প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
৬ মুখের আহার ও ২ সন্তানের পড়াশোনা: একটি অটোরিকশার আকুল আকুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নের বাতাজুরি গ্রামে এখন কেবলই এক অসহায় পরিবারের বেঁচে থাকার নীরব আর্তনাদ। একদিকে বয়োবৃদ্ধা মা ও শারীরিক প্রতিবন্ধী বোন, অন্যদিকে স্ত্রী এবং দুই সন্তানের অনাগত ভবিষ্যৎ। ৬ সদস্যের এই বিশাল পরিবারের ভরণপোষণ করতে গিয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দিনআনা দিন খাওয়া সঞ্জিত দেব। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে যেখানে দুমুঠো ভাতের সংস্থান করতেই প্রতিদিন হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য এক অলীক স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অভাবের করাল গ্রাসে ঢাকা পড়েছে পুরো পরিবারটির হাসি, চার দেয়ালের ভেতরে জমে উঠেছে দীর্ঘশ্বাস।পরিবারে দিন এনে দিন খাওয়ার মতো কোনো স্থায়ী ও নিশ্চিত আয়ের উৎস নেই। জমানো কোনো সম্বল কিংবা সামান্য কৃষিজমিও নেই যেখান থেকে বেঁচে থাকার ন্যূনতম সংস্থান হতে পারে। ফলে দিন যতই যাচ্ছে, ঋণের বোঝা আর পেটের ট্র্যাজিক ক্ষুধা তাদের জীবনকে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তুলছে। পরিবারের এমন টানাটানির মধ্যেও সঞ্জিত দেব তাঁর সন্তানদের শিক্ষিত করার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। (News copied from- 'हिंदुस न्यूज़') তাঁর বড় মেয়ে বরমা ডিগ্রি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। অদম্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কলেজের বেতন, যাতায়াত এবং বই-খাতার খরচ মেটাতে না পেরে মেয়েটির শিক্ষা জীবন আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, তাঁর ছোট ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা শেষ করলেও তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে আগামীতে কোনো কলেজে ভর্তি করানো বা পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের এই চরম দারিদ্র্য এখন দুই সম্ভাবনাময় সন্তানের ভবিষ্যৎকে এক অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছে।নিজের সীমাহীন অসহায়ত্বের কথা জানাতে গিয়ে চোখ সজল হয়ে ওঠে পরিশ্রমী সঞ্জিত দেবের। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি জানান, বয়স্ক মা আর প্রতিবন্ধী বোনের ওষুধপত্র, তার ওপর সন্তানদের পড়ালেখার খরচ মেটাতে গিয়ে তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিন সকালে উঠে সন্তানদের মুখের দিকে তাকালে বুকটা ফেটে যায়। তবে তিনি কারও কাছে কোনো স্থায়ী দান বা ভিক্ষা চান না, চান কেবল খেটে খাওয়ার একটি সম্মানজনক মাধ্যম। একটি সিএনজি অটোরিকশা কিনে বা ব্যবস্থা করে দেওয়া হলে তিনি নিজে চালকের আসনে বসে দিনরাত পরিশ্রম করে পরিবারটিকে টিকিয়ে রাখতে চান। এলাকাবাসীর মতে, সঞ্জিত দেব অত্যন্ত সৎ ও উদ্যমী মানুষ হলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ তিনি চরমভাবে অসহায়। এই কঠিন পরিস্থিতিতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী দানশীল ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন আহমেদের মানবিক হস্তক্ষেপই পারে একটি অটোরিকশার মাধ্যমে এই হতাশ পরিবারটিতে আশার নতুন আলো জ্বালতে।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news