প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
রাঙ্গুনিয়ায় দুর্গোৎসবে সাত্ত্বিকতার আবহ, ডিজে বাদ দিয়ে আরতি-ধুনুচি নাচে গুরুত্ব
সৌরভ সাহা , রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি ||
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শারদীয় দুর্গোৎসবে এবার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সাত্ত্বিকতা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির প্রকাশ লক্ষ করা গেছে। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, ডিজে আয়োজনের পরিবর্তে দেবী দুর্গার আরতি, ধুনুচি নাচ, ঢাক-ঢোলের বাদ্য, বাজনা প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে গুরুত্ব দিয়েছেন আয়োজকেরা। ধর্মীয় রীতিনীতি ও ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়ে উৎসব উদযাপনের এই প্রবণতা এবারের দুর্গোৎসবের অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।বিশেষ করে দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়ার মা ভবানী একতা সংঘ, রাঙ্গুনিয়া ছাত্র সমাজ, উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া স্টুডেন্ট ক্লাব, দিঘীরপাড় পূজামণ্ডপ, শান্তিনিকেতন পূজামণ্ডপ, মজুমদারখীল এবং পূর্ব চন্দ্রঘোনার গীতাভবনসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের আয়োজনে ধর্মীয় আবহ ও ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের প্রাধান্য দেখা গেছে।দুর্গোৎসবকে ঘিরে এসব মণ্ডপে দেবী দুর্গার আরাধনা, সন্ধ্যারতি, ধুনুচি নাচ, ঢাক-ঢোলের বাদ্য এবং বিভিন্ন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের পরিবেশ গড়ে ওঠে। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ও ভক্তিমূলক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। পরিবার-পরিজন নিয়ে পূজামণ্ডপে আসা ভক্তরা প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন।দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়ার মা ভবানী একতা সংঘের দুর্গোৎসবে ধর্মীয় আবহ ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে রাঙ্গুনিয়া ছাত্র সমাজ ও উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া স্টুডেন্ট ক্লাবের পূজামণ্ডপেও ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসব উদযাপন করা হয়। দিঘীরপাড়, শান্তিনিকেতন, মজুমদারখীল ও চন্দ্রঘোনা গীতাভবন এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতেও ভক্তি, আরাধনা এবং ঐতিহ্যবাহী আয়োজন দুর্গোৎসবের পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলে।এবারের উৎসবে ডিজে ও উচ্চ শব্দনির্ভর বিনোদনের পরিবর্তে আরতি, ধুনুচি নাচ, ঢাক-ঢোলের বাদ্য এবং মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি ধর্মীয় উৎসবের মূল তাৎপর্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। দুর্গাপূজার আনন্দ কেবল আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা কিংবা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দেবী আরাধনা, ধর্মীয় রীতিনীতি পালন এবং ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির চর্চাও এ উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।ধুনুচি নাচ ও ঢাকের বাদ্য বাঙালি সনাতন সম্প্রদায়ের দুর্গোৎসবের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। আরতি, শঙ্খধ্বনি ও ভক্তিমূলক সংগীত পূজামণ্ডপে আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মের কাছে ধর্মীয় ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে।সনাতন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে দুর্গোৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার সুযোগ সৃষ্টি করে।রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, ধুনুচি নাচ ও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের প্রাধান্য এবারের দুর্গোৎসবকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে। উৎসবের আনন্দের সঙ্গে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ই এসব আয়োজনের উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news