হিন্দুস নিউজ

সম্পাদকীয়

ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী: জ্ঞান, নেতৃত্ব ও সনাতন সমাজের নির্ভরতার এক উজ্জ্বল নাম

ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী: জ্ঞান, নেতৃত্ব ও সনাতন সমাজের নির্ভরতার এক উজ্জ্বল নাম

বাংলাদেশের সনাতন সমাজের ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের পরিচয় কোনো একটি পেশা, পদবি কিংবা প্রতিষ্ঠানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। জ্ঞান, কর্ম ও সাহসের সমন্বয়ে তাঁরা হয়ে ওঠেন একটি সময়ের কণ্ঠস্বর, নতুন প্রজন্মের পথপ্রদর্শক এবং সংকটে মানুষের নির্ভরতার প্রতীক। ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী তেমনই একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব।একাধারে শিক্ষক, গবেষক, প্রাবন্ধিক, লেখক, সংগঠক ও সমাজচিন্তক তিনি। তবে এসব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সনাতন সমাজের অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অস্তিত্বের প্রশ্নে তিনি একজন দৃঢ় ও দায়িত্বশীল কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।বরিশাল সদর হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করলেও ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তীর শেকড় মাদারীপুর সদর উপজেলার পৌর ভবনসংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরবাড়ি এলাকায়। সেখানকার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যসমৃদ্ধ পরিবেশেই কেটেছে তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠার সময়।তিনি জন্মগ্রহণ করেন একটি শিক্ষিত ও মূল্যবোধসম্পন্ন পরিবারে। তাঁর পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা জগদীশ চন্দ্র চক্রবর্তী মাদারীপুর জজ কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ছিলেন। পারিবারিক পরিমণ্ডল থেকেই কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী দেশপ্রেম, ন্যায়বোধ, মানবিকতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলতার শিক্ষা লাভ করেন।শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তিনি মেধা ও অধ্যবসায়ের পরিচয় দেন। উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে এবং সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে ভারতের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণের ওপর উচ্চতর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।এই দীর্ঘ একাডেমিক যাত্রা তাঁকে শুধু একজন বিদ্বান হিসেবে গড়ে তোলেনি; শাস্ত্র, দর্শন, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে আধুনিক যুক্তিবোধ এবং গবেষণার আলোকে বিশ্লেষণ করার একটি স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিও দিয়েছে।২০১২ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রাচ্যভাষা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির সংস্কৃত বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁর কাছে শিক্ষকতা কেবল শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ কোনো পেশা নয়। তিনি বিশ্বাস করেন, জ্ঞান তখনই পূর্ণতা লাভ করে, যখন তা মানুষের কল্যাণ ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ব্যবহৃত হয়।এই দর্শন থেকেই তিনি সনাতন ধর্মের শাস্ত্র, দর্শন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও যুক্তিনির্ভর ভাষায় উপস্থাপন করে চলেছেন। বেদ, উপনিষদ, পুরাণ এবং ধর্মীয় আচারের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যকে গবেষণা, তথ্য ও যুক্তির আলোকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী একজন প্রাবন্ধিক ও লেখক হিসেবেও পরিচিত। দীর্ঘদিনের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার ধারাবাহিকতায় তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে তিন হাজারের বেশি প্রবন্ধ, নিবন্ধ, বিশ্লেষণ এবং গবেষণাভিত্তিক আলোচনা প্রকাশিত হয়েছে। ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস, সংস্কৃতি, সমাজচিন্তা ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর এসব লেখা অসংখ্য পাঠকের সামনে চিন্তা ও আলোচনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।গবেষণাক্ষেত্রেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল ও গবেষণা প্রকাশনায় তাঁর ১৫টির বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন একাডেমিক ও গবেষণামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি সনাতন ধর্ম, দর্শন ও সংস্কৃতিবিষয়ক গবেষণাকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন।তাঁর গবেষণা ও লেখনীর স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রকাশিত ‘বাঙালির ধর্মচিন্তা রচনা সংগ্রহ’-এর ষষ্ঠ ও সপ্তম খণ্ডে তাঁর দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। প্রবন্ধ দুটি হলো—‘বেদে বৈষ্ণব বা ভাগবতীয় তত্ত্ব’ এবং ‘সংক্ষেপে বেদবিদ্যার পরিচয়’। এসব রচনা বৈদিক জ্ঞান ও সনাতন ধর্মতত্ত্বে তাঁর গভীর অধ্যয়ন এবং গবেষণার সাক্ষ্য বহন করে।তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ‘গোলাকার পৃথিবীতে গোলাকার ঘটনাবৃত্ত’ পাঠকমহলে আলোচিত হয়েছে। গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস তাঁকে একজন শিক্ষক ও গবেষকের পাশাপাশি প্রভাবশালী চিন্তাবিদ হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করেছে।তবে ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তীর কর্মজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সনাতন সমাজের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে তাঁর সক্রিয় সাংগঠনিক ভূমিকা।সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে তিনি তরুণ প্রজন্মকে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা, শিক্ষা, মানবিকতা ও সাংস্কৃতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার কাজ করছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন, সমাবেশ ও গণজাগরণমূলক কর্মসূচিতে তাঁকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে।চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সনাতন সমাজের ন্যায্য দাবি ও অধিকারের পক্ষে তাঁর বক্তব্য অনেক মানুষের মধ্যে সাহস, সচেতনতা ও আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। তিনি বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের সহমুখপাত্র হিসেবেও সনাতন সমাজের বিভিন্ন দাবি, সংকট ও উদ্বেগের বিষয়ে কথা বলে আসছেন।নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন কেবল সুসময়ের প্রশংসায় হয় না; দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই নেতৃত্বের দায়িত্ব ও সাহসের পরিচয় পাওয়া যায়। চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর শাহবাগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাটি তাঁর সংগ্রামী পথচলার একটি আলোচিত অধ্যায়। তাঁর অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হুমকি, চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াননি।দিপু দাসের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায়ও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা জানিয়েছেন।২০২৫ সালের ৪ জুলাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে তাঁর ওপর সংঘটিত হামলার অভিযোগ তাঁর জীবনের আরেকটি গুরুতর ঘটনা। কিন্তু এসব প্রতিকূলতা তাঁর পথচলাকে থামাতে পারেনি। প্রতিটি আঘাত ও বাধার পর তিনি আরও দৃঢ়ভাবে জ্ঞান, যুক্তি, ঐক্য, সংগঠন এবং ন্যায়ভিত্তিক অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন।তাঁর কর্মদর্শনের মূল কথা হলো—অধিকার কেবল প্রত্যাশা করে পাওয়া যায় না; জ্ঞান, ঐক্য, সংগঠন ও ন্যায়ের শক্তিতে তা প্রতিষ্ঠা করতে হয়।বর্তমান বাংলাদেশে সনাতন সমাজের নিরাপত্তা, অধিকার, মর্যাদা ও অস্তিত্বের বিভিন্ন প্রশ্ন যখন সামনে আসছে, তখন ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তীর মতো শিক্ষিত, গবেষণাভিত্তিক এবং সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি অনেক মানুষের কাছে আশাবাদের কারণ।তিনি শুধু বক্তৃতা দেন না; ইতিহাস ও শাস্ত্রের আলোকে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি শুধু প্রতিবাদ করেন না; সমস্যার সামাজিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তিনি শুধু তরুণদের সংগঠিত করেন না; তাঁদের জ্ঞান, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে সচেষ্ট থাকেন।এ কারণেই বহু সনাতনী মানুষের কাছে তিনি নির্ভরতার একটি পরিচিত নাম, আশার একটি কণ্ঠস্বর এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অন্যতম সহায়ক শক্তি। তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রত্যাশার মূলে রয়েছে একটি বিশ্বাস—একজন জ্ঞানী মানুষ যখন নিপীড়িত ও সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ান, তখন তাঁর কণ্ঠস্বর আর শুধু একজন ব্যক্তির থাকে না; সেটি একটি সমাজের প্রত্যাশা, বেদনা ও স্বপ্নের প্রতিধ্বনিতে পরিণত হয়।একজন গবেষক হিসেবে ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী শাস্ত্রের গভীরে প্রবেশ করেন। একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও স্বাধীন চিন্তার পথ দেখান। একজন লেখক হিসেবে মানুষের চিন্তার দুয়ার খুলে দেন। আর একজন সংগঠক হিসেবে সনাতন সমাজের ন্যায্য দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। তাঁর জীবনের এই বহুমাত্রিক ভূমিকা সমসাময়িক সনাতন সমাজে তাঁকে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান দিয়েছে।আজ তাঁর জন্মদিনে আমরা শুধু একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি না; শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এমন একজন গবেষককে, যিনি জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে চলেছেন। এমন একজন লেখককে, যিনি কলমের মাধ্যমে সমাজ ও সময়ের কথা বলেছেন। এমন একজন সংগঠককে, যিনি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। সর্বোপরি, এমন একজন কণ্ঠস্বরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, যিনি সনাতন সমাজের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে প্রতিকূলতার মধ্যেও কথা বলে চলেছেন।ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী—আপনি শুধু একজন শিক্ষক নন; বহু মানুষের কাছে আপনি জ্ঞান, সাহস ও আশার এক উজ্জ্বল নাম।আপনার জ্ঞানচর্চা আরও বিস্তৃত হোক, গবেষণা আরও সমৃদ্ধ হোক, সামাজিক উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠুক এবং সনাতন সমাজ ও দেশের মানুষের কল্যাণে আপনার পথচলা দীর্ঘ হোক—এই আমাদের প্রত্যাশা।আপনার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সাফল্য ও কর্মময় জীবনের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।শুভ জন্মদিন, ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী।**ওঁ সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ।****ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ।**—সম্পাদকীয় বিভাগHindus NewsVoice of Hinduism

"মুক্তিবাহিনী আসলে হিন্দু বাহিনী" - পাকিস্থানি প্রেতাত্মাদের দ্বারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সবচেয়ে বড় অপপ্রচার

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও এদেশীয় দোসরদের নৃশংসতা যে হিন্দু বিদ্বেষী ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার অনিবার্য ফলাফল তা অনেক বুদ্ধিজীবী স্বীকার করতে কষ্ট হয়। কিন্তু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর টপ লেভেলের জেনারেল ও এদেশীয় দোসরদের নেতৃত্বের ভূমিকায় তা সুস্পষ্ট হয়। বর্তমান সময়ের মতো তৎকালীন সময়েও Yellow Journalism এর আশ্রয় নিয়ে সিলেক্টেড জেনোসাইড এর পথ প্রশস্ত করা হয়। সিলেক্টেড হিন্দু জেনোসাইড এর পটভূমি নির্মাণে এইসকল বৌদ্ধিক প্ল্যাটফর্ম সমূহ কতটুকু সুক্ষ কিন্তু নিখুঁত-নির্মম ভূমিকা পালন করেছে তা তৎকালীন সময়ের একটি পত্রিকার পাতা দেখলে বোধগম্য। যেখানে ​প্রায় ৫৫ বছর আগের ঢাকাস্থ একটি পত্রিকায় পাক সরকারের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় “মুক্তিবাহিনী আসলে একটি হিন্দু বাহিনী” শিরোনামে। ​মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই এটিকে হিন্দু মুসলিম যুদ্ধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চালায় পাকিস্তান। একই সঙ্গে তারা এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল যে, একজন মুসলিম কখনো ভা/রতের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তানের বিরোধিতা করতে পারে না বা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে না। যা তৎকালীন দোসরদের বক্তব্যে বারংবার উঠে এসেছে। ​প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ফৌজের অধিকাংশ সদস্যই হিন্দু, যারা শরণার্থী শিবির থেকে গিয়ে যুদ্ধ করছে।​ পাকিস্তানের প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য ছিল, পাকিস্তানের বিরোধিতা মানেই হিন্দুদের কাজ। এই বিদ্বেষ যে বাস্তবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে তা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সিলেক্টেড হিন্দু জেনোসাইড সমূহের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে সুস্পষ্ট হয়। উদাহরণস্বরূপ, বুরুঙ্গা গণহত্যা, ডাকরা ও গোলাহাট গণহত্যায় সুনির্দিষ্ট ভাবে হিন্দু পরিচয় নিশ্চিত করে হত্যাকাণ্ড চালানো হয় এবং চুকনগর গণহত্যা সেই শরনার্থী শিবিরের হিন্দু মুক্তিযুদ্ধ করে এই ন্যারেটিভ এর প্রমাণ। শুধুমাত্র গণহত্যার মাধ্যমে এই বিষয় পরিষ্কার হয় তা নয় বরং তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের মেজর রাঠোর অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে মাসকারেনহাসের কাছে স্বীকার করেন, "অবশ্যই, আমরা শুধু হিন্দুদেরই হত্যা করছি"। এখানেই শেষ নয় ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর রফিক-উল-ইসলাম (বীর উত্তম) তাঁর বিখ্যাত "A Tale of Millions" (লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে) গ্রন্থে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুতর আহত ও মৃত্যু পথযাত্রী এক পাকিস্তানি সৈন্যকে যখন মুক্তিযোদ্ধারা উদ্ধার করেন, তখন সেই সৈন্যটি পানির জন্য আকুতি জানাচ্ছিল। তখন এক বাঙালি মুসলিম মুক্তিযোদ্ধা যখন তাকে পানি খাইয়ে দেন এবং তার জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেন, তখন পাকিস্তানি সৈন্যটি পরম বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করেছিল"তোমরা তো মুসলমান, তাহলে তোমরা কেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছ? আমাদের অফিসাররা তো বলেছিল পূর্ব পাকিস্তানে কোনো আসল মুসলমান নেই, এখানে সব কাফের আর হিন্দুরা বিদ্রোহ করেছে!" এই পাকিস্তানি সৈনিকের বক্তব্য যে মিথ্যা নয় তা আত্মসমর্পণের সময় নিয়াজির অন্যতম সহযোগী লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামাল মতিনউদ্দিন তাঁর বিভিন্ন লেখায় স্বীকার করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, পশ্চিম পাকিস্তানের সেনাদের বিশ্বাস করানো হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানরা "আধা-হিন্দু" এবং তারা ভারতের প্রভাবে পুরোপুরি হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি ধারণ করেছে। তাই তারা মনে করত মুক্তিযোদ্ধাদের দমন করা মানে হিন্দুদের দমন করা। এমন সিলেক্টেড জেনোসাইড এর অজস্র উদাহরণ দেওয়া সম্ভব কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সেই হিন্দু হলোকাস্ট এর স্বীকৃতি কি কখনো আসবে 

"মুক্তিবাহিনী আসলে হিন্দু বাহিনী" - পাকিস্থানি প্রেতাত্মাদের দ্বারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সবচেয়ে বড় অপপ্রচার

পেশা দেখেই অন্ধ হচ্ছেন অভিভাবকরা? মলি-ইন্দ্রজিতের বিচ্ছেদ সনাতন সমাজের জন্য এক বড় শিক্ষা

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের বৈবাহিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক অধিকারের বিষয়টি বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে। শত চেষ্টার পরেও শেষ রক্ষা হলো না মলি মল্লিকের। চিকিৎসক স্বামীর সাথে ঘর বাঁধার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল তার। সামাজিক ও আইনি নানান টানাপোড়েনের পর অবশেষে এক সালিশি মীমাংসার মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনের ইতি টানতে বাধ্য হলেন তিনি। তবে এই বিচ্ছেদের বিনিময়ে খোরপোশ বা ভরণপোষণ বাবদ মলি মল্লিককে ৩০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছে তার স্বামী ডা. ইন্দ্রজিৎ।​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মলি মল্লিক শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের সংসার টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন। একজন সনাতনী নারী হিসেবে দাম্পত্য জীবনের মর্যাদা রক্ষা করতে তিনি বদ্ধপরিকর ছিলেন। কিন্তু স্বামী ডা. ইন্দ্রজিৎ কোনোভাবেই সংসার করতে রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত এই বিচ্ছেদ মেনে নিতে হয়। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, যে পুরুষ স্বেচ্ছায় স্ত্রীর দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে, তার সাথে জোর করে সংসার করা কেবল কষ্টদায়কই নয়, বরং নারীর মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষার জন্যও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এই বিবেচনা থেকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এক নরকযন্ত্রণা থেকে মলি মল্লিকের এই মুক্তি আসলে তার জীবনের একটি নতুন ও নিরাপদ অধ্যায়ের সূচনা।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') ​এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং মলি মল্লিককে আইনি ও সামাজিকভাবে এক ঘোর অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন খুলনা মহানগরীর লবণচোরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তাদের নিরপেক্ষ ও মানবিক মধ্যস্থতার কারণেই সালিশি বৈঠকে মলি মল্লিকের ন্যায়সংগত অধিকার এবং ৩০ লাখ টাকার খোরপোশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজ প্রশাসনের এই আন্তরিক সহায়তার জন্য ওসি মোশাররফ হোসেন ও স্থানীয় নেতাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।​এই ঘটনাটি সমসাময়িক হিন্দু সমাজ তথা সামগ্রিক মানবসমাজের জন্য এক বড় বার্তা দিয়ে গেল। আজকাল অনেক সনাতনী বাবা-মা পাত্রের কেবল 'ডাক্তার' বা ভালো প্রফেশন দেখেই অন্ধ হয়ে যান। ভাবেন, মেয়েকে ভালো পেশার বরের হাতে তুলে দিতে পারলেই বুঝি মেয়ের কপাল খুলে যাবে এবং জীবনের সব সুখ নিশ্চিত হবে। কিন্তু মলি মল্লিকের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, কেবল উজ্জ্বল পেশা বা সামাজিক আভিজাত্যই একটি সুখী দাম্পত্যের গ্যারান্টি হতে পারে না। ভুল মানুষের সাথে জীবন জড়ানোর পরিণতি কখনো কখনো বিষাদে রূপ নেয় এবং জীবনে ঘোর অমানিশা ও অনিশ্চয়তা ডেকে আনে। তাই কন্যা সম্প্রদানের আগে পাত্রের পেশার চেয়ে তার মানসিকতা, নৈতিকতা এবং নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধের বিষয়টি যাচাই করা প্রতিটি অভিভাবকের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য।

পেশা দেখেই অন্ধ হচ্ছেন অভিভাবকরা? মলি-ইন্দ্রজিতের বিচ্ছেদ সনাতন সমাজের জন্য এক বড় শিক্ষা

আজও রেস্তোরাঁয় প্রবেশের অধিকার নেই দেশের অনেক স্হানের হিন্দু হরিজন ধর্মাবলম্বীদের

​একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে যখন দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখছে, তখন সমাজের এক বড় অংশ এখনও চরম অবহেলা ও অস্পৃশ্যতার শিকার। ‘হরিজন’ বা পরিচ্ছন্নতা কর্মী সম্প্রদায়ের মানুষগুলো আজও অনেক এলাকায় সাধারণ রেস্তোরাঁ বা হোটেলে বসে খাবার খাওয়ার অধিকার পান না। সভ্য সমাজের এই বৈষম্যমূলক চিত্রটি আমাদের মানবিক বোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।​​সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেশ কিছু স্থানে সরজমিনে দেখা গেছে, হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন কোনো হোটেলে গেলে তাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তাদের জন্য হোটেলের বাইরে আলাদা ভাঙা বাসন বা প্লাস্টিকের ওয়ান-টাইম প্লেট বরাদ্দ থাকে। এমনকি খাবার শেষে তাদের ব্যবহৃত স্থানটি জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে ফেলার মতো অপমানজনক ঘটনাও ঘটে।​এই সম্প্রদায়ের একজন সদস্য বিষণ্ণ মনে বলেন, "আমরা শহর পরিষ্কার রাখি, মানুষের ময়লা টানি। কিন্তু আমাদের হাতে কেউ এক গ্লাস পানিও খেতে চায় না। হোটেলে গেলে আমাদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, যেন আমরা মানুষ নই, অন্য কোনো জগতের প্রাণী।"​বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, "সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।" ২৮ (৩) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের বিনোদন বা বিশ্রামের কোনো স্থানে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না। ​হরিজনদের সাথে এই আচরণ সরাসরি সংবিধানের লঙ্ঘন। তা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রভাবশালী ও হোটেল মালিকদের একগুঁয়েমির কারণে এই প্রথা আজও টিকে আছে।​​সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, শত বছরের লালিত জাত-পাত এবং পেশাভিত্তিক কুসংস্কার থেকেই এই অস্পৃশ্যতার জন্ম। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা যেহেতু ময়লা-আবর্জনা নিয়ে কাজ করেন, তাই সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের অমূলক ভীতি বা ঘৃণা কাজ করে। অথচ তারা এই কাজ না করলে শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ত।​​এই বৈষম্য দূর করতে শুধু আইন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন।​প্রশাসনের ভূমিকা: হোটেল বা রেস্তোরাঁগুলোতে যাতে কোনো প্রকার বর্ণবৈষম্য না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।​সচেতনতা বৃদ্ধি: স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের মাধ্যমে অস্পৃশ্যতাবিরোধী প্রচারণা চালানো।​আইনি পদক্ষেপ: বৈষম্যবিরোধী বিল বা আইন দ্রুত কার্যকর করা এবং অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা।​যে মানুষগুলো আমাদের শহরকে বাসযোগ্য রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করে, তাদের সম্মান দেওয়া আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। পেশার ভিত্তিতে মানুষের পরিচয় হওয়া উচিত নয়, বরং মানুষ হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করাই হোক আধুনিক সমাজের লক্ষ্য।

আজও রেস্তোরাঁয় প্রবেশের অধিকার নেই দেশের অনেক স্হানের হিন্দু হরিজন ধর্মাবলম্বীদের

‘মেরা আব্দুল আলাদা হ্যায়’: অন্ধ বিশ্বাসের চড়া মূল্য দিয়ে পোস্টমর্টেম টেবিলে নন্দিনী

আধুনিকতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে সনাতনী তরুণীদের নৈতিক অবক্ষয় এবং তথাকথিত ভালোবাসার ফাঁদে পড়ে আত্মাহুতির ঘটনা সমাজে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি আম আদমী পার্টির নেত্রী নন্দিনীর নির্মম পরিণতি আবারও প্রমাণ করেছে যে, মোহের বশবর্তী হয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও পারিবারিক অনুশাসনকে বিসর্জন দেওয়ার শেষ পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। "মেরা আব্দুল আলাদা হ্যায়" অর্থাৎ নিজের পছন্দের পাত্রটি অন্য সবার চেয়ে ব্যতিক্রম—এমন অন্ধ বিশ্বাস বুকে নিয়ে নন্দিনী তার প্রেমিক আব্দুলের সাথে বিবাহবহির্ভূত 'লিভ-ইন রিলেশনে' জড়িয়েছিলেন। কিন্তু দিনশেষে তাকেও সেই চিরন্তন ও নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যেখানে নিজের অস্তিত্ব ও প্রাণ দুটোই হারাতে হয়। পদে পদে লাঞ্ছনার শিকার হয়ে এবং পরিবারকে চরম সামাজিক ভোগান্তিতে ফেলে সুখের সন্ধানে যাওয়া এই তরুণীদের শেষ ঠিকানা হচ্ছে হিমঘরের নিথর শয্যা অথবা পোস্টমর্টেম টেবিলের শূন্যতা। যেখানে তাদের ক্ষতবিক্ষত দেহকে কাটাছেঁড়া করে 'আলাদা আব্দুলের' নির্মম ভালোবাসার প্রমাণ খুঁজতে হয়।​তথাকথিত প্রগতিশীলতার আড়ালে এই সমাজব্যবস্থায় একশ্রেণীর যুবকদের বাহ্যিক আচরণ ভিন্ন হলেও তাদের মূল অভিসন্ধি ও মনস্তাত্ত্বিক লক্ষ্য যেন একই সুতোয় গাঁথা। (News copied from- 'HINDUS NEWS') "ধর্মের চেয়ে ভালোবাসা বড়"—এমন চটকদার ও বিভ্রান্তিকর ধারণা তরুণীদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ বা ম্যানিপুলেট করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত সনাতনী মেয়েদের একটি নির্দিষ্ট ফাঁদের পণ্য বানিয়ে তোলে। মিষ্টি কথা ও মোহের তাড়নায় পড়ে যারা নিজের ধর্ম, ঐতিহ্য এবং মা-বাবার পছন্দকে অবলীলায় বিসর্জন দেয়, একটা সময় তাদের নিজের মূল্যবান জীবনটাকেই উৎসর্গ করতে হয়। সচেতন মহলে এখন একটাই বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এই আধুনিক সমাজব্যবস্থায় আর কত প্রাণ ঝরে যাওয়ার পর সনাতনী নারীদের চোখ খুলবে। ছদ্মবেশী ভালোবাসার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সুগভীর ফাঁদ এবং রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা ধর্মীয় আগ্রাসনের এই রূপটি কবে তারা অনুধাবন করতে পারবে, নাকি সচেতনতার অভাবে এই আত্মহননের মিছিল চলতেই থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে।

‘মেরা আব্দুল আলাদা হ্যায়’: অন্ধ বিশ্বাসের চড়া মূল্য দিয়ে পোস্টমর্টেম টেবিলে নন্দিনী

২৯% থেকে মাত্র ৭%-এ সংকোচন: সনাতনীদের কান্নায় ভারী বাতাস, এই কি তবে সংখ্যাগুরুবাদী গণতন্ত্রের আসল রূপ?

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক সনাতনী তরুণকে ইতিমধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সাথে প্রশ্ন উঠেছে, একজনের বিরুদ্ধে ওঠা কোনো অভিযোগের জেরে কেন বারবার একটি পুরো সম্প্রদায়ের ওপর বর্বর ও সমষ্টিক আক্রমণ চালানো হবে? আইন যেখানে নিজের গতিতে চলছে, সেখানে কেন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো পবিত্র উপাসনালয় ও মন্দির এবং কেন গভীর রাতে নিরীহ মানুষের ঘরবাড়িতে নারকীয় হামলা চালিয়ে পুরো সম্প্রদায়কে চরম আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাতে বাধ্য করা হলো? সভ্য সমাজে কোনো একক ব্যক্তির কথিত অপরাধের দায় সম্পূর্ণ নির্দোষ একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার এই পৈশাচিক ও আদিম প্রবণতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশের রক্তাক্ত ইতিহাসে এই ধরনের সুপরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও উচ্ছেদ অভিযান এটিই প্রথম নয়, বরং বিগত দিনে রামু (২০১২), নাসিরনগর (২০১৬), ঠাকুরপাড়া (২০১৭), ভোলা (২০১৯) এবং কুমিল্লায় (২০২১) ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনার নেপথ্যে একই চেনা চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি পোস্ট, মিথ্যা অভিযোগ কিংবা সুপরিকল্পিত গুজবকে কেন্দ্র করে উগ্রবাদীরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং উপাসনালয়কে টার্গেট করে অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালিয়েছে, যার অনেকগুলোর তদন্তে পরবর্তীতে মূল অভিযোগেরই কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।​বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সংগৃহীত ভয়াবহ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়ের ওপর শত শত সুপরিকল্পিত হামলা, ভাঙচুর ও জোরপূর্বক ভূমি দখলের ঘটনা ঘটেছে এবং প্রতিবারই রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক ও সুশীল সমাজ একে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সস্তা চেষ্টা করেছেন। কিন্তু যখন একই নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি বছরের পর বছর ধরে নিয়মিত বিরতিতে ঘটে, তখন তা আর কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকে না; বরং তা সনাতনীদের এই দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করার একটি সুনির্দিষ্ট ও উদ্বেগজনক সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রবণতায় পরিণত হয়। (News copied from- 'HINDUS NEWS') কথিত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ধোঁয়াশা তুলে একদল উগ্রবাদী ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠী সর্বদা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চালায়, যা কোনো সভ্য সমাজে অপরাধের আওতায় পড়তে পারে না; আর যদি তর্কের খাতিরে একে অপরাধ ধরাও হয়, তবে তার জন্য দেশের স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও আদালত রয়েছে। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে একদল উগ্র ধর্মান্ধ লাঠিয়াল বাহিনী যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে সনাতনীদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলা চালায়, তাতে মনে হয় যেন সমস্ত নীতি-নৈতিকতা বিলুপ্ত হয়েছে, অন্যথায় আইন অমান্যের এই ধারায় সমস্ত উগ্র মোল্লাদের ঘরবাড়িতেও হামলা হওয়া উচিত ছিল। মনে রাখতে হবে, একটি পবিত্র মন্দির ভাঙা মানে শুধু কয়েকটি ইটের স্থাপনা ধ্বংস করা নয়, বরং একটি প্রাচীন শান্তিকামী জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক নিরাপত্তাবোধ ও আস্থাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং একটি হিন্দু পরিবারে হামলা চালানো মানে শুধু দৃশ্যমান আর্থিক ক্ষতি নয়, তা একটি পরিবারের আজীবনের স্বপ্ন, স্মৃতি এবং ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের ওপর কুঠারাঘাত।​বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানে দেশের সকল নাগরিককে সমান অধিকার, সমতা ও নির্বিঘ্নে ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেই বাংলাদেশে যদি একজন নাগরিককে শুধুমাত্র তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নিজ মাতৃভূমিতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও জীবননাশের আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়, তবে তা শুধু সনাতনীদের সংকট নয়—তা সামগ্রিকভাবে পুরো রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা ও আইনি কাঠামোর দেউলিয়াত্ব প্রমাণ করে, যা স্পষ্ট করে দেয় যে বর্তমান ব্যবস্থায় গণতন্ত্রের এক গভীর ও ভয়াবহ সংকট বিদ্যমান। তাহিরপুরের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেহেতু দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ঠিক একইভাবে যারা প্রকাশ্য দিবালোকে আইন হাতে তুলে নিয়ে মন্দির ও ঘরবাড়িতে নারকীয় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে, তাদেরও অনতিবিলম্বে চিহ্নিত করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে, কারণ বিচার প্রক্রিয়া যদি সর্বদা একপাক্ষিক ও পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তবে দেশে কখনো প্রকৃত আইনের शासन ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আজ সমগ্র সনাতনী সমাজের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের কাছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—আমরা কি প্রকৃত আইনের শাসনের বাংলাদেশ চাই, নাকি স্রেফ গুজব ও উস্কানির ভিত্তিতে উগ্র জনতার বর্বর আদালতের বাংলাদেশ চাই? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রক্ত দিয়ে অর্জিত এই দেশ মুসলমানের যেমন, ঠিক তেমনি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকারের চারণভূমি; তাই কোনো নাগরিককে নিজ দেশে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার জন্য ভয় ও আতঙ্ককে সঙ্গী করতে হবে—এটি স্বাধীনতার মূল চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। যে মৌলবাদী ও জেনোসাইডাল মানসিকতার গোষ্ঠী এদেশ থেকে সনাতনীদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে রাষ্ট্রকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ধর্মীয় অনুভূতির নামে যারা উগ্র জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তাদের বিরুদ্ধে এখনই চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি, কারণ এই ধরনের আত্মঘাতী ধর্মীয় উন্মাদনাকে কোনো প্রগতিশীল সমাজ মেনে নিতে পারে না।​পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে এক নির্মম ও বুক ফাটানো সত্য উন্মোচিত হয় যে, স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলাদেশে সনাতনীদের জনসংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ২৯ শতাংশ, অথচ নব্বইয়ের দশকে পদ্ধতিগত নিপীড়নে তা এসে দাঁড়ায় ২১ শতাংশে, আর বর্তমান সময়ে তা আশঙ্কাজনকভাবে নেমে এসেছে মাত্র ৭ শতাংশে, যা আমাদের রাষ্ট্র ও কথিত গণতন্ত্রের প্রকৃত কঙ্কালসার অবস্থাকেই ফুটিয়ে তোলে যেখানে একটি প্রাচীন জনগোষ্ঠী প্রতিদিনের নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হয়ে দলে দলে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে, অথচ সংসদের ভেতরে ও বাইরে একদল মেকি রাজনীতিক জোর গলায় গণতন্ত্রের ফাঁকা বুলি আওড়াচ্ছেন। সনাতনীদের বাদ দিয়ে যে সংখ্যাগুরুবাদী ব্যবস্থা কায়েম করা হচ্ছে, সেই তথাকথিত গণতন্ত্র কি কেবলই একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের গণতন্ত্র—এমন প্রশ্ন এখন অবধারিত হয়ে উঠেছে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের এই বর্বরতার আগে গত বছরও ঠিক একইভাবে দোয়ারাবাজার উপজেলায় কথিত গুজবের নাটক সাজিয়ে পুরো সনাতনী গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু আজ পর্যন্ত তার কোনো দৃষ্টান্তমূলক রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই দেশেরই কিছু সুশীল ও লম্পট শ্রেণী যখন সীমানার ওপারে অন্য দেশের মানুষের অধিকার নিয়ে গলা ফাটিয়ে রাজপথ গরম করে, তখন নিজ দেশের সংখ্যালঘু সনাতনীদের ওপর চলা পৈশাচিক নির্যাতন নিয়ে তারা রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ থাকে; এমনকি শহিদুল আলম কিংবা রেহনুমার মতো নামধারী মানবাধিকারের কথিত পিতামাতারাও নিজ দেশের সনাতনীদের রক্ত ও কান্না দেখেও অন্ধ সেজে থাকেন, কারণ তাদের সমস্ত মানবাধিকার ও সিলেক্টিভ সহানুভূতি কেবল সুনির্দিষ্ট কিছু চরমপন্থী, জামাত ও রাজাকারদের এজেন্ডা রক্ষার জন্যই সংরক্ষিত, যা দেশের প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতার মুখে এক মস্ত বড় চড়।

২৯% থেকে মাত্র ৭%-এ সংকোচন: সনাতনীদের কান্নায় ভারী বাতাস, এই কি তবে সংখ্যাগুরুবাদী গণতন্ত্রের আসল রূপ?

'মব জাস্টিস' ও সংখ্যালঘুদের আর্তনাদ: ক্ষমতার নতুন সমীকরণে বাংলাদেশে বিপন্ন সনাতনী সমাজ

​বাংলাদেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার রূপান্তরের পর প্রান্তিকতার সংজ্ঞা ও এর অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের নতুন গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার প্রবর্তনের পর থেকে 'সাবঅল্টার্ন' বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসা এবং ভিন্নমত দমনে 'মব জাস্টিস' বা বিশৃঙ্খল জনতার আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের গভীর ভাবনায় ফেলেছে। গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক তাঁর বিশ্বখ্যাত প্রবন্ধ 'ক্যান দ্য সাবঅল্টার্ন স্পিক?'-এ দেখিয়েছেন কীভাবে সমাজে ক্ষমতাহীন ও প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর সবসময় কাঠামোর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত বা বিকৃত হয়, যার ফলে তারা কখনো নিজেদের ভাষায় সরাসরি কথা বলতে পারে না। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যখন একদা নির্যাতিত বা প্রান্তিক হিসেবে দাবিদার গোষ্ঠীসমূহ ক্ষমতার কেন্দ্রস্থলে আরোহণ করে রাষ্ট্র ও সমাজের চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে, তখন স্পিভাকের তত্ত্বের এক নতুন ও জটিল রূপ দৃশ্যমান হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে যে, রাজনৈতিক আনুকূল্য এবং ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার পর এই কথিত সাবঅল্টার্নদের একাংশ রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে ভয়ঙ্কর এক 'মব রাজ্য' বা বিশৃঙ্খল শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা নিজেদের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভিন্নমত দমন, সামাজিক ও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর বলপ্রвой এবং শারীরিক বা প্রতীকী শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে কার্যত এক নতুন স্বৈরাচারী কাঠামোর জন্ম দিচ্ছে।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') ​এই পরিস্থিতির গভীরতম ও সবচেয়ে বেদনাদায়ক ক্ষতটি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়ের ওপর। ক্ষমতার এই ভারসাম্যহীন পরিবর্তনের সুযোগে মব সংস্কৃতির প্রধানতম শিকারে পরিণত হয়েছে সনাতনী হিন্দু সমাজ, যারা যুগের পর যুগ ধরে এ দেশের প্রকৃত প্রান্তিক ও অধিকারবঞ্চিত সাবঅল্টার্ন হিসেবে নিপীড়িত হয়ে আসছে। সনাতনীদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং উপাসনালয়ের ওপর একের পর এক আক্রমণ, মব জাস্টিসের নামে সনাতনী শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছনা এবং জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, মানবাধিকার এবং প্রান্তিকতার বুলি আওড়ানো নতুন ক্ষমতাসীনেরা আসলে শোষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অমোঘ বাণীর মতো ক্ষমতার ঈশ্বরের অধিষ্ঠান আজও কেবল সুনির্দিষ্ট কিছু সুবিধাবাদী মহলে, প্রকৃত প্রান্তিক সনাতনীদের পল্লিতে মানবাধিকারের কোনো আলো পৌঁছায়নি। মব কখনো সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না, কারণ এর মূল শিকার সবসময় দুর্বল ও সংখ্যালঘু সমাজ। এই পরিবর্তিত বাস্তবতা আমাদের শেখায় যে সাবঅল্টার্ন কোনো স্থায়ী পরিচয় নয়, বরং ক্ষমতার সম্পর্কের একটি তুলনামূলক অবস্থান মাত্র। যে মুহূর্তে একজন তথাকথিত সাবঅল্টার্ন রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত হয়ে অন্যের মুখ বন্ধ করতে বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন চালাতে 'মব' বা উন্মত্ত জনতাকে লেলিয়ে দেয়, ঠিক সেই মুহূর্তেই সে তার নৈতিক বৈধতা হারিয়ে একজন পুরোদস্তুর অত্যাচারী ও আধিপত্যবাদী শক্তিতে পরিণত হয়।

'মব জাস্টিস' ও সংখ্যালঘুদের আর্তনাদ: ক্ষমতার নতুন সমীকরণে বাংলাদেশে বিপন্ন সনাতনী সমাজ

গাইবান্ধার পর এবার রাঙ্গামাটি: মৌলবাদী চক্রের নিশানায় বাঙ্গালহালিয়ার ঋষি আশ্রম ও সনাতন ঋষি মহারাজ

গাইবান্ধার পর এবার পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি থেকে এক গভীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাঙ্গামাটির বাঙ্গালহালিয়ায় প্রতিষ্ঠিত সনাতনী ঋষি আশ্রমটি বহু বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে ধর্মীয় চর্চা, মানবসেবা ও বিভিন্ন ধরনের সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। পরম আরাধ্যা গুরুদেব সনাতন ঋষি মহারাজের যোগ্য নেতৃত্বে এই পবিত্র আশ্রমটি দীর্ঘকাল ধরে পার্বত্য অঞ্চলের সনাতনী সমাজসহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষের গভীর আস্থা, চিরন্তন বিশ্বাস ও পরম শান্তির এক অনন্য কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, সম্প্রতি এই ঐতিহ্যবাহী আশ্রম এবং স্বয়ং ঋষি মহারাজকে ঘিরে যে এক বৈরী ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, তা দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।​দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুপরিকল্পিতভাবে উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন শান্তিকামী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মঠ-মন্দির এবং পরম শ্রদ্ধেয় মহারাজদের টার্গেট করে একের পর এক সাজানো বিতর্ক ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। একের পর এক এ ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি চলতে থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান বা কোনো কার্যকর কঠোর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় নীরবতার কারণে ভুক্তভোগী সাধারণ জনমনে আজ তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠছে যে, সরকার কি কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অপেক্ষা করছে? বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধর্মীয় গুরু, প্রাচীন আশ্রম, ঐতিহ্যবাহী মঠ কিংবা উপাসনালয়কে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা, মনস্তাত্ত্বিক হয়রানি বা চরম অনিরাপত্তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী। ​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​এই সংকটময় মুহূর্তে রাষ্ট্রের কাছে সনাতনী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ঋষি মহারাজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা অবিলম্বে নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হচ্ছে। একই সাথে ঋষি আশ্রমসহ দেশের সকল মঠ-মন্দির ও তৎসংলগ্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষা জোরদার করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। যেকোনো ধরনের ভিত্তিহীন গুজব, সাম্প্রদায়িক উসকানি বা সহিংসতার আশঙ্কাকে শুরুতেই কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলতে চাই, দেশের কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত মানে তা কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত নয়, বরং এটি সমগ্র বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সম্প্রীতি, আইনের শাসন এবং প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। দেশের সনাতনী সমাজ আজ আর কোনো অন্যায়ের মুখে নীরব দর্শক হয়ে থাকতে রাজি নয়। সনাতনীরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাজে ন্যায়বিচার, জানমালের নিরাপত্তা এবং নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানাচ্ছে এবং এখনই সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময়।

গাইবান্ধার পর এবার রাঙ্গামাটি: মৌলবাদী চক্রের নিশানায় বাঙ্গালহালিয়ার ঋষি আশ্রম ও সনাতন ঋষি মহারাজ

স্থাপত্যের গৌরব বনাম উগ্র ধর্মীয় বিদ্বেষ: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণে কেন এই বাধা?

বাংলাদেশ সংবিধানের ৪১(১) অনুচ্ছেদ দেশের প্রত্যেক নাগরিককে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় যেকোনো ধর্ম পালন, প্রচার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার পূর্ণ অধিকার দিয়েছে। এই সাংবিধানিক রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও যখন রাষ্ট্রের বুকে কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ের অভ্যন্তরে চলমান কাজ উগ্রবাদী বা কাঠমোল্লাদের অযাচিত দাবির মুখে স্থগিত হয়ে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই আইনের শাসন ও অসাম্প্রদায়িকতার সমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রামমূর্তি নির্মাণের মহতী উদ্যোগটি আইনি ও রাষ্ট্রীয় সকল নিয়ম মেনেই এতদূর এগিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এক অদৃশ্য মবের তুষ্টির জন্য এই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হলো। রাষ্ট্র ও প্রশাসন যেখানে আইন সমুন্নত রাখার কথা, সেখানে বিচার এবং সিদ্ধান্ত যদি রাজপথের মবের আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে চলতে শুরু করে, তবে সাধারণ নাগরিকের আইনের ওপর ভরসা রাখার আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট থাকে না।​আজকের এই সামগ্রিক বিচারহীনতা ও বৈষম্যের সংস্কৃতি আমাদের এক ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখেছি, তনয়া বা রামিসাদের মতো ভাগ্যাহত ভিক্টিমদের ঘটনাগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল না হলে এ দেশে বিচারকার্য সুষ্ঠু ও কার্যকর সময়ে সম্পাদিত হয় না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দেশের প্রতিটি নির্যাতিত ছেলে বা মেয়ের ঘটনা কি রামিসার মতো ভাইরাল হবে? (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') কখনোই নয়। দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো বছরে অত্যন্ত সংবেদনশীল কোনো একটি ঘটনার শিকার পরিবারের বাড়িতে সান্ত্বনা দিতে যাবেন, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ও সক্রিয় আইন না থাকলে বাকি হাজারো ভিক্টিমের পরিণতি কী হবে? রামিসার ঘটনার কয়েক বাড়ি পরেই এক ভদ্রলোকের শিশুকন্যা নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছে। এখন সেই অসহায় বাবা-মা হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তাদের কন্যার খুনের ঘটনাটি একটু ভাইরাল করার জন্য, যাতে রাষ্ট্র তাদের দিকে নজর দেয়। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকের জন্য এর চেয়ে বড়ো আত্মিক কষ্ট ও লজ্জার আর কী হতে পারে?​যদি সংকীর্ণ ধর্মীয় বেষ্টনীর বাইরে গিয়ে উদার মানসিকতা নিয়ে দেশের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মানুষ বিষয়টিকে দেখতে পারত, তবে এই বিশাল রামমূর্তি নির্মাণ হতে পারত সমগ্র বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের বিষয়। ঢাকায় যদি পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম মসজিদ নির্মিত হয়, তবে স্থাপত্যের সৌন্দর্যে ও গৌরবে অন্য সব ধর্মের মানুষও আনন্দিত হতে পারে। তখন সেটি আর কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মের প্রার্থনালয় থাকে না, বরং হয়ে ওঠে দেশের একটি অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন। কিন্তু বর্তমানের এই বিদ্বেষপূর্ণ পরিবেশে মুক্তচিন্তার আলো জ্বালানো যেন অপরাধ। প্রকৃতপক্ষে, অন্তরের বিশ্বাস যদি সত্য ও প্রগাঢ় হয়, তবে তা অপরের ধর্মীয় উপাসনালয় বা স্থাপত্য দেখে এভাবে দুমদাম আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে না। ঘরের চালা এবং বুনিয়াদ যদি ভেতর থেকে দুর্বল হয়, তবেই দূরদেশের ঝড়ের খবরে অন্তর কেঁপে ওঠে। এটি আসলে বাইরের ঝড়ের সমস্যা নয়, ঘরের নড়বড়ে কাঠামোরই লক্ষণ, যা একদিন এমনিতেই খসে পড়বে।​আজকের বাস্তবতায় সংখ্যাগুরু সম্প্রদায় নিজেদের ক্ষমতার জোরে সরকারকে দিয়ে যেকোনো অযৌক্তিক দাবি বা সিদ্ধান্ত কার্যকর করিয়ে নিতে পারছে। তাদের ধর্মানুভূতি এতটাই ঠুনকো যে, অন্যের অধিকার হরণ করেই কেবল তা টিকিয়ে রাখতে হয়। তবে আপনাদের যদি সত্যিই ধর্মের ও আদর্শের জোর থাকে, তবে ক্ষমতার এই দাপটকে ইতিবাচক দিকে ঘুরিয়ে দিন। পারলে একবার এই দেশটাকে দুর্নীতিমুক্ত করে আর সুশাসনে চ্যাম্পিয়ন করে দেখান; দেশজুড়ে চলমান খুন-ধর্ষণের এই মহামারি থামিয়ে দিন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, যেখানে পরমতসহিষ্ণুতা আর মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করার কথা, সেখানে ধর্মের দোহাই দিয়ে কেবল ধ্বংসাত্মক ও বৈষম্যমূলক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে, যা একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য চরম অশনিসংকেত।

স্থাপত্যের গৌরব বনাম উগ্র ধর্মীয় বিদ্বেষ: বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণে কেন এই বাধা?

মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে দিপু হত্যার বিচার শেষ হবে কবে?

প্রিয়জন হারানোর বেদনা কখনো মুছে যায় না। সময়ের সঙ্গে ক্ষত কিছুটা শুকালেও স্মৃতি আর শূন্যতা থেকে যায় আজীবন। ময়মনসিংহের আলোচিত দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের পর কেটে গেছে ছয় মাস। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের কাছে মনে হয়, ঘটনাটি যেন ঘটেছে সেদিনই। পরিবারের প্রত্যেক সদস্য এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন গভীর শোক, অনিশ্চয়তা এবং বিচার পাওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষা। নিহত দিপু চন্দ্র দাস জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে।গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ময়মনসিংহের ভালুকার জামিরদিয়া এলাকার একটি পোশাক কারখানায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে (২৮) পিটিয়ে ও আগুন ধরিয়ে হত্যা করে কিছু লোক। এ ঘটনায় ১৯ ডিসেম্বর নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে ভালুকা থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় এরই মধ্যে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।সংকটে পরিবার, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন: দিপু নিহত হওয়ার পর তার পরিবারের জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। পরিবারের সদস্যরা এখনো শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে চেষ্টা করলেও প্রতিটি মুহূর্তে তারা অনুভব করেন প্রিয় মানুষটির অনুপস্থিতি। শুরুতে বিভিন্ন মহল থেকে খোঁজখবর নেওয়া হলেও সময়ের সঙ্গে তা অনেকটাই কমে গেছে।দিপুর মৃত্যুর পর সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে পরিবারের আর্থিক অবস্থায়। দৈনন্দিন ব্যয়, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। আগে সংসারের পুরো দায়িত্ব দিপু বহন করতেন। তার অনুপস্থিতিতে আয়ের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে সংসার চালানো নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে কিছুটা হতাশা থাকলেও মামলার অগ্রগতি নিয়ে তারা আশাবাদী হতে চান। তবে একই সঙ্গে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, এরই মধ্যে যেসব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মামলার সব আসামিকে আইনের আওতায় আনা জরুরি। বিশেষ করে পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচার নিশ্চিত করার দাবি তাদের।নিহত দিপু চন্দ্র দাসের স্ত্রী মেঘনা রানী এখন ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। স্বামীকে হারানোর পর তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। একদিকে মানসিক শোক, অন্যদিকে সন্তানকে মানুষ করার দায়িত্ব—সবকিছু একাই সামলাতে হচ্ছে তাকে।মেঘনা রানী বলেন, ‘এ কঠিন সময়েও আমার শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সবাই আমার এবং আমার মেয়ের পাশে রয়েছেন। তাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতাই এখন আমাদের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় শক্তি।’ একই সঙ্গে স্বামীর হত্যার সুষ্ঠু বিচারও তার প্রধান দাবি।দিপুর মা এখনো সন্তানের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন। তিনি বলেন, ‘ঘরের প্রতিটি কোণে ছেলের স্মৃতি রয়েছে। তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখলেই বুক ভেঙে কান্না আসে। আমার ছেলেটা আর কোনোদিন আমাদের কাছে ফিরে আসবে না। তাকে নিয়ে আমাদের কত স্বপ্ন ছিল, কত আশা ছিল। কিন্তু আজ সেই সব স্বপ্ন এক মুহূর্তে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘একজন মা হিসেবে আমার এখন আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি শুধু মৃত্যুর আগে আমার সন্তান হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।’দিপুর বাবা রবি চন্দ্র দাস বলেন, ‘সন্তান হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তার চেয়েও বড় উদ্বেগ হলো পরিবারের ভবিষ্যৎ। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীকে হারিয়ে অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে। দিপুর মৃত্যুর পর পরিবারের নির্ভরযোগ্য আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে দিপুর স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সবাই একসঙ্গেই বসবাস করছি।’মামলার অগ্রগতি: তদন্ত সূত্রে যা জানা গেছে, মামলার অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে সিসিটিভি ফুটেজ এবং জব্দকৃত বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। এ ছাড়া শনাক্ত হওয়া সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত মামলায় ২৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৯ আসামির বিভিন্ন সময় রিমান্ড মঞ্জুর করে এর মধ্যে ১২ জন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ মামলার তিনজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তোয়াবুল ইসলাম খান বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং জব্দকৃত আলামতের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। তদন্তে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে। তদন্তের অবশিষ্ট কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে শিগগির আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।’তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত মামলার ২৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সবাই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যে দুজন আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও পরবর্তী সময়ে সেই জামিন বাতিল হওয়ায় তারাও বর্তমানে কারাগারে আছেন।ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘দিপু হত্যা মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মামলার অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’তিনি জানান, মামলাটিতে কোনো এজাহারনামীয় আসামি নেই। এজাহারে ১৪০ থেকে ১৫০ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, এ মামলার ছায়াতদন্ত, আসামি শনাক্তকরণ এবং গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করছে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি বিশেষ আভিযানিক দল।ময়মনসিংহ জেলা জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আনোয়ার আজিজ টুটুল বলেন, ‘দিপু হত্যা মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহের কোনো আদালত থেকে এ মামলার কোনো আসামি জামিন পাননি। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি, যেন কোনো আসামি আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে মুক্তি না পান। উচ্চ আদালত থেকে দুজন আসামি একপর্যায়ে জামিন লাভ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই জামিন বাতিল করা হয়েছে।’জেলা হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক ডা. এনসি পাল বলেন, কোনো সুস্থ মানুষ এ হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড দেখে ঠিক থাকতে পারবে না। একটি মানুষকে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পোড়ানোর ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো নয়। এ ধরনের মানবতাবিরোধী কাজ আমরা মানতে পারছি না। আমরা আমাদের প্রিয় মানুষটিকে আর ফিরে পাব না; কিন্তু তার হত্যার বিচার হলে অন্তত মনে হবে রাষ্ট্র আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে দিপু হত্যার বিচার শেষ হবে কবে?

নবাবগঞ্জে নিখোঁজের সাত দিন পর ধানখেতে মিলল কাঠমিস্ত্রির লাশ, গ্রেপ্তার দুই

ঢাকার নবাবগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর নারায়ণ সরকার (৫০) নামে এক কাঠমিস্ত্রির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নের নিকরা বিল এলাকার একটি ধানখেত থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।নিহত নারায়ণ সরকার উপজেলার বক্সনগর ইউনিয়নের চৌরাহাঁটি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর মৃত্যু ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে রহস্য ও নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ও পথচারী ধানখেতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।এদিকে স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী চম্পা রানী। বাড়ির উঠানে বসে কান্নায় বারবার ভেঙে পড়তে দেখা যায় তাঁকে। দুই মেয়ে বৈশাখী সরকার ও ঐশী সরকারের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঐশী সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বাবা, তোমাকে কারা মেরে ফেলল? এখন আমাদের দেখবে কে? আমাদের লেখাপড়ার খরচ কে চালাবে?”পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের দাবি, ঘটনার পেছনের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। নিহতের চাচাতো ভাই বিনয় সরকার জানান, নিখোঁজ হওয়ার দিন মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিলের লিজগ্রহীতা নিখিল রাজবংশীর সঙ্গে নারায়ণ সরকারের বাক্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন তিনি।স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটি উপলক্ষে গত ২৭ মে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন নারায়ণ সরকার। পরদিন সকালে চাচাতো ভাই জগদীশ সরকার এবং প্রতিবেশী নিতাই শীল ও পরাণ শীলকে সঙ্গে নিয়ে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে নিকরা বিলে যান। দুপুরে অন্যরা বাড়ি ফিরলেও নারায়ণ আর ফিরে আসেননি।পরে পরিবারের পক্ষ থেকে নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের চার দিন পর তাঁর স্ত্রী অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার সূত্র ধরে পুলিশ নিখিল রাজবংশী ও জগদীশ সরকারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার পর মরদেহটি ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়েছিল। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

নবাবগঞ্জে নিখোঁজের সাত দিন পর ধানখেতে মিলল কাঠমিস্ত্রির লাশ, গ্রেপ্তার দুই

কর্ণফুলীতে মোটরসাইকেল-পিকআপ সংঘর্ষে বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৮টার দিকে শাহ আমানত সেতুর প্রথম সিঁড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সিংহরা গ্রামের বাসিন্দা দুর্গাপদ মল্লিক (৭০) এবং তার ছেলে বিধান মল্লিক (৪৭)। বিধান মল্লিক কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তারা চট্টগ্রাম নগরের পাথরঘাটা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ আবু সাঈদ বাকের জানান, সকালে নতুন সেতু এলাকা থেকে মইজ্জ্যারটেকের দিকে একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি মোটরসাইকেল যাচ্ছিল। শাহ আমানত সেতুর প্রথম সিঁড়ি এলাকায় পৌঁছালে দুই যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা দুর্গাপদ মল্লিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেলচালক বিধান মল্লিককে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জামাল উদ্দীন জানান, তিনি ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পান, সেতু থেকে নামার পথে পিকআপ ভ্যানটি মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর দুর্গাপদ মল্লিক পিকআপের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্থানীয়রা আহত বিধান মল্লিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।নিহতের স্বজন বাবলা মল্লিক বলেন, বিধান মল্লিক মোটরসাইকেলে করে তার বাবাকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। বাবাকে পৌঁছে দিয়ে স্কুলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু পথেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, যাতে বাবা-ছেলে দুজনই প্রাণ হারান।চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দীন তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা বিধান মল্লিককে মৃত ঘোষণা করেন। পরে দুর্ঘটনায় নিহত তার বাবা দুর্গাপদ মল্লিকের মরদেহও হাসপাতালে আনা হয়। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে একজন শিক্ষক ও তার বাবার একসঙ্গে প্রাণহানির ঘটনায় স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

কর্ণফুলীতে মোটরসাইকেল-পিকআপ সংঘর্ষে বাবা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

ভক্তি, মানবতা ও ধর্মীয় চেতনায় মুখর রহমতগঞ্জের জে. এম. সেন হল।

চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জস্থ ঐতিহাসিক জে. এম. সেন হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে “সর্বজনীন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় তুলসী দান ও মহতী সনাতন মানবধর্ম সম্মেলন–২০২৬”। শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) দিনব্যাপী এ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত সাধু-সন্ন্যাসী, ধর্মীয় বক্তা, ভক্তবৃন্দ এবং নানা বয়সী মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।আয়োজক সূত্রে জানা যায়, শোত্রীয় ব্রহ্মনিষ্ঠ শিবকল্পতরু ব্রহ্মলীন ১০৮ শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজ এবং তাঁর সর্বাগ্রজ শিষ্য ব্রহ্মনিষ্ঠ পরমহংস পরিব্রাজক ব্রহ্মলীন ১০৮ শ্রীমৎ স্বামী চিন্তাহরণ পুরী মহারাজের আদর্শ, দর্শন ও আশীর্বাদকে সামনে রেখে এ আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান শুভাশীষ প্রদান করেন ঋষিতীর্থ শ্রীগুরুধাম অনাথ আশ্রম ও চান্দগাঁও শ্রীগুরুধামের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ যোগাচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিষানন্দ পুরী মহারাজ।ভোরের ব্রাহ্মমুহূর্তে সমবেত প্রার্থনা, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ এবং শ্রীশ্রীচণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে দীক্ষা প্রদান, ঋষিধ্বজা উত্তোলন, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং গুরুপরম্পরার প্রতিকৃতিতে পূজা-অর্চনা সম্পন্ন করা হয়।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় তুলসী দান। এতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রায় তিন শতাধিক শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতী, নারী-পুরুষ ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভক্ত অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভক্তিভাবের মধ্য দিয়ে তারা গীতায় তুলসী অর্পণ করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল ভক্তিমূলক আবহ এবং আধ্যাত্মিক অনুভূতির ছোঁয়া।দুপুরে অনুষ্ঠিত মহতী মানবধর্ম সম্মেলনে প্রধান উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন যোগাচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিষানন্দ পুরী মহারাজ। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন মঠ ও মন্দির থেকে আগত ব্রহ্মনিষ্ঠ সাধু, সন্ন্যাসী, মহাত্মা-মহারাজ, বিশিষ্ট ধর্মীয় আলোচক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা মানবসেবা, নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং সনাতন ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।বক্তারা বলেন, বর্তমান সমাজে হিংসা, বিভেদ ও অসহিষ্ণুতা ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবিক চেতনা জাগ্রত করতে গীতা ও সনাতন ধর্মের আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে যোগাচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিষানন্দ পুরী মহারাজ বলেন,“সনাতন ধর্ম মানবকল্যাণ, প্রেম, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। বর্তমান সময়ে সমাজে বিভেদ ও হিংসা দূর করে মানবতার বন্ধন সুদৃঢ় করতে গীতা ও সনাতন ধর্মের আদর্শ চর্চা অত্যন্ত জরুরি। ধর্ম কখনো বিভেদের নয়; ধর্ম মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, নৈতিকতা ও সহমর্মিতার বাণী পৌঁছে দেয়।”দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে আরও ছিল শ্রীগীতা ও জগদ্গুরুর আরতি, অন্নপ্রসাদ বিতরণ, যোগব্যায়াম প্রতিযোগিতা, শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং সনাতন ধর্মীয় সংগীতানুষ্ঠান। টেলিভিশন ও বেতারের শিল্পীরাও ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ সৃষ্টি করে।আয়োজন সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা করে ঋষিতীর্থ শ্রীগুরুধাম (অনাথ আশ্রম), বাজালিয়া ঋষিতীর্থ শ্রীগুরুধাম, সাধুরপাড়া এবং সনাতন সম্প্রীতি মিশন-বাংলাদেশ। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবসেবা ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে এ ধরনের বৃহৎ আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

ভক্তি, মানবতা ও ধর্মীয় চেতনায় মুখর রহমতগঞ্জের জে. এম. সেন হল।

জেএমসেন হলে গীতা তুলসীদান ও যোগব্যায়াম প্রতিযোগিতা

বিশ্ব মানবতার শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও আত্মিক জাগরণের মহান প্রত্যয়ে আগামী ২২ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার (০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জেএমসেন হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সর্বজনীন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় তুলসীদান, মহতী সনাতন মানব ধর্মসম্মেলন ও যোগব্যায়াম প্রতিযোগিতা।আয়োজক সূত্রে জানা যায়, গৌর প্রেমানুরাগী সনাতন ধর্ম সংস্কারক, ব্রহ্মনিষ্ঠ পরমহংস পরিব্রাজক ব্রহ্মলীন ১০৮ শ্রীমৎ স্বামী চিন্তাহরণ পুরী মহারাজের শ্রীচরণাশ্রিত আন্তর্জাতিক ধর্মীয় গুরু, সমাজ সংস্কারক এবং বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন মঠ ও আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা যোগাচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিষানন্দ পুরী মহারাজ (বেদান্তাচার্য্য)-এর প্রবর্তনায় এই মহতী ধর্মীয় আয়োজন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।বিশ্বমানবের কল্যাণ, নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ এবং সনাতন ধর্মের চিরন্তন আদর্শ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এ আয়োজন গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিতে এ ধরনের আধ্যাত্মিক ও মানবকল্যাণমূলক আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।অনুষ্ঠানে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় তুলসীদান, ধর্মীয় আলোচনা, ভক্তিমূলক পরিবেশনা, মানবকল্যাণমূলক বার্তা প্রচার এবং যোগব্যায়াম প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের মতে, যোগব্যায়াম প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুস্থ জীবনধারা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মানসিক প্রশান্তির চর্চা আরও বিকশিত হবে।ধর্মীয় এ মহামিলনকে ঘিরে ইতোমধ্যে সনাতনী সমাজের বিভিন্ন স্তরে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন আশ্রম, মঠ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের গুরুপ্রাণ শিষ্যবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, গুরুভ্রাতা এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।আয়োজকবৃন্দ এক শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, “পরমারাধ্য গুরুদেব যোগাচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিষানন্দ পুরী মহারাজের পবিত্র উপস্থিতিতে আমরা যেন ঐক্য, একতা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারি। গুরুপ্রেম, ভক্তি ও মানবসেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজে শান্তি ও মানবতার দীপশিখা প্রজ্বলিত হোক।”তারা আরও বলেন, ধর্মীয় ও আত্মিক চেতনার এ শুভ মিলনমেলা সনাতন ধর্মের সৌন্দর্য, সৌহার্দ্য ও আধ্যাত্মিক শক্তির এক অনন্য প্রকাশ হয়ে উঠবে। অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষকে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেএমসেন হলে গীতা তুলসীদান ও যোগব্যায়াম প্রতিযোগিতা

হিমালয় থেকে সাগর সঙ্গম: মহাশূন্যে বিলীন হওয়া মহাসাধক স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের শুভ আবির্ভাব তিথি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার, ঐতিহ্য রক্ষা এবং আধ্যাত্মিক চেতনার আলোকবর্তিকা, যুগাবতার শিবকল্পতরু পরমপুরুষ শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের ১২৪তম শুভ আবির্ভাব দিবস আজ। ১৩১১ বঙ্গাব্দের ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে মে, রোজ মঙ্গলবার এক মাহেন্দ্রক্ষণে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানার বাণীগ্রামের এক পুণ্যভূমিতে এই মহাজীবনের সূচনা হয়েছিল। পরমভাগবত শ্রী প্রতাপচন্দ্র ও শ্রীমতী শচীদেবীর জ্যেষ্ঠপুত্র হিসেবে জন্মগ্রহণ করা এই দেবশিশুর আগমনবার্তা তাঁর জন্মের পূর্বেই ধরাধামে ঘোষিত হয়েছিল। প্রতাপচন্দ্রের দীক্ষাগুরু, প্রভুপাদ শ্রীমৎ নিত্যানন্দের ত্রয়োদশ বংশধর শ্রীপাদ অমৃতলাল গোস্বামী মহাশয় এই অলৌকিক আগমন সংবাদ প্রদান করে শিশুর নাম ‘অদ্বৈত’ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বংশগতভাবে এই ভূমি ছিল সাধকদের চারণক্ষেত্র। মোগল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজার রাজত্বকালে নদীয়ার কৃষ্ণনগরের বিখ্যাত চৌধুরী বংশ কালক্রমে বাণীগ্রামে এসে বসতি স্থাপন করে, যেখানে পুরুষানুক্রমে নন্দরাম ও রামদুলালের মতো সিদ্ধ সাধকদের আবির্ভাব ঘটেছিল। সেই পুণ্য পরম্পরাকে ধারণ করেই পৃথিবীতে পদার্পণ করেন অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজ, যাঁর জীবনের মূল লক্ষ্যই ছিল সনাতনীদের আত্মিক জাগরণ এবং মানবকল্যাণ সাধন।​শৈশব থেকেই এই মহাপুরুষের অন্তরে গভীর অধ্যাত্মভাবের স্ফুরণ লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যার্থী হিসেবেও তিনি মেধার অনন্য স্বাক্ষর রাখেন। মাত্র সাত বছর বয়সে অদ্বৈতের ভেতরের নিগূঢ় আকর্ষণে সাড়া দিয়ে বাণীগ্রামে আসেন শিবতম মহাযোগী শ্রীমৎ স্বামী জগদানন্দ পুরী পরমহংস। তিনি অদ্বৈতের ব্রহ্মজিজ্ঞাসা ও দিব্য দর্শনের গূঢ় রহস্য ভেদ করে তাঁকে পবিত্র যোগদীক্ষায় দীক্ষিত করেন। গুরুর সান্নিধ্যে থেকে সাধনার এক একটি দুর্গম শিখর অতিক্রম করেন তিনি। আধ্যাত্মিক মার্গ দর্শনের পাশাপাশি জাগতিক শিক্ষাতেও তিনি ছিলেন অনন্য। ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে বাণীগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গণিত ও সংস্কৃত শাস্ত্রে লেটার মার্কসহ প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। পরবর্তীতে সংস্কৃত শাস্ত্র ও দর্শনে উচ্চতর উপাধি লাভ করেন। পিতার সহায়ক হিসেবে তিনি বংশগত চিকিৎসাবিদ্যা অর্থাৎ আয়ুর্বেদেও গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন এবং লোকালয়ে ‘আর্য চতুষ্পাঠী’ নামে একটি সংস্কৃত টোল প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার আলো ছড়াতে থাকেন। শুধু তাই নয়, গ্রামীণ যুবসমাজকে সংস্কৃতির ধারায় যুক্ত করতে কিশোরদের নিয়ে ‘ভক্তির ডোর’ ও ‘বৃত্রসংহার’ নামক দুটি কালজয়ী নাটকও পরিচালনা করেন তিনি।​সংসার ত্যাগের তীব্র অভিলাষ থাকলেও গুরু ও পিতার আদেশে তিনি প্রথম জীবনে সংসারে থেকে লোকসেবা করেন। গুরু মহারাজ স্বামী জগদানন্দ পুরী তাঁকে ‘বিদ্বৎ সন্ন্যাস’ প্রদান করে বলেন যে, বাহ্যিক সংসার ত্যাগের চেয়ে অন্তরের অভিমান ও ফলত্যাগই প্রকৃত সন্ন্যাস। বাণীগ্রামের পূর্বদিকের নিবিড় অরণ্য, পরমহংস শিবনারায়ণ গিরির আখড়া, বিল্বকানন বৈষ্ণব আশ্রম এবং পাতামাটিয়ার পাহাড়ের নির্জন বনভূমি ছিল তাঁর প্রধান সাধনক্ষেত্র। তিনি পারিবারিক শ্রীশ্রী রাজরাজেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে তারকব্রহ্ম নামযজ্ঞের প্রবর্তন করেন এবং শারদীয় উৎসবে তন্ত্রধারকের আসন অলঙ্কৃত করেন। পিতার দেহাবসানের পর অনুজ অচ্যুতানন্দের হাতে সংসারের দায়িত্ব অর্পণ করে তিনি দেশ-বিদেশের তীর্থ পর্যটনে বের হন। গুরুদেবের সাথে আসামের কামাখ্যা ধাম দর্শনসহ হিমালয়ের মহাতীর্থ কেদারনাথ, বদ্রিনাথ, অমরনাথ, হরিদ্বার ও হৃষিকেশ পরিভ্রমণ করেন। ১৯৫১ ও ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কন্যাকুমারী, রাম সেতুবন্ধ, পন্ডিচেরীর শ্রীঅরবিন্দ আশ্রম, শ্রীক্ষেত্র পুরীধাম, শৃঙ্গেরী মঠ, গঙ্গাসাগর, গয়া, কাশী, মথুরা, বৃন্দাবন, প্রয়াগ, লক্ষ্ণৌ, অযোধ্যা ও চিত্রকুটধাম সহ ভারতের প্রায় সকল প্রধান তীর্থক্ষেত্র দর্শন করেন।​তীর্থদর্শন শেষে বিদেহী গুরুর স্বর্গীয় নির্দেশে তিনি জঙ্গল কোকদণ্ডীর এক পরিত্যক্ত পাহাড়ি ভূমিতে সনাতন সংস্কৃতির এক ঐতিহাসিক স্তম্ভ ‘ঋষিধাম’ প্রতিষ্ঠার কাজে মনোনিবেশ করেন। তাঁরই প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠে প্রকৃতির নিসর্গে এক সুরম্য তপোবন। ১৯৫৪ সালে তিনি সাধু-সন্ত ও ভক্তদের জন্য প্রবর্তন করেন ঐতিহাসিক ‘ঋষিকুম্ভ’। আজ বাঁশখালীর গুণাগরীস্থ ঋষিধামে প্রতি তিন বছর পর পর আয়োজিত এই ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলায় দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ সনাতনী পুণ্যার্থী সমবেত হন, যা বাংলার বুকে সনাতন ধর্মীয় মহাসম্মেলনের এক অনন্য ক্ষেত্র। আধ্যাত্মিক সাধনার পাশাপাশি তিনি ছিলেন এক প্রাজ্ঞ পণ্ডিত ও লেখক। সনাতন ধর্মের শাস্ত্রীয় সত্যকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করতে তিনি রচনা করেন ‘গীতায় গুরুশিষ্য’, ‘শ্রীশ্রী দশমহাবিদ্যা’, ‘শালগ্রাম তত্ত্ব’, ‘शिवলিঙ্গ রহস্য’, ‘গীতা মাধুকরী’, ‘ধর্ম প্রবেশিকা’ এবং ‘উপাসনা পদ্ধতি’-র মতো অমূল্য সব গ্রন্থ। ১৯৬১ সালের ১৮ মে তিনি চট্টগ্রাম শহরের ঐতিহ্যবাহী নন্দনকাননস্থ শ্রীশ্রী তুলসীধামের মোহন্ত পদে অভিষিক্ত হন। চট্টগ্রামসহ সমগ্র বাংলাদেশে আজ তাঁর লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও শিষ্য রয়েছে, যারা তাঁর প্রদর্শিত সত্য, অহিংসা ও সনাতন ধর্মের মর্যাদার পথে নিজেদের পরিচালিত করছেন। ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই এপ্রিল, শনিবার শ্রীশ্রী মদনমোহনজীর সন্ধ্যারতি চলাকালীন এই জগদ্বরেণ্য মহাপুরুষ মহাসমাধিতে মগ্ন হন। আজ এই পরম পবিত্র শুভ তিথিতে যুগাবতার স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের শ্রীচরণে কোটি কোটি প্রণাম ও শ্রদ্ধাঞ্জলি।

হিমালয় থেকে সাগর সঙ্গম: মহাশূন্যে বিলীন হওয়া মহাসাধক স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজের শুভ আবির্ভাব তিথি

সনাতনী শিক্ষা ও ধর্মীয় চর্চায় নতুন উদ্যোগ জগন্নাথ বৈদিক পাঠশালায় সাউন্ড সিস্টেম দিলো Hindus News

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কালুরঘাট শাখার উদ্যোগে জগন্নাথ বৈদিক পাঠশালার জন্য একটি সাউন্ড সিস্টেম প্রদান করেছে Hindus News। সনাতনী শিক্ষা, ধর্মীয় পাঠ, গীতা আলোচনা ও বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রমকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।স্থানীয় সনাতনী সমাজের নেতৃবৃন্দ ও পাঠশালার শিক্ষকরা জানান, এই সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিশু-কিশোরদের মাঝে ধর্মীয় জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া সহজ হবে। বিশেষ করে ধর্মীয় আলোচনা, শ্লোক পাঠ ও নৈতিক শিক্ষার প্রচারে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।Hindus News-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান সময়ে সনাতনী ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ধর্মীয় চেতনা, সংস্কৃতি ও আত্মিক মূল্যবোধকে ধারণ করেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।তারা আরও বলেন, যখন একজন মানুষ নিজের ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা ও মর্ম গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেন, তখন তিনি নিজের ধর্মীয় পরিচয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আরও দৃঢ়ভাবে অনুপ্রাণিত হন। সনাতনী ধর্ম মানবতা, সহনশীলতা, নৈতিকতা ও আত্মিক চেতনার শিক্ষা দেয়—যা ব্যক্তি ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এই উদ্যোগের মাধ্যমে সনাতনী ভাই-বোনদের মাঝে ধর্মীয় জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া, ধর্মের সত্য ও আদর্শ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।অনুষ্ঠান শেষে Hindus News পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের আশীর্বাদ, ভালোবাসা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।

সনাতনী শিক্ষা ও ধর্মীয় চর্চায় নতুন উদ্যোগ জগন্নাথ বৈদিক পাঠশালায় সাউন্ড সিস্টেম দিলো Hindus News