থান ঘুরে গাজীপুরে আত্মগোপনে যান। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আজ সকালে ময়মনসিংহ নগরের একটি ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শিল ও বঁটি উদ্ধার করা হয়েছে।নিহত নিরঞ্জন ধর ময়মনসিংহ নগরের স্টেডিয়াম এলাকায় স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি নগরের আঠারবাড়ি বিল্ডিং এলাকায় একটি সোনার দোকানে কাজ করতেন। তাঁর চারটি অটোরিকশা ছিল। সেগুলো খাগডহর এলাকার একটি গ্যারেজে রাখা হতো।পিবিআই বলছে, ওই গ্যারেজের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করার সুবাদে শামীমের সঙ্গে নিরঞ্জনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্ত ও গ্রেপ্তার শামীমের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শামীমের পরিবারের সদস্যরা বাসায় নিয়মিত না থাকার সুবাদে প্রায়ই ভাড়া বাসায় নারী নিয়ে আসতেন। এক নারীর সঙ্গে তাঁর একটি আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেছিলেন নিরঞ্জন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে তিনি শামীমের কাছে প্রায়ই টাকা দাবি করতেন এবং বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিতেন। এভাবে ধাপে ধাপে প্রায় দুই লাখ টাকাও নেন।২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে শামীমের ভাড়া বাসায় গিয়ে আবার টাকা দাবি করেন নিরঞ্জন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শামীম ঘরে থাকা শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। পরে তাঁর মুখে কাপড় গুঁজে বঁটি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে নিরঞ্জনের মৃত্যু হয় বলে পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে। হত্যার পর মরদেহটি একটি চটের বস্তায় ভরে দুই পাশ বেঁধে একটি বড় নীল রঙের চালের ড্রামের মধ্যে রাখা হয়। পরে ড্রামটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য শামীম ডেকে আনেন হানিফ মিয়া নামের এক ইজিবাইকচালককে। বাসার মালামাল সরানোর কথা বলে ড্রামটি ইজিবাইকে তোলা হয়। পরদিন রাতে একটি মিশুক (ইজিবাইক) দিয়ে ড্রামটি নিয়ে বেগুনবাড়ী স্লুইসগেটের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে বেগুনবাড়ী স্লুইসগেটের পানিতে ড্রামটি ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে ড্রামের ভেতর থেকে বস্তাবন্দী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাঁর পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে মরদেহের সঙ্গে থাকা প্যান্টের পকেটে ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের একটি টোকেন পাওয়া যায়। ওই টোকেনের সূত্র ধরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির স্ত্রী সবিতা রানী ধর ২৬ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই তাঁরা ছায়া তদন্ত শুরু করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান আসামি শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির সঙ্গে কাদের ঘনিষ্ঠতা ছিল, সেই সূত্র মেলাতে গিয়ে হত্যার জট খোলে। আজ শামীমকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা–ও তদন্ত চলছে।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news