প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি, গণপতি চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবাধিকার ও নাগরিক সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে ‘সৌহার্দ্যের বাংলাদেশ’-এর পক্ষে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।স্মারকলিপিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, রংপুরের গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর এবং সব ধরনের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত আবাসভূমি। এ দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বহুধর্মীয় মানুষের সহাবস্থান, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। তাই কোনো নাগরিক যেন ধর্মীয় পরিচয়, বিশ্বাস কিংবা সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের কারণে বৈষম্য, হয়রানি, নির্যাতন কিংবা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।এতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাসহ সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত পর্যালোচনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে তাঁর মুক্তির দাবিও জানানো হয়।রংপুরের গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্মারকলিপিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি তদন্ত প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।স্মারকলিপিতে মাজার ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, ধর্মীয় উপাসনালয়ের অবমাননা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর আঘাতের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ধর্মীয় উপাসনালয় মানুষের বিশ্বাস, আবেগ ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই মন্দির, মাজারসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এসব স্থানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।এ ছাড়া ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো, সাম্প্রদায়িক উসকানি, সামাজিক বিভাজন সৃষ্টি এবং কোনো জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সমানভাবে সুরক্ষিত থাকা প্রয়োজন। সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, বরং নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম ভিত্তি।‘সৌহার্দ্যের বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে স্মারকলিপিতে সরকারের প্রতি এসব দাবির বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news