হিন্দুস নিউজ

বাংলাদেশ

দুর্গাপূজায় বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা, হুঁশিয়ারি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

দুর্গাপূজায় বাধা দিলে কঠোর ব্যবস্থা, হুঁশিয়ারি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

‘ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার’—এই মূলনীতিকে পাথেয় করে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব নাগরিকের সমান ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের ধর্মীয় উসকানি, চক্রান্ত কিংবা পূজা-অর্চনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেশের শান্ত পরিবেশ ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড় জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় আসন্ন দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত পৃথক জিআর চালের ডিও বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই বার্তা প্রদান করা হয়। সকল জাতির মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয় যে, বর্তমান বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করার পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার এই ধারাবাহিকতায় পূজা উদযাপনে যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিশেষ স্বেচ্ছাসেবী টিমও মাঠে তৎপর থাকবে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') পঞ্চগড়ের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে আশ্বস্ত করে জানান হয়, পূজা মণ্ডপগুলোর সার্বিক সুরক্ষায় আট হাজার স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন, যারা দিনরাত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে প্রশাসনিক সহায়তার পাশাপাশি নিরাপত্তা ছাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বোদা উপজেলার ৯৬টি এবং দেবীগঞ্জ উপজেলার ১১৭টি পূজামণ্ডপের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে সরকারি সহায়তার জিআর চালের ডিও আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে উপস্থিত থেকে সনাতন সম্প্রদায়ের অধিকার ও সার্বিক নিরাপত্তায় ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে গভীর রাতে ৩ প্রতিমা ভাঙচুর

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ আর প্রাক-প্রস্তুতির আবহ যখন সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের ঘরে ঘরে, ঠিক তখনই কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক জঘন্য ঘটনার শিকার হয়েছে স্থানীয় একটি মন্দির। সর্বজনীন ধর্মীয় উৎসবের ঠিক আগমুহূর্তে সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনে মধ্যরাতে এই প্রতিমা ভাঙচুরের তাণ্ডব চালায় দুষ্কৃতকারীরা।​সংবাদ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার পর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। রাতের গভীর অন্ধকারে অশুভ উদ্দেশ্যে মন্দিরের সীমানায় প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে নির্মিত নির্মাণাধীন ও প্রস্তুতকৃত তিনটি প্রতিমা ব্যাপকভাবে ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার এবং সকল জাতি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই ধিক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে চরম ক্ষোভ, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। সর্বজনীন ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের এমন অপচেষ্টার বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সর্বস্তরের সনাতনী ও মানবাধিকার সচেতন নাগরিকেরা।

খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে গভীর রাতে ৩ প্রতিমা ভাঙচুর

রূপা নিখোঁজের ২৭ দিন: উদ্ধার না করে উল্টো 'অর্থ বাণিজ্য' ও চরিত্র হরণের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

নড়াইলে বোড়ামারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৫ বছর বয়সী সনাতনী স্কুলছাত্রী রূপা দাস নিখোঁজের ২৭ দিন পার হলেও তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, যা সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়ের সুরক্ষা ও মানবাধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর নড়াইল সদরের বোড়ামারা-তুলারামপুর সড়ক থেকে বোড়ামারা গ্রামের পল্লব দাসের নাবালিকা কন্যা রূপা দাস নিখোঁজ হয়। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে যাওয়ার পথে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সহপাঠী মো. রবিউল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে। নিখোঁজের পর পরিবার নড়াইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ তা না নিয়ে জোরপূর্বক অসত্য ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে একটি এজাহার (মামলা নং ১৭, তারিখ: ১৪-০৯-২০২৬) দায়ের করে, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। পরিবারের দাবি, নড়াইল সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রধান আসামিদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন এবং ১৭ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে পরিবারকে বিভ্রান্ত করেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ) এর মধ্যে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রূপার হারিয়ে যাওয়া স্কুলব্যাগ লাইব্রেরিতে রহস্যজনকভাবে উদ্ধার হলেও তাতে অন্য কারও লেখা নাম পাওয়া যায়, যা নিয়ে তদন্তে পুলিশের কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। উল্টো পুলিশের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী নাবালিকার চরিত্র হরণ এবং পরিবারের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এসআরবি-৬, জেলা প্রশাসক এবং সর্বশেষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে লিখিত আবেদন জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত রূপা দাসের কোনো সন্ধান মেলেনি। দেশের একজন করদাতা নাগরিক হিসেবে সনাতনী পরিবারের প্রতি প্রশাসনের এই চরম অবহেলা ও আইনের অপপ্রয়োগ সার্বিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক স্পষ্ট দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রূপা নিখোঁজের ২৭ দিন: উদ্ধার না করে উল্টো 'অর্থ বাণিজ্য' ও চরিত্র হরণের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

২৪ কেজি ওজনের অমূল্য কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার

ঠাকুরগাঁওয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একটি বিশেষ অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ২৪ কেজি ৪৫০ গ্রাম ওজনের একটি মূল্যবান কষ্টি পাথরের মূর্তি। গত বুধবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমান, জি, আর্টিলারির নেতৃত্বে বিজিবির একটি চৌকস দল এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ডাবরী বিওপির সীমান্ত পিলার ৩৬৮/১-এস থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘মনিস কোয়ান’ নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত ও মালিকবিহীন অবস্থায় ঐতিহ্যবাহী এই কষ্টি পাথরের মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া প্রাচীন ও ধর্মীয় গুরুত্ব বহনকারী এই মূর্তিটির আনুমানিক সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ২৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ পাচার প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবেই এই সফলতা অর্জিত হয়েছে। ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন স্পষ্ট জানিয়েছে যে মাদক, অবৈধ সম্পদ ও প্রত্নসম্পদ পাচার রুখতে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে অটল রয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তায় স্থানীয় সনাতনী ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা চেয়েছে।

২৪ কেজি ওজনের অমূল্য কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার

সীতাকুণ্ডে কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত হিন্দু নারীর হাত-পা বাধা মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় টেরিয়াইল স্কুলের পাশের একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক হিন্দু নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে।জানা যায়, ওই নারীর হাত বাঁধা অবস্থায় রয়েছে এবং তাঁর গলায় গামছা প্যাঁচানো। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মরদেহটি দেখতে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজনের ভিড় জমে বলে জানা গেছে।স্থানীয় এলাকাবাসীর কেউ কেউ ধারনা করছেন, ওই নারীকে নির্যাতনের পর হত্যা করে কলাবাগানে হাত বেঁধে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, পরিচয় এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একজন নারীর এমন রহস্যজনক মৃত্যুর খবর সামনে আসায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের দাবি উঠেছে।

 সীতাকুণ্ডে কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত হিন্দু নারীর হাত-পা বাধা মরদেহ উদ্ধার

নদী ভাঙনের কারণে‘স্থায়ী ঠিকানা’ নেই, তাই নিয়োগপত্র পেলেন না ক্লীন্টন সাহা

 নদী ভাঙনের পর অল্প যেটুকু পারিবারিক জমি ছিল, সেটা বিক্রি করে ২১ বছর আগে চট্টগ্রাম নগরীর ভাড়া বাসায় ঠাঁই নেয় পরিবারটি। পরিবারের একমাত্র ছেলেটির দিকেই তাকিয়ে বৃদ্ধ মা-বাবা ও ছোট বোন।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ডবলমুরিং থানার মেধাক্রমে দ্বিতীয় হয়েছিলেন তিনি। পেয়েছিলেন নিয়োগের জন্য সুপারিশও।কিন্তু চূড়ান্ত যাচাইয়ের সময় স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতার কারণে নিয়োগ হয়নি।২১ বছর ধরে নগরীর ডবলমুরিং থানার মোগলটুলি এলাকার প্রফেসর গলিতে বসবাস করা ক্লীন্টন সাহা বলেন, “ডবলমুরিংয়ে ১২ জন নিয়োগের জন্য মনোনীত হন। এরমধ্যে এ বছর মার্চে ৫ জন এবং দ্বিতীয় দফায় গত মাসে আরো ছয়জন নিয়োগপত্র পান। শুধু আমিই নিয়োগপত্র পাইনি।“আবেদনে এখন যে বাসায় আছি, আবেদনে সেটির ঠিকানা স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করেছিলাম। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছিলেন, এটা যেহেতু আমার নিজের বাড়ি না, তাই নেগেটিভ রিপোর্ট হবে। উনারা পরামর্শ দিয়েছিলেন, বিকল্প একটা স্থায়ী ঠিকানা দিতে। পরে আমি সন্দ্বীপের মামা বাড়ির ঠিকানা দিই। কিন্তু তারপরও আমি নিয়োগ পাইনি।”পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন জানিয়ে ক্লীন্টন সাহা বলেন, “উনারা বলেছেন, এটা শিক্ষা থানাভিত্তিক চাকরি। এখানে স্থায়ী ঠিকানা না হলে নিয়োগ হবে না।”ক্লীন্টন সাহা জানান, তার দাদুর বাড়ি নোয়াখালী জেলার হাতিয়ায়। কয়েকবার নদীভাঙনের কারণে তাদের বাড়ি ও দোকান বিলীন হয়ে গেছে। পরে পারিবারিক বসত ভিটার বাকি জমিও বিক্রি হয়ে যায়। এরপর ২১ বছর আগে তার বাবা নারায়ন সাহা স্ত্রী, তিন মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসেন।সেই থেকে পরিবারটি সেখানেই ভাড়া বাসায় থাকছে।ক্লীন্টন সাহা বলেন, “যেহেতু আদি বাড়িতে ভিটা ও ঘর নেই, তাই এখন পর্যন্ত যত চাকরির আবেদন করেছি, সেগুলোতে এই বাসার ঠিকানাই দিয়েছি।“আমি মেধার ভিত্তিতে চাকরির জন্য চূড়ান্তভাবে মনোননীত হয়েছি। শুধু স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগপত্র পাইনি। আমার চাকরিটা পরিবারের জন্য খুব প্রয়োজন।”তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ক্লীন্টন সাহা। বড় দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। ছোট বোনও লেখাপড়া শেষ করেছেন। বৃদ্ধ মা-বাবা ও এক বোন নিয়ে এখন ক্লীন্টনের সংসার চলছে ভাই-বোনের টিউশনের আয়ে।তিনি বলেন, “বাবার অনেক বয়স হয়েছে। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চাকরি পেলে আমার সংসারটা চলবে। বোনটার বিয়ে দিতে পারব।”ক্লীন্টন সাহা ২০১৪ সালে নগরীর পাঠানটুলী সিটি করপোরেশন বালক উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং দেওয়ানহাট সিটি করপোরেশন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নিয়োগের জন্য মনোনীত ৫৫১ জনের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় ২৪ জনকে বাদ দেওয়া হয়। বাকি ৫২৭ জনের মধ্যে ৫২৫ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ  বলেন, “সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য আমাদের এখানে মোট ৫২৭ জন জন মনোনীত হয়। তারমধ্যে ৫২৫ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।“ক্লীন্টন সাহা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে নিয়োগের সুপারিশপত্র পেয়েছিল। উনিসহ দুজন কেন নিয়োগপত্র পাননি সেটা প্রতিবেদন আকারে আমরা অধিদপ্তরকে জানিয়েছি। এর বাইরে কিছু বলা যাচ্ছে না।”এ বিষয়ে জানতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক পদে নিয়োগ ও পদায়ন বিষয়ক জেলা পদায়ন কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা  বলেন, “উনি (ক্লীন্টন সাহা) আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। আপনাদের কাছ থেকে আজ শুনলাম। যোগাযোগ করলে উনার বার্তাটি মন্ত্রণালয়ে জানাতে পারব।”ক্লীন্টন সাহা বলেন, “একটি লিখিত আবেদন নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়েছিলাম পরশু। উনারা বলেছেন, ঢাকায় যোগাযোগ করতে। সেখানে কার কাছে যাব আমি জানি না। মেধার ভিত্তিতে পাওয়া চাকরিটা আমার পরিবারের জন্য খুব প্রয়োজন।“সরকারি অন্যান্য পদেও চাকরির আবেদন করেছি। কিন্তু এখন আর পরীক্ষা দিয়ে কী হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তো স্থায়ী ঠিকানার এই জটিলতায় চাকরি পাব না।”

নদী ভাঙনের কারণে‘স্থায়ী ঠিকানা’ নেই, তাই নিয়োগপত্র পেলেন না ক্লীন্টন সাহা

অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তী চাকরি থেকে বরখাস্ত

অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বরখাস্তের এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহীতে কর্মরত থাকার সময় গত বছরের ১৩ নভেম্বর প্রস্থান প্রতিবেদন দাখিল না করেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন টুটুল চক্রবর্তী। অথচ ওই বছরের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতিসহ ছুটি এবং ১৬, ১৭ ও ১৮ নভেম্বর নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছিল।অভিযোগে বলা হয়, ১৩ নভেম্বর তিনি নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার কিছু আগে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস-১৬২ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। এর আগেও একইভাবে পরিচয় দিয়ে একাধিকবার ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসেন তিনি। তাঁর এমন কর্মকাণ্ডে জনসমক্ষে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।পুলিশ অধিদপ্তরের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগনামাসহ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় তাঁকে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি নোটিশের জবাব দেননি। সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি। পরে ২ এপ্রিল তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।গত ৭ মে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি গত ২৩ জানুয়ারি থেকে পলাতক রয়েছেন। এরপর গত ১৬ জুন তাঁকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।এ অবস্থায় তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে গত ২৩ জুলাই সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে এ বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর কমিশন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিষয়ে সম্মতি দেয়। এরপর গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এ গুরুদণ্ড অনুমোদন করেন।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, টুটুল চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাঁকে ‘চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ’ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তী চাকরি থেকে বরখাস্ত

নিজের ঘরেও পূজায় বাধা, হতাশা প্রকাশ করে নিরিহ হিন্দু ব্যক্তির পোস্ট

নিজের বাসায় নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী নীরবে পূজা করার ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছেন শরদ চৌধুরী। ফ্ল্যাট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বাসায় পূজা করা যাবে না—এমন কথা বলা হয়েছে বলে নিজের এক পোস্টে দাবি করেন তিনি।শরদ চৌধুরী তার পোস্টে লেখেন, নিজের ঘরে নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী নীরবে পূজা করতেও যদি বাধার মুখে পড়তে হয়, তাহলে সেই ঘরটিও সত্যিই নিজের কি না—এমন প্রশ্ন তৈরি হয়। তিনি জানান, এর আগে যে ভবনে ছিলেন সেখানে প্রায় ১৪ বছর ধরে পূজা করেছেন। ওই সময় ভবনে আলো লাগাতে দেওয়া না হলেও বিষয়টি মেনে নিয়েছিলেন। তবে বাড়িওয়ালা কখনো ঘরের ভেতরে পূজা করা নিয়ে আপত্তি করেননি।শরদ চৌধুরীর দাবি, বর্তমানে যে ফ্ল্যাটে থাকছেন সেখানে ফ্ল্যাট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাসায় পূজা করা যাবে না। এ ঘটনায় নিজের হতাশা ও কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, তাদের পূজা কোনো সর্বজনীন আয়োজন নয়। সেখানে মাইক বাজানো হয় না, মানুষের ভিড় হয় না কিংবা অন্য বাসিন্দাদের চলাচলেও কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হয় না। নিজেদের ঘরের মধ্যে নীরবে নিজেদের মতো করেই তারা পূজা করেন।এমন পরিস্থিতিতে আপত্তির কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শরদ চৌধুরী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যদি ঘরের মধ্যে নীরবে পূজা করাতেও কারও অসুবিধা হয়, তাহলে সেই আপত্তি তাদের কোনো কাজের কারণে, নাকি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে—তা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়।নিজের পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, পূজা তাদের কাছে কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। এর সঙ্গে শৈশবের স্মৃতি, পরিবারের ভালোবাসা এবং বছরের বিশেষ কিছু দিনের আনন্দ জড়িয়ে রয়েছে। সেই আনন্দটুকুও যখন নিজের ঘরের মধ্যে লুকিয়ে করতে হয়, তখন তার কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।শরদ চৌধুরী বলেন, তারা কারও কাছ থেকে বিশেষ কোনো সুবিধা চাননি। শুধু নিজের ঘরে শান্তিপূর্ণভাবে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস পালন করার সুযোগ চেয়েছেন। নিজের ঘরের মধ্যেও সেই সামান্য জায়গাটুকু তাদের জন্য রাখা যায় কি না—এমন প্রশ্নও তুলে ধরেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহমর্মিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তার প্রশ্ন, মানুষের মনে এমন সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কীভাবে তৈরি হয় যে পাশের ঘরের নীরব প্রার্থনাও সহ্য করা যায় না। একই ছাদের নিচে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতা নিয়ে বসবাসের আহ্বান জানান তিনি।পোস্টের শেষদিকে শরদ চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, নিজের ঘরেও যদি নিজের বিশ্বাস নিয়ে ভয় পেতে হয়, তাহলে একজন মানুষ নিশ্চিন্ত হয়ে কোথায় দাঁড়াবেন। তার এই বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং ব্যক্তিগত পরিসরে ধর্ম পালনের অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নিজের ঘরেও পূজায় বাধা, হতাশা প্রকাশ করে নিরিহ হিন্দু ব্যক্তির পোস্ট

একই মন্ডপে ১৬০ প্রতিমায় রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনি

মণ্ডপে ঢুকলেই যেন খুলে যায় পৌরাণিক কাহিনির একেকটি পাতা। কোথাও পৌরাণিক যুদ্ধ, কোথাও বীরত্বের কাহিনি, আবার কোথাও তুলে ধরা হয়েছে দেব-দেবীর নানা গল্প। মণ্ডপজুড়ে এমন অসংখ্য কাহিনির সঙ্গে সারিবদ্ধভাবে সাজানো হয়েছে ১৬০টি প্রতিমা। ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি শিল্প ও পৌরাণিক গল্পের এই ব্যতিক্রমী মেলবন্ধন ঘটেছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার কবুতরখালী গ্রামের রাজমন্দিরে।ব্যতিক্রমী এই আয়োজন ঘিরে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার কবুতরখালী গ্রামের রাজমন্দিরে চলছে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আয়োজকদের দাবি, বরিশাল বিভাগের অন্যতম বড় দুর্গাপূজার আয়োজন হতে যাচ্ছে এবার রাজমন্দিরে। বিশাল প্রাঙ্গণজুড়ে তৈরি হচ্ছে প্যান্ডেল। সেখানে সারিবদ্ধভাবে সাজানো হচ্ছে ১৬০টি প্রতিমা। এবারের মূল আকর্ষণ টেরাকোটা শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে রামায়ণ এবং মহাভারতের অসংখ্য কাহিনি।টেরাকোটা মূলত পোড়ামাটির শিল্পকর্ম। বাংলার প্রাচীন মন্দির ও স্থাপত্যে পোড়ামাটির ফলক ও নকশার মাধ্যমে পৌরাণিক কাহিনি, লোকজ জীবন ও ঐতিহাসিক নানা ঘটনা তুলে ধরার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। সেই শিল্পরীতির ভাবনাকেই এবারের দুর্গোৎসবের মূল থিম হিসেবে নিয়েছেন আয়োজকরা।মঠবাড়িয়া উপজেলার গুলিসাখালী ইউনিয়নের কবুতরখালী গ্রামের হালদার বাড়িতে এই আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে প্রায় ছয় মাস ধরে। প্রতিমা নির্মাণের কাজে যুক্ত ছিলেন প্রায় ২০ জন কারিগর ও শ্রমিক। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি চলছে প্যান্ডেল, আলপনা, আলোকসজ্জা ও মণ্ডপের অন্যান্য সাজসজ্জার কাজ।২০১০ সালে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই আয়োজন ২০১৬ সালে ৪৪টি প্রতিমা দিয়ে আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। ২০১৮ সালে প্রতিমার সংখ্যা বেড়ে ৪৫০-এ পৌঁছায়। এরপর প্রতিমার সংখ্যা কমিয়ে আনা হলেও প্রতিবছরই আয়োজনের সঙ্গে নতুন কোনো না কোনো বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। ১৬ বছর যাবৎ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই আয়োজন করে যাচ্ছে ডা. সুদীপ কুমার হালদার ও তার স্ত্রী ডা. স্নিগ্ধা চক্রবর্তী নিজস্ব উদ্যোগে। ডা. সুদীপ কুমার হালদারের বাবার ইচ্ছে ছিল তার ছেলে এবং ছেলের স্ত্রী ডাক্তার হলে পূজার আয়োজন করবেন। বাবার ইচ্ছা থেকেই এই মহা আয়োজন।রাজমন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা অর্থোপেডিকস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সুদীপ কুমার হালদার বলেন, বাবার ইচ্ছা থেকেই এই পূজার আয়োজন শুরু হয়। বাবা চেয়েছিলেন, ছেলের বউ চিকিৎসক হলে বাড়িতে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হবে। সেই ইচ্ছাকে কেন্দ্র করেই পূজার সূচনা। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই পূজা চলে আসছে। শুরুতে পারিবারিক পরিসরে আয়োজন করা হলেও মানুষের ভালোবাসা ও আগ্রহে ধীরে ধীরে এর পরিসর বাড়তে থাকে।ডা. সুদীপ কুমার হালদার বলেন, এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ টেরাকোটার কাজ। রামায়ণ ও মহাভারতের বিভিন্ন কাহিনি ও চরিত্রকে এই শিল্পরীতির মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। আমরা প্রতিবছরই নতুনত্ব আনার চেষ্টা করি। পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক নানা কার্যক্রমও থাকবে। আমরা দর্শনার্থীদের জন্য রেখেছি বুক কর্নার ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার।পাশাপাশি রয়েছে ‘মানবতার দেওয়াল’, চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা, স্যানিটারি প্যাড বিতরণ এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার উদ্যোগ। মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশে দেশের গুণীজনদের ছবি এবং বিভিন্ন উপদেশমূলক বাণীও প্রদর্শন করা হচ্ছে।আয়োজকদের মতে, পূজাকে শুধু ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পূজার পাঁচ দিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়া বিদেশ থেকে দর্শনার্থীরা এই আয়োজন দেখতে আসেন বলে জানান আয়োজকরা। প্রতিবছর তিন থেকে চার লাখ মানুষ এই পূজায় আসে। এ বছরও চার থেকে পাঁচ লাখ মানুষ আগমনের প্রত্যাশা তাদের।রাজমন্দির কর্তৃপক্ষ ও সৈয়দ ফজলুল হক কলেজের সহকারী অধ্যাপক পলাশ চন্দ্র গাইন বলেন, আমাদের এ বছর ব্যতিক্রম ধর্মীয় আয়োজন হতে যাচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে একটি মহা মিলনের স্থান হচ্ছে এই রাজমন্দির। এখানে লাখো লাখো ভক্তের উপস্থিতি হয় এবং মহা প্রসাদের ব্যবস্থা থাকে। গত বছরে নয়া দিল্লি, কোলকাতা, জাপান, চায়না, অ্যামেরিকা ও ইংল্যান্ড থেকে পর্যটকরা এখানে এসে এ মন্দির সম্পর্কে নোট বুকে মন্তব্য করে গেছেন। এজন্য আমরা ধন্য। আয়োজক আমার দাদা এবং বৌদির প্রতি কৃতার্থ।পূজা শুরুর প্রায় ছয় মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছে মণ্ডপের প্রস্তুতির কাজ। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ২০ জন কারিগর ও শ্রমিক প্রতিমা তৈরি, মণ্ডপসজ্জা, আলপনা ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এখন চলছে প্রস্তুতির শেষ মুহূর্ত। প্রতিমা ও মণ্ডপসজ্জার কাজ প্রায় শেষ করে উৎসবের অপেক্ষায় রয়েছেন আয়োজক ও কারিগররা।প্রতিমা নির্মাণশিল্পী উজ্জ্বল বিশ্বাস গুরু জানান, কয়েক মাস ধরে কাজ করে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ করেছেন তারা। তার জানা মতে, এত বড় পরিসরে প্রতিমা ও পৌরাণিক কাহিনি উপস্থাপনের আয়োজন খুব কম জায়গাতেই হয়। তিনি বলেন, মন্দিরে দুই বছর ধরে কাজ করি। চার থেকে পাঁচ মাসের পরিশ্রমে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করেছি। এত বড় আয়োজন তার জানা মতে আর কোথাও হচ্ছে না। বড় এই আয়োজনের সঙ্গে থাকতে পেরে তিনি আনন্দিত।পূজা শুরুর আগেই রাজমন্দিরের আয়োজন দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। শুধু পিরোজপুর নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও মানুষ ছুটে আসছেন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দেখতে। মণ্ডপজুড়ে প্রতিমা, টেরাকোটা শিল্পকর্ম ও সাজসজ্জার কাজ দেখতে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের আগ্রহ।পাশের জেলা ঘুরতে আসা বরগুনা থেকে আসা তন্ময় মিত্র বলেন, পরিবার নিয়ে প্রতিবারই আসা হয়। এখন আসলাম আয়োজনটা ঘুরে দেখতে। এবারে এসে দেখলাম নতুন থিম। প্রতিবারের নতুনত্ব থাকে এখানে আয়োজনে। এবার টেরাকোটা শিল্পের মাধ্যমে মহাভারতের বিভিন্ন ঘটনা সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এবারও পূজা শুরু হলে পরিবারকে নিয়ে আসব।এদিকে পিরোজপুরের সাত উপজেলায় এবার ৪৬২টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। পূজাকে ঘিরে জেলার প্রতিটি মণ্ডপে পৃথক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তালেবুর রহমান।আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। এর আগেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রাজমন্দিরের কারিগর ও আয়োজকরা। ১৬০টি প্রতিমায় রামায়ণ-মহাভারতের পৌরাণিক কাহিনি, টেরাকোটা শিল্পরীতির নান্দনিক উপস্থাপন এবং নানা সামাজিক উদ্যোগ—সব মিলিয়ে মঠবাড়িয়ার রাজমন্দিরে এবারও তৈরি হচ্ছে ব্যতিক্রমী এক দুর্গোৎসবের আয়োজন।

একই মন্ডপে ১৬০ প্রতিমায় রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনি

গণপতি চক্রবর্তী হত্যা মামলায় দুই আসামির ডিএনএ মিলল

রংপুর মহানগরীর মাছুয়া পাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা কামড় দেওয়া খেজুর, শসা, সিগারেট ও খেজুরের বিচির নমুনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএর সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী।রংপুর মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়া পাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে গত ২২ আগস্ট রাতে তাঁর পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুই দিন যোগাযোগ না হওয়া এবং বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর স্বজনেরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে পুলিশ গিয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিপুলসংখ্যক আলামত সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ছিল সিগারেটের অংশ, খেজুর, শসা, ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, বেসিনের দাগসহ অন্তত ৩৫ ধরনের আলামত। এসব আলামতের একটি অংশ ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।তদন্তে উঠে আসে, হত্যাকাণ্ডের পরও মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস কিছু সময় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। তারা সেখানে গোসল করেন এবং ঘরের ফ্রিজ থেকে খেজুর ও শসা বের করে খান। পরে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও তদন্তে সামনে আসে।ঘটনাস্থলে পাওয়া কামড় দেওয়া শসা, খেজুর ও খেজুরের বিচি শুরু থেকেই তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আলামত ছিল। পাশাপাশি সেখানে পাওয়া সিগারেটের অংশসহ বিভিন্ন জৈব ও বস্তুগত নমুনাও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরে গ্রেপ্তার দুই আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে এসব আলামতের সঙ্গে তুলনা করা হয়।সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ঢাকায় নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা হবে। পরীক্ষার ফলাফলে এখন ঘটনাস্থলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আলামতের সঙ্গে তাদের ডিএনএর মিল পাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পরে তদন্তকারীরা আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য ফরেনসিক তথ্য মিলিয়ে দেখার কাজ শুরু করেন।তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের আগে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের অবস্থান এবং সেখানে ইয়াবা সেবন নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। পরে হত্যার পর বাড়ির ভেতরে তাদের অবস্থান, বিভিন্ন কক্ষ তছনছ এবং স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে যাওয়ার তথ্যও তদন্তে যুক্ত হয়।নতুন এই ডিএনএ মিল তদন্তকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ঘটনাস্থলে পাওয়া ও ব্যবহৃত খাদ্যদ্রব্য এবং ধূমপানের আলামতে দুই আসামির ডিএনএ পাওয়া যাওয়ায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সূত্র পাওয়া গেছে।তবে তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু ডিএনএ পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না। আদালতে অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে ডিএনএ ফলাফলের পাশাপাশি আসামিদের জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের অন্যান্য আলামত, লুট হওয়া সম্পদ উদ্ধারের তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য প্রমাণও বিবেচনা করা হবে।চারজনকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় শুরু থেকেই রংপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবিও ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। নতুন ফরেনসিক তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এখন আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গণপতি চক্রবর্তী হত্যা মামলায় দুই আসামির ডিএনএ মিলল

পাহাড়ে প্রতিটি দুর্গা মণ্ডপে পাহারায় থাকবে বিএনপি: সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ঘোষণা পার্বত্য মন্ত্রী জেরী'র

​সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সার্বজনীন আনন্দ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপনের লক্ষ্যে বান্দরবানের সকল পূজামণ্ডপে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু জেরী জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকেরা যেন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। বান্দরবান জেলার সাতটি উপজেলা এবং দুটি পৌরসভার বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সনাতনীদের নিরাপত্তা রক্ষা ও উৎসবের সার্বিক সহযোগিতায় যেকোনো প্রয়োজনে বিএনপি নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক পাশে থাকবে বলে জানান তিনি। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবাধিকার রক্ষায় বান্দরবানের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ ধরনের প্রস্তুতি স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে। সাচিং প্রু জেরীর এই আহ্বানের ফলে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে পাহাড়ি-বাঙালি ও সকল জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রীতির এক চমৎকার পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে, যা পার্বত্য অঞ্চলের আবহমান সামাজিক সৌহার্দ্য ও সকল মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পাহাড়ে প্রতিটি দুর্গা মণ্ডপে পাহারায় থাকবে বিএনপি: সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ঘোষণা পার্বত্য মন্ত্রী জেরী'র

পটিয়ায় হিন্দু বাড়ীতে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে তিন গরু চুরি, নিঃস্ব পরিবার

চট্টগ্রামের পটিয়ায় তিনটি গরু চুরির ঘটনায় একটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া তিনটি গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় চার লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন মালিক বিটু দে।স্থানীয় সূত্র জানায়, ধলঘাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলমপুর যোগেশ ডাক্তার বাড়ির বাসিন্দা বিটু দে বুধবার রাতে বসতঘরের পাশে গোয়ালঘরে তিনটি গরু রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘরের কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, গোয়ালঘরের তালা ভাঙা এবং ভেতরে কোনো গরু নেই।বিটু দে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার জন্য একটা গরুও রাখল না। তিনটা গরুই চুরি করে নিয়ে গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। গরু লালন-পালন করে সংসার চালাই। আমার গরুগুলো ফেরত চাই।’তিনি বলেন, ‘চোরেরা আমার তিনটি গরু নিয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি কালো রঙের বাছুর, একটি লাল রঙের পাঁচ মাস বয়সী গাভী এবং একটি কালো রঙের দুধেল গাভী রয়েছে। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় চার লাখ টাকা।’স্থানীয় বাসিন্দা রিনা দে বলেন, ‘চার দিন আগেও পাশের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এখন গরু চুরি হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা কীভাবে নিরাপদে থাকব, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।’আরেক স্থানীয় বাসিন্দা অরুণ দে বলেন, ‘গরু চুরির ঘটনায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। অসহায় বিটু দের চুরি যাওয়া গরুগুলো দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।’এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ‘এখনো এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে গরু চুরির খবর পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পটিয়ায় হিন্দু বাড়ীতে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে তিন গরু চুরি, নিঃস্ব পরিবার

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয় : ডিসি ফরিদা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম.তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা, উসকানি, মাদক, ইভটিজিং, নারী ও শিশু হয়রানি কিংবা দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে গুজব ছড়ানোর আগেই তা শনাক্ত ও প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় সাভার উপজেলা পরিষদ হলরুমে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষ্যে সাভার উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (বাবু)। ডিসি ফরিদা খানম বলেন, পূজামণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণের সময় থেকে শুরু করে পূজা উদযাপন ও প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি, পুলিশ-আনসার-সিআরবি/এসআরবি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত দায়িত্ব পালন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে আইপি ক্যামেরা স্থাপন, ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী রিচার্জেবল আইপি ক্যামেরা স্থাপন করে সেগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সংযুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র ও বাহুবন্ধনী নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক নারী স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশ দেন তিনি।পূজামণ্ডপে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, উসকানি, মাদক, ইভটিজিং, নারী ও শিশু হয়রানি কিংবা দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতার বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদের যোগাযোগ নম্বর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সংরক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ সক্রিয় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।ফায়ার সেফটির বিষয়ে ডিসি বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে কমপক্ষে ৫ কেজি ধারণক্ষমতার অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, চার্জার লাইট ও প্রয়োজন অনুযায়ী জেনারেটর রাখতে হবে। বৈদ্যুতিক সংযোগে কোনো ধরনের ত্রুটি রাখা যাবে না। পূজা শুরুর আগেই ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের মাধ্যমে মণ্ডপগুলোর বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের নির্দেশ দেন তিনি।প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বিসর্জনস্থলে ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখতে হবে। আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন চলাচল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসর্জন কার্যক্রম শেষ করতে হবে।গুজব প্রতিরোধের বিষয়ে ডিসি ফরিদা বলেন, কোনো তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা যাবে না। কোনো গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে গুজবের উৎস শনাক্ত করে তা ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রতিরোধ করতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে কেউ অপতৎপরতা চালালে দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি।তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চেতনাকে ধারণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। আজান ও নামাজের সময় পূজামণ্ডপে মাইক বা বাদ্যযন্ত্রের শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।ডেঙ্গু ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও সতর্ক করে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপ ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পূজা শেষে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপ ঘিরে কোনো ধরনের মেলা, মাদক, জুয়া, হাউজি কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না।ডিসি জানান, পূজার নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুধু পূজার দিন থেকে নয়, মহালয়া থেকেই শুরু করতে হবে। আগামী ১০ অক্টোবর সকাল ৫টা থেকে মহালয়া উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিমা বিসর্জনের পর পূজামণ্ডপ, মন্দির বা আশপাশের কোনো স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন না করার বিষয়েও তিনি নির্দেশনা দেন।সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বা অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকে প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ঘটনা ঘটার পর নয়, সম্ভাব্য কোনো সমস্যা বা ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিলেই প্রশাসনকে জানাতে হবে।ডিসি ফরিদা খানম বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা নয়; এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক দায়িত্বশীলতারও পরীক্ষা। ঢাকা জেলা প্রশাসন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, নির্বিঘ্ন চলাচল এবং শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে।তিনি সাভারের সব পূজামণ্ডপে সমন্বিত প্রস্তুতি, সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সম্প্রীতিময় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।সভায় জানানো হয়, এবার সাভার উপজেলায় মোট ২৩৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সাভার পৌরসভা এলাকায় ৪৫টি, শিমুলিয়া ইউনিয়নে ৪০টি, ধামসোনা ইউনিয়নে ১৩টি, আশুলিয়া ইউনিয়নে ১১টি, ইয়ারপুর ইউনিয়নে ১০টি, পাথালিয়া ইউনিয়নে ৩০টি, বিরুলিয়া ইউনিয়নে ১৪টি, সাভার ইউনিয়নে ৩টি, বনগাঁও ইউনিয়নে ১২টি, তেতুলঝোড়া ইউনিয়নে ২৬টি, কাউন্দিয়া ইউনিয়নে ১২টি এবং ভাকুর্তা ইউনিয়নে ২২টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। আমিনবাজার ইউনিয়নে এবার কোনো পূজামণ্ডপ নেই

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নয় : ডিসি ফরিদা

বীরগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে প্রশান্ত রায় নামে এক হিন্দু কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহ পর প্রশান্ত রায় (১৭) নামে এক কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মোহাম্মদপুর সেনপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত প্রশান্ত রায় উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের রমেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে।স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১টার দিকে সেনপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতে গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটতে যান সাবিত্রী নামে স্থানীয় এক নারী। সেখানে তিনি মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন এবং আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য যতীন্দ্রনাথ বিষয়টি বীরগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।নিহতের বাবা রমেশ চন্দ্র রায় জানান, তার ছেলে গত এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। বুধবার দুপুরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের ধানক্ষেতে ছেলের অর্ধগলিত মরদেহ শনাক্ত করেন তিনি।বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছে।মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিশোরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

বীরগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে প্রশান্ত রায় নামে এক হিন্দু কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রাশেদ খান নিজেই পৌঁছে দিলেন মিশন আচার্যের নিয়োগপত্র

ঝিনাইদহের বহুল আলোচিত ও সংগ্রামী যুবক মিশন আচার্যের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হাতে পৌঁছেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের নিয়োগপত্র। বুধবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগানপাড়ার ভাড়া বাসায় গিয়ে মিশন আচার্য ও তার মা ময়না আচার্যের হাতে এই নিয়োগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আয়োজিত এ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।​প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অসামান্য সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েও শুধু নিজস্ব কোনো ভিটেমাটি বা স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় পুলিশ ভেরিফিকেশনের বেড়াজালে আটকে গিয়েছিল সনাতনী সম্প্রদায়ের এই মেধাবী যুবকের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন। চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে এক ভূমিহীন ও পিতৃহীন যুবকের স্বপ্নভঙ্গের এই হৃদয়বিদারক খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা মানবিক গণমানুষের নজর কাড়ে। পরবর্তীতে বিষয়টি অনুধাবন করে সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হলে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় সকল আইনি জটিলতা কেটে মিশন আচার্যের নিয়োগ সম্পন্ন হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​নিয়োগপত্র হস্তান্তরকালে এক সংক্ষিপ্ত ও আবেগঘন বক্তৃতায় রাশেদ খান পিতৃহীন মিশন ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে ছেলেকে মানুষ করার মা ময়না আচার্যের অসীম সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সমাজে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত প্রতিটি মানুষের মানবিক অধিকার ও মৌলিক স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখাই নাগরিক দায়িত্ব। এমন এক প্রতিকূলতা জয় করা সনাতনী পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে সরকারের পক্ষ থেকে অসহায় এই পরিবারের সার্বিক দায়িত্ব নেওয়া এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস প্রদান করা হয়। দীর্ঘ লড়াই শেষে নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে মিশণের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির ছাপ এবং অশ্রুসজল চোখে তারা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

রাশেদ খান নিজেই পৌঁছে দিলেন মিশন আচার্যের নিয়োগপত্র

রায়গঞ্জে পুকুরের পানিতে জতিন চন্দ্র নামে হিন্দু ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

 সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে একটি পুকুর থেকে জতিন চন্দ্র সর্দার (৬০) নামে এক ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বাঁকাই মধ্যপাড়া মসজিদের পশ্চিম পাশের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত জতিন চন্দ্র সর্দার উপজেলার বিনোদবাড়ি খোলাইবাড়িয়া গ্রামের মৃত বিষ্ণু সর্দারের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি নিয়মিত বাঁকাই সিংপাড়ায় চোলাই মদ পান করতে যেতেন।ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার রাতে মদ পান করে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা ভুল করে পুকুরে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

রায়গঞ্জে পুকুরের পানিতে জতিন চন্দ্র নামে হিন্দু ব্যক্তির লাশ উদ্ধার