প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
যৌতুকের রাক্ষসী ক্ষুধায় ৩ সনাতনী বধূর জীবন প্রদীপ নিভে গেল
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
যৌতুকের নামে মানবতাবোধকে বিসর্জন দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় পর পর তিনটি নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ছয়-সাত মাসের ব্যবধানে যৌতুকের নিষ্ঠুর দাবির বলি হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন রাধা রানী, অস্টমী রানী এবং কবিতা রানী রায় নামের তিন সনাতনী গৃহবধূ। ধর্মীয় ও মানবিক অধিকারের তোয়াক্কা না করে হিন্দু পরিবারের তরুণীদের ওপর চালানো এই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন আজ সমাজ ব্যবস্থার এক চরম অন্ধকার দিক তুলে ধরছে। এই অমানবিক ঘটনাগুলোতে স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসনের নিশ্চুপ ভূমিকা সনাতনী সম্প্রদায়সহ সচেতন সব মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।রাঘবপুর গ্রামের ১৭ বছরের কিশোরী রাধা রানীর মৃত্যু এই নির্মমতার এক জঘন্যতম দৃষ্টান্ত। অনাগত চার মাসের গর্ভস্থ সন্তানসহ রাধাকে প্রাণ দিতে হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের বাকি পাওনার জন্য। বসতভিটার একমাত্র সহায় টুকু বিক্রি করে আড়াই লাখ টাকা যৌতুক মিটিয়ে দিয়েছিলেন অসহায় পিতা মহিন্দ্রনাথ রায়। বাকি অর্থ দিতে কয়েক মাস সময় চাওয়ার অপরাধেই রাধাকে নির্মম পরিণতি বরণ করতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর এটিকে আত্মহত্যার রূপ দেওয়া হয়েছে এবং সনাতনী রীতি অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে সৎকারের মাধ্যমে সত্য গোপনের অপচেষ্টা করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, শোকসন্তপ্ত পরিবার বিচারের উদ্দেশ্যে থানায় শরণাপন্ন হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে মামলা নিতে তালবাহানা করা হয়।অন্যদিকে, পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবনে মারা যাওয়া অস্টমী রানী রায়ের গল্পটিও সমান ব্যথাতুর। রানীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের মেয়ে অস্টমী পরিবারের অমতে বিয়ে করে ঘর বাঁধলেও যৌতুকের দাবি তাঁর জীবনকে বিষাদময় করে তোলে। স্বামী যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে ও পরিবার সেই আর্থিক দাবি মেটাতে অক্ষম হওয়ায় চরম হতাশায় ভুগে তিনি বিষপান করেন এবং শেষ পর্যন্ত চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।একইভাবে বৈচনা ইউনিয়নের পাতিলাবিল গ্রামে সাত মাসের শিশুসন্তানের মা কবিতা রানী রায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য স্বামী সুজন রায় তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন এবং নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত কবিতার প্রাণ দিতে হয়েছে। হত্যাকে ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর অভিযোগও এনেছেন স্বজনরা।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news