প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
দূর্গা প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যের মন্তব্য ঘিরে ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে একটি মন্দিরে দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) এক সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।এ ঘটনায় অভিযোগকারী জয়শ্রী দেব খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্ট, মন্তব্য ও প্রোফাইলের স্ক্রিনশট সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীদুবা ইউনিয়নের গালান্ধি চৌরঙ্গী শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দিরে দুর্গাপূজার নির্মাণাধীন প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। ওই সংবাদ পোস্টের কমেন্টে ‘Younuch Sarder’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মন্তব্য করা হয়, “কাঁদা দিয়ে বানানো হয়তো পড়েগেছে।”অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক প্রোফাইলে ‘ইউনুস সরদার’ নাম, পুলিশ ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য দেখা যাচ্ছে। এ কারণে ওই অ্যাকাউন্টটি সত্যিই কোনো কর্মরত পুলিশ সদস্যের কি না এবং মন্তব্যটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই করেছেন কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।অভিযোগকারী বলেন, একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রতিমা ভাঙচুরের মতো স্পর্শকাতর ঘটনার সংবাদে এমন মন্তব্য কেন করা হলো, সেটি প্রশ্নের বিষয়। বিশেষ করে মন্তব্যটি যদি সত্যিই কোনো কর্মরত পুলিশ সদস্যের হয়ে থাকে, তাহলে তা তাঁর পেশাগত আচরণ, নিরপেক্ষতা, ধর্মীয় বিষয়ে সংবেদনশীলতা এবং পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে।তবে অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি প্রকৃতপক্ষে কেএমপির ওই সদস্যের কি না, মন্তব্যটি তাঁরই করা কি না এবং তিনি বর্তমানে কেএমপিতে কর্মরত কি না—এসব বিষয় কর্তৃপক্ষের যাচাই ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে, যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে, সেটি ছিল পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীদুবা ইউনিয়নের গালান্ধি চৌরঙ্গী শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দিরে নির্মাণাধীন দুর্গাপূজার প্রতিমার মহিষ ও ময়ূরের অংশ ভাঙচুর করা হয়।সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি মো. মুসা মিয়া জানিয়েছিলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে পুরোহিত ও কারিগররা চলে যাওয়ার পর রাত ১২টার পর মণ্ডপে কেউ না থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা প্রতিমার দুটি অংশ ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মণ্ডপ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইসহ ঘটনার তদন্ত শুরু করে।স্থানীয় বাসিন্দা দুজয় চন্দ্র মানিকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের আঁধারে কে বা কারা নির্মাণাধীন প্রতিমার মহিষ ও ময়ূরের অংশ ভেঙে রেখে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় গালান্ধি চৌরঙ্গী শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক রাধানাথ বর্মন বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা কথিত পুলিশ সদস্যের মন্তব্য নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, একজন পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, একই সঙ্গে সব নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা। তাই এমন কোনো মন্তব্য যদি সত্যিই কোনো কর্মরত পুলিশ সদস্যের হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।জয়শ্রী দেব তাঁর আবেদনে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মালিকানা, মন্তব্যের সত্যতা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির কেএমপিতে কর্মরত থাকার বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news