প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
রাঙ্গুনিয়ায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
সৌরভ সাহা , রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি ||
আর মাত্র কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে ঘিরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করছেন মৃৎশিল্পীরা।রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন প্রতিমা তৈরির কারখানা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, আবার কোথাও কাদামাটির প্রলেপে ধীরে ধীরে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবী দুর্গার অবয়ব। কেউ ব্যস্ত দেবীর মুখাবয়ব নিখুঁত করে তুলতে, আবার কেউ রঙ-তুলির আঁচড়ে সাজিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতিমা। সব মিলিয়ে মৃৎশিল্পীদের কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে প্রতিমা তৈরির কারখানাগুলো।রাঙ্গুনিয়ার শান্তিনিকেতনের শ্রীকৃষ্ণ মৃৎশিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী শ্রী অমিত সাহা জানান, এবারের দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে তাঁরা প্রায় ৩০টি প্রতিমা তৈরি করছেন। এর মধ্যে কিছু প্রতিমা কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকাতেও প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে।তিনি বলেন, এ বছর প্রতিমা তৈরির খরচের তুলনায় দাম কিছুটা কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ পুষিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিমা তৈরিতে প্রয়োজনীয় উপকরণ, শ্রম ও সময়—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে শিল্পীদের।প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপেই রয়েছে শিল্পীদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতার ছাপ। প্রথমে বাঁশ ও খড় দিয়ে তৈরি করা হয় প্রতিমার মূল কাঠামো। এরপর সুতলি দিয়ে কাঠামোটি শক্তভাবে বেঁধে দেওয়া হয়। কয়েক দফায় কাঠামোর ওপর কাদামাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। মাটি শুকিয়ে গেলে শুরু হয় প্রতিমার অবয়ব ও মুখাবয়ব নিখুঁত করার কাজ। সবশেষে রঙ-তুলির আঁচড়ে প্রতিমা পায় পূর্ণাঙ্গ রূপ।দেবী দুর্গার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের প্রতিমা। সেই সঙ্গে তৈরি করা হচ্ছে সিংহ, মহিষ, পেঁচা, হাঁস ও সর্পসহ বিভিন্ন অনুষঙ্গ। প্রতিটি প্রতিমাকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে শিল্পীরা দিচ্ছেন বাড়তি মনোযোগ। আয়োজকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিমার আকার, নকশা ও সাজসজ্জায়ও রাখা হচ্ছে বৈচিত্র্য।প্রতিমাশিল্পীরা জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিমাসেট তৈরি করতে দিনের পর দিন শ্রম দিতে হয়। প্রতিমার আকার, নকশা ও কারুকাজের ওপর নির্ভর করে কাজ শেষ করতে প্রয়োজন হয় নির্দিষ্ট সময়। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় এখন কাজের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা সরবরাহ করতে অনেকটা বিরামহীনভাবেই কাজ করছেন তাঁরা।শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় বাঁশ, খড় ও কাদামাটির কাঠামো ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতিমায়। একদিকে শিল্পীদের নিরলস পরিশ্রম, অন্যদিকে পূজামণ্ডপগুলোতে সাজসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় বইতে শুরু করেছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আমেজ।মৃৎশিল্পীদের এই কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়েই পূর্ণতা পাচ্ছে দুর্গাপূজার আয়োজন। এখন অপেক্ষা শুধু মহাষষ্ঠীর, যেদিন দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বাঙালি সনাতন সম্প্রদায়ের বহুল প্রতীক্ষিত শারদীয় দুর্গোৎসব।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news