প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেগাসিটির মেয়রের আসনে সনাতনী নারী
অভ্র অর্পন ||
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাস নতুন করে পুনর্লিখিত হতে যাচ্ছে। বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বহুজাতিক ও বহুসংস্কৃতির নগরী লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়রের আসনে বসতে যাচ্ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উজ্জ্বল সনাতনী নারী নিত্যা রমন। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মেগাসিটির নেতৃত্বে আসা প্রথম দক্ষিণ এশীয় ব্যক্তি হিসেবে তিনি এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক বিজয় কেবল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করেনি, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বৈচিত্র্যময় সব জাতির মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা ও কেরালা থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সনাতনী প্রতিভার যোগ্য স্বীকৃতির এক উজ্জ্বল ও গৌরবান্বিত দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।নির্বাচনের চূড়ান্ত ও নির্ভরযোগ্য ফলাফলে দেখা গেছে, মোট সংগৃহীত ভোটের ৫২ শতাংশ পেয়ে বিশাল জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন নিত্যা রমন। তাঁর এই রাজনৈতিক পথচলা মোটেই সহজ ছিল না। প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও সাবেক মেয়র ক্যারেন বাসকে সমর্থন জানিয়ে প্রাক-নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে নেমেছিলেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বেশ কয়েকজন পরাক্রমশালী নেতৃত্ব। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম, সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এবং কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের সাবেক প্রভাবশালী স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির মতো ক্ষমতাশালী ও শীর্ষ ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকরা সরাসরি সমর্থন জানিয়েছিলেন তাঁর প্রতিপক্ষকে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') কিন্তু কোনো হেভিওয়েট রাজনৈতিক প্রভাবই নিত্যা রমনের জনপ্রিয়তার জোয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সাধারণ নাগরিকের সমান অধিকার রক্ষা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং সামাজিক সমতার জন্য সোচ্চার নিত্যা রমনের গণমুখী প্রচারণার কাছে শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হন প্রভাবশালী সব নেতৃত্ব।রাজনৈতিক জীবনের পেছনের ইতিহাসও তাঁর মতোই মানবিক সততায় পরিপূর্ণ। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরালা রাজ্যের এক সনাতনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নিত্যা রমন। মাত্র ছয় বছর বয়সে মাতা-পিতার সঙ্গে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। তবে নিজের শিকড় এবং মানবতার সেবা করার তাগিদ কখনোই ভোলেননি। পড়াশোনা শেষ করে তিনি পুনরায় ভারতের চেন্নাইয়ে ফিরে আসেন এবং সেখানে একজন দক্ষ নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে সাধারণ মানুষের নানা জটিল নাগরিক সমস্যা নিরসনে আত্মনিয়োগ করেন।পরবর্তীতে ২০১৩ সালে মার্কিন মুলুকের লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিরে এসে নগর প্রশাসনে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেখানে কাজ করার সময়ই প্রত্যক্ষ করেন সমাজের এক তীব্র বাস্তবতা—নগরীর অসংখ্য গৃহহীন মানুষের অমানবিক জীবনযাত্রা। সাধারণ মানুষের মানবাধিকার ও ন্যূনতম আশ্রয় নিশ্চিতের লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘গৃহহীনতা দূরীকরণ’ সংক্রান্ত এক অলাভজনক সংস্থা। গৃহহীন ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতের যে অঙ্গীকার তিনি করেছিলেন, সেই জনকল্যাণমুখী ইস্যুকে মূল অ্যাজেন্ডা বানিয়ে নির্বাচনী ময়দানে ঝড় তোলেন। পরিশেষে, ক্ষমতার রাজনীতিকে দূরে ঠেলে মেহনতী ও সাধারণ মানুষের সমর্থনে এই অবিস্মরণীয় জয় ছিনিয়ে এনে বিশ্বজুড়ে সমতার আলো জ্বাললেন তিনি।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news