হিন্দুস নিউজ

জাতীয়

ধর্ম ও পরিচয় যেন না হয় বাধা, সম-অধিকারের নতুন প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

ধর্ম ও পরিচয় যেন না হয় বাধা, সম-অধিকারের নতুন প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

নাগরিকের ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয় যেন কোনো অবস্থাতেই অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শীর্ষ প্রতিনিধি দলের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।​শারদীয় দুর্গাপূজা ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান উপলক্ষে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের নানা দীর্ঘদিনের সমস্যা, অধিকার ও দাবি-দাওয়া সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে প্রতিনিধি দলের কথা শোনেন এবং জানান যে, কোনো ধরনের বৈষম্য না রেখে প্রতিটি সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি বলেন, নাগরিকদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং সরকারের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে তা সমাধানের চেষ্টা থাকবে।​মতবিনিময়কালে অসাম্প্রদায়িক চেতনা জোরদারকরণ এবং সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় সরকারের আন্তরিকতার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বৃদ্ধি করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তাঁরা মন্তব্য করেন, এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে উৎসবের আনন্দ দেশজুড়ে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শনের উদাত্ত আহ্বান জানান।​অনুষ্ঠানের শেষভাগে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের সুবিধার্থে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের হাতে বিশেষ অনুদানের অর্থ বরাদ্দ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে প্রাথমিক আবেদন করা হলেও সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক কল্যাণ বিবেচনা করে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে চাওয়া অনুদানের চেয়ে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করা হয়। এই বরাদ্দের অর্থ জেলা প্রশাসন ও সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। সভায় বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতা, সংসদ সদস্য এবং হিন্দু-বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবীণ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে 'গুণী শিক্ষক' সম্মাননা পাচ্ছেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অরুণ কুমার বসাক

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বাংলাদেশের গর্ব ও প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একমাত্র ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘গুণী শিক্ষক অ্যাওয়ার্ড’ পেতে যাচ্ছেন। পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এই বিরল সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন তিনি। পাবনার সন্তান অরুণ কুমার বসাকের বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে রাধানগর মজুমদার একাডেমী থেকে প্রথম বিভাগে মেট্রিকুলেশন পাশের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েটে সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে ১৯৬১ সালে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে অনার্স এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ সালে স্নাতকোত্তরেও ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট স্থান অর্জন করেন। ঐ বছরই তিনি নিজ বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দিয়ে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন।  ​১৯৬৫ সালে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ইম্পেরিয়াল কলেজে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ পেলেও তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে তাঁর পাসপোর্ট জব্দ করা হয় এবং তিনি বিদেশে যেতে বাধাগ্রস্ত হন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথ পোস্ট গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে গমন করেন এবং বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে সফলভাবে পিএইচডি অর্জন করেন। দীর্ঘ মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শেষে ২০০৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন এবং ২০০৯ সালে সম্মানজনক ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে ভূষিত হন।​তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ও 'স্কুল অব ফিজিকাল সায়েন্স' অনুষদের ডীন হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর হাত ধরেই কম্পিউটার সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে প্রথম কম্পিউটার স্থাপিত হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্ট ইউনিভার্সিটি ও সাউদর্ন ইলিনইস ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং ও রিসার্চ প্রফেসর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​নিউক্লীয় তত্ত্বের মৌলিক গবেষণায় তাঁর অবদান সর্বজনবিদিত। বাংলা একাডেমি থেকে তাঁর লেখা "ব্যবহারিক পদার্থবিজ্ঞান" বইটি প্রকাশিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের মানসম্পন্ন জার্নালে তাঁর ১৩৯টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং তাঁর মোট সাইটেশন সংখ্যা ১৫৭১টি। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স গোল্ড মেডেল সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সম্মাননায় তিনি ভূষিত হয়েছেন। তাঁর নামে প্রতি বছর মেধাবী শিক্ষার্থীদের "প্রফেসর বসাক পুরস্কার ও বৃত্তি" প্রদান করা হয়। চরম প্রতিকূলতা ও বৈষম্য পেরিয়ে বিজ্ঞান সাধনায় অর্জিত তাঁর এই মহান অর্জন গোটা সনাতন সমাজ তথা সমস্ত জাতির জন্য এক পরম গৌরবের বিষয়।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে 'গুণী শিক্ষক' সম্মাননা পাচ্ছেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অরুণ কুমার বসাক

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, অবশেষে নিয়োগ পাচ্ছেন স্থায়ী ঠিকানা না থাকা মিশন আচার্য

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও কেবল নিজস্ব স্থায়ী বসতভিটা না থাকার অমানবিক অজুহাতে এতদিন নিয়োগপত্র পাননি ঝিনাইদহের প্রান্তিক ও অনাথ পরিবারের সন্তান মিশন আচার্য। মেধা তালিকায় ১৭তম স্থান অর্জন করা সত্ত্বেও ১৮২ জনের মধ্যে যে দুজনকে নিয়োগ বঞ্চিত রাখা হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। ছোটবেলায় পিতৃহীন হয়ে চরম দারিদ্র্য ও অভাবের সাথে সংগ্রাম করে মায়েরা অশেষ কষ্টে বড় করা এই যুবক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে সাফল্যের সাথে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন। জীবনের বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে প্রাথমিকে শিক্ষকতার মতো মহতী পেশায় যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন যখন অর্থাভাব কিংবা স্থায়ী ভিটেমাটির অনুপস্থিতির মতো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভেস্তে যেতে বসেছিল, তখন বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় জন্মলগ্ন থেকে মায়ের সাথে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসা একজন ভূমিহীন নাগরিকের মৌলিক এবং মানবিক অধিকার এভাবে লঙ্ঘিত হওয়ায় সনাতনী সমাজসহ সুশীল সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।​অবশেষে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর এই বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবং মানবিক দিক গুরুত্বের সাথে দেখে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁনের বিশেষ উদ্যোগ ও সুপারিশে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে সরাসরি সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অত্যন্ত আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা শেষে শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে মিশন আচার্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত চূড়ান্ত করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। এর মাধ্যমে শুধু একজন ভূমিহীন ও অধিকারবঞ্চিত মেধা সম্পন্ন সনাতনী যুবকের দীর্ঘদিনের অন্যায় বৈষম্যের অবসান ঘটেনি, বরং রাষ্ট্র যে সকল নাগরিকের মৌলিক ও মানবিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও বিড়ম্বনার মেঘ কেটে অবশেষে নিজের অর্জিত যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষকতার নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার আনন্দময় প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন প্রান্তিক সমাজ থেকে উঠে আসা এই তরুণ।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, অবশেষে নিয়োগ পাচ্ছেন স্থায়ী ঠিকানা না থাকা মিশন আচার্য

মুক্তিযুদ্ধের ক্ষত আর অবহেলার ইতিহাস বুকে নিয়ে না ফেরার দেশে বীরাঙ্গনা ফুলমতি

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের অন্যতম যুদ্ধাহত নারী মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা গাইবান্ধার রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি আর নেই। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য ও নানা শারীরিক জটিলতায় শয্যাশায়ী থাকার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই অদম্য নারী বীরের বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসরদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েও আজীবন সাহস, সংগ্রাম ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে জীবন অতিবাহিত করেছেন প্রান্তিক সনাতনী সম্প্রদায়ের এই বীরাঙ্গনা। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৪৫ বছর চরম অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হওয়ার পর ২০১৬ সালের মার্চে তিনি নারী মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেন। সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের উত্তরপাড়া গ্রামের এই নারী দীর্ঘদিন প্যারালাইসিস ও ব্রেন স্ট্রোকসহ নানা বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। প্রথমদিকে সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের ভূমি অফিসের সামনে সড়কের ধারে সরকারি খাস জমিতে চরম অর্থাভাবে পরিবার নিয়ে বসবাস করলেও পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত ‘বীর নিবাস’-এ ঠাঁই হয় তার।​ফুলমতির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ছেলে মনিরাজ কুমার জানান, দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী মায়ের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটলে চিকিৎসকের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৭১ সালে উত্তরপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে তৎকালীন প্রায় ২৮ বছর বয়সী তরুণী ফুলমতিকে তুলে নিয়ে যায় পাকিস্তানি হানাদাররা। তারপর তার ওপর চালানো হয় পাশবিক ও অমানবিক নির্যাতন। News copied from- 'हिंदूस न्यूज़'—তবে সেই ক্ষত বুকে নিয়েই ১৯৮৮ সালে স্বামী কুশিরাম সরকার ফসিয়াকে হারিয়ে পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়েকে একা হাতে বড় করে তোলেন এই দৃঢ়চেতা নারী। রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতির মৃত্যুতে সাদুল্লাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ আজমী গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, আত্ম মর্যাদাবান এই বীরাঙ্গনা নারী কখনো কারও কাছে হাত পাতেননি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার বিকেলে গার্ড অব অনার ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের মধ্য দিয়ে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সনাতনী জনগোষ্ঠীর এই মহীয়সী বীরাঙ্গনার প্রয়াণে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও মানবাধিকারকর্মীরা তার স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের ক্ষত আর অবহেলার ইতিহাস বুকে নিয়ে না ফেরার দেশে বীরাঙ্গনা ফুলমতি

ইব্রাহিমের ২২ বছরের কারাবাস: ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হিন্দু মহাজোটের রিট, হাইকোর্টের রুল

খালাসের আদেশ পাওয়ার পরও দীর্ঘ প্রায় আট বছর কারাগারে আটক থাকা খুলনার বটিয়াঘাটার ইব্রাহিম আলী শেখের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। তাঁর দীর্ঘ কারাবাসের জন্য পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, পূর্ণ পুনর্বাসন, বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করেছে সংগঠনটি। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ইব্রাহিমকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করেন।বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন সংগঠনটির মহাসচিব ও আইনজীবী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুহাম্মদ হাসান শহীদ কামরুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।খালাসের পরও আট বছর কারাগারেরিটের তথ্য অনুযায়ী, খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ইব্রাহিম আলী শেখ পেশায় একজন নৈশপ্রহরী ছিলেন। ২০০৩ সালে রাতের পাহারা শেষে সকালে বাড়ি ফেরার পথে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় নিজের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করার সামর্থ্যও তাঁর ছিল না। পরবর্তীতে একটি মামলায় বিচারিক আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৭ সালের ২০ জুলাই হাইকোর্ট বিভাগ ইব্রাহিম আলী শেখকে মৃত্যুদণ্ডের মামলা থেকে খালাস দেন। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অন্য মামলাতেও তাঁকে খালাস দেওয়া হয়।কিন্তু হাইকোর্টের খালাসের আদেশ যথাসময়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে আদালতের আদেশে খালাস পাওয়ার পরও তাঁকে প্রায় আরও আট বছর কারাগারে থাকতে হয়।ইব্রাহিমের দুর্দশা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পাশে দাঁড়ায় হিন্দু মহাজোটদীর্ঘ ২২ বছর কারাবন্দি থাকার সময়ে ইব্রাহিম আলী শেখ হারিয়েছেন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। কারাগারে থাকাকালীন তাঁর মা মারা যান। তাঁর স্ত্রীও পরবর্তীতে অন্যত্র চলে যান। দীর্ঘ কারাবাসের প্রভাবে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।কারাগার থেকে মুক্তির পরও চরম দারিদ্র্য ও আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তাঁর চিকিৎসা ও পুনর্বাসন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।ইব্রাহিম আলী শেখের এই করুণ পরিস্থিতির বিষয়টি দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট বিষয়টি মানবিক ও জনস্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। এরপর তাঁর অধিকার ও ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সংগঠনটি।গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের উদ্যোগে জনস্বার্থে রিটইব্রাহিমের দুর্ভোগের বিষয়টি আদালতের নজরে আনতে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন।রিটে অভিযোগ করা হয়েছে, হাইকোর্টের খালাসের আদেশের কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে এবং তা কার্যকর করতে প্রায় আট বছর সময় লাগা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুতর অবহেলার ঘটনা। এর ফলে ইব্রাহিমকে তাঁর আইনগত মুক্তির অধিকার থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয়েছে।গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের করা রিটে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই ব্যর্থতাকে বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে ইব্রাহিমের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্যও আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিরিটে বলা হয়েছে, দীর্ঘায়িত আটকাদেশের কারণে ইব্রাহিম আলী শেখ তাঁর স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও জীবিকার যে ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তার জন্য তাঁকে পাঁচ কোটি টাকা অথবা আদালত উপযুক্ত মনে করেন এমন দৃষ্টান্তমূলক পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।এ ছাড়া ইব্রাহিমের পূর্ণ পুনর্বাসন, স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।হাইকোর্টের রুলপ্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন, আদালতের খালাসের আদেশ কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়ে ইব্রাহিম আলী শেখকে দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখার ঘটনাকে কেন বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না এবং তাঁর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের জন্য কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।এ ঘটনায় পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবির পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের করা জনস্বার্থের রিটটি এখন আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।উল্লেখ্য, হাইকোর্টের রুল জারি করা চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণের আদেশ নয়। রুলের জবাব ও পরবর্তী শুনানির পর আদালত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

ইব্রাহিমের ২২ বছরের কারাবাস: ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হিন্দু মহাজোটের রিট, হাইকোর্টের রুল

দেশে ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে দুর্গাপূজা, কোনো ঝুঁকি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

উৎসবমুখর পরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সারাদেশে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আসন্ন দুর্গোৎসবে এবার সারাদেশে ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা বিগত বছরের চেয়ে অন্তত এক হাজার বেশি। বুধবার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ও দুর্গাপূজা প্রস্তুতিমূলক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, সার্বিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এবার আশ্বস্ত বোধ করছেন। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা ঘোষণা করে তিনি দাবি করেন, এ পর্যন্ত কোনো মণ্ডপই ঝুঁকিপূর্ণ নয় এবং বিচ্ছিন্ন প্রতিমা ভাঙচুরের খবরগুলোর অধিকাংশই মূলত ভিত্তিহীন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনাকাঙ্ক্ষিত অপপ্রচার। চাঁদাবাজ ও দুষ্কৃতকারীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।​অন্যদিকে, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব যাতে সত্যিকার অর্থেই ভয়হীন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হতে পারে, সে বিষয়ে জোর দাবি জানিয়েছে সনাতনী নেতৃত্ব। বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা সরকারের ছুটি বৃদ্ধি ও অর্থ বরাদ্দের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রশংসা করলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেন। দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ঘটে যাওয়া প্রতিমা ভাঙচুরের অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোর আনুষ্ঠানিক তথ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট তুলে ধরে তিনি অনতিবিলম্বে এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') একই সাথে পূজার প্রাক্কালে নিরীহ ও নির্দোষ সনাতনী মানুষদের যেন কোনো প্রকার অহেতুক হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার না করা হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জোর আকুল আবেদন জানানো হয়। প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সর্বপ্রধান দাবি।

দেশে ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে দুর্গাপূজা, কোনো ঝুঁকি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্গোৎসবে মিলছে টানা ৫ দিনের ছুটি, উচ্ছ্বসিত সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবে টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করতে যাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। আসন্ন দুর্গোৎসবকে আরও আনন্দময় ও সার্বজনীন করে তুলতে এবং সকল নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের অধিকার সুসংহত করতে আগামী ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে পূর্ব নির্ধারিত দুর্গোৎসবের সরকারি ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলে টানা পাঁচ দিনের একটি দীর্ঘ অবকাশ মিলছে।​মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি পূর্বঘোষিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আগামী ২০ ও ২১ অক্টোবর আগে থেকেই সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিল। মাঝখানে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার কর্মদিবস হিসেবে অফিস খোলা রাখার কথা থাকলেও সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতি ও উদযাপনের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করে সেদিনও নির্বাহী আদেশে ছুটি মঞ্জুর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এর পরপরই ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচ দিনের ছুটির সংযোগ তৈরি হলো।  ​মানবাধিকার কর্মীদের মতে, বাংলাদেশ আবহমানকাল থেকেই সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতির দেশ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিজস্ব ধর্মীয় উৎসব যথাযথ মর্যাদা ও স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে উদযাপনের পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ। দুর্গাপূজা কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি বাঙালির জাতীয় সংস্কৃতি ও সার্বজনীন উৎসবের রূপ নিয়েছে। সরকারের এই সমন্বিত সিদ্ধান্তের ফলে দূর-দূরান্তে কর্মরত সনাতনী পরিবারগুলো উৎসবের দিনগুলোতে প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাবে, যা দেশের সামাজিক সৌহার্দ্য ও মানবাধিকারের ইতিবাচক চর্চাকে আরও সুদৃঢ় করবে।

দুর্গোৎসবে মিলছে টানা ৫ দিনের ছুটি, উচ্ছ্বসিত সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা

রামু ট্র্যাজেডির ১৪ বছর: বিচারহীনতার দীর্ঘ ছায়ায় ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত

কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে সংঘটিত নারকীয় তাণ্ডবের দীর্ঘ ১৪ বছর অতিবাহিত হলেও বিচার প্রক্রিয়ার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয় ধর্মীয় সংখ্যালঘু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর ক্ষোভ, হতাশা ও বিচারহীনতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে এক বৌদ্ধ যুবকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে রাতের অন্ধকারে রামুর ১২টি দৃষ্টিনন্দন বৌদ্ধ বিহার এবং ৩০টি বসতঘরে নৃশংস হামলা, ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। একই সময়ে উখিয়া ও টেকনাফেও ছড়িয়ে পড়া এই সহিংসতায় আরো সাতটি বৌদ্ধ বিহার ও ১১টি বসতঘর পুড়িয়ে ছারখার করা হয়, যেখানে আরো শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত উপাসনালয় ও ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করা হলেও এবং বাহ্যিক সম্প্রীতির আবহ তৈরি হলেও মূল অপরাধীরা এখনো শাস্তি না পাওয়ায় সংক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠীর মনের ক্ষত একটুও শুকায়নি।​বাঙালি সনাতনী ও অসাম্প্রদায়িক ধারার সুরক্ষায় নিবেদিত অংশ হিসেবে উল্লেখ্য যে, দেশে যেকোনো ধর্মীয় বা জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি সর্বদা মৌলিক মানবাধিকারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই সহিংসতার পর পুলিশ এজাহারভুক্ত ৩৭৮ জনসহ অজ্ঞাতনামা সাড়ে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা দায়ের করে এবং ৯৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও মাত্র একটি মামলা আপোসে নিষ্পত্তি ছাড়া বাকি মামলাগুলোর বিচারকাজ প্রায় স্থবির হয়ে আছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') স্থানীয় প্রবীণ ও ধর্মীয় প্রতিনিধিরা অভিযোগ তুলেছেন যে, পুলিশের দায়ের করা এসব মামলায় মূল অপরাধীদের বাদ দিয়ে নিরপরাধ বহু মানুষকে জড়ানো হয়েছে এবং সঠিক প্রমাণের অভাব দেখিয়ে কিংবা সাক্ষীদের অনিয়মের অজুহাতে বিচারপ্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিচারসংশ্লিষ্টদের একাংশ সাক্ষীর অনুপস্থিতিকে কারণ হিসেবে দেখালেও ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার সময়কার ছবি ও ভিডিওচিত্রগুলোকে ডিজিটাল সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করলেই সঠিক বিচার পাওয়া সম্ভব হতো।​ঐতিহাসিক রামু ট্র্যাজেডির ১৪তম বর্ষপূর্তিতে রামু বুড্ডিস্ট সোশ্যাল মুভমেন্ট বুদ্ধ উপাসনা, চিত্র প্রদর্শনী ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটিকে স্মরণ করার পাশাপাশি ঘটনার পুনস্তদন্ত ও সরকারি নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় প্রবীণ ধর্মীয় গুরু শীলপ্রিয় মহাথের ও বৌদ্ধ নেতাদের মতে, বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি কেবল রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক নয়, বরং ভবিষ্যতে অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সুরক্ষাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। যেকোনো অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সব জাতির মানবাধিকার রক্ষা অধরাই থেকে যাবে, তাই অবিলম্বে রামু ট্র্যাজেডির নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করাই এখন সময়ের দাবি।

রামু ট্র্যাজেডির ১৪ বছর: বিচারহীনতার দীর্ঘ ছায়ায় ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত

কাহারোলে ঐতিহ্যবাহী কান্তজীউ মন্দির পরিদর্শনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কান্তজিউ মন্দির পরিদর্শন করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী কান্তজিউ মন্দিরে পৌঁছে মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় তারা মন্দিরের প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী, টেরাকোটার নান্দনিক কারুকার্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন পর্যবেক্ষণ করেন।পরিদর্শনকালে কান্তজিউ মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পর্যটন সম্ভাবনা এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, কাহারোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. মোকলেদা খাতুন মীম, রাজদেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট রণজিৎ কুমার সিংহ, কাহারোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা বাদশা, সাধারণ সম্পাদক শামীম আলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।কান্তজিউ মন্দির বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা। মন্দিরের দেয়ালজুড়ে থাকা অনন্য টেরাকোটা কারুকার্য ও প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে আসছে।ঐতিহাসিক এই স্থাপনার সংরক্ষণ, পর্যটন সম্ভাবনা এবং দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের বিষয়ে পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।

কাহারোলে ঐতিহ্যবাহী কান্তজীউ মন্দির পরিদর্শনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

মা ভেরিফিকেশনে আটকে গেছে': প্রাথমিকে চূড়ান্ত সুপারিশের পরও বাদ পড়ে প্রার্থীদের হাহাকার

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রদানকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সৃষ্টি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও তীব্র ক্ষোভ। নিয়োগপ্রক্রিয়ার সবকটি ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করার পরও চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ভেরিফিকেশনের অজুহাতে অসংখ্য যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় সমস্ত বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরেও শেষ মুহূর্তে পুলিশের নেতিবাচক রিপোর্টের দোহাই দিয়ে তাদের নিয়োগপত্র আটকে দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের সনাতনী সমাজসহ অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী সন্তানরা এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি বৈষম্য ও মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন। চূড়ান্ত ফলে নাম আসার পর অর্জিত সরকারি চাকরির আনন্দের বার্তা পরিবারকে জানানোর পর হঠাৎ করে বাদ পড়ার এই অন্যায় সিদ্ধান্ত প্রার্থীদের জীবনকে এক অন্ধকার সুরঙ্গে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কোনো অপরাধে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও শুধু ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়ে তাদের স্বপ্ন চুরমার করার অভিযোগ তুলছেন স্বজন ও মানবাধিকার কর্মীরা।​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ভাসছে চাকরিপ্রার্থীদের করুণ আর্তনাদ ও হাহাকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের অধিবাসী রাহুল দাসের একটি আবেগঘন পোস্ট নেটিজেনদের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। যোগ্য প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও ভেরিফিকেশনে আটকে যাওয়ার পর নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, যে মুখ দিয়ে মাকে বলেছিলেন চাকরি পাওয়ার কথা, সেই মুখে এখন মায়ের মুখোমুখি হওয়ার সাহস পাচ্ছেন না তিনি। চাকরি পাওয়ার আশায় ঢাকা ছেড়ে গ্রামে ফিরে আসা রাহুল দাস এখন মানসিক যন্ত্রণায় জর্জরিত হয়ে জীবিকার তাগিদে হাওরে মাছ ধরার মতো কাজে বাধ্য হচ্ছেন। এই ধরনের বৈষম্য ও রাজনৈতিক ভেনডেটার শিকার হয়ে অসংখ্য মেধাবী তরুণ আজ সমাজ ও পরিবারের সামনে অপমানিত হচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর এমন অমানবিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণ মানুষের মৌলিক মানবাধিকার এবং কর্মসংস্থানের অধিকারকে মারাত্মকভাবে হরণ করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী ও অধিকারকর্মীদের মধ্যেও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রেখে শেষ মুহূর্তে বাদ দেওয়া রাষ্ট্রীয় নিপীড়নেরই শামিল।​প্রশাসনিক এই স্বেচ্ছাচারিতার কারণে অনেক প্রার্থী ইতিমধ্যে তাঁদের পূর্বের চাকরি ছেড়েছেন, অনেকের উচ্চশিক্ষা স্থগিত হয়েছে, এমনকি নতুন জীবন শুরু করা প্রার্থীরাও এখন পারিবারিক ভাঙন ও চরম সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রসেস সম্পন্ন হওয়ার দীর্ঘ সাত মাস পর এসে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে এক ধরণের নিষ্ঠুর প্রতারণা হিসেবে দেখছেন। একটি গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে সবার জন্য সমান অধিকার ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের কথা, সেখানে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়কে ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। ক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজ জোর দাবি জানিয়েছেন যেন অনতিবিলম্বে নীতি-নির্ধারকেরা তাঁদের এই অমানবিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন এবং অন্যায়ভাবে বাদ পড়া সমস্ত যোগ্য শিক্ষকপ্রার্থীকে অবিলম্বে তাঁদের প্রাপ্য নিয়োগপত্র বুঝিয়ে দিয়ে বেকারত্বের এই দীর্ঘ মানসিক নির্যাতন থেকে মুক্তি প্রদান করেন।

মা ভেরিফিকেশনে আটকে গেছে': প্রাথমিকে চূড়ান্ত সুপারিশের পরও বাদ পড়ে প্রার্থীদের হাহাকার

জ্বালানি সংকটে দুর্গোৎসবে সীমিত আলোকসজ্জার আহ্বান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

চলমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ওপর তৈরি হওয়া চরম চাপ মোকাবিলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবে আলোকসজ্জা সীমিত রাখার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শনিবার দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত দুর্গোৎসবের প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নির্দেশাত্মক ও অনুরোধমূলক এ মতামত ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম এবং সংকটপূর্ণ বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কঠিন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। উৎসবের আনন্দ যেন নিরাপত্তার ঝুঁকিতে না পড়ে এবং জাতীয় স্বার্থ যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সচেতন ও শিক্ষিত নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') একইসাথে তিনি পুরো এলাকা বা দীর্ঘ পথজুড়ে আলোকসজ্জা না করে কেবল মণ্ডপ ও প্রতিমাকেন্দ্রিক সীমিত আলো ব্যবহারের পরামর্শ দেন। প্রবাসী শ্রমিক ও পোশাকশিল্পের কর্মীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করা জ্বালানি ও বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি ব্যক্তি সামর্থ্যের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। উৎসবের আনন্দময় আবহ ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিমা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।​জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ প্রস্তুতি সভায় যশোরের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও পূজা আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। সভায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন এবং সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সনাতনীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ বছর যশোরে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। গত বছরের ৭০৯টি মণ্ডপের তুলনায় এবার ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে, যা সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আস্থা ও উদযাপনের পরিধি বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে। সব জাতির মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি উৎসবমুখর ও আলোকোজ্জ্বল দুর্গোৎসব সম্পন্নে স্থানীয় প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

জ্বালানি সংকটে দুর্গোৎসবে সীমিত আলোকসজ্জার আহ্বান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

নাজিরপুরে শিক্ষকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, পরিবারসহ হত্যার হুমকি

পিরোজপুরের নাজিরপুরে প্রধান শিক্ষক কিশোর কুমার হালদারের কাছে ফোন করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাকে সপরিবারে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নাজিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই শিক্ষক।কিশোর কুমার হালদার (৫৪) উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বৈবুনিয়া গ্রামের নিরোদ বিহারী হালদারের ছেলে। তিনি শাঁখারীকাঠী ইউনিয়নের ৯৫ নম্বর বুড়িখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।জিডির বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে একটি নম্বর থেকে ফোন করে তার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দেওয়ার জন্য শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় হুমকিদাতা। দাবি পূরণ না করলে শিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলে জানানো হয়।কিশোর কুমার হালদার জানান, ফোনদাতা তাকে ও তার পরিবারকে হামলার লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়ার কথা বলে। রক্ষা পেতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা দিতে বলা হয়। এই হুমকির পর নিরাপত্তাহীনতায় তিনি তার চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র মেয়েকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে রাত কাটান।ওই শিক্ষক আরও জানান, গত বছর তার চাচাতো ভাই সঞ্জীব হালদারকে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার পর এবার পরিবারসহ হত্যার হুমকি পাওয়ায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ফোন করে প্রধান শিক্ষকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং টাকা না দিলে সপরিবারে হত্যার হুমকির ঘটনায় জিডি হয়েছে। হুমকিদাতার সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।

নাজিরপুরে শিক্ষকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, পরিবারসহ হত্যার হুমকি

রাঙ্গুনিয়ায় সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন সনাতনী নারী

রাতের নির্জন সড়ক। চারপাশে নীরবতা। সেই সড়কের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাচ্ছিলেন এক নারী। শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন, অথচ অসহায় সেই মুহূর্তে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই ছিলেন নীরব দর্শক। কেউ ছবি তুলছিলেন, কেউ ভিডিও করছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত মানবিকতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতৃবৃন্দ।চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক সনাতনী নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কাপ্তাই সড়কের চন্দ্রঘোনা চারাবটতল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে কাপ্তাই সড়কের চন্দ্রঘোনা চারাবটতল এলাকায় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাতনামা গাড়ি ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে সড়কের ওপর পড়ে থাকেন তিনি।দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে কাতরালেও উপস্থিত অনেকেই তাকে উদ্ধারে এগিয়ে না এসে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের কয়েকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে আহত নারীকে উদ্ধার করেন।পরে তারা দ্রুত আহত নারীকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পান ওই অসহায় নারী।এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহত নারীর ছবি ছড়িয়ে পড়লে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়নের নাথপাড়া গ্রামের সুভাষ নাথের স্ত্রী বিনা নাথ (৫০) বলে জানা যায়।পরিবারের সদস্যরা জানান, বিনা নাথ মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন এবং বুধবার বিকেল থেকেই নিখোঁজ ছিলেন।বিনা নাথের সন্তান নয়ন নাথ জানান, বুধবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে ধোপপুল এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তার মা নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনায় আহত এক নারীর ছবি দেখে তারা হাসপাতালে গিয়ে মায়ের পরিচয় নিশ্চিত করেন।রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বিনা নাথের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পরিবারের সদস্যরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান।ঘটনাটি শুধু একটি সড়ক দুর্ঘটনার খবর নয়; এটি যেন বিপদের মুহূর্তে মানুষের মানবিক দায়িত্ববোধেরও একটি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় একজন মানুষ যখন সড়কে পড়ে কাতরাচ্ছেন, তখন সেই মুহূর্তে একটি ছবি বা ভিডিওর চেয়ে একটি সহায়তার হাতই যে কত বেশি মূল্যবান—বিনা নাথের ঘটনাটি তা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে।স্থানীয়রা বলেন, দুর্ঘটনার পর আহত মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। ছবি বা ভিডিও ধারণের আগে একজন বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত সবার প্রথম দায়িত্ব। উদ্ধারকারী নেতৃবৃন্দও দুর্ঘটনাকবলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দায়িত্ব পালনে সমাজের সবাইকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাঙ্গুনিয়ায় সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন সনাতনী নারী

হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারক হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে শপথ পড়ান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।এর আগে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার শপথ নেয়ার কথা জানানসুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে স্থায়ী করে সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সন্তান। ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। একই সময় নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন অতিরিক্ত বিচারপতিকে ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্থায়ী করা হলেও দেবাশীষ রায় চৌধুরীকে ওই সময় স্থায়ী করা হয়নি।ব্রিটেন থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর দেবাশীষ রায় চৌধুরী ২০০৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।২০০৭ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী এবং ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

সম্পত্তি দান করেও আজীবন ভোগাধিকারের সুযোগ: হিন্দু পরিবারের জন্য সম্ভাবনা ও প্রশ্ন

সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে থাকেন অনেক মা–বাবা। বিশেষ করে মেয়ের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগ্রহী হিন্দু পরিবারগুলোর সামনে প্রায়ই প্রশ্ন আসে—সম্পত্তি দান করার পর বৃদ্ধ বয়সে তাঁদের আশ্রয় ও জীবিকার নিশ্চয়তা থাকবে কি না। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী সেই উদ্বেগ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজ্ঞরা। তবে এই ব্যবস্থায় হিন্দু নারীর উত্তরাধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে না; সম্পত্তির মালিকের স্বেচ্ছায় দানের সিদ্ধান্তই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।প্রথম আলোয় ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তপতী বর্মনের একটি মতামতধর্মী লেখায় সংশোধনীর সম্ভাব্য প্রভাব, আইনজ্ঞদের মূল্যায়ন এবং কয়েকটি হিন্দু পরিবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। ওই লেখার তথ্য অনুযায়ী, দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণের বিধান রেখে গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল পাস হয়। এই ব্যবস্থার মূল তাৎপর্য হলো, সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে দাতার নিজের জীবনকালীন নিরাপত্তার বিষয়টিও যুক্ত করা।সংশোধনীটি হিন্দু পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করতে পারে। প্রচলিত উত্তরাধিকারব্যবস্থায় অনেক নারী পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানা থেকে বঞ্চিত হন। অন্যদিকে স্বামীর সম্পত্তিতে সীমিত অধিকার পাওয়া নারীরাও প্রয়োজনের সময় স্বাধীনভাবে আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধার মুখে পড়েন। ফলে সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও সংকট মোকাবিলায় তাঁদের স্বজনদের ওপর নির্ভর করতে হয়।প্রথম আলোর লেখায় উল্লিখিত সুবর্ণা দেবীর অভিজ্ঞতায় সেই বাস্তবতা উঠে এসেছে। মা–বাবার মৃত্যুর পর তাঁদের সম্পত্তি দুই ছেলের হাতে গেলেও দুই মেয়ে কোনো অংশ পাননি। পরে অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তায় পড়েন সুবর্ণা। স্বামীর সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার থাকলেও তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তাঁর আর্থিক স্বাধীনতাকে সংকুচিত করেছে বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়।একই পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সম্পত্তির ব্যবস্থা করতে গিয়েও দেখা দিয়েছে দ্বিধা। সুবর্ণার এক ভাই নিজের দুই মেয়েকে সম্পত্তি দিতে চান, যাতে ভবিষ্যতে তাঁদের একই পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়। কিন্তু সম্পত্তি হস্তান্তরের পর নিজের ও স্ত্রীর দেখভাল নিয়ে তাঁর উদ্বেগ রয়েছে। দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা এমন পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ করতে পারে।ওই লেখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার ব্যাখ্যা করেছেন, সংশোধনীটি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রচলিত পারিবারিক উত্তরাধিকার আইনকে প্রতিস্থাপন করছে না। নিজ নিজ উত্তরাধিকারব্যবস্থার পাশাপাশি জীবদ্দশায় সম্পত্তি দান করতে আগ্রহী নাগরিকদের জন্য এটি একটি অতিরিক্ত সুযোগ। অর্থাৎ, কেউ নিজের ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে ছেলে বা মেয়েকে সম্পত্তি দিতে চাইলে এই ব্যবস্থার প্রাসঙ্গিকতা তৈরি হবে।আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথও সংশোধনীকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন বলে মূল লেখায় জানানো হয়েছে। তাঁর মূল্যায়নে, যেসব হিন্দু পরিবারে শুধু মেয়েসন্তান রয়েছে, সেসব পরিবারের জন্য এর বিশেষ উপযোগিতা থাকতে পারে। সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর নিজেদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে—মা–বাবার এমন আশঙ্কা কমাতে দাতার অধিকার সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।তবে ব্যবস্থাটির প্রয়োগ নিয়ে কিছু প্রশ্নও সামনে এসেছে। প্রথম আলোর লেখায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আইনজীবী জীবনকালীন ভোগাধিকারের পরিধি আরও স্পষ্ট করার প্রয়োজনের কথা বলেছেন। দাতা কী ধরনের ব্যবহার ও সুবিধা ভোগ করতে পারবেন, সেই অধিকারে বাধা এলে কীভাবে প্রতিকার পাবেন—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। সম্পত্তির পূর্ণ মালিকানা ও ভোগাধিকারকে একই অর্থে বিবেচনা করা হলে পরিবারে নতুন বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়।সংশোধনীর সীমাবদ্ধতা নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথাও রয়েছে লেখাটিতে। দীপা সরকার মা–বাবার দৈনন্দিন প্রয়োজন ও অসুস্থতায় পাশে থেকেও বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তির অংশ পাননি। তাঁর অভিজ্ঞতায়, সন্তান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পত্তিতে স্বীকৃতি পাওয়ার সম্পর্ক সব সময় সমান নয়। দানের ব্যবস্থা স্বেচ্ছাধীন হওয়ায় পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি না বদলালে অনেক মেয়েই এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।পূর্ণিমা বসাকের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে সময়মতো সম্পত্তির ব্যবস্থা সম্পন্ন না হওয়ার পরিণতি। তাঁর বাবা ছেলে ও মেয়েকে সমানভাবে সম্পত্তি দিতে চাইলেও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করার আগেই মারা যান বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর সম্পত্তির অংশ চাওয়া নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। মেয়ের বিয়েতে ব্যয় করাকে সম্পত্তি না দেওয়ার যুক্তি হিসেবে তুলে ধরার অভিজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি।স্ত্রীর এই অভিজ্ঞতা থেকে পূর্ণিমার স্বামী বিধান বসাক নিজের সন্তানদের জন্য আগেই সম্পত্তির ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মূল লেখায় জানানো হয়। তাঁর উদ্দেশ্য, ভবিষ্যতে ছেলে–মেয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে দূরত্ব ও বিরোধের আশঙ্কা কমানো। এমন উদ্যোগে দাতার জীবদ্দশার নিরাপত্তা বজায় রাখার সুযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হতে পারে।বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পুলক ঘটকও নারীর সম্পত্তির মালিকানাকে নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন। মূল লেখায় তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্পত্তিতে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে হিন্দু নারীদের সামাজিক ও আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে।এসব অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়নে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—জীবদ্দশায় স্বেচ্ছায় সম্পত্তি দেওয়ার সুযোগ এবং উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার পৃথক বিষয়। আলোচিত সংশোধনী প্রথম ক্ষেত্রটিতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু নিজে থেকেই দ্বিতীয় ক্ষেত্রের বৈষম্য দূর করে না। এর সুফল তাই নির্ভর করবে সম্পত্তির মালিকের সিদ্ধান্ত, পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দাতার সংরক্ষিত অধিকার বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত হচ্ছে, তার ওপর।তথ্যসূত্র: প্রথম আলোয় প্রকাশিত তপতী বর্মনের মতামত, ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী: হিন্দু পরিবার কী সুফল পাবে’, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

সম্পত্তি দান করেও আজীবন ভোগাধিকারের সুযোগ: হিন্দু পরিবারের জন্য সম্ভাবনা ও প্রশ্ন