বাড়ি ফেরার পথে সনাতনী স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ওপর বর্বরোচিত হামলা ও ব্যাগ ছিনতাই
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে রাতের আঁধারে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে মনোরঞ্জন কর্মকার নামক এক সনাতনী স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ওপর এক নৃশংস ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামে এই হামলার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি সংঘটিত হয়। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে নিজ গন্তব্যে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন মনোরঞ্জন কর্মকার। পথিমধ্যে যাত্রাপুর গ্রামের নুর আলম চাচাদের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা তার ওপর অতর্কিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রমণকারীরা তাকে উদ্দেশ্য করে প্রচণ্ড আঘাত হানে এবং মারাত্মকভাবে রক্তাক্ত ও জখম করে তার কাছে থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।ঘটনার পর আশেপাশের মানুষ ও পথচারীরা রাস্তার মাঝখানে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ এবং তার পাশেই একটি কাঠের লাকড়ি কিংবা শুকনো ডাল পড়ে থাকতে দেখতে পান। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাথমিক বর্ণনায় জানা যায়, দুর্বৃত্তরা তাকে কোনো ভারী শক্ত বস্তু দিয়ে প্রচণ্ড আঘাত করেছে নাকি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আঘাতের তীব্রতায় তিনি ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞাহীন ও রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর পরই স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মনোরঞ্জন কর্মকারকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হলেও তার অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. অসীম সরকার জানিয়েছেন, আঘাতপ্রাপ্ত মনোরঞ্জন কর্মকারের মাথার পেছনের অংশে গুরুতর ও গভীর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হামলার কারণে তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং মাথার ক্ষতস্থান সামাল দিতে একাধিক সেলাই প্রদান করতে হয়েছে। রোগীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ দিক বিবেচনা করে চিকিৎসকরা দ্রুত তার মাথায় সিটি স্ক্যান করানোর তীব্র পরামর্শ দেন এবং জরুরি চিকিৎসার স্বার্থে তাকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন নিরীহ সনাতনী ব্যবসায়ীর ওপর এই ধরনের হঠাৎ ও বর্বরোচিত হামলা কেবল কোনো সাধারণ ছিনতাইয়ের চেষ্টা নয়, বরং এটি বাংলাদেশে বসবাসকারী সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে পেশা পরিচালনার অধিকার এবং সার্বিক জীবনযাত্রার ওপর এক গভীর ও উদ্বেগজনক প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দেয়। প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, আর এই ঘটনাটি সেই নিরাপত্তার অভাবকেই অত্যন্ত তীব্রভাবে ফুটিয়ে তোলে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')এদিকে খবর পেয়ে হরিরামপুর থানার এসআই শেখ ফারুকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যে ব্যাগটি দুর্বৃত্তরা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে, সেটিতে কোনো প্রকার স্বর্ণ বা মূল্যবান অলঙ্কার ছিল না। ঘটনাস্থল আলামত হিসেবে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একটি নারিকেল গাছের শুকনো বাইগরা উদ্ধার করেছে, যা হামলার কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এই বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং এই জঘন্য হামলার সাথে জড়িত প্রতিটি অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করা হবে। দেশের একজন সনাতনী ব্যবসায়ীর ওপর এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা সমগ্র সনাতন সমাজে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আমরা অবিলম্বে এই হামলার পেছনে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানাচ্ছি।