প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
রক্ত, কান্না আর ধ্বংসের স্মৃতি: ২০২১ সালের ১৫ অক্টোবরের সেই রক্তাক্ত শারদ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
আজ ১৫ অক্টোবর। ২০২১ সালের এই দিনে বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর চৌমুহনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ক্ষত আজও ভুলতে পারেননি ভুক্তভোগীরা। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ও কোরআন অবমাননার গুজবকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় প্রাণ হারান একাধিক মানুষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় মন্দির ও পূজামণ্ডপে। হামলা, লুটপাট এবং আতঙ্কে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বহু হিন্দু পরিবার। সেই ভয়াল দিনের স্মৃতি আজও অনেকের কাছে এক রক্তাক্ত শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিচ্ছবি।২০২১ সালের ১৩ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর ও গুজবকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এর জেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, পূজামণ্ডপ, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।সেই সহিংসতার অন্যতম ভয়াবহ স্মৃতিবিজড়িত স্থান নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জন শেষে বাড়ি ফেরার পরও সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়। চৌমুহনীর কলেজ রোড এলাকার ত্রিশূল পূজামণ্ডপে বিসর্জন সম্পন্ন করে বাড়ি ফেরার পর হাজারো উত্তেজিত মানুষের হামলার মুখে পড়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।ভুক্তভোগীদের বর্ণনায়, তৎকালীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জুমার নামাজের আগেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু বিসর্জন শেষে বাড়ি ফেরার পরও হামলা থেকে রেহাই মেলেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎকালীন পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বারবার ফোন করা হলেও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চললেও আক্রান্তদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছিল।
ওই সহিংসতার সময় নোয়াখালীতে শ্রী যতন সাহা ও শ্রী প্রান্ত দাসকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগের কথাও স্মরণ করা হচ্ছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় তাঁদের মৃত্যুর স্মৃতি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে আজও বেদনাদায়ক।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news