প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রামু ট্র্যাজেডির ১৪ বছর: বিচারহীনতার দীর্ঘ ছায়ায় ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে সংঘটিত নারকীয় তাণ্ডবের দীর্ঘ ১৪ বছর অতিবাহিত হলেও বিচার প্রক্রিয়ার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয় ধর্মীয় সংখ্যালঘু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর ক্ষোভ, হতাশা ও বিচারহীনতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে এক বৌদ্ধ যুবকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে রাতের অন্ধকারে রামুর ১২টি দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ বিহার এবং ৩০টি বসতঘরে নৃশংস হামলা, ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। একই সময়ে উখিয়া ও টেকনাফেও ছড়িয়ে পড়া এই সহিংসতায় আরো সাতটি বৌদ্ধ বিহার ও ১১টি বসতঘর পুড়িয়ে ছারখার করা হয়, যেখানে আরো শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত উপাসনালয় ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করা হলেও এবং বাহ্যিক সম্প্রীতির আবহ তৈরি হলেও মূল অপরাধীরা এখনো শাস্তি না পাওয়ায় সংক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠীর মনের ক্ষত একটুও শুকায়নি।বাঙালি সনাতনী ও অসাম্প্রদায়িক ধারার সুরক্ষায় নিবেদিত অংশ হিসেবে উল্লেখ্য যে, দেশে যেকোনো ধর্মীয় বা জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি সর্বদা মৌলিক মানবাধিকারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই সহিংসতার পর পুলিশ এজাহারভুক্ত ৩৭৮ জনসহ অজ্ঞাতনামা সাড়ে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা দায়ের করে এবং ৯৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও মাত্র একটি মামলা আপোসে নিষ্পত্তি ছাড়া বাকি মামলাগুলোর বিচারকাজ প্রায় স্থবির হয়ে আছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') স্থানীয় প্রবীণ ও ধর্মীয় প্রতিনিধিরা অভিযোগ তুলেছেন যে, পুলিশের দায়ের করা এসব মামলায় মূল অপরাধীদের বাদ দিয়ে নিরপরাধ বহু মানুষকে জড়ানো হয়েছে এবং সঠিক প্রমাণের অভাব দেখিয়ে কিংবা সাক্ষীদের অনিয়মের অজুহাতে বিচারপ্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিচারসংশ্লিষ্টদের একাংশ সাক্ষীর অনুপস্থিতিকে কারণ হিসেবে দেখালেও ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার সময়কার ছবি ও ভিডিওচিত্রগুলোকে ডিজিটাল সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করলেই সঠিক বিচার পাওয়া সম্ভব হতো।ঐতিহাসিক রামু ট্র্যাজেডির ১৪তম বর্ষপূর্তিতে রামু বুড্ডিস্ট সোশ্যাল মুভমেন্ট বুদ্ধ উপাসনা, চিত্র প্রদর্শনী ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটিকে স্মরণ করার পাশাপাশি ঘটনার পুনস্তদন্ত ও সরকারি নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় প্রবীণ ধর্মীয় গুরু শীলপ্রিয় মহাথের ও বৌদ্ধ নেতাদের মতে, বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি কেবল রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক নয়, বরং ভবিষ্যতে অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সুরক্ষাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। যেকোনো অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সব জাতির মানবাধিকার রক্ষা অধরাই থেকে যাবে, তাই অবিলম্বে রামু ট্র্যাজেডির নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করাই এখন সময়ের দাবি।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news