শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
হিন্দুস নিউজ
Hindus News Voice of Hinduism
আপনার পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন Hindus News এ।

জাতীয়

নাজিরপুরে শিক্ষকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, পরিবারসহ হত্যার হুমকি

নাজিরপুরে শিক্ষকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, পরিবারসহ হত্যার হুমকি

পিরোজপুরের নাজিরপুরে প্রধান শিক্ষক কিশোর কুমার হালদারের কাছে ফোন করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাকে সপরিবারে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নাজিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই শিক্ষক।কিশোর কুমার হালদার (৫৪) উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বৈবুনিয়া গ্রামের নিরোদ বিহারী হালদারের ছেলে। তিনি শাঁখারীকাঠী ইউনিয়নের ৯৫ নম্বর বুড়িখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।জিডির বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে একটি নম্বর থেকে ফোন করে তার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দেওয়ার জন্য শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় হুমকিদাতা। দাবি পূরণ না করলে শিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলে জানানো হয়।কিশোর কুমার হালদার জানান, ফোনদাতা তাকে ও তার পরিবারকে হামলার লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়ার কথা বলে। রক্ষা পেতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা দিতে বলা হয়। এই হুমকির পর নিরাপত্তাহীনতায় তিনি তার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র মেয়েকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে রাত কাটান।ওই শিক্ষক আরও জানান, গত বছর তার চাচাতো ভাই সঞ্জীব হালদারকে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার পর এবার পরিবারসহ হত্যার হুমকি পাওয়ায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ফোন করে প্রধান শিক্ষকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং টাকা না দিলে সপরিবারে হত্যার হুমকির ঘটনায় জিডি হয়েছে। হুমকিদাতার সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।

রাঙ্গুনিয়ায় সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন সনাতনী নারী

রাতের নির্জন সড়ক। চারপাশে নীরবতা। সেই সড়কের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাচ্ছিলেন এক নারী। শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন, অথচ অসহায় সেই মুহূর্তে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই ছিলেন নীরব দর্শক। কেউ ছবি তুলছিলেন, কেউ ভিডিও করছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত মানবিকতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতৃবৃন্দ।চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক সনাতনী নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কাপ্তাই সড়কের চন্দ্রঘোনা চারাবটতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে কাপ্তাই সড়কের চন্দ্রঘোনা চারাবটতল এলাকায় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাতনামা গাড়ি ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে সড়কের ওপর পড়ে থাকেন তিনি।দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে কাতরালেও উপস্থিত অনেকেই তাকে উদ্ধারে এগিয়ে না এসে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের কয়েকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে আহত নারীকে উদ্ধার করেন।পরে তারা দ্রুত আহত নারীকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পান ওই অসহায় নারী।এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহত নারীর ছবি ছড়িয়ে পড়লে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়নের নাথপাড়া গ্রামের সুভাষ নাথের স্ত্রী বিনা নাথ (৫০) বলে জানা যায়।পরিবারের সদস্যরা জানান, বিনা নাথ মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন এবং বুধবার বিকেল থেকেই নিখোঁজ ছিলেন।বিনা নাথের সন্তান নয়ন নাথ জানান, বুধবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে ধোপপুল এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তার মা নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনায় আহত এক নারীর ছবি দেখে তারা হাসপাতালে গিয়ে মায়ের পরিচয় নিশ্চিত করেন।রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বিনা নাথের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পরিবারের সদস্যরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।ঘটনাটি শুধু একটি সড়ক দুর্ঘটনার খবর নয়; এটি যেন বিপদের মুহূর্তে মানুষের মানবিক দায়িত্ববোধেরও একটি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় একজন মানুষ যখন সড়কে পড়ে কাতরাচ্ছেন, তখন সেই মুহূর্তে একটি ছবি বা ভিডিওর চেয়ে একটি সহায়তার হাতই যে কত বেশি মূল্যবান—বিনা নাথের ঘটনাটি তা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে।স্থানীয়রা বলেন, দুর্ঘটনার পর আহত মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। ছবি বা ভিডিও ধারণের আগে একজন বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত সবার প্রথম দায়িত্ব। উদ্ধারকারী নেতৃবৃন্দও দুর্ঘটনাকবলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দায়িত্ব পালনে সমাজের সবাইকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়ায় সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন সনাতনী নারী

হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারক হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে শপথ পড়ান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।এর আগে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার শপথ নেয়ার কথা জানানসুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে স্থায়ী করে সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সন্তান। ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। একই সময় নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন অতিরিক্ত বিচারপতিকে ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্থায়ী করা হলেও দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে ওই সময় স্থায়ী করা হয়নি।ব্রিটেন থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর দেবাশীষ রায় চৌধুরী ২০০৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।২০০৭ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী এবং ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

সম্পত্তি দান করেও আজীবন ভোগাধিকারের সুযোগ: হিন্দু পরিবারের জন্য সম্ভাবনা ও প্রশ্ন

সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে থাকেন অনেক মা–বাবা। বিশেষ করে মেয়ের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগ্রহী হিন্দু পরিবারগুলোর সামনে প্রায়ই প্রশ্ন আসে—সম্পত্তি দান করার পর বৃদ্ধ বয়সে তাঁদের আশ্রয় ও জীবিকার নিশ্চয়তা থাকবে কি না। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী সেই উদ্বেগ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজ্ঞরা। তবে এই ব্যবস্থায় হিন্দু নারীর উত্তরাধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে না; সম্পত্তির মালিকের স্বেচ্ছায় দানের সিদ্ধান্তই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।প্রথম আলোয় ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তপতী বর্মনের একটি মতামতধর্মী লেখায় সংশোধনীর সম্ভাব্য প্রভাব, আইনজ্ঞদের মূল্যায়ন এবং কয়েকটি হিন্দু পরিবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। ওই লেখার তথ্য অনুযায়ী, দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণের বিধান রেখে গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল পাস হয়। এই ব্যবস্থার মূল তাৎপর্য হলো, সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে দাতার নিজের জীবনকালীন নিরাপত্তার বিষয়টিও যুক্ত করা।সংশোধনীটি হিন্দু পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করতে পারে। প্রচলিত উত্তরাধিকারব্যবস্থায় অনেক নারী পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানা থেকে বঞ্চিত হন। অন্যদিকে স্বামীর সম্পত্তিতে সীমিত অধিকার পাওয়া নারীরাও প্রয়োজনের সময় স্বাধীনভাবে আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধার মুখে পড়েন। ফলে সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও সংকট মোকাবিলায় তাঁদের স্বজনদের ওপর নির্ভর করতে হয়।প্রথম আলোর লেখায় উল্লিখিত সুবর্ণা দেবীর অভিজ্ঞতায় সেই বাস্তবতা উঠে এসেছে। মা–বাবার মৃত্যুর পর তাঁদের সম্পত্তি দুই ছেলের হাতে গেলেও দুই মেয়ে কোনো অংশ পাননি। পরে অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তায় পড়েন সুবর্ণা। স্বামীর সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার থাকলেও তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তাঁর আর্থিক স্বাধীনতাকে সংকুচিত করেছে বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়।একই পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সম্পত্তির ব্যবস্থা করতে গিয়েও দেখা দিয়েছে দ্বিধা। সুবর্ণার এক ভাই নিজের দুই মেয়েকে সম্পত্তি দিতে চান, যাতে ভবিষ্যতে তাঁদের একই পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়। কিন্তু সম্পত্তি হস্তান্তরের পর নিজের ও স্ত্রীর দেখভাল নিয়ে তাঁর উদ্বেগ রয়েছে। দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা এমন পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ করতে পারে।ওই লেখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার ব্যাখ্যা করেছেন, সংশোধনীটি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রচলিত পারিবারিক উত্তরাধিকার আইনকে প্রতিস্থাপন করছে না। নিজ নিজ উত্তরাধিকারব্যবস্থার পাশাপাশি জীবদ্দশায় সম্পত্তি দান করতে আগ্রহী নাগরিকদের জন্য এটি একটি অতিরিক্ত সুযোগ। অর্থাৎ, কেউ নিজের ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে ছেলে বা মেয়েকে সম্পত্তি দিতে চাইলে এই ব্যবস্থার প্রাসঙ্গিকতা তৈরি হবে।আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথও সংশোধনীকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন বলে মূল লেখায় জানানো হয়েছে। তাঁর মূল্যায়নে, যেসব হিন্দু পরিবারে শুধু মেয়েসন্তান রয়েছে, সেসব পরিবারের জন্য এর বিশেষ উপযোগিতা থাকতে পারে। সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর নিজেদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে—মা–বাবার এমন আশঙ্কা কমাতে দাতার অধিকার সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।তবে ব্যবস্থাটির প্রয়োগ নিয়ে কিছু প্রশ্নও সামনে এসেছে। প্রথম আলোর লেখায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আইনজীবী জীবনকালীন ভোগাধিকারের পরিধি আরও স্পষ্ট করার প্রয়োজনের কথা বলেছেন। দাতা কী ধরনের ব্যবহার ও সুবিধা ভোগ করতে পারবেন, সেই অধিকারে বাধা এলে কীভাবে প্রতিকার পাবেন—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। সম্পত্তির পূর্ণ মালিকানা ও ভোগাধিকারকে একই অর্থে বিবেচনা করা হলে পরিবারে নতুন বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়।সংশোধনীর সীমাবদ্ধতা নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথাও রয়েছে লেখাটিতে। দীপা সরকার মা–বাবার দৈনন্দিন প্রয়োজন ও অসুস্থতায় পাশে থেকেও বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তির অংশ পাননি। তাঁর অভিজ্ঞতায়, সন্তান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পত্তিতে স্বীকৃতি পাওয়ার সম্পর্ক সব সময় সমান নয়। দানের ব্যবস্থা স্বেচ্ছাধীন হওয়ায় পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি না বদলালে অনেক মেয়েই এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।পূর্ণিমা বসাকের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে সময়মতো সম্পত্তির ব্যবস্থা সম্পন্ন না হওয়ার পরিণতি। তাঁর বাবা ছেলে ও মেয়েকে সমানভাবে সম্পত্তি দিতে চাইলেও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করার আগেই মারা যান বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর সম্পত্তির অংশ চাওয়া নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। মেয়ের বিয়েতে ব্যয় করাকে সম্পত্তি না দেওয়ার যুক্তি হিসেবে তুলে ধরার অভিজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি।স্ত্রীর এই অভিজ্ঞতা থেকে পূর্ণিমার স্বামী বিধান বসাক নিজের সন্তানদের জন্য আগেই সম্পত্তির ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মূল লেখায় জানানো হয়। তাঁর উদ্দেশ্য, ভবিষ্যতে ছেলে–মেয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে দূরত্ব ও বিরোধের আশঙ্কা কমানো। এমন উদ্যোগে দাতার জীবদ্দশার নিরাপত্তা বজায় রাখার সুযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হতে পারে।বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পুলক ঘটকও নারীর সম্পত্তির মালিকানাকে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন। মূল লেখায় তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্পত্তিতে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে হিন্দু নারীদের সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে।এসব অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়নে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—জীবদ্দশায় স্বেচ্ছায় সম্পত্তি দেওয়ার সুযোগ এবং উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার পৃথক বিষয়। আলোচিত সংশোধনী প্রথম ক্ষেত্রটিতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু নিজে থেকেই দ্বিতীয় ক্ষেত্রের বৈষম্য দূর করে না। এর সুফল তাই নির্ভর করবে সম্পত্তির মালিকের সিদ্ধান্ত, পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দাতার সংরক্ষিত অধিকার বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত হচ্ছে, তার ওপর।তথ্যসূত্র: প্রথম আলোয় প্রকাশিত তপতী বর্মনের মতামত, ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী: হিন্দু পরিবার কী সুফল পাবে’, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

সম্পত্তি দান করেও আজীবন ভোগাধিকারের সুযোগ: হিন্দু পরিবারের জন্য সম্ভাবনা ও প্রশ্ন

২২ ভরি সোনা নিয়ে পলাতক ব্যবসায়ী ঢাকায় আটক

লক্ষ্মীপুরে চারটি জুয়েলারি দোকান থেকে গ্রাহককে দেখানোর কথা বলে নেওয়া প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ ওঠা ব্যবসায়ী রণজিত পালকে ঢাকায় আটক করেছে পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে, তার কাছ থেকে নেওয়া স্বর্ণালংকারগুলোও উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আলমগীর হোসেন ও জেলা বাজুসের সভাপতি সমীর কর্মকার।আটক রণজিত পাল লক্ষ্মীপুর বাজারের স্বর্ণকার সড়কের পাল শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী। তিনি পরিবার নিয়ে শহরের শাঁখারিপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়।স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রায় ৩০ বছর ধরে লক্ষ্মীপুর বাজারে সোনার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রণজিত। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে অন্য জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা তার ওপর আস্থা রাখতেন।তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন দোকান থেকে গহনা নিয়ে তিনি গ্রাহকদের দেখাতেন এবং বিক্রি করতেন। সেই পরিচিতি ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের সুযোগেই তাকে গহনা দেওয়া হতো।সোমবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে লক্ষ্মীপুর বাজারের চারটি জুয়েলারি দোকান থেকে একইভাবে গ্রাহককে দেখানোর কথা বলে প্রায় ২২ ভরি স্বর্ণালংকার নেন রণজিত।তবে পরে গহনাগুলো ফেরত না দিয়ে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।সন্ধ্যা পর্যন্ত তার নিজের দোকান খোলা থাকলেও সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে শাঁখারিপাড়ার ভাড়া বাসায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রণজিত পালিয়ে গেছেন বলেও ধারণা করেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন তমা শিল্পালয়ের পলাশ কুরী, বণিক শিল্পালয়ের সাগর বণিক, পুনম শিল্পালয়ের ঝুটন কুরী এবং শিবানী শিল্পালয়ের অসীম কর।তমা শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী পলাশ কুরী বলেন, সোনা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরে পুলিশ রণজিতকে আটক করেছে।লক্ষ্মীপুর জেলা বাজুসের সভাপতি সমীর কর্মকার বলেন, বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২২ ভরি সোনা নিয়ে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিকে ঢাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে পুরো সোনাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আলমগীর হোসেন জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ঢাকা থেকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে লক্ষ্মীপুরে নিয়ে আসা হচ্ছে।ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

২২ ভরি সোনা নিয়ে পলাতক ব্যবসায়ী ঢাকায় আটক

শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে জয় সিং সহ নিহত ২, আহত ৫

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার লচনা বাজার এলাকায় সাতগাঁও হাইওয়ে থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরবগঞ্জ বাজারের মাজদিহি এলাকার বাসিন্দা অমৃত সিংয়ের ছেলে জয় সিং (২৩)। নিহত অপর দুজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে শ্রীমঙ্গল থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশে ছেড়ে যায় আলম এশিয়া পরিবহনের একটি বাস। বাসটি লচনা বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর অটোরিকশাটির কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। সত্য সনাতন টিভি পরে আহত তিনজনকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাভীদ রাইয়ান বিন শহিদ বলেন, রাত ৯টার দিকে তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। তাঁদের মধ্যে জয় সিংয়ের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। অপর দুজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শ্রীমঙ্গলে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে জয় সিং সহ নিহত ২, আহত ৫

জিন্নাহ হিন্দু ছিলেন, বাবা বিক্রি করতেন মাছ’ - সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রেতা ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।​ফজলুর রহমান বলেন, “মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাড়ি ছিল গুজরাটে। গুজরাটের একটি মাছ বিক্রেতা পরিবারে তার জন্ম। জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন। সেখানে যারা মাছ বিক্রি করতেন, তাদের ‘পুঞ্জা’ বলা হতো। তার প্রকৃত নাম ছিল জিন্নাহ পুঞ্জা। তিনি হিন্দু ছিলেন।” (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​তিনি আরও যোগ করেন, “মাছ বিক্রি করার কারণে উচ্চবর্ণের হিন্দু সমাজ তাদের ঘৃণা করত। সেজন্য পরবর্তী সময়ে তারা মুসলমান হয়ে যান এবং নাম পরিবর্তন করে রাখেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।”​মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ফজলুর রহমান বলেন, “আমি কেবল মুক্তিযুদ্ধ করিনি, আমি মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিতও করেছি। বাংলাদেশের পতাকা যে রাতে তৈরি হয়েছিল, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। শিব নারায়ণ দাসের ঘনিষ্ঠ কর্মী ছিলাম আমি।” এ সময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

জিন্নাহ হিন্দু ছিলেন, বাবা বিক্রি করতেন মাছ’ - সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান

নিজ আসনে মন্দির-মসজিদে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদান

নিজ সংসদীয় আসন ঢাকা-১৭-এর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষ আর্থিক অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও মন্দিরের প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুদানের অর্থ তুলে দেন। দেশের সর্বস্তরের সনাতনী ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ঐতিহ্যগত ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় করতেই এই আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।​রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সনাতন ও সামাজিক কল্যাণমূলক অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ দেশে সকল সম্প্রদায়ের সমান অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')। মূলত গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, বারিধারা ও ভাষানটেকসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

নিজ আসনে মন্দির-মসজিদে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদান

গণমাধ্যমকে কুক্ষিগত নয়, স্বাধীন কাজের পরিবেশ দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সংস্কৃতিমন্ত্রী

সরকারের কার্যক্রমে কোনো ভুল বা ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই চন্দ্র রায়। গণমাধ্যমকে কোনোভাবে কুক্ষিগত না করে স্বাধীনভাবে কাজ করার পূর্ণ সুযোগ দিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।​বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সময় টেলিভিশন কার্যালয় পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন। সফরকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই চন্দ্র রায় সময় টেলিভিশনের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং সাংবাদিকসহ কর্মরত অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​পরিদর্শনকালে সময় মিডিয়া লিমিটেডের সিইও সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু এবং হেড অব নিউজ মুজতবা খন্দকার মন্ত্রীকে কার্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও সম্প্রচার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশ ও জাতির সামনে নির্ভীকভাবে সত্য তুলে ধরাই হলো প্রকৃত সংবাদমাধ্যমের মূল দায়িত্ব।​বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে মন্ত্রী নিতাই চন্দ্র রায় আরও জানান, শুধু শাসকদলের বক্তব্য বা এজেন্ডা প্রচার নয়, বরং দলমত ও জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের প্রতিটি মানুষের কথা ও অধিকারের বিষয়গুলো গণমাধ্যমে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কথা প্রকাশ করবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গণমাধ্যমকে কুক্ষিগত নয়, স্বাধীন কাজের পরিবেশ দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সংস্কৃতিমন্ত্রী

রাঙ্গুনিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গীতা শিক্ষিকা সুলেখা রানী সাহার পরলোকগমন

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের নিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা, হোসনাবাদ দুর্গাবাড়ীর গীতা শিক্ষিকা সুলেখা রানী সাহা পরলোকগমন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়, গীতা শিক্ষার্থী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুলেখা রানী সাহা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে অবদান রাখেন। পরবর্তী সময়ে তিনি হোসনাবাদ দুর্গাবাড়ীর গীতা শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ধর্মীয় শিক্ষা, গীতার বাণী ও নৈতিক মূল্যবোধ শিশু-কিশোরদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।তাঁর কাছ থেকে গীতা শিক্ষা নেওয়া শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাঁকে একজন শ্রদ্ধাভাজন, স্নেহশীল ও ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। তাঁর মৃত্যুতে দুর্গাবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলেখা রানী সাহার প্রতি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মো. নাজমুল হাসান উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত সবাই তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের প্রতি তাঁর অবদান এবং গীতা শিক্ষিকা হিসেবে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে তাঁর ভূমিকা স্থানীয় সনাতন সমাজে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।সুলেখা রানী সাহার পরলোকগমনে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, গীতা শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁরা তাঁর বিদেহী আত্মার সদ্গতি ও শান্তি কামনা করেছেন।

রাঙ্গুনিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গীতা শিক্ষিকা সুলেখা রানী সাহার পরলোকগমন

যেখানে মন্দির শুধুই উপাসনালয়, মানুষ গড়ার পাঠশালা নয়: হরিজন কলোনির করুণ বাস্তবতা

বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রায় প্রতিটি হরিজন কলোনিতে বাসিন্দাদের নিজস্ব অকৃত্রিম আবেগ ও নিষ্ঠায় গড়ে উঠেছে একটি করে কেন্দ্রীয় মন্দির। সকাল-সন্ধ্যা প্রদীপ প্রজ্বলন, ধূপের সুবাস আর নিয়মিত আরাধনার মধ্য দিয়ে এই মন্দিরগুলো হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের আত্মিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। তবে এই ধর্মীয় আবহের অন্তরালে লুকিয়ে আছে এক গভীর ও বেদনাদায়ক শূন্যতা। দেশের অধিকাংশ হরিজন কলোনির কেন্দ্রীয় মন্দিরে নেই কোনো স্থায়ী ধর্মগুরু বা পুরোহিত। ফলে সনাতন ধর্মের মূলধারা থেকে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বেড়ে উঠছে তাদের কোমলমতি শিশুরা। শৈশব থেকেই তারা বঞ্চিত হচ্ছে মৌলিক ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা থেকে, যা একটি সুস্থ ও আত্মমর্যাদাশীল সমাজ গঠনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।​একটি শিশুর চরিত্র গঠন, আদর্শ জীবনচেতনা ও আত্মপরিচয় বিকাশে পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু হরিজন কলোনিগুলোর现实 চিত্র অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। কলোনিতে চকচকে মন্দির প্রাঙ্গণ থাকলেও সেখানে নিয়মিত কোনো গীতা পাঠ, ধর্মীয় নীতিশিক্ষা কিংবা সনাতন সংস্কৃতির সারমর্ম চর্চা করার সুযোগ নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা পূজা-পার্বণের বাহ্যিক ঢাক-ঢোল ও ধর্মীয় আচারগুলো দেখলেও সনাতন ধর্মের গূঢ় দর্শন, সত্য, সুন্দর ও মানবতার মূল বার্তা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে।​এই সংকট অনুসন্ধানে কলোনির বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্রের উদাসীনতার শিকার। মূলত তীব্র অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেই আজ এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দিনরাত পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করা এসব পরিবারের পক্ষে নিজেদের সীমিত আয়ে স্থায়ীভাবে সম্মানজনক সম্মানি দিয়ে একজন পুরোহিত বা ধর্মগুরু রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অন্যদিকে, দেশের বড় বড় সনাতন ধর্মীয় সংগঠন বা অধিকার রক্ষা আন্দোলনের তরফ থেকেও প্রান্তিক হরিজন কলোনির মন্দিরগুলোর প্রতি প্রয়োজনীয় নজর দেওয়া হয়নি। ফলে অবহেলা আর অযত্নে কলোনির এই পবিত্র স্থানগুলো কেবল নামমাত্র উপাসনালয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে মানুষ গড়ার কোনো পাঠশালা নেই।​মানবাধিকার গবেষকদের মতে, ধর্মীয় ও সুনির্দিষ্ট নৈতিক শিক্ষার অনুপস্থিতিতে প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই শিশুরা সহজেই বিপথগামী হওয়ার চরম ঝুঁকিতে থাকে। অথচ সঠিক ধারার ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ পেলে এসব শিশু নিজেদের শিকড় ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারত এবং সব বিভেদ ভুলে আত্মমর্যাদা নিয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারত। কলোনির সচেতন মহল ও অধিকারকর্মীরা অবিলম্বে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টসহ দেশের শীর্ষ সনাতনী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সংকট উত্তরণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। স্বেচ্ছাসেবী তরুণ সংগঠনগুলোও যদি অন্তত সপ্তাহে একদিন এই শিশুদের মাঝে গীতা শিক্ষা ও নৈতিক পাঠ দানের উদ্যোগ নেয়, তবে এই অন্ধকারের মেঘ কাটতে শুরু করবে। মন্দির কেবল প্রার্থনার জায়গা নয়, এটি মানবতা ও নৈতিকতার উৎস কেন্দ্র; হরিজন কলোনির মন্দিরগুলোতে অবিলম্বে ধর্মগুরু নিয়োগ নিশ্চিত করে এই অবহেলিত শিশুদের মাঝে আলোর দিশা ছড়িয়ে দেওয়া আজ সময়ের দাবি।

যেখানে মন্দির শুধুই উপাসনালয়, মানুষ গড়ার পাঠশালা নয়: হরিজন কলোনির করুণ বাস্তবতা

সাত মাসে দুই হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ, সারাদেশে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার ও নিরাপত্তার মৌলিক ঘাটতির এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একের পর এক শিশু নিখোঁজ ও গুমের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। দেশের সকল জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষের নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার তাগিদ দিয়ে সংগঠনটি অবিলম্বে নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধার ও অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।​পুলিশের সদর দপ্তর ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই—এই সাত মাসে দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় বিপুল সংখ্যক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। মোট ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডির বিপরীতে ১৩ হাজার ৬৭৯ জন শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও ২ হাজার ৩৮ জন শিশুর কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজদের মধ্যে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর সংখ্যাই বেশি, যাদের মধ্যে ১ হাজার ৯৭০ জন এখনও পরিবারের কাছে ফিরতে পারেনি।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​শিশুদের এই আকস্মিক ও রহস্যজনক অন্তর্ধান সারাদেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতার আবহ তৈরি করেছে। খেলার মাঠ থেকে, স্কুল থেকে ফেরার পথে কিংবা সামান্য প্রলোভন দেখিয়ে শিশুদের তুলে নেওয়ার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে দেশের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত সামাজিক নিরাপত্তার শিকড় আজ কতটা নড়বড়ে। দীর্ঘ দিন ধরে নিখোঁজ এসব অবোধ শিশু কোনো আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক পাচারকারী চক্রের শিকার হচ্ছে কি না, কিংবা তাদের কোনো জঘন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না—তা নিয়ে জনমনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।​বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মতে, শিশুদের জীবনের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মানবাধিকারের দায়িত্ব। নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানে প্রশাসনের নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো, নিখোঁজের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এসব ঘটনার পেছনে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হচ্ছে। দেশের প্রতিটি শিশুর জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে তা কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ধস নয়, বরং একটি সভ্য সমাজের জন্য চরম ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হবে।

সাত মাসে দুই হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ, সারাদেশে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ

​মেট্রিক ফেল দুরন্ত কিশোর থেকে সংবিধান প্রণেতা: সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মহাজীবন

তৃণমূলের মাটি থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির মূল মঞ্চে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করা নেতৃত্বের সংখ্যা আমাদের ইতিহাসে খুব বেশি নয়। তেমনই এক বর্ণাঢ্য, ব্যতিক্রমী ও অবিসংবাদিত জননেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ভাটি অঞ্চলের হাওর-বেষ্টিত প্রত্যন্ত জনপদ থেকে যাত্রা শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান প্রণেতাদের একজন হয়ে ওঠার ইতিহাস কোনো সাধারণ গল্প নয়, বরং কঠোর সংগ্রাম ও মেধার এক অনন্য আখ্যান।​ছোটবেলায় আর দশটা দুরন্ত কিশোরের মতোই চঞ্চল ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। পড়াশোনায় মনোযোগ না থাকায় মাধ্যমিক পরীক্ষায় একাধিকবার ব্যর্থতার মুখ দেখতে হয়েছিল তাঁকে। নাটকের মঞ্চ ও যাত্রাপালার প্রতি ছিল তাঁর অদম্য আকর্ষণ। কিন্তু এই বাহ্যিক ব্যর্থতা ও দুরন্তপনাই যে তাঁর জীবনের শেষ কথা ছিল না, তা তিনি প্রমাণ করেছেন পরবর্তী প্রতিটি পদক্ষেপে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে আইনজীবী হিসেবে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন এবং দ্রুতই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) হয়ে প্রসূতি স্বাধীন ভূখণ্ডের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর যে পদচারণা শুরু হয়েছিল, তা স্বাধীনতার পর আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেওয়া এই নেতা স্বাধীন বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র রচনায় যে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা তাঁকে দেশের সনাতনী সম্প্রদায়সহ সমগ্র দেশবাসীর কাছে এক উজ্জ্বল ও চিরস্মরণীয় আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।​সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে তাঁকে ‘ছোট দলের বড় নেতা’ হিসেবে অভিহিত করাটাই সমীচীন। সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই জননেতা আইন ও সংসদীয় বিষয়ে যে পরিমাণ বুৎপত্তি প্রদর্শন করেছিলেন, তা বিরল। তাঁর তীক্ষ্ণ যুক্তি, ক্ষুরধার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং অনুপম রসবোধের কারণে জাতীয় সংসদে তাঁর বক্তব্য শুনতে প্রতিপক্ষ দলের সদস্যরাও সাগ্রহে অপেক্ষা করতেন। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেই হোক কিংবা হাওরাঞ্চলের ‘সেনদা’ বা ‘দুখু সেন’ হিসেবে সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর সময়েই হোক—সুবাস্তব ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি আমরণ লালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে সাফল্য ও বিতর্কের আলো-ছায়া থাকলেও, নিজ ভূখণ্ড ও মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ছিল প্রশ্নাতীত। ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এই মহাপ্রাণের তিরোধানের পর তাঁর জন্মভূমি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের আনোয়ারপুরে নিজ হাতে রোপণ করা চন্দনগাছের কাঠে সম্পন্ন হয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। হাওরের কাদা-জল থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির সর্বোচ্চ চূড়া স্পর্শ করা এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রমাণ করে গেছেন, ব্যর্থতা জীবনের শেষ কথা নয়—বরং প্রগতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধই একজন মানুষকে ইতিহাসে অমর করে রাখে।

​মেট্রিক ফেল দুরন্ত কিশোর থেকে সংবিধান প্রণেতা: সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মহাজীবন

রাষ্ট্রীয় নীতি ও উন্নয়নে সকল ধর্মের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: জে এম সেন হলে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী

বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সনাতন, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ দেশের সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমস্যা ও প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েই সরকারের নীতি ও কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, দেশে সামাজিক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন মানবাধিকার রক্ষায় বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর এবং কোনো বিশেষ ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে প্রকৃত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব নয়।​শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী রহমতগঞ্জ জে এম সেন হলে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদারের সভাপতিত্বে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সুবিধার বিষয়ে সরকারের নীতি তুলে ধরে বলেন, সরকার কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে সকল ধর্মাবলম্বী মানুষের জীবনমান ও নিরাপত্তার পরিবর্তন ঘটাতে চায়। তিনি জানান, মসজিদে যেভাবে অনুদান দেওয়া হচ্ছে, ঠিক তেমনিভাবে মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়েও অনুদান প্রদান করা হয়েছে। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের পাশাপাশি সনাতন ধর্মের পুরোহিতদের জন্য রাষ্ট্রীয় অনুদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের গৃহিণীদের সহায়তা এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড বিতরণের মতো সরকারের সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে কোনো ধর্মীয় বিভেদ রাখা হয়নি।​দেশের সংখ্যালঘু ও সনাতনী সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, যেকোনো সমস্যা বা সংকটে সরাসরি সরকারের কাছে আসার জন্য তাঁর দরজা সর্বদা উন্মুক্ত। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') তিনি সনাতনী সমাজকে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা স্বার্থান্বেষী মহলকে নিজেদের ‘সমস্যার ফেরিওয়ালা’ না বানানোর অনুরোধ জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু অসাধু গোষ্ঠী ও মধ্যস্বত্বভোগী বহুত্ববাদী সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে নিজস্ব স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা চালায়, তাই সকল নাগরিককে কোনো তৃতীয় পক্ষের আশ্রয় না নিয়ে সরাসরি সরকারের কাছে অধিকার ও দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানানো হচ্ছে।​অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে অরাজনৈতিক সরকারগুলোর নীতিহীন পরিচালনায় সমাজে যে সামাজিক অবক্ষয় ও পারস্পরিক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে গত ছয় মাসে দেশের সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সকল সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মানবোধের ক্ষেত্রে এক গুণগত পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। সব ধর্ম ও বর্ণ-নির্দিষ্ট মানুষের সমান অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিস কুমার এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম। এছাড়া মহাসমাবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের শীর্ষনেতৃবৃন্দ, দেশবরেণ্য সামাজিক ব্যক্তিত্ব, সাধারণ ভক্তবৃন্দ এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রীয় নীতি ও উন্নয়নে সকল ধর্মের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: জে এম সেন হলে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী

কাহারোলে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলো জন্মাষ্টমী

 দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলা কেন্দ্রীয় হরিমন্দির প্রাঙ্গণে প্রার্থনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় হরিমন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।পরে হরিমন্দির প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা জন্মাষ্টমী কমিটির আহ্বায়ক নির্মল কুমার রায়ের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা রথযাত্রা মহোৎসব কমিটির সভাপতি ও সাংবাদিক জয়ন্ত চন্দ্র দেবশর্মার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাদশা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম আলী ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. সাদেকুল ইসলাম সাদেক।অনুষ্ঠানে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শ্যামল চন্দ্র বর্মন, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সদস্যসচিব নিরোদ রায়, পূজা উদযাপন পরিষদের সাংবাদিক সুকুমার রায়সহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।ধর্মীয় আলোচনায় বক্তারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ, ন্যায়, সত্য ও মানবকল্যাণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।আলোচনা শেষে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী উদযাপনের কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

 কাহারোলে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলো জন্মাষ্টমী

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

জাতীয় সংসদে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে কমিটি পুনর্গঠনের এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করলে সংসদ তা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করে।ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার, ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসন-১৪–এর সংসদ সদস্য মোছা. সাবিরা সুলতানা, যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুল এবং রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী।

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়