প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
পূজার বরাদ্দের চালে ‘ভাগ বসাল’ কল্যাণ ফ্রন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় পূজা মণ্ডপগুলোর অনুকূলে বরাদ্দে ভাগ বসানোর অভিযোগ উঠেছে ‘হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’ নামে একটি সংগঠনের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। তারা প্রতিটি মণ্ডপ থেকে ১৯ হাজার ২০০ টাকা করে কেটে নিয়েছেন বলে জানিয়েছে একাধিক পূজা কমিটি।নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান এমপির স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা অমান্য করে এই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির সহযোগী সংগঠন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সুভাস দাস ও সোনাইমুখী ওয়ার্ড যুবদল কর্মী আপন সুর এ কাজে জড়িত। তারা উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বুধবার উপজেলা পরিষদে বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তারা প্রভাব খাটিয়ে মণ্ডপগুলোর ডিও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন।অনিয়মের অনুসন্ধানে জানা যায়, গত শনিবার উপজেলার মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান। সেখানে তিনি নিজস্ব তহবিল থেকে মণ্ডপপ্রতি এক হাজার ৫০০ কেজি এবং সরকারি কোটা থেকে ৬০০ কেজি মোট দুই হাজার ১০০ কেজি (২.১ টন) করে চাল বরাদ্দের ঘোষণা দেন। প্রতিমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি মন্দির কমিটির কাছে ডিও হস্তান্তর করতে হবে, যেন তারা বাজার যাচাই করে স্বাধীনভাবে তা বিক্রি করতে পারে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলার ২৩টি মন্দিরের নামে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজুর রহমান মন্দির কমিটির নেতাদের বরাদ্দপত্র গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান। কল্যাণ ফ্রন্টের সুভাস দাস ও আপন সুর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে চালের ডিওগুলো হস্তগত করেন। প্রতিবাদ করলে শ্রী শ্রী মদনমোহন পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি সুমিত কুমার দাসের সঙ্গে আপন সুরের বাগ্বিতণ্ডা হয়।সুমিত কুমার দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কল্যাণ ফ্রন্টের নেতারা চাল বিক্রি করে আমাদের হাতে মাত্র ৬৯ হাজার টাকা দিয়েছেন। বাজারে চালের দর কেজিপ্রতি ৪০ টাকার ওপরে হলেও তারা ৩৩ টাকা দর ধরে হিসাব দিয়েছেন। কোনো দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও তারা চাল বিক্রির নামে প্রতিটি মন্দির থেকে বড় অঙ্কের টাকা কেটে নিয়েছেন। তবে ঝামেলা এড়াতে আমরা নিরিবিলি থাকতে চাই।’একইভাবে শ্রী শ্রী কালাচাঁদ মন্দির পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সঞ্জিব পাল জানান, কল্যাণ ফ্রন্ট নেতারাই চালের দর নির্ধারণ করে মণ্ডপে টাকা এনে দিয়েছেন। কল্যাণ ফ্রন্টের উপজেলা সভাপতি সুভাস দাসের দাবি, ‘অধিকাংশ মন্দির কর্তৃপক্ষ সরাসরি চাল সংগ্রহে রাজি না হওয়ায় আমরা চার-পাঁচজন পাইকার যাচাই করে ৩৩ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করে দিয়েছি। সে হিসেবে মণ্ডপপ্রতি ৬৯ হাজার ৩০০ টাকা পাওয়ার কথা, যা বুঝিয়ে দিয়েছি। আমরা কেবল সহায়তার উদ্দেশ্যেই দলীয়ভাবে এতে যুক্ত হয়েছিলাম।’উপজেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াসউদ্দিন দিপেন জানান, ‘প্রতিমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সুবিধার্থে ডিও সরাসরি কমিটির হাতে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সেই নির্দেশ যথাযথভাবে কার্যকর হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।’প্রশাসনিক দিক থেকে অনিয়মের সুযোগ নেই উল্লেখ করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুর রহমান বিপ্লব বলেন, ‘রেজুলেশন অনুযায়ী ২৩টি মন্দিরের মূল কমিটির কাছেই সরকারি বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করার কথা। এতে অন্য কোনো সংগঠনের হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনি সুযোগ নেই।’
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news