হিন্দুস নিউজ

পূজা-পার্বণ

জাগো হিন্দু পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলার অভিষেক,  পৌর সম্মেলনও  শারদ উৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ সম্পন্ন।

জাগো হিন্দু পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলার অভিষেক, পৌর সম্মেলনও শারদ উৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ সম্পন্ন।

জাগো হিন্দু পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা অভিষেক  পৌর কমিটির সম্মেলন ও আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শারদ উপহার,  শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা ও বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।জাগো হিন্দু পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি দেবব্রত চক্রবর্তী দেবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দিপু।প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপন তালুকদার দিপু বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দেশ। এখানে সকল ধর্ম ও গোত্রের মানুষ যুগ যুগ ধরে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়, এটি আজ সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। বর্তমান সমাজ গঠনে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে কাজ করতে হবে। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য সুর্পণ দেব বর্মণ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙ্গামাটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি স্বপন কান্তি মহাজন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের রাঙ্গামাটি সভাপতি অরূপ মুৎসুদ্দী, জাগো হিন্দু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সঞ্চয় বনিক, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দাশ। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাগো হিন্দু পরিষদ রাঙ্গামাটির সাধারণ সম্পাদক হিমাদ্রী দে হিমু।বক্তারা বলেন, সনাতন ধর্মীয় অনুশাসন ও বাঙালি সংস্কৃতির মূল চেতনা ধারণ করে জাগো হিন্দু পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনেও এই ধারা অব্যাহত রেখে আর্তমানবতার সেবায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা রাঙ্গামাটির দুস্থ সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের হাতে শারদীয় বস্ত্র বা উপহার তুলে দেন। পাশাপাশি, জেলার বিভিন্ন স্কুলের মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

বাসুদেব অনাথ আশ্রমে দেবশিশুদের অশ্রুসজল পিতৃতর্পণ

সনাতন ধর্মের সুপ্রাচীন ও পরম পবিত্র ঐতিহ্য অনুযায়ী ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনের মহালয়া অমাবস্যা পর্যন্ত সময়কাল পরিচিত পিতৃপক্ষ বা প্রেতপক্ষ হিসেবে। লোকবিশ্বাস ও শাস্ত্রীয় বিধি অনুযায়ী, এই বিশেষ তিথিতে তর্পণ ও জলার্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে পরম শ্রদ্ধা ও আকুল কৃতজ্ঞতায় স্বর্গীয় পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা হয়। তবে চিরাচরিত এই শাস্ত্রীয় আচার পালনের মাঝেই আজ এক অভূতপূর্ব, বেদনাময় ও পরম মানবিক দৃশ্যের সাক্ষী হলো ‘শ্রীশ্রী বাসুদেব অনাথ আশ্রম’।আজ পিতৃপক্ষের বিশেষ লগ্নে আশ্রম প্রাঙ্গণে এক পরম ভাবগম্ভীর ও হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শৈশবেই নিয়তির নিষ্ঠুর কষাঘাতে বাবা-মাকে হারানো আশ্রমের মাতৃহীন ও পিতৃহীন নিষ্পাপ দেবশিশুরা আজ একসাথে সমবেত হয়েছিল। কচি কচি হাতে জল অঞ্জলি তুলে দিয়ে তারা স্মরণ করেছে তাঁদের প্রয়াত পিতামাতা ও পূর্বপুরুষদের।ছবি:সংগৃহীত সাধারণত যে বয়সে এই অবোধ শিশুদের মায়ের মমতাময়ী কোলে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকার কথা, বাবার শক্ত হাত ধরে বাইরের জগতকে চেনার কথা, জীবনসংগ্রামের নির্দয় বাস্তবতা তাদের সেই অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মা-বাবার স্নেহের পরশ থেকে বঞ্চিত এই ছোট ছোট হাতগুলো যখন আজ তর্পণের জল অঞ্জলি দিচ্ছিল, তখন সমগ্র আশ্রম প্রাঙ্গণ ও চারপাশের বাতাস এক গভীর করুণতায় ভারী হয়ে উঠেছিল। উপস্থিত প্রতিটি মানুষের চোখে জল এবং হৃদয় এক অপরসীম বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে।আশ্রম কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ও পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত ভাবগম্ভীরভাবে সম্পন্ন হয়। মন্ত্রের ছন্দে ও জলের ছিটেয় শিশুরা হারিয়ে গিয়েছিল এক অজানা আবেগে। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুদের এই পিতৃতর্পণ কেবল কোনো বাঁধাধরা শাস্ত্রীয় নিয়ম পালন বা আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; এটি ছিল জন্মদাতা মাতাপিতার প্রতি অবোঝ মনগুলোর এক চিরন্তন, আকুল ও করুণ আকুতি।নিঃসঙ্গতা ও অনাথ জীবনের সব কষ্টকে দূরে ঠেলে দিয়ে, নিজেদের নিষ্পাপ মনের সমস্ত ভালোবাসা ও শুদ্ধ ভক্তি উজাড় করে দিয়েছিল তারা। এই কচি প্রাণগুলোর অশ্রুসজল প্রার্থনা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি আজকের দিনে পিতৃতর্পণের আবহকে এনে দিয়েছে এক অনন্য, পরম মানবিক ও গভীর পবিত্র মাত্রা, যা সেখানে উপস্থিত প্রতিটি হৃদয়ে এক দীর্ঘস্থায়ী রেখাপাত করে গেছে।

বাসুদেব অনাথ আশ্রমে দেবশিশুদের অশ্রুসজল পিতৃতর্পণ

দুর্গাপূজা উপলক্ষে দিনাজপুরে আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে দিনাজপুরে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) দিনাজপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম।সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা সর্বদা তৎপর থাকবেন। এ সময় তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ আনোয়ার হোসেন, বিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সুমন রঞ্জন সরকার, জেলার বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তারা, সব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক উত্তম রায় এবং জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে দিনাজপুরে আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত

বগুড়ায় ৭৩১ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, মৃৎশিল্পীদের নিরলস সংগ্রাম

মহালয়ার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, আর এরই মধ্যে ঐতিহ্যবাহী শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়া। সনাতনী সংস্কৃতির সর্ববৃহৎ এই উৎসবকে ঘিরে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির কারখানায় এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। মা দুর্গাকে বরণ করে নিতে মৃৎশিল্পীরা দিন-রাত এক করে নিপুণ হাতে মাটির প্রলেপ দিচ্ছেন, আবার কোথাও চলছে রং ও অলংকরণের কাজ। পঞ্জিকা মতে, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হবে এবং ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গার নৌকায় গমনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই শারদীয় মহা মিলনমেলা। সনাতনীদের আরাধনার এই মহা প্রহরে শহরের উত্তর চেলোপাড়াসহ বিভিন্ন কারখানায় গিয়ে দেখা যায় কারিগরদের নিরলস পরিশ্রমের চিত্র। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জা, প্রবেশদ্বার নির্মাণ এবং আলোকসজ্জার কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা।​উৎসবের এই আমেজ ছড়িয়ে পড়লেও কাঁচামাল ও কারিগরদের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছুটা চাপের মুখে পড়েছেন প্রতিমা শিল্পীরা। পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য মতে, গত বছরের চেয়ে এবার বগুড়ায় মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩১টিতে দাঁড়িয়েছে, যা সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উন্মাদনা ও ঐতিহ্য রক্ষার অদম্য প্রয়াসকেই তুলে ধরে। উৎসবকে শান্তিময় ও নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে সনাতনীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন মূল দাবি। জেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভক্তদের সুবিধার্থে ও সার্বিক সহায়তায় সরকারি পর্যায় থেকে ৭৩০টি মণ্ডপের জন্য ৪৩৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সকল শঙ্কা কাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুষ্ঠু নজরদারি ও প্রশাসনের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন তাদের সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিরাপদে উদযাপিত করতে পারেন, এখন বগুড়াজুড়ে শুধুই সেই প্রত্যাশা। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সার্বিক প্রস্তুতি আর ভক্তদের আরাধনার অপেক্ষায় ঢাকের বাদ্যি ও শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হওয়ার প্রহর গুনছে বগুড়ার পূজামণ্ডপগুলো।

বগুড়ায় ৭৩১ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, মৃৎশিল্পীদের নিরলস সংগ্রাম

নিজের ঘরেও পূজায় বাধা, হতাশা প্রকাশ করে নিরিহ হিন্দু ব্যক্তির পোস্ট

নিজের বাসায় নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী নীরবে পূজা করার ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছেন শরদ চৌধুরী। ফ্ল্যাট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বাসায় পূজা করা যাবে না—এমন কথা বলা হয়েছে বলে নিজের এক পোস্টে দাবি করেন তিনি।শরদ চৌধুরী তার পোস্টে লেখেন, নিজের ঘরে নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী নীরবে পূজা করতেও যদি বাধার মুখে পড়তে হয়, তাহলে সেই ঘরটিও সত্যিই নিজের কি না—এমন প্রশ্ন তৈরি হয়। তিনি জানান, এর আগে যে ভবনে ছিলেন সেখানে প্রায় ১৪ বছর ধরে পূজা করেছেন। ওই সময় ভবনে আলো লাগাতে দেওয়া না হলেও বিষয়টি মেনে নিয়েছিলেন। তবে বাড়িওয়ালা কখনো ঘরের ভেতরে পূজা করা নিয়ে আপত্তি করেননি।শরদ চৌধুরীর দাবি, বর্তমানে যে ফ্ল্যাটে থাকছেন সেখানে ফ্ল্যাট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাসায় পূজা করা যাবে না। এ ঘটনায় নিজের হতাশা ও কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, তাদের পূজা কোনো সর্বজনীন আয়োজন নয়। সেখানে মাইক বাজানো হয় না, মানুষের ভিড় হয় না কিংবা অন্য বাসিন্দাদের চলাচলেও কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হয় না। নিজেদের ঘরের মধ্যে নীরবে নিজেদের মতো করেই তারা পূজা করেন।এমন পরিস্থিতিতে আপত্তির কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শরদ চৌধুরী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যদি ঘরের মধ্যে নীরবে পূজা করাতেও কারও অসুবিধা হয়, তাহলে সেই আপত্তি তাদের কোনো কাজের কারণে, নাকি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে—তা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়।নিজের পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পূজা তাদের কাছে কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। এর সঙ্গে শৈশবের স্মৃতি, পরিবারের ভালোবাসা এবং বছরের বিশেষ কিছু দিনের আনন্দ জড়িয়ে রয়েছে। সেই আনন্দটুকুও যখন নিজের ঘরের মধ্যে লুকিয়ে করতে হয়, তখন তার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।শরদ চৌধুরী বলেন, তারা কারও কাছ থেকে বিশেষ কোনো সুবিধা চাননি। শুধু নিজের ঘরে শান্তিপূর্ণভাবে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস পালন করার সুযোগ চেয়েছেন। নিজের ঘরের মধ্যেও সেই সামান্য জায়গাটুকু তাদের জন্য রাখা যায় কি না—এমন প্রশ্নও তুলে ধরেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তার প্রশ্ন, মানুষের মনে এমন সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কীভাবে তৈরি হয় যে পাশের ঘরের নীরব প্রার্থনাও সহ্য করা যায় না। একই ছাদের নিচে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতা নিয়ে বসবাসের আহ্বান জানান তিনি।পোস্টের শেষদিকে শরদ চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, নিজের ঘরেও যদি নিজের বিশ্বাস নিয়ে ভয় পেতে হয়, তাহলে একজন মানুষ নিশ্চিন্ত হয়ে কোথায় দাঁড়াবেন। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং ব্যক্তিগত পরিসরে ধর্ম পালনের অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নিজের ঘরেও পূজায় বাধা, হতাশা প্রকাশ করে নিরিহ হিন্দু ব্যক্তির পোস্ট

পাহাড়ে প্রতিটি দুর্গা মণ্ডপে পাহারায় থাকবে বিএনপি: সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ঘোষণা পার্বত্য মন্ত্রী জেরী'র

​সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সার্বজনীন আনন্দ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপনের লক্ষ্যে বান্দরবানের সকল পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু জেরী জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকেরা যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। বান্দরবান জেলার সাতটি উপজেলা এবং দুটি পৌরসভার বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সনাতনীদের নিরাপত্তা রক্ষা ও উৎসবের সার্বিক সহযোগিতায় যেকোনো প্রয়োজনে বিএনপি নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক পাশে থাকবে বলে জানান তিনি। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবাধিকার রক্ষায় বান্দরবানের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ ধরনের প্রস্তুতি স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে। সাচিং প্রু জেরীর এই আহ্বানের ফলে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে পাহাড়ি-বাঙালি ও সকল জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রীতির এক চমৎকার পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে, যা পার্বত্য অঞ্চলের আবহমান সামাজিক সৌহার্দ্য ও সকল মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পাহাড়ে প্রতিটি দুর্গা মণ্ডপে পাহারায় থাকবে বিএনপি: সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ঘোষণা পার্বত্য মন্ত্রী জেরী'র

হরিজন শিল্পী পতন বাঁসফোরের হাতে রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা

সমাজ ও জাতপাতের প্রচলিত গোঁড়ামি এবং শত বছরের অবহেলার শিকল ছিঁড়ে এক অনন্য ইতিহাস রচনা করছেন রংপুরের হরিজন সম্প্রদায়ের শিল্পী পতন বাঁসফোর। যুগের পর যুগ ধরে সমাজে প্রান্তিক ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট কিছু পেশা চাপিয়ে দেওয়ার যে সংকীর্ণ মানসিকতা লালন করা হয়েছে, তাকে পুরোপুরি বুড়ো আঙুল দেখিয়েছেন তিনি। শিল্পের নেই কোনো জাত, গোত্র বা সীমানা—এই চিরন্তন সত্যকে বুকে ধারণ করে তিনি নিজ হাতে গড়ে তুলছেন শারদীয় দুর্গোৎসবের শ্রীশ্রী দেবী দুর্গার মৃণ্ময়ী প্রতিমা। তাঁর এই সৃজনশীল ও সাহসী কর্মপ্রয়াস কেবল শিল্পাঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং হিন্দু সমাজের অভ্যন্তরীণ বৈষম্য নিরসন, সাম্য ও অন্তর্ভুক্তির এক শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।​খড়, বাঁশ, মাটি আর সুতলির নিখুঁত বুননে যখন পতন বাঁসফোরের হাতে একের পর এক প্রাণ পাচ্ছে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের পবিত্র অবয়ব, তখন প্রতিমা তৈরির প্রতিটি তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে তাঁর জীবনসংগ্রাম, আত্মমর্যাদা ও বিজয়ের উপাখ্যান। হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের তৈরি প্রতিমায় দেবীর আবাহন সমাজে শতবর্ষ ধরে গেড়ে বসা মনস্তাত্ত্বিক বৈষম্যের মূলোৎপাটন ঘটাচ্ছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') স্থানীয় সচেতন মহল ও হিন্দু ধর্মীয় সংগঠকগণ তাঁর এই শৈল্পিক অবদানকে ব্যাপক সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সনাতন ধর্মের প্রকৃত মূলভাবই হলো সর্বজীবে ঈশ্বরের উপস্থিতি ও জাতিভেদহীন ভাতৃত্ববোধ; ফলে পতন বাঁসফোরের এই উদ্যোগ সনাতনী সমাজের অভ্যন্তরীণ রূপান্তর ও প্রগতিশীল ধারাকে আরও বেগবান করবে।​অধিকারকর্মী ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ পূজা বা প্রতিমা নির্মাণের কাজ নয়, বরং এটি প্রান্তিক মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক অকুতোভয় সামাজিক লড়াই। পেশাগত অবহেলা ও সামাজিক দূরত্বকে পেছনে ফেলে মূলধারার ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কৃতিতে হরিজনদের এই উজ্জ্বল উপস্থিতি জাতিভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। রংপুরের এই শ্রমজীবী মৃৎশিল্পীর উদ্যোগ আজ আর কেবল আঞ্চলিক কোনো সংবাদে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সনাতন সমাজব্যবস্থায় জাতপাতের দেয়াল ভেঙে মানবিক মর্যাদা, সাম্য ও হিন্দু ঐক্যের এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হরিজন শিল্পী পতন বাঁসফোরের হাতে রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা

ধর্ম ও পরিচয় যেন না হয় বাধা, সম-অধিকারের নতুন প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

নাগরিকের ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয় যেন কোনো অবস্থাতেই অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শীর্ষ প্রতিনিধি দলের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।​শারদীয় দুর্গাপূজা ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান উপলক্ষে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের নানা দীর্ঘদিনের সমস্যা, অধিকার ও দাবি-দাওয়া সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে প্রতিনিধি দলের কথা শোনেন এবং জানান যে, কোনো ধরনের বৈষম্য না রেখে প্রতিটি সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি বলেন, নাগরিকদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং সরকারের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে তা সমাধানের চেষ্টা থাকবে।​মতবিনিময়কালে অসাম্প্রদায়িক চেতনা জোরদারকরণ এবং সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় সরকারের আন্তরিকতার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বৃদ্ধি করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তাঁরা মন্তব্য করেন, এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে উৎসবের আনন্দ দেশজুড়ে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শনের উদাত্ত আহ্বান জানান।​অনুষ্ঠানের শেষভাগে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের সুবিধার্থে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের হাতে বিশেষ অনুদানের অর্থ বরাদ্দ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে প্রাথমিক আবেদন করা হলেও সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক কল্যাণ বিবেচনা করে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে চাওয়া অনুদানের চেয়ে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করা হয়। এই বরাদ্দের অর্থ জেলা প্রশাসন ও সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। সভায় বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতা, সংসদ সদস্য এবং হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবীণ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ম ও পরিচয় যেন না হয় বাধা, সম-অধিকারের নতুন প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে মীরসরাইয়ে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন এবং পূজা চলাকালীন সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (৭ অক্টোবর) মীরসরাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার।সভায় মীরসরাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও প্যান্ডেল পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে উপজেলার সার্বিক প্রস্তুতি, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং উৎসব চলাকালীন যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।বিশেষ করে পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট পূজা কমিটিগুলোর সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরাও নিজ নিজ এলাকার প্রস্তুতি ও বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। পূজা উদযাপনের সময় কোনো ধরনের সমস্যা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার বিষয়েও আলোচনা হয়।সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও বিভিন্ন পূজামণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দও দুর্গাপূজা সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন পরিষদ এবং স্থানীয় পূজা কমিটিগুলোর সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব মীরসরাইয়ে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে।

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে মীরসরাইয়ে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬২৮ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, গত বছরের চেয়ে বেড়েছে ৫০টি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। এ বছর জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ৬২৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় ৫০টি বেশি।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত দুর্গাপূজা প্রস্তুতিমূলক সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ।সভায় জানানো হয়, গত বছর জেলায় ৫৭৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৮টিতে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ৮৫টি, নাসিরনগরে ১৪২টি, নবীনগরে ১৩২টি, বিজয়নগরে ৬৪টি, সরাইলে ৫৬টি, কসবায় ৫৬টি, বাঞ্ছারামপুরে ৪৬টি, আখাউড়ায় ২৯টি এবং আশুগঞ্জে ১৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।প্রস্তুতিমূলক সভায় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।সভায় পুলিশ সুপার, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ এবং পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬২৮ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, গত বছরের চেয়ে বেড়েছে ৫০টি

দুর্গাপূজায় বান্দরবানের প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা ও অনুদান প্রদান

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং ভক্তদের নির্বিঘ্ন পূজা অর্চনার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার প্রতিটি মণ্ডপে যাতে সনাতন ধর্মের অনুসারীরা কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা বিঘ্ন ছাড়া তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সেজন্য বিশেষ নজরদারি ও সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী ও মানবাধিকার সচেতন জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সনাতনী সম্প্রদায়ের সুরক্ষাকে এবার সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।​সভা শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সনাতনী সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা ও ধর্মীয় আয়োজকদের উৎসাহিত করতে বেশ কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস উপস্থিত থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপের পরিচালকদের হাতে সরকারি অনুদান তুলে দেন। সেই সাথে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নম্বর সম্বলিত বিশেষ প্লেকার্ড এবং নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি মণ্ডপের জন্য একটি করে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বিতরণ করা হয়। পূজা প্রাঙ্গণের পরিবেশ রক্ষায় ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে পৃথক ডাস্টবিনও হস্তান্তর করা হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') প্রশাসনের এই উদ্যোগকে বান্দরবানের স্থানীয় সনাতনী সমাজ অত্যন্ত ইতিবাচক ও মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার, আর তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভূমিকা পালন করবে।

দুর্গাপূজায় বান্দরবানের প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা ও অনুদান প্রদান

দুর্গাপূজা উপলক্ষে মণ্ডপে মণ্ডপে ডিএসসিসির অর্থ সহায়তা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় সাড়ম্বরে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমান অধিকার নিশ্চিতের অংশ হিসেবে ১৬৮টি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবারে নগর ভবন অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম মণ্ডপ প্রতিনিধিদের হাতে মোট ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার অনুদানের অর্থ তুলে দেন। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ঢাকার সর্বজনীন পূজা মণ্ডপগুলোর বিপুলসংখ্যক প্রতিনিধি অংশ নেন। বহু জাতির ও বহু ধর্মের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা বাংলাদেশে সকল নাগরিকের সমান সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে উপস্থিত সনাতনী সমাজের প্রতিনিধিরা সাধুবাদ জানান।​প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন যে দেশকে রক্ষা করতে এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ আমাদের সকলের এবং এ দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো আমরা সবাই বাংলাদেশি। শারদীয় দুর্গাপূজার আগে ও চলাকালীন সময়ে শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সীমানার ভেতরের সড়কবাতি সচল রাখা এবং ড্রেন-নর্দমা পরিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা দেওয়ার বিষয়ে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ ছাড়াও পূজার সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য তিন দিন আগে থেকেই নগর ভবনে একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অর্থের অংকের চেয়েও বড় কথা হলো সনাতনী পূজা মণ্ডপগুলোর প্রতিনিধিদের এভাবে মূল্যায়িত ও পুরস্কৃত করায় পূজার সার্বিক আনন্দ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে মণ্ডপে মণ্ডপে ডিএসসিসির অর্থ সহায়তা

সিডনিতে বিপিএ-র দশম মহালয়া উদ্‌যাপন

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে উৎসবমুখর, ধর্মীয় আবহাওয়া ও অত্যন্ত শ্রদ্ধাঘন পরিবেশে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)-র দশম মহালয়া উদ্‌যাপিত হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার নিউ সাউথ ওয়েলসের বিক্রফটে অবস্থিত রোজলিয়া কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাঙালির মহাসমাগম ঘটে। শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বারতাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাঙালিদের আত্মিক টান, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা এবং সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।​অনুষ্ঠানের সূচনায় বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট উপস্থিত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি মহালয়ার ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সংক্ষেপে বর্ণনা করেন এবং ২০১৬ সালে সিডনির কোগারাহ স্কুল অব আর্টসে সীমিত পরিসরে শুরু হওয়া বিপিএ-র মহালয়া আয়োজনের এক দশকের পথচলার স্মৃতিতর্পণ করেন। দীর্ঘ এই সময়ে সংগঠনটির নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াসে এই উদ্যোগ প্রবাসের মাটিতে অন্যতম প্রধান শারদীয় উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।​সুমিতা দে ও অনুপম গোস্বামীর দক্ষ পরিচালনা ও দিকনির্দেশনায় চণ্ডীপাঠ, আগমনী গান, আবৃত্তি ও নান্দনিক মঞ্চায়নের মাধ্যমে দেবীপক্ষের চিরায়ত আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল জ্যোতি বিশ্বাসের সুললিত কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ এবং জন্মেজয় রায়ের জীবন্ত তবলা সংগত, যা সমগ্র মিলনায়তনে এক গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') বহু দূরে প্রবাসে বাস করেও এই পরিবেশনা উপস্থিত সর্বস্তরের সনাতনী ও সুধী সমাজকে বাংলার আবহমান সংস্কৃতির শিকড়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।​এই আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের মাঝে নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য, আচার-অনুষ্ঠান ও মানবিক সম্প্রীতির শিক্ষা সঞ্চালিত করার এক প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়। সিডনির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত সাধারণ মানুষের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে, যেখানে বিভিন্ন জাতি ও ধর্ম-বর্ণের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিকতা এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।​অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সংগঠনের সেক্রেটারি দিবাকর সমদ্দার উপস্থিত ভক্ত ও দর্শক, শিল্পী, কলাকুশলী, স্বেচ্ছাসেবী এবং সকল শুভানুধ্যায়ীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে এবং প্রবাসের বুকে বাঙালির এই নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভ সূচনা ঘোষণা করা হয়।

সিডনিতে বিপিএ-র দশম মহালয়া উদ্‌যাপন

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পুলিশের মতবিনিময়

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের উদ্যোগে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার বিকেল ৪টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ৯টি থানার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও জেলা পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মুঃ জালাল উদ্দিন ফাহিম, পিপিএম-সেবা-এর সভাপতিত্বে সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পুলিশের মতবিনিময়

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ

চট্টগ্রাম জেলায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন উপলক্ষে পূজামণ্ডপসমূহের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নগরীর সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।সভায় রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি অরুণ পালিত (বাসু), সহ-সভাপতি দীপক তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক সুমন দাশ গুপ্ত।জানা গেছে, ২০২৬ সালে রাউজান উপজেলায় মোট ২৩৩ টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এসব পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সভায় রাউজান উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পূজা চলাকালে সম্ভাব্য বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে পূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে পূজার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।এছাড়া পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটি, পূজা উদযাপন পরিষদ, স্বেচ্ছাসেবক, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন পরিষদ, মণ্ডপ পরিচালনা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ

দুর্গাপূজা ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বৈঠক

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক) বিজন কান্তি সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক ও মেডিকেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পাশাপাশি হরিজন ও বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরাও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থী-বান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় ভিন্ন হলেও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও বৈষম্যহীন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।আলোচনায় আসন্ন দুর্গাপূজার সময় বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত পরীক্ষার তারিখ পুনর্বিবেচনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তনের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। পূজার দিনগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার ও উৎসবে অংশ নিতে পারেন, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম ও পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়।একই সঙ্গে দুর্গাপূজার সময় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। পূজামণ্ডপ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন অংশগ্রহণকারীরা।সভায় চাকরির ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। শিক্ষার্থীরা নিয়োগ ও কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় বা সম্প্রদায়গত পরিচয়ের কারণে কেউ যেন বৈষম্যের শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে যথাযথ তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত না করে বহিষ্কার বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার দাবি জানানো হয়। মিথ্যা অভিযোগ, হয়রানি ও মব পরিস্থিতি থেকে সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর ‘অভিযোগ সেল’ গঠনের প্রস্তাবও তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।আলোচনায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে উঠে আসে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়; জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, পলিটেকনিক কিংবা মেডিকেল—প্রতিষ্ঠান আলাদা হলেও নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও শিক্ষার্থী-বান্ধব ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার দাবিতে শিক্ষার্থী সমাজের অবস্থান অভিন্ন।বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হরিজন ও নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং বৈষম্য নিরসনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

দুর্গাপূজা ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বৈঠক