হিন্দুস নিউজ

মন্দির

রসিক রায় জিউ মন্দিরে জমি ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

রসিক রায় জিউ মন্দিরে জমি ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে যখন চারদিকে আনন্দের আবহ তৈরি হওয়ার কথা, ঠিক তখনই ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের শিকদার হাট এলাকার ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী রসিক রায় জিউ মন্দিরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক অপ্রীতিকর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে মন্দিরের মালিকানা ও কর্তৃত্ব বিস্তার নিয়ে স্থানীয় সনাতনী ধর্মাবলম্বী ও ইসকন অনুসারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নিতেন্দ্র নাথ বর্মন, জীতেন্দ্র নাথ বর্মন, চাম্পা রানী, দৈত্য নাথ বাবু, পায়েল প্রভূ ও নূপুরসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভূল্লী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়। বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পুলিশের কঠোর পদক্ষেপে আপাতত শান্ত রয়েছে।​আউলিয়াপুরের এই শ্রী শ্রী রসিক রায় জিউ মন্দিরের জমি এবং দুর্গাপূজা আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ইসকন সমর্থকদের মধ্যকার বিরোধ ও উত্তেজনার ইতিহাস নতুন নয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এর আগেও ২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এই দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের চরম পরিণতিতে স্থানীয় প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে মন্দির প্রাঙ্গণে টানা ১৬ বছর ১৪৪ ধারা জারি রাখতে বাধ্য হয় এবং উক্ত দীর্ঘ সময় সেখানে সমস্ত প্রকার পূজা অর্চনা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। দীর্ঘ ১৬ বছরের বিবাদ কাটিয়ে গত বছর জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রতিনিধি ও উভয় পক্ষের সমঝোতায় ঐতিহাসিক এই মন্দিরে পুনরায় সাড়ম্বরে দুর্গাপূজা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়, যা স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে এক পরম স্বস্তি ও উৎসবের মেজাজ ফিরিয়ে এনেছিল। কিন্তু রক্তক্ষয়ী অতীত পার করে এক বছর যেতে না যেতেই ফের একই জমি দখলকে কেন্দ্র করে পুনরায় এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ সনাতনী ভক্তবৃন্দের মনে চরম আতঙ্ক ও গভীর অনিশ্চয়তার মেঘ সৃষ্টি করেছে। সনাতনীদের মৌলিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় উৎসব পালনের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসন ইতোমধ্যে তৎপর হয়েছে এবং ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দিকী জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ও উভয় পক্ষের মধ্যকার এই নতুন বিরোধ নিরসনে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জরুরি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

কেন্দুয়ায় দুর্গা মন্দির ভাঙচুর

শারদীয় দুর্গোৎসবের ঠিক প্রাক্কালে নেত্রকোনা-৩ আসনের কেন্দুয়া উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের কাশিপুর শীলবাড়ি দুর্গা মন্দিরে এক বর্বর ও ন্যাক্কারজনক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে করা এই তাণ্ডবে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ, আতঙ্ক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে নিজ ভূমিতে নিজস্ব ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সনাতনীদের যে নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, এই ঘটনা তারই এক করুণ ও বাস্তব প্রতিফলন। উৎসবের মুখে সার্বজনীন মণ্ডপে এ ধরনের হীন হামলা কেবল একটি সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত নয়, বরং মৌলিক মানবাধিকারে জোরপূর্বক হস্তক্ষেপরই নামান্তর। যেকোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম সমাজে প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান শান্তিতে ও নিরাপদে পালন করার মৌলিক অধিকার রয়েছে, যা কোনোভাবেই ছিনিয়ে নেওয়া যায় না।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​এই ন্যক্কারজনক ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে অপরাধীদের অবিলম্বে শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে। এলাকার সাংসদ জনাব রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, কেবল আশ্বাস নয়—প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আগামী দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সকল মন্দির ও প্রতিমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকেই সর্বোচ্চ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। যদি সনাতনীদের নিরাপত্তা প্রদানে ও হামলাকারীদের বিচারে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হয়, তবে এর জবাবদিহিতা স্থানীয় প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দের কেউই এড়াতে পারবেন না। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও সকল জাতির অধিকার রক্ষায় স্থান, কাল ও রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে স্থানীয় সর্বস্তরের জনসাধারণকে এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কেন্দুয়ায় দুর্গা মন্দির ভাঙচুর

লেলাংয়ের ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে চুরি, পূজার সামগ্রীসহ আটক ৪ দুর্বৃত্ত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নে একটি ঐতিহ্যবাহী সনাতনী মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত হানায় স্থানীয় সনাতনী জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার অভাববোধ তৈরি হয়েছিল। ঘটনার পরেই ফটিকছড়ি থানা পুলিশ তৎপর হয়ে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার বিনাজুরি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করতে সক্ষম হয়।​আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন রুহুল, ইউসুফ, শাহাবুদ্দিন ও হাশেম। গ্রেপ্তার পরবর্তী অভিযানে মন্দির থেকে চুরি হওয়া বিভিন্ন পূজার সামগ্রী উদ্ধার করা গেলেও সনাতনীদের ভক্তির প্রতীক ও মাঙ্গলিক স্বর্ণালংকার এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর বণিকপাড়ার শ্রী শ্রী মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হেনে দুর্বৃত্তরা মন্দির থেকে তিনটি ঘটি, তিনটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি লকেটসহ গুরুত্বপূর্ণ পূজার সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান নিশ্চিত করেছেন যে, খোয়া যাওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

লেলাংয়ের ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে চুরি, পূজার সামগ্রীসহ আটক ৪ দুর্বৃত্ত

৩০ বছর ধরে কালীমাতা মন্দিরের সেবায় মুসলমান প্রহরী

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের ৭৪ বছর বয়সী প্রবীণ বৃদ্ধ জহির শেখ। গত তিন দশক ধরে তিনি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার গয়লা মহল্লায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ঘুড়কা মহাশ্মশান ও শ্রী শ্রী কালীমাতার মন্দিরের নিরাপত্তা প্রহরীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নিজের ইসলাম ধর্মকে অন্তরে ধারণ করে এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার পাশাপাশি হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই পবিত্র উপাসনালয় ও মহাশ্মশানের পবিত্রতা এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করে চলছেন তিনি। প্রায় ৬শ বছরের প্রাচীন এই কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে বছরের বিভিন্ন সময়ে কালিপূজা, শিব চতুর্দশী ও লোকনাথের আবির্ভাব উৎসবসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যেখানে মরদেহের সৎকারে সাহায্য করা থেকে শুরু করে ভক্তদের নিরাপত্তায় দিনরাত নিয়োজিত থাকেন জহির শেখ।​১৯৯৬ সালে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা থেকে আব্দুল মমিন ও জহির শেখ নামে দুই মুসলমান ব্যক্তিকে নৈশপ্রহরী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দুই বছর আগে মমিনের মৃত্যুর পর থেকে একাই এই বিপুল দায়িত্ব সামলাচ্ছেন জহির শেখ। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') প্রতিদিন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিজস্ব ধর্মীয় বিধান পালনের পাশাপাশি মন্দিরে প্রবেশের সময় শতভাগ পবিত্রতা নিশ্চিত করেন তিনি। স্বল্প বেতনের এই চাকরিতে সংসার চালানো কঠিন হলেও এখানকার সনাতনী বাসিন্দাদের প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতায় দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই সেবাকে তিনি ভালোবেসে আগলে রেখেছেন। মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও পূজারী পুরোহিত সকলেই তার দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা এবং সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

৩০ বছর ধরে কালীমাতা মন্দিরের সেবায় মুসলমান প্রহরী

শরীয়তপুরে ৪ পিতলের মূর্তি চুরি

শরীয়তপুরে নিজ গৃহের পারিবারিক মন্দির থেকে ঐতিহ্যবাহী চারটি সনাতনী দেব-দেবীর পিতলের বিগ্রহ চুরির এক উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বালুচর এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বী অশোক কুমার দের বাড়ির মন্দিরে এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া মূল্যবান প্রতিমাগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রীশ্রী দুর্গা, গণেশ, লক্ষ্মী ও ভগবানের মূর্তি। একটি অসাম্প্রদায়িক দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সনাতনী সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে প্রতিনিয়ত এ ধরনের নিরাপত্তাহীনতা এবং চুরির ঘটনা স্থানীয় ধর্মপ্রাণ ভক্তদের মনে গভীর ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। মন্দির কমিটির সূত্রে জানা গেছে, সকালে পরিবারের সদস্যরা যার যার কাজে বাইরে গেলে ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতকারীরা মন্দিরে প্রবেশ করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') বিকেলে ভক্তরা পূজা অর্চনার জন্য মন্দিরে প্রবেশ করলে বিগ্রহগুলো গায়েব দেখতে পান এবং পরবর্তীতে বিষয়টি পালং মডেল থানা পুলিশকে জানানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে লাল গেঞ্জি পরা এক সন্দেহভাজন যুবককে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত অপহৃত বিগ্রহগুলো উদ্ধার কিংবা অপরাধীকে আটক করতে পারেনি প্রশাসন। স্থানীয় সনাতনী সমাজ দ্রুততম সময়ে প্রতিমাগুলো উদ্ধার এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

শরীয়তপুরে ৪ পিতলের মূর্তি চুরি

কাহারোলে ঐতিহ্যবাহী কান্তজীউ মন্দির পরিদর্শনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শন করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী কান্তজিউ মন্দিরে পৌঁছে মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা মন্দিরের প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী, টেরাকোটার নান্দনিক কারুকার্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন পর্যবেক্ষণ করেন।পরিদর্শনকালে কান্তজিউ মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পর্যটন সম্ভাবনা এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, কাহারোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মোকলেদা খাতুন মীম, রাজদেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট রণজিৎ কুমার সিংহ, কাহারোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা বাদশা, সাধারণ সম্পাদক শামীম আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।কান্তজিউ মন্দির বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। মন্দিরের দেয়ালজুড়ে থাকা অনন্য টেরাকোটা কারুকার্য ও প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে আসছে।ঐতিহাসিক এই স্থাপনার সংরক্ষণ, পর্যটন সম্ভাবনা এবং দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের বিষয়ে পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।

কাহারোলে ঐতিহ্যবাহী কান্তজীউ মন্দির পরিদর্শনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

ফেনী সীমান্তে উদ্ধার ফরিদপুরের চুরি হওয়া কষ্টিপাথরের কালী মূর্তি, আটক ২

ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালী বাড়ি মন্দির থেকে চুরি হয়ে যাওয়া কষ্টিপাথরের কালী মূর্তিটি ফেনী সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূর্তি উদ্ধারের পাশাপাশি চুরি হওয়া মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য ধর্মীয় সামগ্রীও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করায় ফরিদপুর পুলিশ প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ভক্তবৃন্দ। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান এবং গ্রেপ্তার সংক্রান্ত বিষয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।এর আগে গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে ফরিদপুর শহরের ২নং উত্তর কালীবাড়ী মন্দিরে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে।মন্দিরের সেবায়েত দেবী প্রসাদ চক্রবর্তী (পানু) জানান, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূজা-অর্চনা শেষে মন্দিরটি যথারীতি তালাবদ্ধ করে চলে যান। পরদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পূজার উদ্দেশ্যে মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথের লোহার দরজা, শাটার ও কেচি গেটের সবগুলো তালা কাটা এবং দরজা খোলা।ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, মন্দিরের ভেতরের মূল কষ্টিপাথরের কালী মূর্তি এবং মূর্তির শরীরে থাকা আনুমানিক ৭-৮ ভরি স্বর্ণালংকার উধাও। এছাড়া পিতলের ছোট ছোট বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ, মনসা মূর্তি এবং মহাদেবের লিঙ্গের সঙ্গে থাকা ৮-১০ ভরির রৌপ্য সাপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির সময় মন্দিরের পাশের পরিত্যক্ত ভবন থেকে কষ্টিপাথরের মূর্তির মহাদেব অংশ ও পায়ের পাতার কিছু অংশ উদ্ধার হলেও বাকি মূর্তির সন্ধান মেলেনি।ঘটনার পরপরই জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগের পর ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোঃ মিয়াজি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানসহ সিআইডির একটি চৌকস দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। সেবায়েত ও মন্দির কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় পুলিশের ধারাবাহিক নজরদারির ফলে অবশেষে ফেনী সীমান্ত এলাকা থেকে মূর্তিটি উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

ফেনী সীমান্তে উদ্ধার ফরিদপুরের চুরি হওয়া কষ্টিপাথরের কালী মূর্তি, আটক ২

চন্দ্রনাথ ধামে নতুন প্রবেশদ্বার নির্মাণ প্রায় সম্পন্ন, উন্নয়ন কাজ ঘিরে তীর্থযাত্রীদের মধ্যে উৎসাহ

সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী ও মহাতীর্থ হিসেবে পরিচিত চন্দ্রনাথ ধামে তীর্থযাত্রীদের সুবিধা, যাতায়াতের শৃঙ্খলা এবং ধামের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় ধামে ওঠার মূল প্রবেশপথে নতুন একটি নান্দনিক প্রবেশদ্বার বা ‘স্বর্গের গেইট’-এর নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। নতুন এই প্রবেশদ্বার নির্মাণকে ঘিরে তীর্থযাত্রী ও সনাতনী ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, চন্দ্রনাথ ধামের পথে নির্মিত নতুন প্রবেশদ্বারটি বর্তমানে উন্মুক্ত রয়েছে এবং এর মধ্য দিয়েই নিয়মিত তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত চলছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় পরিবেশ ও পূজার শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে সনাতনী তীর্থযাত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা মন্দির কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিধিমালা ও বাস্তবায়নব্যবস্থা সম্পর্কে পৃথকভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। চন্দ্রনাথ ধামের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ চন্দ্রশেখর মহাদেবের মন্দির। দীর্ঘ পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে তীর্থযাত্রীরা সেখানে পূজা ও দর্শনের জন্য পৌঁছান। নতুন প্রবেশদ্বার নির্মাণের ফলে তীর্থপথের ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং দর্শনার্থীদের চলাচলে সুবিধা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। একই সঙ্গে চন্দ্রনাথ ধামে আরও কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। নতুন প্রবেশদ্বার নির্মাণের পাশাপাশি হনুমান মন্দিরের সংস্কার ও উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি তীর্থপথের বিভিন্ন সিঁড়ি সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ও দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে চূড়ায় ওঠা তীর্থযাত্রীদের চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করাই এসব কাজের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানা গেছে। চন্দ্রনাথ ধামের প্রবেশপথকে আরও সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করতে একটি নতুন গেইট নির্মাণের পাশাপাশি শিগগিরই আরও একটি প্রবেশদ্বার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে ধামের সৌন্দর্যবর্ধন, তীর্থযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পাহাড়ি পথে যাতায়াতের পরিবেশ উন্নত করার জন্য পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া চন্দ্রনাথ ধামের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় একাধিক প্রবেশদ্বার নির্মাণের একটি প্রস্তাবের কথাও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে প্রবেশপথ ব্যবস্থাপনা করা হলে তীর্থযাত্রীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে। একই সঙ্গে ধামের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় পরিবেশ সংরক্ষণেও তা ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে নতুন গেইটের মূল কাঠামোর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও গেইট নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং তীর্থযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়েছে। এসব কাজ ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন হলে চন্দ্রনাথ ধামের প্রবেশপথ ও তীর্থযাত্রার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবছর বহু পুণ্যার্থী চন্দ্রনাথ ধামে তীর্থ করতে আসেন। পাহাড়ি পথ, সিঁড়ি ও দীর্ঘ যাত্রার কারণে অনেকের জন্য চূড়ায় ওঠা কষ্টসাধ্য হয়ে থাকে। এ অবস্থায় সিঁড়ি সংস্কার, প্রবেশপথ উন্নয়ন এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হলে তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চন্দ্রনাথ ধামের উন্নয়নকাজে যুক্ত সাইন কমিটি, স্থানীয় সেবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগে কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সনাতনী ভক্তদের প্রত্যাশা, চলমান উন্নয়নকাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত অন্যান্য কাজও সম্পন্ন করা হবে। এতে ঐতিহ্যবাহী এই মহাতীর্থের ধর্মীয় পরিবেশ, সৌন্দর্য ও তীর্থযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা আরও সমৃদ্ধ হবে।

চন্দ্রনাথ ধামে নতুন প্রবেশদ্বার নির্মাণ প্রায় সম্পন্ন, উন্নয়ন কাজ ঘিরে তীর্থযাত্রীদের মধ্যে উৎসাহ

কুষ্টিয়ায় মহাশ্মশানে পিকনিক,মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষর না করায় সম্পাদককে মারধর

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর মহাশ্মশানে মাংস রান্না করে পিকনিক করা এবং চিতা ও সমাধির ওপর জুতা পায়ে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও লিখিত মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষর করা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে হরিনারায়ণপুর মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপুল কুমার সাহাকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা নষ্টের অভিযোগ থেকে শুরু করে সামাজিক মীমাংসা এবং পরবর্তী হামলার অভিযোগ—পুরো ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর)। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই দিন একদল যুবক হরিনারায়ণপুর বাজার মহাশ্মশান এলাকায় মাংস রান্না করে পিকনিক করেন। শুধু পিকনিকই নয়, তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে জুতা পায়ে শ্মশানের চিতা ও একটি সমাধির ওপর উঠে ছবি তোলার অভিযোগও ওঠে। পরবর্তী সময়ে ঘটনার কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দ্রুত স্থানীয়দের নজরে আসে।ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি স্থানে এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের বক্তব্য, মহাশ্মশান শুধু মৃতদেহ সৎকারের স্থান নয়; এটি ধর্মীয় আচার ও প্রয়াত ব্যক্তিদের স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পবিত্র স্থান। ফলে সেখানে এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে তারা ধর্মীয় অনুভূতি ও শ্মশানের মর্যাদার প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখছেন।তবে ঘটনাটি যাতে বড় ধরনের বিরোধ বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনায় রূপ না নেয়, সেজন্য স্থানীয়ভাবে দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতেই কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তির উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না—এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে মৌখিকভাবে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।কিন্তু পরদিন বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মৌখিক সমঝোতাকে লিখিত রূপ দিতে গিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আগের রাতে যারা বিষয়টির দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাদের কয়েকজনের স্বাক্ষর পরবর্তী লিখিত মীমাংসাপত্রে ছিল না। এ অবস্থায় কেবল একটি লিখিত কাগজের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তি করা নিয়ে মহাশ্মশান কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আপত্তি দেখা দেয়।সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মামুনুর রশীদ মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং অভিযুক্ত যুবকদের পরিবারের সদস্যদের থানায় যেতে বলেন। তারা থানায় গেলেও ওই সময় ওসি থানায় উপস্থিত ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে একটি মীমাংসাপত্র তৈরি করে সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষর নিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে থানায় জমা দেওয়ার কথা বলা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।এরপর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত মীমাংসাপত্র প্রস্তুত করা হয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে ওই মীমাংসাপত্রে মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি সুবাস কর্মকারের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। কিন্তু আগের রাতে মৌখিক মীমাংসার সময় যারা দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তাদের সবার স্বাক্ষর সেখানে ছিল না।এ বিষয়টি নিয়েই আপত্তি জানান মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপুল কুমার সাহাসহ সংশ্লিষ্টদের একাংশ। হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত এবং আগের দিনের আলোচনায় দায়িত্ব নেওয়া ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ছাড়া ঘটনাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে—এ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্রের বরাতে আরও বলা হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন লিখিত মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষর করতে সম্মত হননি। তবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে কেন তিনি স্বাক্ষর করেননি কিংবা এ বিষয়ে তার অবস্থান কী—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা এক যুবকের বাবা বক্কর মীমাংসাপত্র নিয়ে মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপুল কুমার সাহার কাছে যান। স্থানীয় সূত্রে তাকে হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের আব্দালপুর গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।বিপুল কুমার সাহার অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে হরিনারায়ণপুরের লক্ষণ জুট মিলসংলগ্ন জাহাঙ্গীরের গোডাউনের সামনে তাদের দেখা হয়। সেখানে মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষর করা নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে বিপুল কুমার সাহা অভিযোগ করেন।তবে মারধরের অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বক্তব্য প্রকাশিত তথ্যে পাওয়া যায়নি। একইভাবে হামলার অভিযোগে থানায় পৃথক মামলা বা লিখিত অভিযোগ হয়েছে কি না এবং পুলিশ এ ঘটনায় কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে কি না—সে বিষয়েও সরবরাহ করা তথ্যে নিশ্চিত তথ্য নেই। ফলে এসব বিষয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।স্থানীয়দের ভাষ্য, মঙ্গলবার রাতের মীমাংসার মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিস্থিতি শান্ত রাখা এবং ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে না দেওয়া। কিন্তু পরদিন লিখিত মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে নতুন বিরোধ এবং পরে মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদককে মারধরের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।এদিকে মহাশ্মশানের পবিত্রতা নষ্ট এবং কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ধর্মীয় সংগঠনগুলোর ব্যানারে কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিজেদের নিরাপত্তার দাবি জানানো হতে পারে। তবে কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির তারিখ, সময় বা বিস্তারিত ঘোষণা করেছে—এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ঘটনাটি ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। কোনো যাচাইবিহীন তথ্য বা উসকানিমূলক বক্তব্য যাতে পরিস্থিতিকে আরও জটিল না করে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।একই সঙ্গে তাদের দাবি, ধর্মীয় স্থান ও মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। আবার কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও চাপ প্রয়োগ বা ভয়ভীতির পরিবর্তে আইনগত ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত ও সম্মতি থাকা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের একাংশ এখন মহাশ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেখানে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠেকানো এবং সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি প্রত্যাশা করছেন তারা।

কুষ্টিয়ায় মহাশ্মশানে পিকনিক,মীমাংসাপত্রে স্বাক্ষর না করায় সম্পাদককে মারধর

রাজরাজেশ্বরী কালী মন্দিরকে হেরিটেজ ঘোষণার প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি

কুমিল্লার মনোহরপুর এলাকার ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী রাজ-রাজেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবিতে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন মন্দিরের স্বেচ্ছাসেবক ও ভক্তবৃন্দ।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুর বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।স্মারকলিপিতে বলা হয়, শ্রীশ্রী রাজ-রাজেশ্বরী কালীমাতা মন্দির কুমিল্লার একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। মন্দিরের ভক্তবৃন্দ ও মায়ের সেবকগণ মন্দিরটিকে একটি মডেল মন্দির হিসেবে নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য আবেদন করেছেন। তবে মন্দিরটিকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণার জন্য তারা কোনো আবেদন করেননি বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, শ্রীশ্রী রাজ-রাজেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে মন্দিরের ভক্ত ও সেবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে জানানো হয়।এতে আরও বলা হয়, মন্দিরটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ভক্তি ও আস্থার অন্যতম প্রধান স্থান। তাই মন্দিরের স্বেচ্ছাসেবক ও ভক্তবৃন্দ ঐকমত্যের ভিত্তিতে মন্দিরটিকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করতে চান না।তবে মন্দিরের উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও আধুনিকায়নের পক্ষে রয়েছেন তারা। একই সঙ্গে মন্দিরের ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য, পূজা-অর্চনা ও স্বাভাবিক ধর্মীয় কার্যক্রম অক্ষুণ্ন রেখে এর উন্নয়ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।স্মারকলিপিতে অনতিবিলম্বে শ্রীশ্রী রাজ-রাজেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরকে হেরিটেজ ঘোষণার প্রস্তাব বা উদ্যোগ প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য সিটি কর্পোরেশন প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।এদিকে, হেরিটেজ ঘোষণার প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবিতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজরাজেশ্বরী কালী মন্দিরকে হেরিটেজ ঘোষণার প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি

সরকারি তিতুমীর কলেজে নবীন সনাতনী শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে প্রচার বুথ ও ভজন-কীর্তন অনুষ্ঠিত

সরকারি তিতুমীর কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস উপলক্ষে নবীন সনাতনী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে প্রচার বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি তিতুমীর কলেজ মন্দির সনাতন সোসাইটি ফর কালচার অ্যান্ড এডুকেশনের উদ্যোগে কলেজ প্রাঙ্গণে এ বুথ স্থাপন করা হয়।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ওরিয়েন্টেশনে আসা নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনাতনী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হন আয়োজকেরা। এ সময় তাদের কলেজ মন্দিরের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হয়। পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ সম্পর্কেও অবহিত করা হয়।আয়োজকেরা জানান, নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি, কলেজ মন্দিরের কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের পরিচিত করা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। প্রচার বুথের মাধ্যমে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কেও নবীনদের ধারণা দেওয়া হয়।এ সময় সনাতনী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভজন, কীর্তন ও সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এতে কলেজ প্রাঙ্গণে তৈরি হয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহ। ওরিয়েন্টেশনে আসা নবীন সনাতনী শিক্ষার্থীরাও এসব আয়োজনে অংগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।আয়োজকদের মতে, ওরিয়েন্টেশনের মতো আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ফলে তাদের কলেজ মন্দিরের কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কেও তারা অবহিত হয়েছেন।সনাতন সোসাইটি ফর কালচার অ্যান্ড এডুকেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি তিতুমীর কলেজে নবীন সনাতনী শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে প্রচার বুথ ও ভজন-কীর্তন অনুষ্ঠিত

রমনা কালী মন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রমের নতুন তোরণ উন্মোচন

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক তীর্থক্ষেত্র শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দির ও শ্রীমা আনন্দময়ী সেবাশ্রমে যোগ হলো এক নতুন নতুন মাত্রা। সার্বজনীন ধর্মীয় আবহ ও মন্দিরের প্রাচীন ঐতিহ্যকে আরও মহিমান্বিত করে তুলতে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হলো নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন মূল গেট। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার এই বিশেষ মুহূর্তটি ঘিরে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণে এক আনন্দঘন ও শুভময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ও দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই শুভ উদ্বোধন এক অকৃত্রিম আবেগ ও আনন্দের বার্তা বয়ে এনেছে।​জমকালো ও আধ্যাত্মিক আবহে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে নতুন দ্বারের পর্দা উন্মোচন করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পরম শ্রদ্ধেয় বাবু বিজন কান্তি সরকার। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ সময় উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরা ঐতিহ্যবাহী এই সেবাশ্রমের সার্বিক উন্নয়ন ও ধর্মীয় সৌন্দর্য বর্ধনে এ ধরনের উদ্যোগকে একটি অনন্য মাইলফলক বলে অবিহিত করেন। বিশেষ করে মন্দিরের মৌলিক ভাবগাম্ভীর্য ও পরিবেশগত নান্দনিকতা বজায় রেখে মূল ফটকটি নির্মাণ করায় সাধারণ ভক্তদের মাঝেও ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।​শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক অর্পণা রায় দাস, সদস্য সচিব মিল্টন বৈদ্য এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার মিন্টু বসু। এছাড়া শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দির ও শ্রীমা আনন্দময়ী সেবাশ্রম পরিচালনা কমিটির সর্বস্তরের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সার্বিক শুভকামনা জ্ঞাপন করেন। ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষা ও সনাতনী সমাজের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে এই তীর্থস্থানটিকে আরও সুসংগঠিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মায়ের দরবারে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা করা হয়।

রমনা কালী মন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রমের নতুন তোরণ উন্মোচন

শরীয়তপুরের ঐতিহ্যবাহী রাম ঠাকুরবাড়িতে পুরাতনকে নতুনের আবহে সাজানোর মহাকর্মযজ্ঞ

শরীয়তপুরের ঐতিহ্যবাহী রাম ঠাকুরবাড়িতে পুরাতনকে নতুনের আবহে সাজানোর মহাকর্মযজ্ঞডেস্ক রিপোর্টঃ হিন্দু'স নিউজ, শরীয়তপুর।। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬খ্রি.।শরীয়তপুর জেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির ঘুরে বিস্তারিত জানিয়েছেন হিন্দু নিউজ প্রতিনিধি হেমন্ত দাস।শরীয়তপুরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির ডিঙ্গামানিক রাম ঠাকুরবাড়িতে উন্নয়নের ধারায় পুরাতনকে নতুনের আবহে আবদ্ধ করার মহাকর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে মন্দির পরিচালনা কমিটি। বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনায় থমকে যায়নি রাম ঠাকুরের জন্মভিটায় অবকাঠামো নির্মাণের মহাকর্মযজ্ঞ।তথ্য উপাত্তে উঠে আসে অবকাঠামো উন্নয়নের এসব কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে হেড অফ দ্য মোনাসটেরী'র তত্ত্বাবধানে পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে। জানা যায় শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দিরের মোহন্ত হেড অফ দ্য মোনাসটেরি,তিনি বছরের বেশ কিছু সময় অতিবাহিত করেন দেশে-বিদেশে অবস্থিত শ্রীশ্রী রামচন্দ্র দেবের মন্দির, ভক্ত ও শিষ্যদের কাছে। সেখানে মোহন্ত শ্রীশ্রী রাম ঠাকুরের ভক্ত অনুসারী বা শিষ্যদের মাঝে গুরুদেবের শ্রীনাম প্রদান করেন। এর মধ্যে বছরে দু'একবার তিনি ডিঙ্গামানিক মন্দিরে অবস্থান করেন। তন্মধ্যে অন্যতম সময় হলো মাঘ মাসে তিন দিনব্যাপী মন্দির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মহোৎসব উপলক্ষে।  সম্প্রতি ডিঙ্গামানিক ঠাকুরবাড়ি কমপ্লেক্স এ মাস্টারপ্ল্যান এর অংশ হিসেবে বিশাল কর্মযজ্ঞের শুভ সূচনা হয়। শুভ সূচনায় দেখা যায় মন্দির পরিচালনা কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুরাতন ভবনগুলো অপসারণ করে সময়োপযোগী বেশকিছু প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।তারমধ্যে নাট মন্দির রাম ঠাকুরের শয়ন মন্দির লক্ষণ মন্দির ভোগের প্রসাদ রান্নার ঘর সহ ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ পুরাতন ভবন গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রী. বুধবার মন্দির পরিচালনা কমিটি কর্তৃক ভেঙে দিয়ে কাজ চলমান রাখে।নতুন অবকাঠামো গুলোর মধ্যে নাট মন্দির, রাম ঠাকুরের শয়ন মন্দির, লক্ষ্মণ মন্দির, মন্দিরে যাতায়াতের জন্য দুই লাইন বিশিষ্ট প্রশস্ত রাস্তা, সুপেয় জলের ব্যবস্থা, ড্রেইনেজ ব্যবস্থা, পুকুরের পাড়ের বাঁধ নির্মাণ, সোলার প্যানেল, নিজস্ব বিদ্যুৎ পাওয়ার প্ল্যান্ট, হাই কিলোওয়াটের নিজস্ব অটোমেটিক জেনারেটর সার্ভিস সহ নানামুখী কর্মযজ্ঞ।  তো এবার আসি পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ ভবন সম্পর্কে-সম্প্রতি দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় বেশ আলোচিত হয়েছে রাম ঠাকুর বাড়িতে থাকা পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি সম্পর্কে। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয় ডিঙ্গামানিক ঠাকুর বাড়ির ৫০০বছর আগের রাম ঠাকুরের ধ্যান মন্দির ভেঙে ফেলা হয়েছে।শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির ডিঙ্গামানিকে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের যে মহাকর্মযজ্ঞ চলছে সেখানে পুরাতন ভবন ভাঙ্গার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার তথ্য অনুসন্ধানের জন্য মাঠে নামে হিন্দু'স নিউজ টিম।গত ৯সেপ্টেম্বর ২০২৬খ্রি. তারিখে ঠাকুর বাড়ির পুরাতন ভবন ভাঙার পর থেকে ঘুরে ঘুরে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সহ বিভিন্ন মঠ মন্দিরের পুরোহিত, দায়িত্বশীল ব্যক্তি, দেশ বিদেশের রাম ঠাকুরের ভক্ত অনুসারী, শিষ্য, মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মতামতের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হল-শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দিরের পুরোহিত আশুতোষ অধিকারী বলেন মন্দিরের সংস্কার কাজ হচ্ছে যা খুবই দরকার। পুরাতন ভবনটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত হয়ে রয়েছিল, যা আরো অনেক আগেই অপসারণ করা দরকার ছিল। পুরাতন ভবনটি ভাঙ্গায় মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। মন্দিরে থাকা শিল্পী চক্রবর্তী বলেন অনেকদিন যাবত এটি জরাজীর্ণ হয়ে গাছ গাছড়ায় ভরা ছিল। ১৫ বছর আগে গাছপালা কেটে পরিষ্কার করা হয়েছিল। তারপর ৮ থেকে ১০ বছর পর আবার জল পড়তো ও চারপাশ থেকে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমাদের ভক্তবৃন্দরা আসতো দেখতো, যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তাই কমিটি থেকে এটি ভাঙ্গা হয়। ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। উৎসবের সময় দূর্গা পূজার সময় আষাঢ় মাসে অনেক মানুষজন আসে। এদের মধ্যে অনেক ছোট বড় বাচ্চা ও বৃদ্ধরাও থাকে। তখন যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটত তাইলে এর রিস্ক কে নিত?এজন্য কমিটি ভেবেচিন্তে এটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।মন্দিরে থাকা উমা রানী চক্রবর্তী বলেন জোরে জোরে ভূমিকম্প হয় এইটায় জল জইম্মা যাইত। নষ্ট হইয়া গেছে। উৎসবের সময় বহু লোক আসে। এইটা ভয়েরই কারণ। এইটা সুন্দর কইরা হোক এই আমরা চাই। স্থানীয় ভক্ত ও ডিঙ্গামানিক কালি খোলা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের সভাপতি বাসু দাস বলেন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশ দিয়ে চলাচল করলে মানুষ আতঙ্কে থাকেন। এটি ভাঙ্গাতে আমরা খুশি। ঠাকুর বাড়ির অনেক সম্পত্তি বেহাত ছিল, এই কমিটির দ্বারা মন্দিরের বেহাত সম্পত্তি আয়ত্তে আসায় আমরা গর্বিত। ঘরিসার ইউনিয়নের কলারগাঁও নিবাসী ডিঙ্গামানিক কালি খোলা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ভক্ত পলক দাস বলেন পুরাতন এই বিল্ডিং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ছিল। মন্দিরের উৎসবের সময় বহু ভক্তের সমাগম হয়, তখন যদি ভবনটি ভেঙে পড়তো তবে অনেক মানুষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এটিও বিশ্বাস করি যে ভবনটি পুরাতন ছিল যা দেখে অনেকে মুগ্ধ হত। এখন এখানে নতুন ভবন হবে তবে সেখানে উপরের অংশে আগের মত দোচালা ছাউনি থাকলে আমরা আরো খুশি হব। ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা থেকে মন্দিরে আগত ভক্ত ও শিষ্য স্বপন কুমার সাহা বলেন ডিঙ্গামানিকে এসে আমরা প্রাণ ফিরে পাই। এখানে এসে দেখছি নতুন করে অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে। জানতে পেরেছি এই উন্নয়নে কমিটির সহ প্রায় সকলের মতামত আছে। আমরা ঠাকুরবাড়ির উন্নয়নে সার্বিক মঙ্গল কামনা করি। রামভদ্রপুর ইউনিয়নের কার্তিকপুর নিবাসী মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য সনাতন পাল বলেন আমাদের কার্যকরী কমিটির সভায় পুরাতন ভবন গুলোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল যে ভবন গুলো খুবই জরাজীর্ণ হয়ে গেছে এগুলো ভেঙে আবার নতুন করে ভবন তৈরি করা হবে। এই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এই ভবনটি একটি পুরাতন ভবন কিন্তু ভবনটি প্রায় ২০০ বছরের মতো হবে। তবে এটি অনেক জরাজীর্ণ হয়ে গেছে তা বলার মত না। এই ভবনের দুটি পাশ আছে দুই পাশে আমাদের উৎসবের সময় প্রায় এক দেড় হাজার লোক দেওয়া হয় থাকার জন্য। যেকোনো সময় এই ভবনটা ধইসা পড়তে পারে এমন পরিস্থিতি ছিল। আপনারা তো জানেন পুরাতন ভবন রাখা বিপদজনক। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জগন্নাথ হল এর যে ভবনটা ধসে পড়ছে সেখানে তো অনেক ছেলের প্রাণহানি ঘটেছে। এখন যারাই বলেন এই ভবনটা কেন ভাঙ্গা হইল এর জবাব তো দেওয়ার মত না। যখন একটা লোক এক্সিডেন্ট হইতো তখন তো আপনারাই আমাদেরকে প্রশ্ন করতেন যে কেন আপনারা কমিটিতে থাইকা এগুলো দেখেন নাই। এগুলো তো আপনাদের দেখা উচিত ছিল। এখন এখানে যে ভবনটা ভাঙ্গা হইছে এখানেই আবার একটা ভবন তৈরি করা হবে। তখন তো এটা দৃশ্যমান হবে। মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং উৎসব কমিটির জিওসি কানাইলাল পাল বলেন মন্দিরে ইলেকট্রিক, জলসহ বিভিন্ন কাজের সঙ্গে আমি জড়িত। এই ভবনটি এতই জরাজীর্ণ ছিল এই ভবনের কাজ করতে গিয়ে পেরেক বসাতে পারিনি। যখনই পেরেক বসাতে গিয়েছি তখনই ধুলার মতো সুরকি খসে পড়েছে। মন্দিরের উৎসব কমিটির সদস্য বাবুল বৈদ্য বলেন এই জরাজীর্ণ ভবনটা নিয়ে অনেকেই বিরূপ মন্তব্য করতেছেন। কমিটি নতুন করে ভবনটি তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছেন এটি ভালো। কারণ এই জরাজীর্ণ ভবনে যেকোনো সময় এক্সিডেন্ট হতে পারতো। মন্দিরের পাচক ননীগোপাল মণ্ডল বলেন আমাদের মন্দিরে জীর্ণ ভবন ছিল অবশ্যই কষ্ট হয়। এটাও ভাবতে হবে কর্মকর্তারাই আছেন তারা ঠাকুরবাড়ির উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। ভালো কিছু পেতে হলে কিছু ছাড়তে হয়। আমাদের কষ্ট দূর হয়ে যাবে কিন্তু এখানে আমরা চাই এই ক্যাটাগরির একটি ভবন হোক। তাহলে এ কষ্ট কোন ভক্তেরই থাকবে না। কমিটি যে কাজ ধরছেন এগুলো তো কারো বাড়ির জন্য না মন্দিরের জন্যই। মন্দিরের জায়গা অনেক ভেজাল ছিল গন্ডগোল ছিল এগুলোতো ফেরত আনছেন কমিটি আইনের মাধ্যমে লড়ে সত্যের পথে ফেরত আনছেন। এটা ধসে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। এর দায়ভার তখন কে নিতেন? নিশ্চিত মন্দির কমিটির উপর আসতেন। মন্দির কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে মন্দিরের কিভাবে পরিবেশ সুন্দর হবে সে জন্যই এ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। যেন ঠাকুরের ঐতিহ্য ধরে রাখা যায় এটাই আমাদের আশা।মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য শিবু দাস বলেন ঠাকুর বাড়ির অবকাঠামো উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা অব্যাহত আছে। পুরাতন ভবন ভাঙার বিষয়ে আমাদের সভা হয়েছে। সেই সভাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পুরাতন ভবন অপসারণ করে নতুন অবকাঠামো উন্নয়ন হবে। যে পুরাতন ভবন ভাঙা নিয়ে এত কিছু রটছে তা বসবাসের অনুপযোগী হয়েছে আরো বহুকাল আগেই। আমরা অতীতে বেশ কিছু বছর আগে একলক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা ব্যয় করে পুরাতন ভবনের সংস্কার করিয়েছিলাম। তখন পুরাতন ভবনে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন আগাছা গাছপালার শেকড় ছাদ ভেদ করে দেয়াল সহ ভবনে বেশ ফাটল দেখা দেয়। তারপরও আমরা ঢাকা থেকে আর্কিটেকচার টিম আনিয়ে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহন করি। আর্কিটেক্ট এসে দেখে জানায় এই ভবন সংস্কার করার মতো কোন অবস্থায় নেই। তারপর কেটে যায় বেশ কিছু বছর। দিনদিন ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। নিচ থেকে চুন সুরকি আর ইট খসে পড়ে। তিনি আরো বলেন এভাবে নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি হলে আর কিছু তো হবে না, হবে ঠাকুরবাড়ির ক্ষতি। আমরা যারা আছি সকলেই ঠাকুরবাড়ির উন্নয়ন চাই।ডিঙ্গামানিক শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুকুল চন্দ্র রায় বলেন আমরা পরিচালনা কমিটির সভা করে পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনগুলো অপসারণ করে নতুন অবকাঠামো উন্নয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। সেই মোতাবেক ঠাকুরবাড়ির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। তিনি ঠাকুরের রাতুলচরণে ভক্তিপূর্ণ নিবেদনে সকল ভক্ত ও শিষ্য গনের উদ্দেশ্যে বলেন আসুন আমরা সকলের সহযোগিতায় একতাবদ্ধ হয়ে যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের দলমতের উর্ধ্বে রেখে ঠাকুরকে হৃদয়ে ধারণ করে শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির কমপ্লেক্স কে একটি সুন্দর পরিবেশ উপহার দেই। জয় রাম জয় গোবিন্দ।। নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের রামসাধুর মন্দির একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর এখানে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক আসে।অনেকেই আসেন আচার বিধি প্রতিপালনের জন্য। গত ১২ সেপ্টেম্বর জানা যায় রামসাধুর মন্দিরে পুরাতন ভবন ভাঙ্গা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে মন্দিরের একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি আছে। তারা নিজস্ব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার সংস্কার এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। আমি কমিটির সাথে কথা বলেছি আমাকে অবগত করেছেন নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে পুরাতন ভবন যেটা জড়াজীর্ণ ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ছিল পর্যটকদের জন্য। মন্দিরের সম্মানিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাহিরে থাকায় তাদের সাথে আমার দেখা হয়নি। তাদের সাথে ফোনে কথা হয়েছে। তারা আসলে তাদের সাথে আমরা বসবো কথা বলব তারা সেখানে কি উন্নয়নমূলক কাজ করবেন তা জানব। শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর ও তার পরিবার সম্পর্কিত কিছু তথ্যঃরাম ঠাকুরের পৈত্রিক বাড়ি ছিল শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার জপসায়। তাদের বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হলে রাম ঠাকুরের বাবা বেণীমাধব চক্রবর্তী ও কমলা দেবী ডিঙ্গামানিক ঠাকুরবাড়িতে চলে আসেন। যেহেতু কমলাদেবী একাই বাবা মায়ের সন্তান ছিলেন,তাই বাবার বাড়িতেই থেকে যান। সেই থেকেই ডিঙ্গামানিকে বসবাস শুরু হয় রাম ঠাকুর পরিবারের।পরবর্তীতে শ্রীশ্রী রামচন্দ্র দেব জন্ম গ্রহন করেন ডিঙ্গামানিক ঠাকুর বাড়িতে। রামঠাকুর জীবদ্দশায় ৪০ বছর হিমালয়ে ধ্যানমগ্ন ছিলেন। কলিহত জীবের উদ্ধারে শেষ বয়সে এসে শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ রামঠাকুর তিনি তার অমিয় বাণী শ্রীনাম প্রদান শুরু করেন। রাম ঠাকুরের জীবদ্দশায় তাঁর শেষ বয়সে ১৩৫৫ বঙ্গাব্দের ২৯ শে মাঘ ডিঙ্গামানিক শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়।রাম ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র শ্রী গিরীন্দ্রমোহন চক্রবর্তী মহাশয় কে ঠাকুর নিজেই প্রথম মোহন্ত হিসেবে মনোনীত করেন। সেই থেকেই ঠাকুরের নির্দেশমতো বংশপরম্পরায় মোহন্ত মনোনীত হয়ে থাকেন। ডিঙ্গামানিক শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় তিঁনি নোয়াখালীর চৌমুহনীতে শারীরিক অসুস্থতায় শয্যাশায়ী ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সনে ১লা মে অক্ষয় তৃতীয়া'র দিন পরম দয়াল শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ রামঠাকুর নোয়াখালীর চৌমুহনীতে দেহ রাখেন। সেখানে শ্রী রাম ঠাকুরের সমাধী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 

শরীয়তপুরের ঐতিহ্যবাহী রাম ঠাকুরবাড়িতে পুরাতনকে নতুনের আবহে সাজানোর মহাকর্মযজ্ঞ

রাম লালার চরণে কোটি কোটি টাকার প্রণামী রক্ষায় পকেটবিহীন পোশাক ও উচ্চপ্রযুক্তির নজরদারি

সনাতনীদের পরম শ্রদ্ধার কেন্দ্রবিন্দু এবং কোটি কোটি হিন্দু ভক্তের আস্থার প্রতীক অযোধ্যার ঐতিহাসিক রাম জন্মভূমি মন্দিরে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা জোরদারে নেওয়া হলো এক অভূতপূর্ব ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের নবনিযুক্ত মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক (সিইও) হিসেবে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরিচালিত ঐতিহাসিক 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময় ওয়েস্টার্ন কম্যান্ডের সফল দায়িত্ব পালনকারী এই বীর সেনা কর্মকর্তা পদে আসীন হইয়াই রামমন্দিরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও পরিচালনা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।​দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি ঘোষণা দেন যে, মন্দির প্রাঙ্গণে সংগৃহীত দৈনন্দিন কোটি কোটি টাকার প্রণামীর অর্থ সুষ্ঠুভাবে স্থানীয় ব্যাংকে পৌঁছানোর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সরাসরি ভিডিও রেকর্ডিংয়ের আওতায় আনা হবে। সিসিটিভি ক্যামেরার সর্বক্ষণিক কড়া নজরদারিতে পরিচালিত হবে প্রণামীর অর্থ গণনাকাজ এবং অর্থ বহনের ব্যাগ সিল করার প্রক্রিয়া। শুধু তাই নয়, ব্যাংকে টাকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্ধারিত ব্যাংকের গাড়িতেও উচ্চমানের ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে, যার সরাসরি সংযোগ থাকবে রামমন্দির মূল কন্ট্রোল রুমের সাথে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মন্দির প্রাঙ্গণে সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি করার পাশাপাশি পূর্বের সাধারণ ক্যামেরাগুলো পরিবর্তন করে অত্যাধুনিক উচ্চ-রেজোলিউশনের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে এই সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের মেয়াদ ৪৫ দিন থেকে বাড়িয়ে পূর্ণ ৬ মাস করা হয়েছে।​মন্দির পরিচালনার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় কর্মরত কর্মচারীদের পোশাক পরিবর্তন করে বিশেষ পকেটবিহীন পোশাক পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাছাড়া, মন্দিরে দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সুসংহত করতে কর্মীসহ তাদের পরিবারের পুলিশি যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশন নীতি জোরদার করা হয়েছে। কাকতালীয়ভাবে, সিইও হিসেবে জিতেন্দ্র মিশ্রের দায়িত্ব গ্রহণের দিনেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রামমন্দির পরিদর্শন করেন এবং রাম লালার বিশেষ পূজা সম্পন্ন করেন। এ সময় নবাগত সিইও-র সাথে মুখ্যমন্ত্রী যোগীর এক একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে যখন রামমন্দির ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভাবাবেগ নিয়ে নানা রাজনৈতিক জল্পনা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে অযোধ্যার পবিত্র রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের এই নতুন প্রশাসনিক সংস্কার সাধারণ সনাতনী ধর্মপ্রাণ ভক্তদের মনে গভীর আস্থা ও নিরাপত্তার নতুন বার্তা সঞ্চার করেছে।

রাম লালার চরণে কোটি কোটি টাকার প্রণামী রক্ষায় পকেটবিহীন পোশাক ও উচ্চপ্রযুক্তির নজরদারি

অবশেষে চন্দ্রনাথ ধামের জরাজীর্ণ বীর হনুমান মন্দিরের উন্নয়ন কাজ শুরু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথ ধামের জরাজীর্ণ বীর হনুমান মন্দিরের উন্নয়ন কাজ অবশেষে শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকা পবিত্র এই মন্দিরটির সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় ভক্ত ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।চন্দ্রনাথ ধামের বীর হনুমান মন্দিরের দীর্ঘদিনের বেহাল দশা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কথা বলা হলেও এতদিন দৃশ্যমানভাবে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়নি। অবশেষে মন্দিরটির উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পবিত্র এই স্থানের ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।চন্দ্রনাথ ধাম শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তীর্থক্ষেত্র। এখানে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনা। তবে এসবের মধ্যে আরও বেশ কিছু মন্দির ও অবকাঠামো বর্তমানে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।বীর হনুমান মন্দিরের উন্নয়ন কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে চন্দ্রনাথ ধামের অন্যান্য জরাজীর্ণ মন্দির ও স্থাপনাগুলোর সংস্কারেও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। ঐতিহাসিক এই তীর্থক্ষেত্রের ধর্মীয় গুরুত্ব ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় স্থাপনাগুলোর সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।তাদের প্রত্যাশা, বীর হনুমান মন্দিরের উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতায় চন্দ্রনাথ ধামের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্দির ও স্থাপনাগুলোর প্রতিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিশেষ দৃষ্টি দেবেন। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে পুরো চন্দ্রনাথ ধাম আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন রূপ লাভ করবে।দীর্ঘদিনের অবহেলার পর বীর হনুমান মন্দিরের উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়াকে তাই চন্দ্রনাথ ধামের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন বাকি মন্দির ও স্থাপনাগুলোর উন্নয়নেও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে সবার।

অবশেষে চন্দ্রনাথ ধামের জরাজীর্ণ বীর হনুমান মন্দিরের উন্নয়ন কাজ শুরু