প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
৫-এর মধ্যে ৪ পেয়ে বাজিমাত করল বহুল প্রতীক্ষিত ‘রামায়ণ: পার্ট ১’
অভ্র অর্পন ||
সনাতনী সংস্কৃতি এবং বিশ্বমানের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দায় হাজির হয়েছে মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র ‘রামায়ণ: পার্ট ১’। পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির নির্দেশনায় এবং নামী নির্মাতা নমিত মালহোত্রার প্রযোজনে নির্মিত এই সিনেমাটি ইতিমধ্যে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গন তথা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হাজার বছরের আবেগ, ঐতিহ্য এবং বিশ্বাসের প্রতীক এই মহাকাব্যকে সেলুলয়েডের পর্দায় রূপদান করা যেকোনো নির্মাতার জন্যই ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কারণ কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি এবং প্রত্যাশার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রামায়ণের প্রতিটি চরিত্র ও ঘটনা। তবে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় সিনেমাটি ৫-এর মধ্যে ৪ তারকা অর্জন করে সেই চ্যালেঞ্জ অত্যন্ত সফলভাবে জয় করার বার্তা দিয়েছে।বাল্মীকি রামায়ণের মূল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই চলচ্চিত্রের সূচনা হয়েছে রাবণের অতীত জীবনের পটভূমি দিয়ে, যা ধীরে ধীরে দর্শকদের নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ রামের গল্পের গভীরে। চিত্রনাট্যের দায়িত্বে থাকা শ্রীধর রাঘবন ও নীতেশ তিওয়ারি আবেগ, নাটকীয়তা এবং পৌরাণিক গুরুত্বের এক দারুণ ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। যদিও সমালোচকদের মতে, প্রথমার্ধের গতি কিছুটা ধীর ছিল এবং প্রায় প্রতিটি প্রধান চরিত্রের পরিচয় ও অতীত তুলে ধরতে গিয়ে শুরুর অংশটি একটু দীর্ঘ হয়ে গেছে। পাশাপাশি, কিছু দৃশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডাবিংয়ের ছোটখাটো ত্রুটিও দর্শকদের চোখে পড়েছে। তবে এই প্রাথমিক ঘাটতিগুলো পুষিয়ে নিতে সিনেমাটির দ্বিতীয় অংশ দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যগুলোর গতি এবং হলিউডের বিখ্যাত ডিএনইজি (DNEG)-এর করা ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বা ভিএফএক্সের কাজ দর্শকদের রীতিমতো মন্ত্রমুগ্ধ করেছে। শোনা যাচ্ছে, সিনেমাটির বিশাল বাজেটের একটি বড় অংশই ব্যয় হয়েছে এই উন্নত প্রযুক্তিগত কাজের পেছনে, এবং পর্দায় সেই বিশাল বিনিয়োগের সুফলও স্পষ্ট দেখা মিলেছে।অভিনয়ের দিক থেকে বিচার করলে, এই চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন দক্ষিণী সুপারস্টার যশ। রাবণের চরিত্রে তার দাপুটে উপস্থিতি, শরীরের ভাষা, চলাফেরা এবং বিশেষ করে রাবণের দশটি মুখের নান্দনিক ও ভীতিকর উপস্থাপনা ছবির মান বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিগত কাজগুলোর চেয়ে এই চলচ্চিত্রে যশ সম্পূর্ণ নতুন এক রূপ নিয়ে হাজির হয়েছেন। অন্যদিকে, ‘রাম’ চরিত্রে বলিউড তারকা রণবীর কাপুরের অভিনয় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অ্যাকশন ও শারীরিক অভিনয়ে তিনি সাবলীল হলেও, চরিত্রটির ভেতরে যে গভীর ভক্তি, সংযম এবং আধ্যাত্মিক আবহ ফুটিয়ে তোলার প্রত্যাশা ভক্তদের ছিল, তা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলেই মনে করছেন অনেক সমালোচক। তবে রাজা দশরথের চরিত্রে কিংবদন্তি অভিনেতা অরুণ গোভিলের উপস্থিতি দর্শকদের নস্টালজিয়ায় ভাসিয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের রামানন্দ সাগরের জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজে রামের চরিত্রে অভিনয় করে অমরত্ব লাভ করেছিলেন এই অরুণ গোভিল। এছাড়া, কৈকেয়ীর চরিত্রে লারা দত্তের শক্তিশালী অভিনয় এবং স্বল্প সময়ের উপস্থিতিতেও মন্থরার চরিত্রে শিবা চাড্ডার নিখুঁত অভিনয় দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলতে সক্ষম হয়েছে।সনাতন সংস্কৃতির অন্যতম নারী চরিত্র সীতার ভূমিকায় দক্ষিণী অভিনেত্রী সাই পল্লবীর অভিনয় সব মহলের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। পর্দায় তার সংযত অভিব্যক্তি, মার্জিত উপস্থিতি এবং চরিত্রের প্রতি পূর্ণ ন্যায়বিচার দেখে সমালোচকরাও একবাক්ය স্বীকার করেছেন যে সীতা চরিত্রে তার চেয়ে উপযুক্ত নির্বাচন আর হতে পারত না। লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবের ভক্তি এবং আনুগত্যের প্রকাশও গল্পটিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। তবে সিনেমাটির সবচেয়ে আবেগঘন এবং দৃশ্যগতভাবে চমৎকার মুহূর্তগুলোর একটি হলো জটায়ুর বীরত্বের দৃশ্য। সীতাকে রাবণের কবল থেকে রক্ষা করতে জটায়ুর সেই বীরত্বপূর্ণ লড়াই এবং ছবির শেষভাগে অনুপম খেরের কণ্ঠে জটায়ুর উপস্থিতি দর্শকের হৃদয়ে নাড়া দেওয়ার মতো এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।সংগীতের ক্ষেত্রে প্রখ্যাত হলিউডি সংগীত পরিচালক হ্যান্স জিমার এবং ভারতের গর্ব এ আর রহমানের মতো দুই মহারথীর যৌথ মেলবন্ধন বড় কোনো ম্যাজিক তৈরি করতে পারেনি বলে কিছু সমালোচনা রয়েছে। কিছু গান অপ্রয়োজনীয় এবং প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম বৈচিত্র্যপূর্ণ মনে হলেও সামগ্রিক পরিবেশনায় তার তেমন বড় প্রভাব পড়েনি। সংবাদ কপিড ফ্রম- 'হিন্দুস নিউজ'। সব মিলিয়ে, রাবণের দশটি মাথার মতো কোটি কোটি মানুষের হাজারও প্রত্যাশার বোঝা মাথায় নিয়ে নির্মাতারা প্রথম পর্বে এক বিশাল সাফল্য অর্জন করেছেন। মহাকাব্যের মূল আধ্যাত্মিক আবহ ও পবিত্রতা বজায় রেখে চোখধাঁধানো ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার মাধ্যমে এটি সনাতন ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এখন চলচ্চিত্রপ্রেমীদের নজর রয়েছে এর দ্বিতীয় পর্বের দিকে, যেখানে হনুমানের চরিত্রে সানি দেওয়েলের আগমন, সঞ্জীবনী বুটি নিয়ে আসার সেই ঐতিহাসিক দৃশ্য এবং রাম-রাবণের চূড়ান্ত মহাযুদ্ধ দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি দর্শক।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news