হিন্দুস নিউজ
সর্বশেষ

পূজা-২০২৬

আগামীতে পূজায় পুলিশ পাহারার প্রয়োজন হবে না: এমপি নুরুল আমিন

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সচেতনতা বাড়লে আগামীতে দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারার প্রয়োজন হবে না।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে মিরসরাই উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের আয়োজনে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।নুরুল আমিন বলেন, “সনাতন ধর্মাবলম্বী ও মুসলমানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ একই সমাজ ও দেশে বসবাস করি। আমরা পরস্পরের প্রতিবেশী, ভাই ও বন্ধু। দেশের স্বাধীনতা, উন্নয়ন, সংকট ও সংগ্রামে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অবদান রয়েছে। কাউকে বাদ দিয়ে এ দেশ গঠন সম্ভব নয়।”তিনি বলেন, দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় একটি আনন্দের উৎসব। আনুষ্ঠানিকভাবে বড় পরিসরে এ উৎসব উদ্‌যাপন করা হয় বলে এর প্রস্তুতিও বেশি। প্রস্তুতি সভার মাধ্যমে অশুভ শক্তি ও দুর্বৃত্তদের জানিয়ে দেওয়া হয়, রাষ্ট্র ও দেশের ১৮ কোটি মানুষ পূজার নিরাপত্তায় সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ।তিনি আরও বলেন, আমরা ধীরে ধীরে এই প্রবণতা কমিয়ে আনতে চাই। আগামী পূজায় হয়তো প্রস্তুতি সভা করে কাউকে জানান দেওয়ারও প্রয়োজন হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারারও প্রয়োজন পড়বে না। আমরা সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন থাকব।উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি অনির্বাণ চৌধুরী রাজীবের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোহন দে।সভায় বক্তব্য দেন বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজি, চট্টগ্রাম পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সহসভাপতি বিপুল দত্ত, সদস্য সুভাষ সরকার এবং মিরসরাই উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সহসভাপতি জহরলাল নাথ অভি ও বিপুল দাশ।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন মাহমুদসহ বিভিন্ন মণ্ডপ কমিটির নেতারা।

উৎসবের আমেজে ধর্মান্ধতার থাবা / খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে গভীর রাতে ৩ প্রতিমা ভাঙচুর

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ আর প্রাক-প্রস্তুতির আবহ যখন সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের ঘরে ঘরে, ঠিক তখনই কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক জঘন্য ঘটনার শিকার হয়েছে স্থানীয় একটি মন্দির। সর্বজনীন ধর্মীয় উৎসবের ঠিক আগমুহূর্তে সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনে মধ্যরাতে এই প্রতিমা ভাঙচুরের তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতকারীরা।​সংবাদ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার পর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। রাতের গভীর অন্ধকারে অশুভ উদ্দেশ্যে মন্দিরের সীমানায় প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে নির্মিত নির্মাণাধীন ও প্রস্তুতকৃত তিনটি প্রতিমা ব্যাপকভাবে ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার এবং সকল জাতি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ধিক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে চরম ক্ষোভ, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। সর্বজনীন ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের এমন অপচেষ্টার বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সর্বস্তরের সনাতনী ও মানবাধিকার সচেতন নাগরিকেরা।

একের পর এক মন্দিরে চুরি! একই ব্যক্তিকে ঘিরে তোলপাড়

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী রমনা কালীমন্দিরসহ দেশের একাধিক মন্দিরে চুরির অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ আখড়া এবং নরসিংদীর একটি কালীমন্দিরেও একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।সম্প্রতি রমনা কালীমন্দিরে চুরির অভিযোগ সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কয়েকজন দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও দেশের বিভিন্ন মন্দির থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।ফেসবুকে লিখন দত্ত নামে একজন মন্তব্য করেন, কয়েক দিন আগে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ আখড়া থেকে চুরির সময় একজনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁর মন্তব্যের জবাবে অপু দেবনাথ নামে আরেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, নরসিংদীর একটি মন্দির থেকেও চুরির ঘটনা ঘটেছে।এ ছাড়া মিঠুন চক্রবর্তী নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, মাধবদীর বিরামপুর কালীমন্দির থেকেও তিন ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।এসব মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং চুরির অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মন্দিরে চুরির অভিযোগ ওঠায় ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।বিশেষ করে ধর্মীয় উপাসনালয়ে সংরক্ষিত স্বর্ণালংকার, প্রতিমার অলংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী।পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে কখনো পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন কি না এবং আটক হয়ে থাকলে পরবর্তী সময়ে কীভাবে মুক্তি পেয়েছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।মন্দিরে চুরির মতো ঘটনা শুধু সম্পদের ক্ষতিই নয়, ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা এবং ভক্তদের অনুভূতির সঙ্গেও জড়িত। তাই প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন উদ্বিগ্ন ভক্তরা।এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, মন্দির কর্তৃপক্ষ কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের তথ্য প্রয়োজন।Hindus News-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, রমনা কালীমন্দির, নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ আখড়া এবং নরসিংদীর মন্দিরে চুরির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে দেশের মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রক্ষা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সবার প্রত্যাশা। তবে তদন্তের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া থেকে বিরত থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দুই কমিটির মতপার্থক্যের অবসান, এক কমিটির অধীনে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের সিদ্ধান্ত / রাঙ্গুনিয়ায় পূজা পরিষদের মতবিনিময়: বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ দুর্গোৎসবের প্রত্যয়

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।গত বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপজেলা সদরের ইছাখালী এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করেন বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রী রূপন চক্রবর্তী। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক শ্রী অজয় চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব শ্রী লিটন দে’র পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাঙ্গুনিয়া রাসবিহার ধামের প্রাক্তন সভাপতি শ্রী স্বপন সেন।সভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক কার্যক্রম, সাংগঠনিক বিষয় ও উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।সভায় জানানো হয়, অতীতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দুটি কমিটিকে কেন্দ্র করে যে দ্বন্দ্ব ও মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছিল, তা রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর মধ্যস্থতায় নিরসন হয়েছে। বর্তমানে বিভেদ ভুলে একটি কমিটির অধীনে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্গোৎসব উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বক্তারা বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য বজায় রেখে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।এছাড়া আসন্ন দুর্গাপূজায় ভোগ্যপণ্যের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং পূজার ছুটি একদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক শ্রী নিক্সন সাহা, রনি দাস, সুব্রত চৌধুরী, সুধীর দাস, দিলীপ দাস, স্বপন মহাজন, ডা. নিপুন পাল, সুফল বসাক, জয় চক্রবর্তী ও বিকাশ সরকার।এ সময় সদস্য শ্রী বাবলু দে, রাজিব দে, সাজু দাস ও উজ্জ্বল দেসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আসন্ন দুর্গোৎসব ও সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় রাঙ্গুনিয়ায় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

মাত্র পাওয়া

মহালয়ার আগের দিনেই ঝিনাইদহের শৈলকুপায় দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুর

মহালয়ার আগের দিনেই ঝিনাইদহের শৈলকুপায় দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুর

মহালয়ার প্রাক্কালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোরের কোনো এক সময় উপজেলার ১০ নম্বর বগুড়া ইউনিয়নের মজুমদারপাড়া দুর্গামন্দিরে নির্মাণাধীন কয়েকটি প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়।মন্দির সূত্রে জানা যায়, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে প্রতিমা নির্মাণের কাজ চলছিল। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে এক নারী মন্দির পরিষ্কার করতে এসে প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি দেখতে পান। দুর্বৃত্তরা নির্মাণাধীন কয়েকটি প্রতিমার হাত, কনুইসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে দিয়েছে।মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক তন্ময় মজুমদার জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে অথবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। তবে ভাঙচুরের প্রকৃত কারণ এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এ ঘটনায় মন্দির কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিমা ভাঙচুরের এ ঘটনায় স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয় ও প্রতিমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

৪৭ মিনিট আগে
একের পর এক মন্দিরে চুরি! একই ব্যক্তিকে ঘিরে তোলপাড়

একের পর এক মন্দিরে চুরি! একই ব্যক্তিকে ঘিরে তোলপাড়

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী রমনা কালীমন্দিরসহ দেশের একাধিক মন্দিরে চুরির অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ আখড়া এবং নরসিংদীর একটি কালীমন্দিরেও একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।সম্প্রতি রমনা কালীমন্দিরে চুরির অভিযোগ সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কয়েকজন দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও দেশের বিভিন্ন মন্দির থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।ফেসবুকে লিখন দত্ত নামে একজন মন্তব্য করেন, কয়েক দিন আগে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ আখড়া থেকে চুরির সময় একজনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁর মন্তব্যের জবাবে অপু দেবনাথ নামে আরেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, নরসিংদীর একটি মন্দির থেকেও চুরির ঘটনা ঘটেছে।এ ছাড়া মিঠুন চক্রবর্তী নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, মাধবদীর বিরামপুর কালীমন্দির থেকেও তিন ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।এসব মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং চুরির অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মন্দিরে চুরির অভিযোগ ওঠায় ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।বিশেষ করে ধর্মীয় উপাসনালয়ে সংরক্ষিত স্বর্ণালংকার, প্রতিমার অলংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী।পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে কখনো পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন কি না এবং আটক হয়ে থাকলে পরবর্তী সময়ে কীভাবে মুক্তি পেয়েছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।মন্দিরে চুরির মতো ঘটনা শুধু সম্পদের ক্ষতিই নয়, ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা এবং ভক্তদের অনুভূতির সঙ্গেও জড়িত। তাই প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন উদ্বিগ্ন ভক্তরা।এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, মন্দির কর্তৃপক্ষ কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের তথ্য প্রয়োজন।Hindus News-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, রমনা কালীমন্দির, নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ আখড়া এবং নরসিংদীর মন্দিরে চুরির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা হোক। একই সঙ্গে দেশের মন্দিরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রক্ষা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সবার প্রত্যাশা। তবে তদন্তের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া থেকে বিরত থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

৪ ঘন্টা আগে
দুর্গাপূজায় বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা, হুঁশিয়ারি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

দুর্গাপূজায় বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা, হুঁশিয়ারি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

‘ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার’—এই মূলনীতিকে পাথেয় করে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব নাগরিকের সমান ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ধর্মীয় উসকানি, চক্রান্ত কিংবা পূজা-অর্চনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেশের শান্ত পরিবেশ ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড় জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় আসন্ন দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত পৃথক জিআর চালের ডিও বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই বার্তা প্রদান করা হয়। সকল জাতির মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয় যে, বর্তমান বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করার পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার এই ধারাবাহিকতায় পূজা উদযাপনে যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিশেষ স্বেচ্ছাসেবী টিমও মাঠে তৎপর থাকবে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') পঞ্চগড়ের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে আশ্বস্ত করে জানান হয়, পূজা মণ্ডপগুলোর সার্বিক সুরক্ষায় আট হাজার স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন, যারা দিনরাত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে প্রশাসনিক সহায়তার পাশাপাশি নিরাপত্তা ছাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বোদা উপজেলার ৯৬টি এবং দেবীগঞ্জ উপজেলার ১১৭টি পূজামণ্ডপের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে সরকারি সহায়তার জিআর চালের ডিও আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে উপস্থিত থেকে সনাতন সম্প্রদায়ের অধিকার ও সার্বিক নিরাপত্তায় ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

৬ ঘন্টা আগে
<span class='techtaranga_subtitle'>উৎসবের আমেজে ধর্মান্ধতার থাবা / </span>খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে গভীর রাতে ৩ প্রতিমা ভাঙচুর

উৎসবের আমেজে ধর্মান্ধতার থাবা / খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে গভীর রাতে ৩ প্রতিমা ভাঙচুর

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ আর প্রাক-প্রস্তুতির আবহ যখন সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের ঘরে ঘরে, ঠিক তখনই কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক জঘন্য ঘটনার শিকার হয়েছে স্থানীয় একটি মন্দির। সর্বজনীন ধর্মীয় উৎসবের ঠিক আগমুহূর্তে সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনে মধ্যরাতে এই প্রতিমা ভাঙচুরের তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতকারীরা।​সংবাদ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার পর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। রাতের গভীর অন্ধকারে অশুভ উদ্দেশ্যে মন্দিরের সীমানায় প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে নির্মিত নির্মাণাধীন ও প্রস্তুতকৃত তিনটি প্রতিমা ব্যাপকভাবে ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার এবং সকল জাতি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ধিক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে চরম ক্ষোভ, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। সর্বজনীন ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের এমন অপচেষ্টার বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সর্বস্তরের সনাতনী ও মানবাধিকার সচেতন নাগরিকেরা।

৭ ঘন্টা আগে
<span class='techtaranga_subtitle'>স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেও মিলছে না বিচার / </span>রূপা নিখোঁজের ২৭ দিন: উদ্ধার না করে উল্টো 'অর্থ বাণিজ্য' ও চরিত্র হরণের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেও মিলছে না বিচার / রূপা নিখোঁজের ২৭ দিন: উদ্ধার না করে উল্টো 'অর্থ বাণিজ্য' ও চরিত্র হরণের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

নড়াইলে বোড়ামারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৫ বছর বয়সী সনাতনী স্কুলছাত্রী রূপা দাস নিখোঁজের ২৭ দিন পার হলেও তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, যা সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়ের সুরক্ষা ও মানবাধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর নড়াইল সদরের বোড়ামারা-তুলারামপুর সড়ক থেকে বোড়ামারা গ্রামের পল্লব দাসের নাবালিকা কন্যা রূপা দাস নিখোঁজ হয়। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে যাওয়ার পথে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সহপাঠী মো. রবিউল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে। নিখোঁজের পর পরিবার নড়াইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ তা না নিয়ে জোরপূর্বক অসত্য ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে একটি এজাহার (মামলা নং ১৭, তারিখ: ১৪-০৯-২০২৬) দায়ের করে, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। পরিবারের দাবি, নড়াইল সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রধান আসামিদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন এবং ১৭ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে পরিবারকে বিভ্রান্ত করেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ) এর মধ্যে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রূপার হারিয়ে যাওয়া স্কুলব্যাগ লাইব্রেরিতে রহস্যজনকভাবে উদ্ধার হলেও তাতে অন্য কারও লেখা নাম পাওয়া যায়, যা নিয়ে তদন্তে পুলিশের কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। উল্টো পুলিশের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী নাবালিকার চরিত্র হরণ এবং পরিবারের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এসআরবি-৬, জেলা প্রশাসক এবং সর্বশেষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে লিখিত আবেদন জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত রূপা দাসের কোনো সন্ধান মেলেনি। দেশের একজন করদাতা নাগরিক হিসেবে সনাতনী পরিবারের প্রতি প্রশাসনের এই চরম অবহেলা ও আইনের অপপ্রয়োগ সার্বিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক স্পষ্ট দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৮ ঘন্টা আগে
<span class='techtaranga_subtitle'>ঠাকুরগাঁও সীমান্তে / </span>২৪ কেজি ওজনের অমূল্য কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে / ২৪ কেজি ওজনের অমূল্য কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার

ঠাকুরগাঁওয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একটি বিশেষ অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ২৪ কেজি ৪৫০ গ্রাম ওজনের একটি মূল্যবান কষ্টি পাথরের মূর্তি। গত বুধবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমান, জি, আর্টিলারির নেতৃত্বে বিজিবির একটি চৌকস দল এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ডাবরী বিওপির সীমান্ত পিলার ৩৬৮/১-এস থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘মনিস কোয়ান’ নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত ও মালিকবিহীন অবস্থায় ঐতিহ্যবাহী এই কষ্টি পাথরের মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া প্রাচীন ও ধর্মীয় গুরুত্ব বহনকারী এই মূর্তিটির আনুমানিক সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ২৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ পাচার প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবেই এই সফলতা অর্জিত হয়েছে। ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন স্পষ্ট জানিয়েছে যে মাদক, অবৈধ সম্পদ ও প্রত্নসম্পদ পাচার রুখতে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে অটল রয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তায় স্থানীয় সনাতনী ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা চেয়েছে।

১০ ঘন্টা আগে
সীতাকুণ্ডে হাত বাঁধা অবস্থায় হিন্দু গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, মিলেছে পরিবারের সন্ধান

সীতাকুণ্ডে হাত বাঁধা অবস্থায় হিন্দু গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, মিলেছে পরিবারের সন্ধান

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হাত বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক সনাতন ধর্মাবলম্বী গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর ওই নারীর পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাঁর বাবার বাড়ি উপজেলার ১ নম্বর সৈয়দপুর ইউনিয়নে এবং শ্বশুরবাড়ি বড় কুমিরায় বলে জানা গেছে। এদিকে নারীর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নে টেরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে জমির আইলের ওপর থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। উদ্ধারের সময় তাঁর দুই হাত কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে জমির আইলের ওপর এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। ওই নারীর হাতে সাদা শঙ্খ থাকায় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী ও বিবাহিত বলে ধারণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পরবর্তীতে তাঁর পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ওই নারীর মা সীতাকুণ্ড মডেল থানায় ছুটে আসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার রহস্য উন্মোচনের দাবি জানানো হয়েছে। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁকে ওই স্থানে পাওয়া গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সীতাকুণ্ড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে টেরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে জমির আইলের ওপর হাত বাঁধা অবস্থায় এক হিন্দু গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর শরীরে প্রাথমিকভাবে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও জানান, ওই নারীর গায়ের রং শ্যামলা এবং পরনে প্রিন্টের সালোয়ার-কামিজ ছিল। তাঁকে অন্য কোথাও হত্যা করে সেখানে মরদেহ ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলাফল ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। মরদেহের আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁদের স্বজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চান। পুলিশি তদন্ত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে ওই নারীর মৃত্যুর রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

১২ ঘন্টা আগে
নদী ভাঙনের কারণে‘স্থায়ী ঠিকানা’ নেই, তাই নিয়োগপত্র পেলেন না ক্লীন্টন সাহা

নদী ভাঙনের কারণে‘স্থায়ী ঠিকানা’ নেই, তাই নিয়োগপত্র পেলেন না ক্লীন্টন সাহা

 নদী ভাঙনের পর অল্প যেটুকু পারিবারিক জমি ছিল, সেটা বিক্রি করে ২১ বছর আগে চট্টগ্রাম নগরীর ভাড়া বাসায় ঠাঁই নেয় পরিবারটি। পরিবারের একমাত্র ছেলেটির দিকেই তাকিয়ে বৃদ্ধ মা-বাবা ও ছোট বোন।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ডবলমুরিং থানার মেধাক্রমে দ্বিতীয় হয়েছিলেন তিনি। পেয়েছিলেন নিয়োগের জন্য সুপারিশও।কিন্তু চূড়ান্ত যাচাইয়ের সময় স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতার কারণে নিয়োগ হয়নি।২১ বছর ধরে নগরীর ডবলমুরিং থানার মোগলটুলি এলাকার প্রফেসর গলিতে বসবাস করা ক্লীন্টন সাহা বলেন, “ডবলমুরিংয়ে ১২ জন নিয়োগের জন্য মনোনীত হন। এরমধ্যে এ বছর মার্চে ৫ জন এবং দ্বিতীয় দফায় গত মাসে আরো ছয়জন নিয়োগপত্র পান। শুধু আমিই নিয়োগপত্র পাইনি।“আবেদনে এখন যে বাসায় আছি, আবেদনে সেটির ঠিকানা স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করেছিলাম। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছিলেন, এটা যেহেতু আমার নিজের বাড়ি না, তাই নেগেটিভ রিপোর্ট হবে। উনারা পরামর্শ দিয়েছিলেন, বিকল্প একটা স্থায়ী ঠিকানা দিতে। পরে আমি সন্দ্বীপের মামা বাড়ির ঠিকানা দিই। কিন্তু তারপরও আমি নিয়োগ পাইনি।”পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন জানিয়ে ক্লীন্টন সাহা বলেন, “উনারা বলেছেন, এটা শিক্ষা থানাভিত্তিক চাকরি। এখানে স্থায়ী ঠিকানা না হলে নিয়োগ হবে না।”ক্লীন্টন সাহা জানান, তার দাদুর বাড়ি নোয়াখালী জেলার হাতিয়ায়। কয়েকবার নদীভাঙনের কারণে তাদের বাড়ি ও দোকান বিলীন হয়ে গেছে। পরে পারিবারিক বসত ভিটার বাকি জমিও বিক্রি হয়ে যায়। এরপর ২১ বছর আগে তার বাবা নারায়ন সাহা স্ত্রী, তিন মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসেন।সেই থেকে পরিবারটি সেখানেই ভাড়া বাসায় থাকছে।ক্লীন্টন সাহা বলেন, “যেহেতু আদি বাড়িতে ভিটা ও ঘর নেই, তাই এখন পর্যন্ত যত চাকরির আবেদন করেছি, সেগুলোতে এই বাসার ঠিকানাই দিয়েছি।“আমি মেধার ভিত্তিতে চাকরির জন্য চূড়ান্তভাবে মনোননীত হয়েছি। শুধু স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগপত্র পাইনি। আমার চাকরিটা পরিবারের জন্য খুব প্রয়োজন।”তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ক্লীন্টন সাহা। বড় দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। ছোট বোনও লেখাপড়া শেষ করেছেন। বৃদ্ধ মা-বাবা ও এক বোন নিয়ে এখন ক্লীন্টনের সংসার চলছে ভাই-বোনের টিউশনের আয়ে।তিনি বলেন, “বাবার অনেক বয়স হয়েছে। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চাকরি পেলে আমার সংসারটা চলবে। বোনটার বিয়ে দিতে পারব।”ক্লীন্টন সাহা ২০১৪ সালে নগরীর পাঠানটুলী সিটি করপোরেশন বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং দেওয়ানহাট সিটি করপোরেশন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নিয়োগের জন্য মনোনীত ৫৫১ জনের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় ২৪ জনকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি ৫২৭ জনের মধ্যে ৫২৫ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ  বলেন, “সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য আমাদের এখানে মোট ৫২৭ জন জন মনোনীত হয়। তারমধ্যে ৫২৫ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।“ক্লীন্টন সাহা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে নিয়োগের সুপারিশপত্র পেয়েছিল। উনিসহ দুজন কেন নিয়োগপত্র পাননি সেটা প্রতিবেদন আকারে আমরা অধিদপ্তরকে জানিয়েছি। এর বাইরে কিছু বলা যাচ্ছে না।”এ বিষয়ে জানতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক পদে নিয়োগ ও পদায়ন বিষয়ক জেলা পদায়ন কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা  বলেন, “উনি (ক্লীন্টন সাহা) আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। আপনাদের কাছ থেকে আজ শুনলাম। যোগাযোগ করলে উনার বার্তাটি মন্ত্রণালয়ে জানাতে পারব।”ক্লীন্টন সাহা বলেন, “একটি লিখিত আবেদন নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়েছিলাম পরশু। উনারা বলেছেন, ঢাকায় যোগাযোগ করতে। সেখানে কার কাছে যাব আমি জানি না। মেধার ভিত্তিতে পাওয়া চাকরিটা আমার পরিবারের জন্য খুব প্রয়োজন।“সরকারি অন্যান্য পদেও চাকরির আবেদন করেছি। কিন্তু এখন আর পরীক্ষা দিয়ে কী হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তো স্থায়ী ঠিকানার এই জটিলতায় চাকরি পাব না।”

১২ ঘন্টা আগে
অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তী চাকরি থেকে বরখাস্ত

অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তী চাকরি থেকে বরখাস্ত

অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বরখাস্তের এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহীতে কর্মরত থাকার সময় গত বছরের ১৩ নভেম্বর প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল না করেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন টুটুল চক্রবর্তী। অথচ ওই বছরের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতিসহ ছুটি এবং ১৬, ১৭ ও ১৮ নভেম্বর নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছিল।অভিযোগে বলা হয়, ১৩ নভেম্বর তিনি নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার কিছু আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-১৬২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। এর আগেও একইভাবে পরিচয় দিয়ে একাধিকবার ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসেন তিনি। তাঁর এমন কর্মকাণ্ডে জনসমক্ষে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।পুলিশ অধিদপ্তরের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগনামাসহ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় তাঁকে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি নোটিশের জবাব দেননি। সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি। পরে ২ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।গত ৭ মে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি গত ২৩ জানুয়ারি থেকে পলাতক রয়েছেন। এরপর গত ১৬ জুন তাঁকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।এ অবস্থায় তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে গত ২৩ জুলাই সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে এ বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর কমিশন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিষয়ে সম্মতি দেয়। এরপর গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এ গুরুদণ্ড অনুমোদন করেন।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, টুটুল চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁকে ‘চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ’ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

১৩ ঘন্টা আগে
নিজের ঘরেও পূজায় বাধা, হতাশা প্রকাশ করে নিরিহ হিন্দু ব্যক্তির পোস্ট

নিজের ঘরেও পূজায় বাধা, হতাশা প্রকাশ করে নিরিহ হিন্দু ব্যক্তির পোস্ট

নিজের বাসায় নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী নীরবে পূজা করার ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছেন শরদ চৌধুরী। ফ্ল্যাট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বাসায় পূজা করা যাবে না—এমন কথা বলা হয়েছে বলে নিজের এক পোস্টে দাবি করেন তিনি।শরদ চৌধুরী তার পোস্টে লেখেন, নিজের ঘরে নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী নীরবে পূজা করতেও যদি বাধার মুখে পড়তে হয়, তাহলে সেই ঘরটিও সত্যিই নিজের কি না—এমন প্রশ্ন তৈরি হয়। তিনি জানান, এর আগে যে ভবনে ছিলেন সেখানে প্রায় ১৪ বছর ধরে পূজা করেছেন। ওই সময় ভবনে আলো লাগাতে দেওয়া না হলেও বিষয়টি মেনে নিয়েছিলেন। তবে বাড়িওয়ালা কখনো ঘরের ভেতরে পূজা করা নিয়ে আপত্তি করেননি।শরদ চৌধুরীর দাবি, বর্তমানে যে ফ্ল্যাটে থাকছেন সেখানে ফ্ল্যাট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাসায় পূজা করা যাবে না। এ ঘটনায় নিজের হতাশা ও কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, তাদের পূজা কোনো সর্বজনীন আয়োজন নয়। সেখানে মাইক বাজানো হয় না, মানুষের ভিড় হয় না কিংবা অন্য বাসিন্দাদের চলাচলেও কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হয় না। নিজেদের ঘরের মধ্যে নীরবে নিজেদের মতো করেই তারা পূজা করেন।এমন পরিস্থিতিতে আপত্তির কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শরদ চৌধুরী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যদি ঘরের মধ্যে নীরবে পূজা করাতেও কারও অসুবিধা হয়, তাহলে সেই আপত্তি তাদের কোনো কাজের কারণে, নাকি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে—তা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়।নিজের পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পূজা তাদের কাছে কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। এর সঙ্গে শৈশবের স্মৃতি, পরিবারের ভালোবাসা এবং বছরের বিশেষ কিছু দিনের আনন্দ জড়িয়ে রয়েছে। সেই আনন্দটুকুও যখন নিজের ঘরের মধ্যে লুকিয়ে করতে হয়, তখন তার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।শরদ চৌধুরী বলেন, তারা কারও কাছ থেকে বিশেষ কোনো সুবিধা চাননি। শুধু নিজের ঘরে শান্তিপূর্ণভাবে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস পালন করার সুযোগ চেয়েছেন। নিজের ঘরের মধ্যেও সেই সামান্য জায়গাটুকু তাদের জন্য রাখা যায় কি না—এমন প্রশ্নও তুলে ধরেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তার প্রশ্ন, মানুষের মনে এমন সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কীভাবে তৈরি হয় যে পাশের ঘরের নীরব প্রার্থনাও সহ্য করা যায় না। একই ছাদের নিচে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতা নিয়ে বসবাসের আহ্বান জানান তিনি।পোস্টের শেষদিকে শরদ চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, নিজের ঘরেও যদি নিজের বিশ্বাস নিয়ে ভয় পেতে হয়, তাহলে একজন মানুষ নিশ্চিন্ত হয়ে কোথায় দাঁড়াবেন। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং ব্যক্তিগত পরিসরে ধর্ম পালনের অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

২২ ঘন্টা আগে
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
আপনি কি একাদশী থাকতে ভালোবাসেন।

আপনি কি একাদশী থাকতে ভালোবাসেন।

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন
আগামীতে পূজায় পুলিশ পাহারার প্রয়োজন হবে না: এমপি নুরুল আমিন

নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ / জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পুজো কমিটিকে অনুদান কেন? হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

রাজ্যের সাধারণ মানুষের করের টাকায় নির্মিত রাজস্ব কেন দুর্গাপুজো কমিটিগুলোর কাছে অনুদান হিসেবে বিতরণ করা হবে, তা নিয়ে আবারো জোর বিতর্ক শুরু হলো। ক্ষমতার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও সরকারি কোষাগারের অর্থ উৎসবের নামে বিলিয়ে দেওয়ার এই পুরোনো সংস্কৃতি কেন জিইয়ে রাখা হচ্ছে—সেই গুরুতর প্রশ্ন তুলে এবার কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হলো। মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী আদালতে স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পরও জনগণের কষ্টের উপার্জিত করের টাকা দিয়ে এইভাবে পুজো কমিটিগুলোকে একের পর এক অনুদান দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। বিগত দিনে আদালতের তরফে পুজোর অনুদান দেওয়া সংক্রান্ত যে সুনির্দিষ্ট নির্দেশাবলি ও বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, রাজ্য সরকার নাকি সেই আদালতের রায়কেও তোয়াক্কা না করে মান্যতা দেয়নি। উল্টে আগের মতোই সরকারি কোষাগারের টাকা অনুদান হিসেবে বিলিয়ে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিকে বহাল রাখা হয়েছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​এমতাবস্থায় অনুদান বণ্টন প্রক্রিয়ার ওপর অবিলম্বে স্থগিতাদেশ দেওয়া বা বিষয়টির আইনি নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে মামলাকারীর আইনজীবী উচ্চ আদালতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। তবে মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করলেও আদালত আপাতত এই মুহূর্তেই দ্রুত শুনানির সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে যে, আসন্ন দুর্গাপুজো পর্ব শেষ হওয়ার পরেই আদালতে নিয়মমাফিক ও বিস্তারিতভাবে এই মামলার শুনানি গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলের পর এই প্রথম সার্বজনীন দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মহালয়ার পুণ্য লগ্ন থেকে শুরু করে বিজয়া দশমী পর্যন্ত সনাতনী সংস্কৃতির সর্ববৃহৎ এই মহাসমারোহকে ঘিরে রাজ্য জুড়ে নানাবিধ প্রশাসনিক ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নতুন সরকার। শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার পূর্ববর্তী অনুদানের পরিমাণ থেকে ১০ হাজার টাকা হ্রাস করলেও, পুজো কমিটিগুলোকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার ধারাটি অবশ্য বন্ধ করেনি। তবে সরকারের তরফ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ আবেদন রেখেছিলেন—রাজ্যের বড় বাজেটের ঐতিহ্যবাহী পুজো কমিটিগুলো যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই সরকারি অনুদান গ্রহণ না করে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ইতিবাচক আহ্বান ও মানবিক আর্জিতে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে রাজ্যের একাধিক বড় ও হেভিওয়েট পুজো কমিটি সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।  

লিংক কপি করা হয়েছে!

পডকাস্ট

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

Minority Lawyers Unite Against Violence: Here's What They're Demanding

Minority Lawyers Unite Against Violence: Here's What They're Demanding

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ || Hindus News || 12 ডিসেম্বর ২০২৬ ইং

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ || Hindus News || 12 ডিসেম্বর ২০২৬ ইং

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ || BRAKING || HINDU

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ || BRAKING || HINDU

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ || Hindus News || 18 জানুয়ারি ২০২৬ ইং

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ || Hindus News || 18 জানুয়ারি ২০২৬ ইং

আগামীতে পূজায় পুলিশ পাহারার প্রয়োজন হবে না: এমপি নুরুল আমিন

হিন্দুস নিউজের সংবাদ প্রকাশের পর শ্রাবণীর পাশে বিএম হাসপাতাল

মিরসরাইয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত শ্রাবণী ভৌমিকের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বারইয়ারহাট বিএম হাসপাতাল। অর্থের অভাবে তাঁর চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে হিন্দুস নিউজে সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি বিভিন্ন মহলের নজরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) শ্রাবণীর বাড়িতে গিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রাবণীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিএম হাসপাতালে ভর্তি-সংক্রান্ত খরচ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাঁর চিকিৎসায় সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার শ্রাবণীর বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন বিএম হাসপাতালের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম মিয়াজী, ভাইস চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ওসমান গনি, নির্বাহী পরিচালক আব্দুল গফুর, ফিন্যান্স ডিরেক্টর শিহাব হাজারী এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মো. মোশারফ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।মিরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পশ্চিম হিঙ্গুলী গ্রামের দত্ত বাড়ির শ্রাবণী ভৌমিক প্রায় দেড় বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে তাঁকে প্রায় ১৪টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে।শ্রাবণীর বাবা ১১ বছর আগে মারা গেছেন। তিন বোনের পরিবারে উপার্জনক্ষম সদস্যের সংকট থাকায় তাঁর চিকিৎসার ব্যয় বহন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।এই পরিস্থিতিতে শ্রাবণীর চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে হিন্দুস নিউজে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর তাঁর অসুস্থতা ও পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি আরও মানুষের নজরে আসে। এরপর বারইয়ারহাট বিএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি শ্রাবণীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর চিকিৎসায় সহযোগিতার ঘোষণা দেয়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগে শ্রাবণীর পরিবারের চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশের চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আরও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনরা।শ্রাবণীর পরিবার সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষদের তাঁর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।সহযোগিতার তথ্য: শ্রাবণী ভৌমিক — বিকাশ: ০১৮৫৩-৯৩৬৩২৪, নগদ: ০১৮৮০-৩৯১৪০০।

আগামীতে পূজায় পুলিশ পাহারার প্রয়োজন হবে না: এমপি নুরুল আমিন

পূজামণ্ডপ হোক ভক্তি,শৃঙ্খলা ও নিরাপদ আনন্দের স্থান। / দুর্গাপূজা:ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারায় শুদ্ধতার প্রত্যয়।

শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস, লোকঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য সম্মিলন। দেবী দুর্গার মহিষাসুরবধের পৌরাণিক আখ্যানের মধ্য দিয়ে অশুভের ওপর শুভের বিজয়ের যে বার্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে দুর্গাপূজা আজ কেবল ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিণত হয়েছে মানুষের মিলন, সংস্কৃতিচর্চা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের বৃহৎ উৎসবে। বাংলার দুর্গোৎসবকে ধর্মীয় আচার, সামাজিক অনুশীলন, উৎসব ও পরিবেশনশিল্পের সমন্বিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।বাংলার দুর্গাপূজার ঐতিহ্য বহু শতাব্দীপ্রাচীন। একসময় জমিদার ও বনেদি পরিবারকেন্দ্রিক পূজার প্রচলন থাকলেও ক্রমে তা সর্বজনীন রূপ লাভ করে। আজ শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বজনীন দুর্গোৎসব মানুষের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ উৎসব হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সম্প্রীতির অন্যতম মাধ্যম।দুর্গোৎসবের প্রতিটি পর্বের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের আবাহন, ষষ্ঠীর বোধন, সপ্তমীর নবপত্রিকা, অষ্টমীর অঞ্জলি ও সন্ধিপূজা, নবমীর হোম-যজ্ঞ এবং দশমীর বিসর্জন—সব মিলিয়ে গড়ে উঠেছে একটি সুসংবদ্ধ আচারপরম্পরা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এসব আচার বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিল্প ও সংস্কৃতিদুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বাংলার শিল্প-সংস্কৃতিরও বড় একটি ক্ষেত্র। মৃৎশিল্পীর হাতে খড়, মাটি, বাঁশ ও রঙের সমন্বয়ে প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা, ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, আরতি, ধুনুচি নৃত্য, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—সবকিছু মিলেই পূর্ণতা পায় শারদীয় উৎসব।প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপসজ্জার সঙ্গে যুক্ত থাকেন অসংখ্য শিল্পী ও কারিগর। পাশাপাশি পরিবহন, আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দুর্গোৎসব স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। ফলে দুর্গাপূজা একদিকে যেমন ধর্মীয় উৎসব, অন্যদিকে তেমনি শিল্প, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবিকার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।সময়ের সঙ্গে বদলেছে পূজার রূপসময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে দুর্গাপূজার আয়োজনেও এসেছে নানা পরিবর্তন। ঐতিহ্যবাহী পূজার পাশাপাশি এখন দেখা যায় থিমভিত্তিক মণ্ডপ, নান্দনিক আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব প্রতিমা, ডিজিটাল প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার এবং বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন।আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন চিন্তাধারা পূজাকে আরও বিস্তৃত মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে আধুনিকতার এই অগ্রযাত্রার সঙ্গে ঐতিহ্য, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি।পূজামণ্ডপ যেন কেবল বিনোদনের কেন্দ্র হয়ে না ওঠে; সেখানে ভক্তি, শালীনতা, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধও সমানভাবে বজায় থাকতে হবে।‘মদ্যপান করে  মাতলামি’—উৎসবের সংস্কৃতি হতে পারে না ? দুর্গাপূজা আনন্দের উৎসব, কিন্তু সেই আনন্দ কখনোই উচ্ছৃঙ্খলতার পর্যায়ে যেতে পারে না। পূজামণ্ডপে মদ্যপান, মাতলামি, অশালীন আচরণ, মারামারি কিংবা উচ্চস্বরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি শারদীয় উৎসবের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।পূজামণ্ডপে একই সঙ্গে নারী, শিশু, প্রবীণ, ভক্ত ও বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীর উপস্থিতি থাকে। সেখানে মদ্যপ অবস্থায় কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে শুধু পূজার পরিবেশই নষ্ট হয় না, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে। তাই পূজামণ্ডপকে মাদক ও মদ্যপানমুক্ত রাখা এবং শালীন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।আনন্দ প্রকাশেরও একটি সংস্কৃতি রয়েছে। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, আরতি, ধুনুচি নৃত্য, ভক্তিগীতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা—এসবই হতে পারে উৎসবের নির্মল আনন্দের মাধ্যম। কিন্তু মদ্যপান করে মাতলামি, অশালীনতা কিংবা অন্যকে বিরক্ত করা কোনোভাবেই সেই আনন্দের অংশ হতে পারে না।নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।দুর্গাপূজার মতো বৃহৎ উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ দর্শনার্থীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হয়।পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিরাপদ রাখা, শিশু ও নারীদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া, অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা, বিদ্যুৎ সংযোগে সতর্কতা অবলম্বন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।একই সঙ্গে শব্দদূষণ, অশালীন সাংস্কৃতিক আয়োজন, মাদক ও মদ্যপান, জুয়া কিংবা যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে পূজা কমিটিগুলোকে কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।নিরাপদ পূজা নিশ্চিত করা কেবল প্রশাসনের দায়িত্ব নয়। পূজা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক, ভক্ত, দর্শনার্থী এবং স্থানীয় জনগণ—সবার সম্মিলিত দায়িত্বেই একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব সম্ভব।পূজার মূল চেতনা ফিরে আসুক।দুর্গাপূজার প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু প্রতিমার উচ্চতা, মণ্ডপের চাকচিক্য কিংবা আলোকসজ্জার জৌলুসে নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত ভক্তি, মানবিকতা, সম্প্রীতি, সৌন্দর্যবোধ এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভবোধ জাগ্রত করার মধ্যে।দেবী দুর্গার আরাধনার মূল শিক্ষা—অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়। তাই পূজার আয়োজনেও সেই আদর্শের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। নিজের ভেতরের হিংসা, অহংকার, লোভ, অসহিষ্ণুতা ও অন্যায়কে পরাজিত করার মধ্য দিয়েই দুর্গোৎসবের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা সম্ভব।তাই পূজামণ্ডপ হোক প্রার্থনার স্থান, সংস্কৃতিচর্চার স্থান ও সামাজিক সম্প্রীতির স্থান। মদ্যপান ও মাতলামির পরিবর্তে থাকুক ঢাকের বাদ্য; অশালীনতার পরিবর্তে থাকুক শালীন সাংস্কৃতিক আয়োজন; বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে থাকুক শৃঙ্খলা; বিভেদের পরিবর্তে থাকুক সম্প্রীতি।দুর্গাপূজা হোক শুধু দেবীর আরাধনা নয়—নিজের ভেতরের অসুরকে পরাজিত করারও অঙ্গীকার।সনাতন ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।পূজামণ্ডপ হোক পবিত্র, উৎসব হোক নিরাপদ, সমাজ হোক সম্প্রীতির।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...
<span class='techtaranga_subtitle'>উদ্ধার হলো রেবন্ত, শিব ও চামুণ্ডার বিরল মূর্তি / </span>বরেন্দ্রর মাটি থেকে মিলল সপ্তম শতকের বিরল সূর্যপুত্র ‘রেবন্ত’ ভাস্কর্য

উদ্ধার হলো রেবন্ত, শিব ও চামুণ্ডার বিরল মূর্তি / বরেন্দ্রর মাটি থেকে মিলল সপ্তম শতকের বিরল সূর্যপুত্র ‘রেবন্ত’ ভাস্কর্য

রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বরেন্দ্র অববাহিকা ও সীমান্ত অঞ্চলের মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হওয়া হাজার বছরের প্রাচীন সনাতন ধর্মাবলম্বী ও অপরাপর সংস্কৃতির অমূল্য প্রত্নসম্পদ অবশেষে ঠাঁই পেল জাতীয় জাদুঘরের সুরক্ষিত হেফাজতে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (১ বিজিবি, রাজশাহী ব্যাটালিয়ন)-এর দীর্ঘ প্রশাসনিক তৎপরতায় উদ্ধারকৃত একটি অতি দুর্লভ রেবন্ত মূর্তি, জৈন তীর্থংকর, অপরাজিতা, মহাকালী চামুণ্ডা, নটরাজ শিব ও বেশ কয়েকটি বিষ্ণুমূর্তিসহ মোট ২৬টি প্রাচীন ভাস্কর্য এবং ১ হাজার ৮১৮টি প্রাচীন ধাতব মুদ্রা আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে জাতীয় জাদুঘরের ইতিহাস ও ধ্রুপদি শিল্পকলা বিভাগে।​উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দিক থেকে সবচেয়ে বড় চমক বেলে পাথরের তৈরি সূর্যপুত্র 'রেবন্ত'-এর মূর্তিটি। প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ভাস্কর্যটি সপ্তম শতকের—যা এ অঞ্চলের প্রাচীন সনাতনী ভাস্কর্যশৈলী ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক বিরল দলিল। হিন্দু শাস্ত্র ও পৌরাণিক বর্ণনা মতে, রৈবত বা রেবন্ত হলেন সৌরদেবতা সূর্য ও তাঁর পত্নী সংজ্ঞার কনিষ্ঠ সন্তান। প্রাচীন বাংলা ও বিহারের মধ্যযুগীয় ধারায় ঘোড়ায় চড়া শিকারির বেশে তাঁর পূজার বিশেষ প্রচলন ছিল। সম্প্রতি হস্তান্তরিত এই সংগ্রহের তথ্য পর্যালোচনায় প্রত্ন-গবেষকরা জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলের সনাতন ধর্মীয় ভাবধারা ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের শিকড় কতটা গভীরে বিস্তৃত ছিল, তা এই ভাস্কর্যগুলোর মাধ্যমে আবারও দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে নবম-দশম শতকের জৈন তীর্থংকর, একাদশ-দ্বাদশ শতকের অপরাজিতা দেবী, বিক্রমশালী চামুণ্ডা, তাণ্ডবরূপী নটরাজ শিব, অক্ষত শিবলিঙ্গ এবং বেশ কিছু প্রাচীন কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি রয়েছে। গোদাগাড়ী, বাঘা, চারঘাট ও কাটাখালীর মতো সীমান্তবর্তী নদীঘেঁষা এলাকা থেকে বিভিন্ন সময় বিজিবির হাতে আটক হওয়া এসব নিদর্শন পাচারকারীদের হাত থেকে বেঁচে যায়। পরবর্তীতে ব্যাটালিয়নে উপযুক্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় এবং জাতীয় সম্পদ বিনষ্টের ঝুঁকিতে পড়ায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত টানা ৯টি দাপ্তরিক চিঠি আদান-প্রদানের পর চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল পাঠায় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।​বিজিবি ও জাতীয় জাদুঘরের এই যৌথ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ঐতিহ্যপ্রেমীরা বলছেন, বাংলার প্রাচীন সনাতনী ও ধার্মিক ঐতিহ্যের এসব প্রত্নবস্তু রক্ষা করা শুধু ইতিহাস রক্ষা নয়, বরং এ দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি ও মানবাধিকারের ভিত্তিকে সমৃদ্ধ করা। জাতীয় জাদুঘরের সংরক্ষণ রসায়নাগার বিভাগে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা শেষ হলেই বিশেষ প্রদর্শনী ও গবেষণার জন্য এসব অমূল্য ঐতিহাসিক সম্পদ উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।