প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬
মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে কক্সবাজারের টেকনাফে এক শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।
তন্ময় মালাকার (চট্রগ্রাম প্রতিনিধি), স্টাফ রিপোর্টার ||
মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে কক্সবাজারের টেকনাফে এক শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। নিহত শিশুর নাম আফনান আক্তার (১০)। সে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে এবং তেচ্ছিব্রিজ হাজী মো. হোছাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিজিবি, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন।নিহত শিশুর চাচা ও শিক্ষক আলী আকবর সাজ্জাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রবিবার সকালে আফনান আক্তার বাড়ির উঠানে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এ সময় সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রচণ্ড গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। হঠাৎ একটি মর্টার শেল এসে আফনানের মাথায় আঘাত হানে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে। সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।স্থানীয় সূত্র জানায়, টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী, আরাকান আর্মি এবং দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত হোয়াইক্যং সীমান্তের অদূরে ব্যাপক গোলাগুলি, ড্রোন হামলা ও একের পর এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর শব্দে সীমান্তবর্তী এলাকার বাংলাদেশি বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটান।রবিবার সকালেও হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এ সময় ছোড়া বুলেট এসে পড়ে হোয়াইক্যং সীমান্তবর্তী গ্রাম লম্বাবিল এলাকায়। গোলাগুলির কারণে বাড়িঘর কেঁপে ওঠে, নারী ও শিশুরা ভয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সীমান্ত এলাকার মানুষ নিজেদের চরম অনিরাপদ মনে করছেন এবং ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, গত তিন দিন ধরে সীমান্তের ওপারে দিন-রাত অবিরাম গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণ চলছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত শতশত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। এতে এপারের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গুলি এসে পড়ছে চিংড়ি ঘের ও চাষের জমিতে। এখনও গোলাগুলি ও বিস্ফোরণ অব্যাহত রয়েছে।উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির বিষয়টি বিজিবি অবগত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘর্ষের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।এদিকে, শিশু শিক্ষার্থী আফনান আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো টেকনাফ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রকাশক & সম্পাদক: শুভ চন্দ্র দে,🔴HINDUS NEWS মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত।🔴যোগাযোগ: +88 01890890920🔴 ই-মেইল: news@hindus.news 🔴 বিজ্ঞাপন: ads@hindus.news