প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
আজ মায়ের বোধন, ষষ্ঠীর মাধ্যমে দুর্গোৎসব শুরু কাল
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেবীর বোধন। দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার লক্ষ্যে মণ্ডপে মণ্ডপে সায়ংকালে এই আচারের আয়োজন করা হয়েছে। পুরাণমতে, শ্রীরামচন্দ্র অকালে রাবণ বধের উদ্দেশ্যে দেবী দুর্গার যে জাগরণ ঘটিয়েছিলেন, সেই ঐতিহ্যে শরৎকালের এই পূজাকে অকালবোধন বলা হয়। আজ বোধন শেষে আগামীকাল শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দিনব্যাপী দুর্গোৎসব শুরু হবে। সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, এবার দেবী দুর্গা ঘোটকে বা ঘোড়ায় চড়ে পৃথিবীতে আগমন করছেন, যার ফল হিসেবে শস্যহানির আশঙ্কা করা হলেও তিনি স্বর্গালোকে গমন করবেন নৌকায়, যা নিয়ে আসবে শস্যবৃদ্ধির শুভ বার্তা। সারাদেশে এবার ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা বিগত বছরের তুলনায় ৪৯৬টি বেশি। তবে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব ঘিরে যে এক ধরনের ভীতিহীন আবহাওয়া থাকার কথা ছিল, বাস্তবে তা ব্যাহত হচ্ছে।সারাদেশজুড়ে ড্রোন, পুলিশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কড়া পাহারায় পূজা আয়োজনের চিত্র উঠে এসেছে, যা নিয়ে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রহরা দিয়ে নিজ ভূখণ্ডে উৎসব পালন করতে হওয়া নাগরিক অধিকার ও সার্বজনীন মানবাধিকারের চরম পরিপন্থী। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') পাহারার মধ্য দিয়ে সংখ্যালঘু পূজার্থী জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে সংকুচিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের মানবাধিকার ভাবমূর্তি নিদারুণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বতঃস্ফূর্ত ও ভয়হীন পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালনের যে মৌলিক অধিকার রয়েছে, তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদরদপ্তরের পক্ষ থেকে মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য আর্মব্যান্ড ব্যবহার, আজান ও নামাজের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখাসহ নানা ধরনের নিরাপত্তামূলক পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যে কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং জরুরি সহায়তার জন্য পুলিশ ও জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। তবে সচেতন মহল ও সাধারণ পূজা অনুরাগী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, শুধুমাত্র পুলিশের কড়া প্রহরা বা কৃত্রিম নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থায়ী শান্তি আনতে পারে না; বরং সনাতনী সম্প্রদায়ের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মৌলিক মানবাধিকার সুনিশ্চিত করাই সময়োপযোগী সমাধান।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news