হিন্দুস নিউজ

ধর্মতত্ব

দুর্গাপূজায় ১০৮ পদ্মফুল কেন? এর পেছনে রয়েছে যে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

দুর্গাপূজায় ১০৮ পদ্মফুল কেন? এর পেছনে রয়েছে যে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি। শরতের শুভ্র কাশফুল, শিউলির সুবাস, ঢাকের বাদ্য আর আগমনী গানের সুরে প্রকৃতি যখন সেজে ওঠে, তখন ভক্তদের হৃদয়ও ভরে ওঠে আনন্দ ও ভক্তিতে। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে মণ্ডপে মণ্ডপে চলে পূজা, অঞ্জলি, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ও নানা ধর্মীয় আয়োজন। দুর্গাপূজাকে আমরা অনেক সময় শুধু উৎসব হিসেবেই দেখি। অথচ এই পূজার প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠান, উপাচার ও মন্ত্রের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও নানা প্রতীকী অর্থ। তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাচার হলো ১০৮টি পদ্মফুল। দেবী দুর্গার আরাধনায় ১০৮টি পদ্ম নিবেদনের প্রথা বিশেষভাবে পরিচিত। বিশেষ করে সন্ধিপূজার সঙ্গে এই ১০৮ পদ্মের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ পূজায় দেবীকে বিভিন্ন উপাচারের পাশাপাশি পদ্ম নিবেদন করা হয়। সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্যে পদ্মকে অত্যন্ত পবিত্র ফুল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কাদামাটির মধ্যে জন্ম নিয়েও পদ্ম নির্মল ও সুন্দরভাবে প্রস্ফুটিত হয়। তাই পদ্মকে পবিত্রতা, সৌন্দর্য, জ্ঞান ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। মায়ের চরণে পদ্ম নিবেদনের মধ্য দিয়ে ভক্ত যেন নিজের মনকেও নির্মল করার প্রার্থনা করেন—জীবনের অন্ধকার, অশুভ ও নেতিবাচকতা দূর করে সত্য, ন্যায় ও পবিত্রতার পথে চলার সংকল্প করেন। সনাতন ধর্মে ১০৮ সংখ্যাটির বিশেষ আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় সাধনা, জপ ও উপাসনায় এই সংখ্যার ব্যবহার দেখা যায়। প্রচলিত জপমালায় ১০৮টি দানা থাকার বিষয়টিও এর একটি পরিচিত উদাহরণ। তাই দেবীর আরাধনায় ১০৮টি পদ্ম নিবেদনকে ভক্তির পূর্ণতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। প্রতিটি পদ্ম যেন ভক্তের একেকটি প্রার্থনা, একেকটি সংকল্প এবং দেবীর প্রতি একেকটি নিবেদনের প্রতীক। সনাতন ধর্মীয় ভাবনায় দেব-দেবীর উপাসনায় বিভিন্ন ফুলের আলাদা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। তার মধ্যে পদ্ম বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। পদ্মকে অনেক সময় দেবত্ব ও পবিত্রতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। দুর্গাপূজায় পদ্ম নিবেদনের মাধ্যমে দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে এটি মানুষের অন্তরের সৌন্দর্য ও পবিত্রতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। একটি পদ্ম যেমন নোংরা জল ও কাদার মধ্যেও নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখে, তেমনি সংসারের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও একজন মানুষ যেন নিজের নীতি, মানবিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ধরে রাখতে পারেন—পদ্মের প্রতীকী অর্থের মধ্যে এমন ভাবনাও খুঁজে পাওয়া যায়। দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হলো সন্ধিপূজা। মহাষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট এবং মহানবমীর প্রথম ২৪ মিনিট—মোট ৪৮ মিনিটের এই সন্ধিক্ষণকে ধর্মীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হয়। এই সময় দেবীর বিশেষ আরাধনা করা হয়। বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী ১০৮টি পদ্ম, প্রদীপ ও অন্যান্য উপাচার দিয়ে দেবীর পূজা সম্পন্ন করা হয়। তবে অঞ্চল, মন্দির ও পারিবারিক রীতিভেদে পূজার উপাচারে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। তাই ১০৮ পদ্মের প্রথাকে সনাতন ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি প্রচলিত রীতি হিসেবে দেখা উচিত। ১০৮ পদ্মের সঙ্গে দেবীর আরাধনা নিয়ে একটি বহুল প্রচলিত কাহিনি রয়েছে। কথিত আছে, শ্রীরামচন্দ্র দেবী দুর্গার আরাধনা করতে ১০৮টি নীলপদ্ম নিবেদনের সংকল্প করেছিলেন। পূজার সময় একটি পদ্ম কম পাওয়া গেলে তিনি নিজের চোখকে পদ্মের সঙ্গে তুলনা করে তা উৎসর্গ করার সংকল্প করেন। ভক্তির এই গভীরতা ও আত্মনিবেদনের কাহিনি থেকেই দেবীর আরাধনায় পূর্ণ ভক্তি ও আত্মসমর্পণের প্রতীক হিসেবে ১০৮ পদ্মের মাহাত্ম্য আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবে এই কাহিনির বিভিন্ন সংস্করণ ও আঞ্চলিক বর্ণনা রয়েছে; এটি মূলত প্রচলিত ধর্মীয় আখ্যান হিসেবে পরিচিত। আজ দুর্গাপূজা শুধু পূজার মণ্ডপে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পরিণত হয়েছে সামাজিক মিলন, সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও আনন্দের বৃহৎ উৎসবে। নতুন পোশাক, মণ্ডপসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রতিমা দর্শন—সব মিলিয়ে দুর্গোৎসব হয়ে ওঠে বাঙালির জীবনের অন্যতম আনন্দঘন সময়। কিন্তু এই আনন্দের পাশাপাশি পূজার আচারগুলোর পেছনের ইতিহাস, ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রতীকী তাৎপর্য জানা প্রয়োজন। কারণ ঐতিহ্যকে শুধু পালন করলেই হয় না, তার অর্থ ও মূল্যবোধও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হয়। ১০৮টি পদ্ম তাই কেবল ১০৮টি ফুল নয়। ভক্তির দৃষ্টিতে এটি হতে পারে শ্রদ্ধা, পবিত্রতা, আত্মনিবেদন ও মায়ের চরণে অর্পিত অসংখ্য প্রার্থনার প্রতীক। শারদীয় দুর্গোৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অশুভের বিরুদ্ধে শুভর জয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং অন্ধকারের মাঝে আলোর সন্ধানই এই উৎসবের অন্যতম অন্তর্নিহিত বার্তা। মায়ের চরণে ১০৮ পদ্মের অর্ঘ্য যেন আমাদের অন্তরকেও পবিত্র করে তোলে—এই হোক শারদীয় প্রার্থনা।

কাঁধে ছ’মাসের সন্তান, খালি পায়ে ২৮ কিমি হেঁটে লোকনাথ বাবার চরণে সনাতনী পিতার অবিশ্বাস্য মানতপূরণ

অনাগত সন্তানের জন্য লোকনাথ বাবার চরণে মানত এবং সন্তানের ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ—ভক্তি ও পিতৃস্নেহের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দত্তপুকুরের বাসিন্দা সৌরভ বিশ্বাস। জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে কচুয়া ও চাকলার লোকনাথধামে যখন লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ঢল নেমেছে, তখন ভিড়ের মাঝে সবার দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে সৌরভের অভিনব মানতপূরণের দৃশ্য। কাঁচা বয়সের ছ’মাসের ফুটফুটে সন্তানকে বাঁকে চড়িয়ে দীর্ঘ ২৮ কিলোমিটার পথ খালি পায়ে হেঁটে চাকলা ধামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন এই সনাতনী পিতা। চিরাচরিত বাঁকের পরিবর্তে তিনি তৈরি করেছেন একটি সুন্দর ঝুড়ি, যা সাজানো হয়েছে রঙিন টুনি আলোয়। সেই আলোকসজ্জিত ঝুড়িতে পরম আরামে শুয়েই বাবার কাঁধে চড়ে বাবার চরণে চলেছে এক অবোধ শিশু।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​ঈশ্বরচিন্তা ও সনাতন সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুসারেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যুগে যুগে কঠিন কৃচ্ছ্রসাধন ও মানত পূরণ করে আসছেন। প্রথম সন্তান গর্ভে আসার পর সৌরভ বিশ্বাস মানত করেছিলেন, সন্তান কোলে এলেই তাকে নিয়ে পায়ে হেঁটে লোকনাথধামে পুজো দেবেন। দীর্ঘ ও দুর্গম পথ অতিক্রম করার এই কষ্টকে তুচ্ছ করে সৌরভ জানান, ভাই ও সঙ্গীদের পাশাপাশি অন্তরের গভীর বিশ্বাসই তাঁর এই যাত্রাকে সুগম করেছে। লোকগাথায় শ্রবণ কুমারের পিতামাতাপ্রেমের কথা সর্বজনবিদিত, কিন্তু সৌরভের এই পদযাত্রা পিতা ও সন্তানের মধ্যকার চিরন্তন আত্মিক সম্পর্ক এবং লোকনাথ বাবার প্রতি সনাতনী বিশ্বাসের গভীরতাকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়। পুণ্যার্থীদের সুরক্ষায় বারাসত জেলা পুলিশ ও বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি নিজে এলাকা পরিদর্শনে নামলেও, হাজারো ভক্তের ভিড়ে সৌরভের এই নিঃস্বার্থ ভক্তি ও পিতৃস্নেহের দৃশ্যই এখন লোকনাথধামগামী পুণ্যার্থীদের মুখে মুখে ঘুরছে।

কাঁধে ছ’মাসের সন্তান, খালি পায়ে ২৮ কিমি হেঁটে লোকনাথ বাবার চরণে সনাতনী পিতার অবিশ্বাস্য মানতপূরণ

স্বধর্ম ত্যাগ ও উপধর্মের মোহেই মানবজাতি চরম সংকটে:যোগাচার্য্য স্বামী জ্যোতিষানন্দ পুরী মহারাজ

বর্তমান বিশ্বে স্বধর্ম ও মানবীয় আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে উপধর্মের মোহে পড়ে মানবসমাজ এক চরম সংকটে নিপতিত হয়েছে। জাতিবাদ, জন্মবাদ, স্বার্থবাদ ও ধর্মীয় বিস্তারবাদের কবলে পড়ে আজ ধূলিসাৎ হতে বসেছে সনাতন সংস্কৃতি ও সার্বজনীন মানবিক মূল্যবোধ। আদি সনাতন ধর্মের প্রজ্ঞা ও পরম কল্যাণকারী আদর্শকে ভুলে বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজের স্বার্থে উপধর্ম সৃষ্টি করায় বৃদ্ধি পাচ্ছে বৈষম্য, বিবাদ ও অনৈক্য। মানবজাতির এই ক্রান্তিলগ্নে মানবত্ব রক্ষা ও সনাতন সমাজের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনে শ্রীমদ্ভগবদগীতার পরম বাণী স্মরণ করিয়ে দিয়ে আত্মশুদ্ধির গুরুগম্ভীর আহ্বান জানিয়েছেন যোগাচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিষানন্দ পুরী মহারাজ।​শ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিষানন্দ পুরী মহারাজ তাঁর বিশেষ প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেন যে, শ্রীমদ্ভগবদগীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বধর্ম পালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন। মানুষের প্রকৃত স্বধর্মই হলো মানবতা, যা অহিংসা, সংযম, সদাচার ও সমব্যবহারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান সমাজে অনৈক্য ও সহিংসতার মূলেই রয়েছে স্বধর্ম বর্জন এবং বিষয়াশক্তি ও ইন্দ্রিয়াসক্তির মতো উপধর্মের আশ্রয় গ্রহণ। নিজেকে যে জায়গায় রাখলে দুঃখ বা কষ্ট অনুভূত হয়—যেমন নিজ পরিবারের ওপর নির্যাতন, উপাসনালয় ভাঙচুর বা ধন-সম্পদ লুটপাটে যে বেদনার জন্ম হয়—ঠিক একই অনুভূতি অন্যের ক্ষেত্রেও উপলব্ধি করাই হলো প্রকৃত মানবত্ব স্বধর্ম। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') ধর্ম ও আচার্যের নামে আজ যে হিংসা ও ভেদাভেদ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তা মানুষকে পশুর পর্যায়ে নামিয়ে দিচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে অশান্তির দাবানল জ্বালিয়ে তুলছে।​একই সঙ্গে সনাতন সমাজের গভীরতম ব্যাধি হিসেবে 'প্রতিহিংসা' নামক মহারোগের কথা তুলে ধরেন পরম পূজনীয় এই মহারাজ। তিনি আক্ষেপ করে জানান, নিজের স্বজন ও সমাজকে আপন করার পরিবর্তে আজ ভাইয়ে-ভাইয়ে, পরিবারে-পরিবারে এবং উপাসনালয় ও গুরুর ভেদাভেদ নিয়ে প্রতিহিংসা চরমে পৌঁছেছে। হিংসা ও অহংকারের বশে সনাতন সমাজ আজ নিজের হাতেই নিজেদের বিনাশ ঘটাচ্ছে, যা তাদের পঙ্গু করে ফেলছে। ভেতরের এই অনৈক্য ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সুযোগ নিয়ে বহিরাগত ও অন্যান্য গোষ্ঠী সনাতনীদের জমি-জমা, সম্পত্তি, ধর্ম ও নারীর ওপর বারবার আঘাত হানছে এবং আধিপত্য বিস্তার করছে। সময় থাকতে অন্ধত্ব দূর করে দয়া, ক্ষমা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে নিজ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ না করলে সনাতনীদের অস্তিত্ব, ধর্ম ও সম্পদ চিরতরে বিলুপ্ত হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পরিশেষে, সকল জাতি, বর্ণ ও সম্প্রদায়কে উপধর্মের মোহ ত্যাগ করে সর্বাগ্রে 'মানবত্ব ধর্ম' অর্জনের পরম আহ্বান জানান যোগাচার্য্য স্বামী জ্যোতিষানন্দ পুরী মহারাজ।

স্বধর্ম ত্যাগ ও উপধর্মের মোহেই মানবজাতি চরম সংকটে:যোগাচার্য্য স্বামী জ্যোতিষানন্দ পুরী মহারাজ

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ বায়েজিদ ও হাটহাজারী শাখার সাপ্তাহিক ধর্মচক্র অনুষ্ঠিত।

চট্টগ্রামের চৌধুরীহাটের ঐতিহ্যবাহী শ্মশান কালী মায়ের মন্দিরে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ বায়েজিদ ও হাটহাজারী শাখার উদ্যোগে আজকের সাপ্তাহিক ধর্মচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে।ধর্মচক্র সম্পাদক হীরা দত্তের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দুই শাখার সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। ধর্মচক্রে ধর্মীয় শিক্ষা, সংস্কৃতি, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।আলোচনায় বক্তারা বলেন, ধর্মচক্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সনাতন ধর্মের নানা দিক সম্পর্কে নতুনভাবে জানতে ও শিখতে পারেন। পাশাপাশি ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা, মতবিনিময় এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসেবেও ধর্মচক্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অনিক চক্রবর্তী, হীরা দত্ত, নিশান দত্ত, সৌমিক দেওয়ানজী, শুভ দে রকি সহ বায়েজিদ ও হাটহাজারী শাখার বিভিন্ন সদস্যবৃন্দ।প্রতি সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে সদস্যরা একত্রিত হয়ে ধর্মীয় বিষয়ে মতামত বিনিময়, আলোচনা এবং জ্ঞানচর্চায় অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এ ধরনের ধর্মচক্রের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ বায়েজিদ ও হাটহাজারী শাখার সাপ্তাহিক ধর্মচক্র অনুষ্ঠিত।

বর্ষা আসার ১ সপ্তাহ আগেই ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ে ছাদ থেকে, জানুন রহস্যে ঘেরা এই জগন্নাথ মন্দিরের কথা

১৬ জুলাই রথযাত্রা। তার আগে আজ জেনে নেওয়া যাক কানপুরের রহস্যে ঘেরা জগন্নাথ মন্দিরের কথা। প্রাচীন এই মন্দিরের ছাদ থেকে বর্ষা আসার ঠিক এক সপ্তাহ আগে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়তে শুরু করে।কানপুরের জগন্নাথ মন্দিরআজকের যুগে সব কাজেই আমরা প্রযুক্তির উপর নির্ভর করি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে রয়েছে কৃত্রিম উপগ্রহ। মোবাইল অ্যাপ খুলেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা যায়। তবে উত্তর প্রদেশের কানপুরে এমন এক প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির আছে, যা সরাসরি আবহওয়া পূর্বাভাসের বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানায়।এই মন্দিরের ছাদে লাগানো রয়েছে এমন একটি পাথর, যা যুগ যুগ ধরে নির্ভুল ভাবে বর্ষা আসার আগাম পুর্বাভাস দিয়ে চলেছে। এমনকি আবহওয়া দপ্তরের থেকেও নির্ভুল ভাবে এই মন্দিরের পাথর দেখে বর্ষা কবে আসবে তা জানা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষিজীবীরাও বর্ষা কবে তা জানতে এই মন্দিরের উপরই নির্ভর করে।মন্দিরের ছাদ থেকে জলের ফোঁটাকানপুরের ভিতরগাঁও ব্লকে অবস্থিত এই প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির। প্রতি বছর বর্ষা আসার ঠিক এক সপ্তাহ আগে থেকে মন্দিরের ছাদে লাগানো পাথর থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়তে শুরু করে। যখন সারা দেশের গরমে নাজেহাল দশা, বর্ষা কবে আসবে, সেই ভেবে চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় সবাই, সেই সময় এই মন্দিরের ছাদ থেকে চুঁইয়ে পড়া ফোঁটা ফোঁটা জল জানিয়ে দেয় যে বর্ষা আসার বেশি দেরি নেই। এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে বহু মানুষ ভিড় করেন এই জগন্নাথ মন্দিরে।আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, জলের ফোঁটার আকার দেখে সারা দেশে বর্ষা কেমন হবে, তাও বলা যায়। যদি ছাদ থেকে মোটা মোটা ফোঁটায় জল পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে সেই বছর সারা দেশে খুব ভালো বর্ষা হবে। কিন্তু জলের ফোঁটা ছোট হলে বর্ষায় ঘাটতি থাকবে। আর বাইরে আকাশে যেই বর্ষার কালো মেঘ জমতে শুরু করে এবং বৃষ্টি শুরু হয়, তখনই মন্দিরের ভেতরে জলের ফোঁটা বন্ধ হয়ে যায়।এই মন্দির স্থানীয় কৃষকদের কাছে আশীর্বাদের মতো। আবহাওয়ার রিপোর্টের থেকেই জগন্নাথ মন্দিরের উপরেই তাঁরা বেশি নির্ভর করেন। মন্দিরের ছাদ থেকে জল পড়া শুরু হলেই বীজ বপন শুরু করেন তাঁরা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই পদ্ধতি চলে আসছে যা কখনও ভুল প্রমাণিত হয়নি।বিজ্ঞানী ও আর্কিওলজিক্যাল বিভাগের কর্মীরা বহুবার এই মন্দিরের রহস্য সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। মন্দিরের দেওয়াল ও ছাদ পরীক্ষা করে বর্ষা আসার আগে এখানে কোথা থেকে জল আসে তা বোঝার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও এর সঠিক কারণ এখনও পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। আকাশ যখন পুরোপুরি মেঘশূন্য, তখন এখানে কোথা থেকে জল আসে, তা আজও রহস্য। সাধারণ ভক্তদের কাছে এই ঘটনা জগন্নাথ দেবের অপার কৃপার অন্যতম নিদর্শন।

বর্ষা আসার ১ সপ্তাহ আগেই ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ে ছাদ থেকে, জানুন রহস্যে ঘেরা এই জগন্নাথ মন্দিরের কথা