প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সাভারে পূজার চালের বরাদ্দ বাড়লেও বাড়েনি টাকা, ২৩৮টি মন্ডপে গত বছরের চেয়ে কম পাচ্ছে সাড়ে ৯ লাখ টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব সহজ ও আনন্দময় করতে চলতি বছর প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারি চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। কিন্তু মন্ডপ প্রতি গত বছরের চেয়ে এবার ১০০ কেজি চাল বরাদ্দ বাড়লেও বাড়েনি টাকা। গত বছরের হিসাবে মন্ডপ প্রতি কম পাচ্ছে ৪ হাজার টাকা। সে হিসাবে ২৩৮টি পূজা মন্ডপে কম পাচ্ছে ৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা। সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সরকারের আন্তরিকতা প্রশংসনীয় উদ্যোগ বলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মনে করেন। এছাড়াও বিএনপির অনেক স্থানীয় নেতৃবৃন্দও সনাতনীদের এই ধর্মীয় উৎসবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকেও মন্ডপ প্রতি ৫ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন। কিন্তু সরকারের এই আন্তরিকতার ফ সুফল পাচ্ছেন না সাভারের সনাতনী ধর্মাবলম্বী ও মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ। সাভার উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে মণ্ডপ প্রতি ৬০০ কেজি চালের সরকারি বরাদ্দপত্র নিয়ে চালের বদলে পূজামণ্ডপ কমিটির হাতে অনেক কমমূল্যে নগদ টাকা ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কথিত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, সাভার উপজেলার মোট ২৩৮টি পূজামণ্ডপের জন্য প্রতিটি পূজামন্ডপের অনুকূলে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ বরাদ্দপত্র নিয়ে খাদ্যগুদামে গিয়ে চাল গ্রহণ করবেন। কিন্তু মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ বরাদ্দপত্র হাতে পাওয়ার পরপরই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিসে বসেই তা নিয়ে নিচ্ছে মীর রফিকুল ইসলাম সানী নামে এক কথিত ব্যবসায়ী। চাল সংগ্রহের সুযোগ না দিয়ে মণ্ডপ প্রতিনিধিদের ৬০০ কেজি চালের বিপরীতে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। জানা যায়, গত বছর প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ৫০০ কেজি চালের বিপরীতে কেজিপ্রতি ৪০ টাকা হিসাবে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল।এ বছর ৬০০ কেজিতেও দেয়া হচ্ছে ২০ হাজার। এ বছর চালের বরাদ্দ ১০০ কেজি বাড়ায় গত বছরের হিসাবেই টাকা পাওয়ার কথা ৬০০ কেজিতে ৪০ টাকা কেজি দরে ২৪ হাজার টাকা। এ হিসাবে গত বছরের তুলনায় ২৩৮টি পূজামন্ডপে ৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা কম দেয়া হচ্ছে। এছাড়া গত বছরের হিসাব ধরলেও এবার ৬০০ কেজি চালের বিপরীতে একই পরিমাণ অর্থ দেওয়ায় কেজিপ্রতি মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৩ টাকা ৩৩ পয়সা। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতি কেজিতে ৬ টাকা ৬৭ পয়সা কম দেওয়া হচ্ছে। আর বাজার মূল্যের সঙ্গে তুলনা করলে তো অনেক কম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাভারের কয়েকটি পূজামণ্ডপের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারিভাবে চালের বরাদ্দ বাড়ানোর সংবাদে আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের গুদাম থেকে চাল তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। পিআইও অফিস থেকে বরাদ্দপত্র হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সানী ও তার লোকজন বরাদ্দপত্র নিয়ে যায় এবং হাতে ২০ হাজার টাকা ধরিয়ে দেয়। কারণ অনুদানের চাল নিয়ে মন্তব্য করে বিপদে পড়তে চাই না। তবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। এ বিষয়ে মীর রফিকুল ইসলাম সানী বলেন, সাভারের পার্শ্ববর্তি উপজেলাগুলো যেভাবে টাকা দিচ্ছে আমিও সেভাবেই টাকা দিচ্ছি। আমিতো আর বাড়তি টাকা দিতে পারি না। তিনি বলেন, কোন মন্দির কর্তৃপক্ষ যদি চাল আমার কাছে বিক্রি না করে চাল নিতে চায়, নিতে পারবে। তবে অন্য কোথাও বিক্রি করতে পারবে না। তিনি মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত তিনি ১০৪টি মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চাল কিনেছেন বলে জানান।সাভার উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাস বলেন, মন্দিরের চাল সিন্ডিকেটের সাথে আমি জড়িত নই। আমরা সরকারি বরাদ্দপত্র দিয়ে দিচ্ছি। এখন মন্দির কর্তৃপক্ষ তাদের চাল বিক্রি করবে, নাকি করবে না এবং কতো টাকায় করবে এটা একান্তই তাদের বিষয়। আমাদের মন্দিরের জন্য আমরা যে বরাদ্দ পাব তা আমরা যেখানে বেশি টাকা পাবো সেখানে বিক্রি করে দিব। এ চালে আমাদের হবে না, আরও ভালো মানের চিকন চাল লাগবে। এ বিষয়ে সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ ফাইজুল ইসলাম বলেন, সাভার উপজেলায় ২৩৮টি পূজা মন্ডপ রয়েছে। এরমধ্যে সাভার পৌরসভায় তিনটি মণ্ডপে পূজা হবে না। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ১৩০টি মন্ডপে ৬০০ কেজি করে চালের বরাদ্দপত্র দেওয়া হয়েছে। চাল নিয়ে মন্ডপ কর্তৃপক্ষ বিক্রি করতে পারে আবার নিয়েও যেতে পারে, এটা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়। চাল বিক্রির বিষয়টি আমরা নিয়ন্ত্রণ করছি না। মন্ডপ কর্তৃপক্ষ যেখানে ভালো দাম পাবে সেখানেই বিক্রি করবে এটা নিয়ে সরকারের কোন নির্দেশনা নেই। তাছাড়া আমার এখানে বসে চাল বিক্রি হচ্ছে না। আমার এখানে কোন টাকা-পয়সার লেনদেনও হয়নি। তাছাড়া একজন লোক আসলে তাকে তো আর নিষেধ করা যায় না। সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, পিআইও অফিসে বসে পূজা মন্ডপের বরাদ্দের চাল কেনার কোন সুযোগ নেই। আমরা মন্ডপ কর্তৃপক্ষকে বরাদ্দপত্র দিয়ে দিচ্ছি। এখন তারা চাল বিক্রি করবে না নিজেরা নিবে এটা তাদের বিষয়।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news