প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
কুড়িগ্রামের কুমারপল্লির ঘামে ভেজা হাতে ফুটছে দীপাবলির আনন্দ
অভ্র অর্পন ||
কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ফুলবাড়ী উপজেলার মাঝিপাড়া কুমারপল্লিতে এখন যেন ব্যস্ততার শেষ নেই। আগামী ৮ নভেম্বর অমাবস্যা তিথিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব মহাশক্তিরূপিণী, দুর্গতিনাশিনী শ্রীশ্রী শ্যামাপূজা (কালীপূজা) ও আলোর উৎসব দীপাবলি অনুষ্ঠিত হবে। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মাটির প্রদীপ বা 'দিয়ারি' তৈরির কাজে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন মাঝিপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। বছরের এই বিশেষ সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজামণ্ডপের পাশাপাশি নিজেদের বাড়িঘর ঐতিহ্যবাহী প্রদীপের উজ্জ্বল আলোয় সাজিয়ে তোলেন। সনাতনীদের এই আনন্দকে পূর্ণতা দিতেই মৃৎশিল্পীদের ঘরে ঘরে চলছে কর্মযজ্ঞ। পরিবারের প্রবীণ নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে কনিষ্ঠ শিশু-কিশোররাও এই কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কারও যেন একটু দম ফেলার ফুরসত নেই।মৃৎশিল্পীরা মূলতঃ পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ও পেশাকে আঁকড়ে ধরে বছরের পর বছর ধরে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বাভাবিক সময়ে হাঁড়িপাতিল, মাটির পুতুল কিংবা মেলার পণ্যাদি তৈরি করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়ে দিনযাপন করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কালীপূজা ও দীপাবলির মতো বড় উৎসবগুলো তাঁদের জীবনে নিয়ে আসে বাড়তি উপার্জনের শুভ সুযোগ। মৃৎশিল্পী বিষ্ণু চন্দ্র পাল ও তাঁর স্ত্রী টুম্পা রানী পাল জানান, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এ সময় মাটির তৈরি প্রদীপের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। সেই বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে তাঁরা এবার প্রায় ২০ হাজার প্রদীপ তৈরির বিশাল উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তাঁদের সিংহভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে অবশিষ্ট সব প্রদীপ তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করছেন। এসব প্রদীপ স্থানীয় বাজার ছাপিয়ে আশপাশের বিভিন্ন জেলায়ও বিক্রির জন্য পাঠানো হচ্ছে।তবে এই আনন্দের মাঝেও মৃৎশিল্পীদের মনে লুকিয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের চাপা হতাশা ও ক্ষোভ। আনন্দ কুমার পাল ও বেরেন চন্দ্র পাল আক্ষেপ করে জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। মাটির দাম এবং প্রদীপ পোড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির খরচ আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে বাড়েনি উৎপাদিত প্রদীপের বাজারমূল্য। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি ১০০টি মাটির প্রদীপ মাত্র ৫০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে, যা তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। অর্থনৈতিক অনটন ও ক্রমাগত খরচ বাড়া সত্ত্বেও শুধু আত্মমর্যাদা এবং বাপ-দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতে তাঁরা এই শিল্পকে ধরে রেখেছেন।বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি কার্তিক চন্দ্র সরকার এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি সুনীল চন্দ্র রায় বলেন, আগামী ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য শ্যামাপূজা ও দীপাবলিতে প্রতিটি সনাতনী পরিবার ও মণ্ডপে মাটির প্রদীপ জ্বালানো হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে মাটির প্রদীপের এই চিরন্তন রূপকে ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। News copied from- 'হিন্দুস নিউজ'—সকল জাতির মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার রক্ষার পাশাপাশি লোকশিল্পের এই পুনরুজ্জীবন সনাতনী সমাজের একতার বার্তা বহন করে। এই উৎসবের আলোকিত শিখা মৃৎশিল্পীদের অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনে সমৃদ্ধি ও স্বস্তি বয়ে আনুক, এটাই সবার প্রত্যাশা।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news