প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
নওগাঁয় ১৫০ বছরের শ্মশানে শেষকৃত্যের বাধায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় রবিদাস সম্প্রদায়
নিরব কুমার দাস, নওগাঁ প্রতিনিধি ||
নওগাঁর নিয়ামতপুরে দীর্ঘ প্রায় দেড় শ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি শ্মশানঘাটে এক নারীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর থেকে শ্মশানঘাটে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় রবিদাস সম্প্রদায়ের লোকজন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়ামতপুর সদর ইউনিয়নের বালিচাঁদ হিন্দুপাড়ায় রবিদাস সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘ প্রায় ১৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই বংশপরম্পরায় ওই গ্রামের শ্মশানঘাটে তাঁরা মৃত ব্যক্তিদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে আসছেন।গত বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে গ্রামের মৃত নীরবাশা রানীর মরদেহ নিয়ে স্বজনরা শ্মশানঘাটে গেলে স্থানীয় আব্দুল হামিদ (৭০), আব্দুল কাশেম (৫৫), আব্দুর রহিম (৫০), বেলাল (৪৫), ইব্রাহিম (৪৫), জহিল (৪৩) ও গোলাম মোরশেদ (৩৭)সহ তাঁদের ওয়ারিশ ও আরও কয়েকজন শেষকৃত্যের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ওই নারীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।রবিদাস সম্প্রদায়ের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে শ্মশানঘাটে যাতায়াত করলে অভিযুক্তরা তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এতে বংশপরম্পরায় ব্যবহৃত এই শ্মশানঘাটে যাতায়াত নিয়েও গভীর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।তবে রবিদাস সম্প্রদায়ের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ। তাঁদের দাবি, শ্মশানঘাট হিসেবে ব্যবহৃত জায়গাটি তাঁরা ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন। ওই জায়গাটি শ্মশান হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে রবিদাস সম্প্রদায়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। তাঁদের নিজেদের কেনা জায়গায় মরদেহ দাহ করতে আসায় তাঁরা কেবল নিষেধ করেছিলেন, যা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।এদিকে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে শ্মশানঘাটে নির্বিঘ্নে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রবিদাস সম্প্রদায়ের লোকজন।এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরশিদা খাতুন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news