প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাকে বাঁচাতে জ্বলন্ত বাসেই রয়ে গেলেন ছেলে, প্রাণ গেল দুজনেরই
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের গ্রেটার নয়ডায় যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মা-ছেলেসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মহোবার বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী সুনীতা গুপ্ত এবং তার ২৮ বছর বয়সী ছেলে শশাঙ্ক।সবাই চিৎকার করে বলছিলেন, দ্রুত নেমে আসুন। আগুন ছড়াচ্ছে। কিন্তু নামতে পারলেন না সুনীতা গুপ্ত (৪৭)। মাকে ছেড়ে নামলেন না ছেলেও। ফলে বাসের ভিতরেই ঝলসে মৃত্যু হল মা-ছেলে দু’জনেরই। কর্মসূত্রে হরিয়ানার গুরুগ্রামে থাকতেন শশাঙ্ক। তিনি ইন্ডিগোতে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় এক মাস আগে চিকিৎসার জন্য ছেলের কাছে গিয়েছিলেন সুনীতা। তার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। সম্প্রতি শশাঙ্কের কাকা হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ট্রেনের টিকিট না পাওয়ায় তারা একটি এসি বাসের টিকিট কাটেন। মায়ের আরামের কথা ভেবে বাসের পেছনের দিকের আসন বুক করেছিলেন শশাঙ্ক। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে দিল্লির কাশ্মীরি গেট থেকে বাসে ওঠেন মা-ছেলে। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় ৩৩ কিলোমিটার মার্কারের কাছে, জেবরের দয়ানতপুর এলাকায় বাসটিতে আগুন ধরে যায়। বাসে দুই চালক ও এক কন্ডাক্টরসহ মোট ৩৫ জন ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, আগুনের সূত্রপাত হয় চালকের কেবিন থেকে। পরে তদন্তে বাসটির দুটি জরুরি নির্গমনপথ বন্ধ অবস্থায় পাওয়ার কথাও জানানো হয়।আগুন ছড়িয়ে পড়তেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়। অনেকেই জানালার কাচ ভেঙে বাইরে লাফ দেন। স্থানীয়দের সহায়তায় ২৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে শশাঙ্ক ও তার মা সুনীতা বাসের পেছনের দিকে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর শশাঙ্ক মাকে নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কারণে সুনীতা দ্রুত হাঁটতে পারছিলেন না। এদিকে বাসের ভেতর ধোঁয়া বাড়তে থাকে। বাইরে থেকে যাত্রীরা দ্রুত নেমে আসার জন্য চিৎকার করছিলেন। কিন্তু মাকে ফেলে একা বেরিয়ে আসেননি শশাঙ্ক। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি বলেছিলেন, মা না নামতে পারলে আমিও নামব না। মাকে নিয়েই নামব। শেষ পর্যন্ত দু’জনই বাসের ভেতর আটকা পড়েন। ধোঁয়ায় জ্ঞান হারানোর পর আগুনে পুড়ে তাদের মৃত্যু হয়। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পরিবারের সদস্যরা সুনীতা ও শশাঙ্কের মরদেহ শনাক্ত করেন। সুনীতার উচ্চতা এবং শশাঙ্কের হাতে থাকা আংটি দেখে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। মহোবার চরখড়ির বাড়িতে রয়েছেন শশাঙ্কের বাবা নীরজ গুপ্ত এবং তার ছোট ভাই নিখিল, যিনি বর্তমানে কলেজে পড়াশোনা করছেন।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news