হিন্দুস নিউজ

লাইফস্টাইল

সকালের খাবার যেভাবে পুষ্টিকর ও দীর্ঘস্থায়ী করবেন

সকালের খাবার যেভাবে পুষ্টিকর ও দীর্ঘস্থায়ী করবেন

সকালে স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েছেন, অথচ বেলা ১১টা পর্যন্ত পেট ভরা না-ও থাকতে পারে। এর মূল কারণ, খাবারের ধরন নয়; সঠিক পুষ্টি উপাদানের অভাব। যখন সকালের খাবারে শোধিত কার্বোহাইড্রেট ও চিনি বেশি থাকে এবং প্রোটিন, ফাইবার ও উপকারী চর্বি কম থাকে, তখন খাবার দ্রুত হজম হয়ে যায় এবং খিদে পায়। মনে রাখবেন, ক্ষুধা লাগার পেছনে ঘুম, কায়িক শ্রম বা মেটাবলিজমও ভূমিকা রাখে। তাই সকালের খাবারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেওয়া এবং পরবর্তী খাবার পর্যন্ত সুন্দরভাবে শক্তি জোগানো। সকালের নাশতায় মূলত তিনটি উপাদান নিশ্চিত করুন— সূত্র: হেলথ লাইন

শৈশব কি খেলার মাঠ ছেড়ে মুঠোফোনে বন্দী?

বাংলাদেশে শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ দিন দিন কমে যাচ্ছে। খেলার মাঠের অভাব, অতিরিক্ত শিক্ষার চাপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপনের কারণে শিশুদের একটি বড় অংশ এখন মুঠোফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক এক সেমিনারে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, দেশের ১০ হাজার ৭৪০টি বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ পরিস্থিতি শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠছে।বাংলাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ৮৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশে খেলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের অনেক বিদ্যালয় বহুতল ভবনের সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।শুধু মাঠের অভাবই নয়, শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত রুটিনও খেলাধুলার অন্যতম প্রতিবন্ধক। বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ হওয়ার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে কোচিং, প্রাইভেট টিউশন কিংবা বাড়ির কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে অবসর সময় বলতে তাদের জীবনে খুব সামান্যই কিছু অবশিষ্ট থাকে। অনেক অভিভাবকও শিশুদের অধিক সময় পড়াশোনায় ব্যয় করতে উৎসাহিত করেন, যার ফলে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড গুরুত্ব হারাচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাধুলা শিশুর শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানসিক বিকাশ, নেতৃত্বের গুণাবলি, সামাজিক যোগাযোগ এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু খেলাধুলার সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় শিশুরা ধীরে ধীরে ভার্চুয়াল জগতের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। এর ফলে চোখের সমস্যা, মনোযোগের ঘাটতি, আচরণগত পরিবর্তন এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।একসময় বিদ্যালয়ের প্রতিদিনের কার্যক্রম শুরু হতো পিটি-প্যারেড ও সকালের সমাবেশের মাধ্যমে। বর্তমানে মাঠের অভাবে অনেক বিদ্যালয়ে এসব কার্যক্রম আর পরিচালিত হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা শারীরিক অনুশীলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাচ্ছে।এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে খেলার মাঠ বাধ্যতামূলক করা, নিয়মিত খেলার পিরিয়ড চালু করা এবং বিদ্যালয়ের মাঠ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি এলাকায় উন্মুক্ত খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।এ ছাড়া বিদ্যালয়গুলোতে সৃজনশীল কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং গ্রন্থাগারভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত বইপড়া, বিজ্ঞান প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন, বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন তাদের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।শিশুরাই একটি দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থ, আনন্দময় ও সৃজনশীল শৈশব নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব। খেলার মাঠ হারিয়ে গেলে হারিয়ে যাবে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই আগামী প্রজন্মের স্বার্থে এখনই প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ ও সচেতন উদ্যোগ।

শৈশব কি খেলার মাঠ ছেড়ে মুঠোফোনে বন্দী?

বাংলাদেশর সুনাম ধন্য জনপ্রিয় সনাতনী ব্র্যান্ড 'ভৈরব' এর প্রতিষ্ঠাতা বিজয় দেব এর জন্মদিন আজ

আজ ২৭/৫/২০২৬ খাগড়াছড়ির সুনামধন্য জনপ্রিয় ধর্মীয় ব্যান্ড ভৈরবের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় দেব এর জন্মদিন আজ। ‎দীর্ঘদিন ধরে খাগড়াছড়িকে দেশ বাসীর কাছে সুনামের সাথে পরিচয় করিয়ে আসছেন তিনি। ‎এবং বাংলাদেশর এক সনাতনী সুমানধন্য ব্যান্ড হিসেবে পরিচিত। তিনি সুধু একজন গায়ক নই তিনি বিভিন্ন ভাবে সামাজিক কাজের সাথে ও যুক্ত আছেন এবং সর্বদা অসহায় মানুষের পাশে থাকেন। এবং তার এই মহৎ কাজ গুলো সমাজে এক বিশেষ ভুমিকা পালন করে। হিন্দু নিউজ এর পক্ষ থেকে সনাতনী ব্র্যান্ড ভৈরব এর জন্য শুভ কামনা ও প্রতিষ্ঠাতা বিজয় দেব কে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

বাংলাদেশর সুনাম ধন্য জনপ্রিয়  সনাতনী  ব্র্যান্ড 'ভৈরব' এর প্রতিষ্ঠাতা বিজয় দেব এর জন্মদিন আজ

চা-বাগানের ছোট্ট ঘর থেকে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে: কুসুম মুন্ডার অনুপ্রেরণার গল্প

From a small tea garden house to an international university: Kusum Munda's inspiring storyBorn into a simple family in the Karimpur tea plantations of Rajnagar upazila of Moulvibazar, Kusum Munda is today a unique example of struggle and self-confidence. Having overcome extreme poverty, illness and various limitations, she is currently studying on a full scholarship at the Asian University for Women, an international educational institution in Chittagong.Kusum recently shared her life's struggles, lessons and dreams in a regular program 'Adwitiyaar Golpo' organized by Prothom Alo Trust. The program was held online and broadcast on Prothom Alo and Prothom Alo Trust's Facebook and YouTube channels.Kusum said that she had to grow up struggling with poverty since childhood. Both her parents were tea plantation workers. The family's daily income was only 187 taka 43 paisa. Along with running the family on that meager income, continuing her education was also a big challenge.She started her education at a primary school in a tea garden. Later, she would walk to a distant school every day. Even though her parents gave her 10 taka for tiffin, she would not spend that money and would save it to buy notebooks and pens. Although she could not afford private tuition, Kusum moved forward on her own.He had a dream of becoming a doctor since childhood. He started studying in the science department with that dream, but due to financial crisis, he did not get coaching or necessary guidelines. Still, he continued his studies by staying up all night in the light of the hurricane.Before the SSC exams, a difficult time came in her life. She fell seriously ill due to overwork and physical illness. Kusum had to stay bedridden for two long years. Her parents had to sell the last of the family's belongings for treatment. However, despite all this, she did not give up on her studies.Kusum said, “Even when I was sick, I would lie down and lie down. My mother would take me to the exam center so that I wouldn’t fall on the road.”Later, she got the opportunity to get admission in Jahangirnagar University but could not get admission there due to financial crisis. Finally, she got admission in Asian University for Women with full scholarship.Adapting to the international environment and the English language was also a big challenge for him. Although he had difficulty understanding the class lectures at the beginning, he did not give up. He would record the classes and listen to them over and over again and regularly practice speaking English.Kusum Munda is currently dreaming of becoming a teacher. She believes that people in the tea plantation area are still far behind in terms of education. Therefore, she wants to become a teacher and stand by the talented students of her community.Kusum said, "I want the light of education to spread in our garden. May those who are afraid to dream like me, find courage."Kusum Munda's journey of overcoming poverty, illness, and limitations is now a shining example of inspiration for many young people.

চা-বাগানের ছোট্ট ঘর থেকে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে: কুসুম মুন্ডার অনুপ্রেরণার গল্প

স্ত্রী বাবার বাড়ী গেলে কেন স্বামী আনন্দের জোয়ারে ভাসে

সনাতন ধর্মের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় অর্ধাঙ্গিনী বা সহধর্মিণী ছাড়া পুরুষ অসম্পূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘ সময় গৃহকোণে সংসার ধর্ম পালনের মাঝে অনেক সময় সম্পর্কের মাধুর্যে অভ্যস্ততার একঘেয়েমি এসে ভর করে। সম্প্রতি একটি সামাজিক সমীক্ষা ও বিবাহিত পুরুষদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে এক অদ্ভুত চিত্র উঠে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, স্ত্রী কয়েক দিনের জন্য বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বললেই অবচেতন মনে খুশির জোয়ার বয়ে যায় স্বামীদের মনে। মুখে ‘যেও না’ বললেও অন্তরে যেন তারা এক পশলা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। তবে এই আনন্দ কি কেবলই বিচ্ছেদ-বাসনা, নাকি এর গভীরে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো কারণ?​মনস্তাত্ত্বিকরা বলছেন, বিষয়টি আসলে ব্যক্তিগত পরিসর বা ‘পার্সোনাল স্পেস’-এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিয়ের পর থেকে সাংসারিক দায়িত্ব, সময়ের হিসাব এবং প্রাত্যহিক রুটিনের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হতে পুরুষরা অনেক সময় নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলেন। স্ত্রী যখন কিছুদিনের জন্য পিত্রালয়ে যান, তখন স্বামীরা যেন তাদের সেই ফেলে আসা অবিবাহিত জীবনের ছোঁয়া ফিরে পান। রাত জেগে ক্রিকেট ম্যাচ দেখা, বিছানায় তোয়ালে রাখা নিয়ে বকুনি না খাওয়া কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে অবারিত আড্ডায় মেতে ওঠার যে স্বাধীনতা, তাকেই সাময়িকভাবে পরম প্রাপ্তি বলে মনে করেন তারা। সংসার জীবনে স্ত্রীর নিয়মতান্ত্রিক শাসনের অভাবটাই যেন তখন এক পরম পাওয়া হয়ে দাঁড়ায়।​বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে এস. এম. নিষাদ হাসান নামক এক ভুক্তভোগী স্বামী জানান, স্ত্রী বাসায় না থাকলে বন্ধুদের নিয়ে সারারাত আড্ডা দেওয়ার এক অদ্ভুত স্বাধীনতা অনুভূত হয়। তখন ঘরে ফেরার জন্য কোনো তাড়া থাকে না, নেই কোনো কৈফিয়ত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা। সোহাগ আশরাফ নামে অন্য এক বিবাহিত ব্যক্তি কৌতুকপূর্ণ সুরে বলেন, অনেক সময় স্ত্রীরা স্বামীর আড্ডা জমানোর সুযোগ না দিতেই বাবার বাড়ি যেতে চান না। আবার সন্দেহের এক সূক্ষ্ম বাতাবরণও অনেক ক্ষেত্রে কাজ করে। দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্যে ঘরটা যখন মাঝে মাঝে কারাগারের মতো মনে হতে শুরু করে, তখনই স্ত্রীর পিত্রালয় যাত্রা এক অনন্য মুক্তির স্বাদ নিয়ে আসে।​তবে এই স্বাধীনতার আনন্দ কিন্তু চিরস্থায়ী নয়। প্রথম দু-এক দিন উচ্ছ্বাসে কাটলেও এরপরই শুরু হয় শূন্যতার হাহাকার। হিন্দু ধর্মে গৃহিণীকে বলা হয় ‘গৃহলক্ষ্মী’, আর লক্ষ্মীহীন ঘর যেমন শ্রীহীন হয়ে পড়ে, ঠিক তেমনি স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ঘরটা অদ্ভুত রকমের নিস্তব্ধ হয়ে যায়। খাবার টেবিলে আদুরে শাসনের ডাক না পাওয়া বা ঘুমানোর আগে দিনভর মান-অভিমানের গল্পের অভাবটা স্বামীরা খুব শীঘ্রই হাড়হাড়ে টের পেতে শুরু করেন। ওই সময় বুঝতে পারেন, ছোট ছোট খিটখিটে অভ্যাসগুলোও আসলে কতটা মায়ায় জড়ানো। দিনের শেষে ‘আগামীকালই ফিরছি’—স্ত্রীর এই একটি বার্তাই তখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সংগীত হয়ে ধরা দেয় স্বামীদের কাছে। সাময়িক দূরত্ব কেবল এই পরম সত্যটাই প্রতিষ্ঠিত করে যে, শাসন আর মায়ার বাঁধনেই প্রকৃত সুখ নিহিত।

স্ত্রী বাবার বাড়ী গেলে কেন স্বামী আনন্দের জোয়ারে ভাসে

বিবাহিতদের তুলনায় অবিবাহিতদের ক্যানসার ঝুঁকি ৭০ শতাংশ বেশি

সনাতন ধর্মে বিবাহ কেবল একটি সামাজিক চুক্তি নয়, বরং এটি একটি পবিত্র আধ্যাত্মিক বন্ধন বা সংস্কার। শাস্ত্রীয় এই বিধান যে কেবল আত্মিক শান্তির জন্য নয়, বরং শারীরিক সুস্থতার জন্যও অপরিহার্য, তার প্রমাণ মিলল আধুনিক বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দীর্ঘ মেয়াদী এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিবাহিত ব্যক্তিদের তুলনায় অবিবাহিতদের মধ্যে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এই চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, যারা কখনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি, তারা প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসার সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির মাত্রা বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। তবে নারীদের ক্ষেত্রে চিত্রটি আরও ভয়াবহ; অবিবাহিত নারীদের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।গবেষণার বিস্তারিত তথ্যে আরও দেখা যায়, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে, অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ। গবেষকদের মতে, বিবাহের ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় এক ধরনের ইতিবাচক শৃঙ্খলা ও সাত্ত্বিক পরিবর্তন আসে। জীবনসঙ্গীর সাহচর্য ও পারিবারিক দায়িত্ববোধের কারণে খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে শরীরকে কঠিন ব্যাধি থেকে রক্ষা করতে ঢাল হিসেবে কাজ করে।বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন যে, বিবাহ সরাসরি ক্যানসার নিরাময় করে না, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল সামাজিক ও আচরণগত সুরক্ষা বলয় তৈরি করে। শাস্ত্রীয় জীবনবোধ ও পারিবারিক সংহতি যে মানুষের পরমায়ু ও সুস্বাস্থ্য রক্ষায় কতটা কার্যকর, মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা তারই বাস্তব প্রতিফলন। যারা বর্তমানে অবিবাহিত রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে গবেষকরা অধিকতর স্বাস্থ্য সচেতনতা অবলম্বন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন। আধুনিক বিজ্ঞানের এই বার্তা যেন আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য সনাতন পারিবারিক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।

বিবাহিতদের তুলনায় অবিবাহিতদের ক্যানসার ঝুঁকি ৭০ শতাংশ বেশি

রুদ্রতাপে শরীর জুড়াতে শুধু পান্তা নয়, পাতে পড়ুক দক্ষিণ ভারতের তিন 'সাত্ত্বিক' আহার

বৈশাখের তপ্ত রোদে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন শরীর ও মনকে শীতল রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সনাতনী বঙ্গীয় সংস্কৃতিতে গরমের রক্ষাকবচ হিসেবে যুগ যুগ ধরে পান্তা ভাত, টকের ডাল কিংবা তেঁতুলের আমলানির প্রচলন থাকলেও, বৈচিত্র্য আনতে এবার পাতে যোগ হতে পারে দক্ষিণ ভারতের অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর ও রুচিকর কিছু পদ। মূলত আর্যাবর্ত ও দাক্ষিণাত্যের সেতুবন্ধন হিসেবে পরিচিত এই খাবারগুলো দই এবং তেঁতুলের গুণাগুণে সমৃদ্ধ, যা এই প্রচণ্ড তাপদাহে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।​দক্ষিণ ভারতে বছরের অধিকাংশ সময় গরম থাকায় সেখানকার খাদ্যতালিকায় শরীর ঠান্ডা রাখার বিশেষ কৌশল থাকে। বিশেষ করে অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক ও তেলঙ্গানার মানুষের কাছে দই ও তেঁতুল মিশ্রিত খাবারগুলো দেব প্রসাদের মতোই তৃপ্তিদায়ক। ভাতের সাথে খাওয়ার উপযোগী এমনই একটি অনন্য পদ হলো 'পাচি পলুসু'। এটি মূলত তেঁতুলের ক্বাথ দিয়ে তৈরি এক প্রকার পাতলা অম্বল বা ঝোল। আগুনে পোড়ানো কাঁচালঙ্কা, মিহি করে কাটা পেঁয়াজ এবং ধনেপাতার সাথে তেঁতুল জল ও গুড় মিশিয়ে এটি প্রস্তুত করা হয়। জিরে ও কারিপাতার ফোড়ন দেওয়া এই খাবারটি শরীরের জলশূন্যতা রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে।​এছাড়া দইয়ের গুণাগুণ সমৃদ্ধ কর্ণাটকের জনপ্রিয় পদ 'সাউথেকাই মোসারু পাল্যা' হতে পারে দুপুরের খাবারের প্রধান আকর্ষণ। শসা, টক দই এবং সামান্য মশলার সংমিশ্রণে তৈরি এই পদটি কেবল তৃপ্তিদায়কই নয়, বরং প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ হওয়ায় হজম প্রক্রিয়াকেও উন্নত করে। যারা দই-ভাত বা দই-শসা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি এক চমৎকার বিকল্প। তেলঙ্গানার ঐতিহ্যবাহী 'ছাল্লা পলুসু' পদটিও এই গরমে স্বস্তি দিতে অতুলনীয়। বিউলির ডাল ও কারিপাতার সুগন্ধযুক্ত পাতলা এই ঝোলটি ভাতের সঙ্গে অমৃত সমান লাগে।​আমাদের সনাতন সংস্কৃতিতে ঋতুভেদে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের যে বিধান রয়েছে, দক্ষিণ ভারতের এই রন্ধনশৈলী তার সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। পান্তা ভাতের চিরাচরিত স্বাদের পাশাপাশি এই প্রাচীন ভারতীয় পদগুলো গ্রহণ করলে কেবল রসনাতৃপ্তিই হবে না, বরং প্রচণ্ড দাবদাহে শরীর থাকবে সতেজ ও কর্মক্ষম। তাই এই গ্রীষ্মে সুস্থ থাকতে আপনিও আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন এই তিন দক্ষিণী স্বাদ।

রুদ্রতাপে শরীর জুড়াতে শুধু পান্তা নয়, পাতে পড়ুক দক্ষিণ ভারতের তিন 'সাত্ত্বিক' আহার

আজ জাতীয় রসুন দিবস: ​রোমান যোদ্ধাদের শক্তি থেকে ভ্যাম্পায়ার আতঙ্ক

আজ ১৯ এপ্রিল, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় রসুন দিবস’ বা ‘ন্যাশনাল গার্লিক ডে’। রসুন কেবল আমাদের পাকশালার একটি সাধারণ উপাদান নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং লোকজ বিশ্বাস। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় জনপদে এবং সনাতন সমাজ ব্যবস্থায় রসুনকে ঘিরে রয়েছে বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে রসুনের ঔষধি গুণাবলি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা থাকলেও, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিয়ে যেমন বিশেষ বিধি রয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আজকের এই বিশেষ দিনটি রসুনের স্বাদ, বৈচিত্র্য এবং এর সুদীর্ঘ পথচলা সম্পর্কে জানার এক অনন্য সুযোগ করে দিয়েছে।​ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, রসুনের আদি নিবাস মধ্য এশিয়ায়। ধারণা করা হয়, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে বন্য রসুনের ব্যবহার শুরু হয়েছিল। সময়ের পরিক্রমায় এটি মধ্য এশিয়া থেকে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের আনাচে-কানাচে। প্রাচীন রোমান সভ্যতায় সাধারণ মানুষের কাছে এটি খুব একটা জনপ্রিয় না হলেও বীর যোদ্ধারা সাহসিকতা ও শক্তি বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত রসুন সেবন করতেন। মধ্যযুগের ইউরোপে রসুনকে মূলত সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের খাবার হিসেবে গণ্য করা হতো। তবে উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এসে এই উপাদানটি পেশাদার রন্ধনশিল্পীদের বিশেষ নজরে আসে। বর্তমানে ইতালীয়, ফরাসি এবং ভূমধ্যসাগরীয় খাবার থেকে শুরু করে বাঙালির রসুইঘরে রসুন একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।​রসুনের সাথে জড়িয়ে আছে অসংখ্য লোকবিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক ধারণা। বিশেষ করে প্রাচীন লোকগাথায় মনে করা হতো যে, রসুন অশুভ শক্তি ও নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সক্ষম। এমনকি ভ্যাম্পায়ার বা অপশক্তি তাড়াতেও রসুনের ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায় প্রাচীন পশ্চিমা গল্পে। তবে আধুনিক বিজ্ঞানের আলোয় রসুনের ভেষজ গুণাবলিই এখন প্রধান আলোচনার বিষয়। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় রসুনকে একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে দেখা হয়। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, নিয়মিত রসুন সেবন রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যদিও আধুনিক চিকিৎসকরা দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে এবং নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থায় রসুনের পরিমিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।​জাতীয় রসুন দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, তুচ্ছ মনে হওয়া একটি ক্ষুদ্র মশলা কীভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্যাভ্যাস ও রন্ধনশৈলীকে প্রভাবিত করেছে। বর্তমানের বিশ্বায়নের যুগে এটি কেবল রান্নার স্বাদ বাড়ানোই নয়, বরং স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এবং সংস্কৃতির বিনিময়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তাই আজকের এই দিনে আমরা খাবারের পাতে রসুনের ঘ্রাণ ও স্বাদ উপভোগ করার পাশাপাশি এর সুদীর্ঘ ইতিহাস ও ঔষধি গুরুত্বের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে পারি। রসুনের এই বর্ণাঢ্য জয়যাত্রা আমাদের খাদ্য সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকেই আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।

আজ জাতীয় রসুন দিবস: ​রোমান যোদ্ধাদের শক্তি থেকে ভ্যাম্পায়ার আতঙ্ক

হাম আক্রান্ত শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যা করবেন

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জনপদে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলোতেও শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা না নিলে শিশুদের শারীরিক নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়, যা অনেক সময় প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে। এমতাবস্থায় আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ও পরম মমতার সাথে শিশুদের পরিচর্যা এবং বিশেষত তাদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।​রাজধানীর পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের প্রধান এবং বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি এই সংকটকালীন সময়ে শিশুদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানান, হামে আক্রান্ত হলে শিশুর শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ‘ইমিউনিটি’ অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই এই সময়ে শিশুকে সহজে হজম হয় এমন পুষ্টিকর ও সাত্ত্বিক গুণসম্পন্ন খাবার দেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদ নিশির মতে, শিশুকে উষ্ণ গরম স্যুপ খাওয়ানো যেতে পারে। স্যুপের গুণাগুণ বাড়াতে এতে অল্প পরিমাণে মাংস বা ডিমের সাদা অংশ মেশানো যেতে পারে, তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন তাতে কোনো উগ্র মশলার আধিক্য না থাকে।​অসুস্থতার সময় শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে অভিভাবকদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় শিশু খেতে না চাইলে মায়েরা ভালোবেসে বা আদর করে চিপস কিংবা কৃত্রিম প্রক্রিয়াজাত খাবার হাতে তুলে দেন। এই অভ্যাসটি শিশুর আরোগ্যের পথে বড় বাধা হতে পারে। প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবার অসুস্থ শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলে, তাই হামে আক্রান্ত শিশুকে এ ধরনের খাবার থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা বাঞ্ছনীয়। পাশাপাশি, অসুস্থ অবস্থায় শরীরকে চনমনে রাখতে অনেকে চা বা কফি পানের পক্ষপাতী হলেও হামের ক্ষেত্রে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। চা-কফি পানের ফলে শরীরে পানিশূন্যতা ও জটিলতা বাড়তে পারে, যা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।​আয়ুর্বেদ ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান উভয় মতেই অসুস্থতার সময় তরল খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম। পুষ্টিবিদ নিশাত শারমিন নিশি হামে আক্রান্ত শিশুর জন্য ডাবের পানিকে শ্রেষ্ঠ পথ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া বাড়িতে তৈরি টাটকা ফলের রস বা জুস দেওয়া যেতে পারে। তবে বাজারের কেনা রাসায়নিকযুক্ত জুস পরিহার করে ঘরেই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তা তৈরি করতে হবে। যেহেতু এই সময়ে শরীরে ক্যালোরির চাহিদা বেড়ে যায়, তাই ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা না থাকলে সামান্য চিনি যোগ করে শিশুকে ফলের রস দেওয়া যেতে পারে।​শিশুদের খাওয়ানোর কৌশলের ওপর জোর দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসুস্থতার কারণে শিশুরা একবারে বেশি খাবার গ্রহণ করতে পারে না। তাই জোর করে বেশি না খাইয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে। খাবারে বৈচিত্র্য আনলে শিশু খেতে আগ্রহী হয়। যদি শিশুর হজমে সমস্যা না থাকে, তবে গাজর ও মিষ্টিকুমড়ার মতো পুষ্টিকর সবজি স্যুপ বা নরম ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া অত্যন্ত উপকারী। পরিশেষে, হামের মতো ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন বিশুদ্ধতা ও সঠিক পরিচর্যা। আতঙ্কিত না হয়ে পুষ্টিকর খাবার এবং সচেতন যত্ন নিশ্চিত করলে শিশুরা দ্রুতই পুনরায় চঞ্চল ও হাসিখুশি হয়ে উঠবে।

হাম আক্রান্ত শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যা করবেন

স্বর্ণ বিক্রি করলে দাম কমে যাচ্ছে — সাধারণ মানুষের সঙ্গে কি অন্যায় হচ্ছে?

স্বর্ণের বাজারদর ঊর্ধ্বমুখী হলেও বিক্রির সময় ক্রেতারা প্রত্যাশিত মূল্য পাচ্ছেন না। ক্রয়মূল্যের তুলনায় স্বর্ণ বিক্রি করতে গেলে প্রতি ভরিতে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ বাড়ছে।স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে স্বর্ণের বর্তমান বিক্রয়মূল্য নির্ধারিত হয় আন্তর্জাতিক বাজারদর ও স্থানীয় চাহিদার ওপর ভিত্তি করে। তবে একজন গ্রাহক যখন স্বর্ণ বিক্রি করতে যান, তখন সেই দামে স্বর্ণ কেনা হয় না। এর প্রধান কারণ হিসেবে তারা জানান যে—স্বর্ণের মেকিং চার্জ, ডিজাইন খরচ, পরিশোধন (রিফাইনিং) ব্যয় এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকি।ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত স্বর্ণ গলিয়ে আবার বার বা নতুন অলংকার বানাতে অতিরিক্ত খরচ হয়। ফলে পুরনো অলংকারের ক্ষেত্রে সেই খরচ সমন্বয় করেই দাম নির্ধারণ করা হয়। এ কারণে বিক্রির সময় প্রতি ভরিতে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত কমে যেতে পারে।অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ ক্রেতারা পরিষ্কারভাবে জানেন না। স্বচ্ছতা না থাকায় অনেক সময় ক্রেতারা প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা করেন। তারা দাবি করেন, স্বর্ণ কেনা-বেচার ক্ষেত্রে স্পষ্ট মূল্যতালিকা ও নিয়ম থাকা জরুরি।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের মত, স্বর্ণ বিক্রির আগে গ্রাহকদের উচিত বাজারদর সম্পর্কে জেনে নেওয়া এবং একাধিক দোকানের দর তুলনা করা। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের উচিত স্বর্ণ বেচাকেনায় আরও স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করা, যাতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই ন্যায্য সুবিধা পান।

স্বর্ণ বিক্রি করলে দাম কমে যাচ্ছে — সাধারণ মানুষের সঙ্গে কি অন্যায় হচ্ছে?

ঘাড়ের কালো দাগে লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর রোগের সংকেত

ঘাড়ের পেছনে বা ভাঁজে হঠাৎ করে কালচে দাগ পড়াকে অনেকেই সাধারণ ময়লা বা ত্বকের সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই পরিবর্তনকে বলা হয় অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকানস, যা শরীরের ভেতরে চলমান কিছু জটিল রোগের আগাম সতর্কসংকেত হতে পারে। এটি কোনো সংক্রামক রোগ নয়, তবে ডায়াবেটিস, হরমোনজনিত সমস্যা এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকানস হলে শরীরের নির্দিষ্ট কিছু অংশে ত্বক কালচে, মোটা ও মখমলের মতো হয়ে যায়। সাধারণত ঘাড়ের পেছন দিক, বগল, কুঁচকি, কনুই কিংবা হাঁটুর ভাঁজে এই পরিবর্তন বেশি দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এতে ব্যথা না থাকলেও অনেক সময় চুলকানি বা দুর্গন্ধ অনুভূত হতে পারে, যা রোগীকে অস্বস্তিতে ফেলে।এই সমস্যার সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে ধরা হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। যখন শরীরের কোষগুলো ইনসুলিন ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারে না, তখন রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ইনসুলিন ত্বকের কোষকে দ্রুত বাড়তে উদ্দীপিত করে, ফলে ত্বক মোটা ও কালচে হয়ে ওঠে। এ কারণেই টাইপ–২ ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়।এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস), থাইরয়েডসহ অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যা এবং দীর্ঘদিন কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ যেমন স্টেরয়েড বা হরমোন থেরাপি গ্রহণের ফলেও এ সমস্যা হতে পারে। খুব বিরল হলেও হঠাৎ করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকানস কোনো অভ্যন্তরীণ ক্যানসারের ইঙ্গিতও হতে পারে, যা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।সব বয়সেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে যাঁদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, যাঁদের ওজন বেশি কিংবা যাঁদের জীবনযাত্রা অনিয়ন্ত্রিত, তাঁদের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই শরীরে এমন কালো দাগ দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়।অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকানসের চিকিৎসায় শুধু ক্রিম বা মলম ব্যবহার করলেই স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায় না। মূল রোগ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করাই এর প্রধান চিকিৎসা। ওজন কমানো, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে ত্বকের রং ও গঠন উন্নত করতে বিশেষ ক্রিম বা কেমিক্যাল পিল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।হঠাৎ করে খুব দ্রুত ত্বক কালো হয়ে গেলে, ওজন কমানোর পরও দাগ না কমলে কিংবা অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভূত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকানস নিজে কোনো মারাত্মক রোগ না হলেও এটি শরীরের ভেতরে চলমান সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। সময়মতো সচেতন হলে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে এই সমস্যার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। ত্বকের পরিবর্তন মানেই শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়—এটি হতে পারে সুস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।

ঘাড়ের কালো দাগে লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর রোগের সংকেত

কাঁচা ডিমে চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ে—দাবিটি কতটুকু সত্য?

চুলের উজ্জ্বলতা ও শক্তি বাড়াতে কাঁচা ডিম ব্যবহারের কথা দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ঘরোয়া রূপচর্চার পরামর্শে প্রায়ই দাবি করা হয়—কাঁচা ডিমে চুল কয়েকগুণ বেশি উজ্জ্বল হয়। কিন্তু এই দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা শক্ত—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমে থাকা প্রোটিন, বায়োটিন, ভিটামিন এ ও ই চুলের জন্য উপকারী—এটা সত্য। এসব উপাদান চুলের কিউটিকল সাময়িকভাবে মসৃণ করতে পারে, ফলে ধোয়ার পর চুল কিছুটা চকচকে দেখাতে পারে। তবে এটিকে “কয়েকগুণ উজ্জ্বলতা” বলা অতিরঞ্জিত। কারণ কাঁচা ডিম সরাসরি মাথার ত্বকে লাগালে পুষ্টি গভীরভাবে শোষিত হয়—এমন শক্ত প্রমাণ নেই।চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেন, কাঁচা ডিমে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি থাকে। খোলা ক্ষত বা সংবেদনশীল ত্বকে এটি সংক্রমণের কারণ হতে পারে। পাশাপাশি ডিমের গন্ধ ও প্রোটিন জমে চুল শক্ত হয়ে যাওয়ার ঘটনাও অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়।তাদের পরামর্শ—চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কাঁচা ডিমের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার এবং প্রয়োজনে চিকিৎসক-নির্ধারিত হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা বেশি কার্যকর ও নিরাপদ।সব মিলিয়ে বলা যায়, কাঁচা ডিম চুলে সাময়িক উজ্জ্বলতা আনতে পারে—এমন সম্ভাবনা থাকলেও “কয়েকগুণ বৃদ্ধি”র দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সচেতন ব্যবহারই বুদ্ধিমানের কাজ। ডিমের সাথে দুধ, অলিভ অয়েল অথবা কলার সংমিশ্রণে চুলের কর্মক্ষমতা অনেকাংশ বেড়ে যায় বলে ধারণা করা হয়।ডিম ও দুধঃচুলে প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে ডিমের হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এটি চুল মজবুত করে। মাস্কটি তৈরি করার জন্য একটি পাত্রে ২টি ডিম ফাটিয়ে নিন। এর সঙ্গে মেশান এক টেবিল চামচ মধু এবং এক টেবিল চামচ দুধ বা টক দই। সবগুলো উপাদান ভালো করে মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। মাস্কটি পুরো চুল ও মাথার তালুতে ভালো করে লাগিয়ে নিন। এরপর আধাঘণ্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে নিন।ডিম ও অলিভ অয়েলঃচুলের গোড়া শক্ত করতে কাজ করে ডিম। এদিকে অলিভ অয়েলও চুলের জন্যে দারুণ কার্যকরী। এই দুই উপাদান মিশিয়ে হেয়ার মাস্ক তৈরি করতে পারেন। এতে অল্পদিনেই উপকার পাবেন। সেজন্য প্রথমে একটি পাত্রে একটি ডিম ফাটিয়ে নিন। এবার তার সঙ্গে টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে হবে। উপাদান দু’টি ভালো করে মিশিয়ে হেয়ার মাস্ক তৈরি করে নিন। এবার সেই মাস্ক চুলে লাগিয়ে নিন। মিনিট বিশেক অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে নিন।ডিম, কলা ও দুধঃবিভিন্ন কারণে চুল প্রাণহীন হয়ে পড়লে সাহায্য নিতে পারেন ডিমের। চুলের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে দিতে কাজ করে ডিমের হেয়ার মাস্ক। তার সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে কলা ও মধু। প্রথমে একটি কলা চটকে নিন। এবার তার মধ্যে তিন টেবিল চামচ দুধ ও তিন টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এরপর তার সঙ্গে মেশান একটি ডিম। সব উপকরণ ভালো করে মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার এই হেয়ার মাস্ক চুলে লাগিয়ে নিন। আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু করে নিন। পরিবর্তন আপনি নিজেই টের পাবেন।

কাঁচা ডিমে চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ে—দাবিটি কতটুকু সত্য?

সিলিন্ডার গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা: সংকট সামাল দিতে রান্নায় আনুন পরিবর্তন

সিলিন্ডার গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোথাও গ্যাস মিলছে না, আবার কোথাও পাওয়া গেলেও সুযোগ বুঝে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের অসংখ্য পরিবার পড়েছে চরম ভোগান্তিতে।এই পরিস্থিতিতে গ্যাসের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প খুব একটা নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রান্নার পদ্ধতি ও চুলা ব্যবহারের অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনলে গ্যাসের অপচয় কমানো সম্ভব। এতে খরচ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে।নিচে গ্যাস সাশ্রয়ের কার্যকর কিছু পদক্ষেপ দেখানো হলোকেনার সময় সিলিন্ডারের ওজন যাচাই করুনগ্যাস কেনার সময় সিলিন্ডারের নির্ধারিত ওজন ঠিক আছে কি না, তা অবশ্যই পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সিলিন্ডারে ঘোষিত পরিমাণের চেয়ে কম গ্যাস থাকে। এতে সিলিন্ডার কম দিনেই শেষ হয়ে যায় এবং খরচ বেড়ে যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরে একটি ওজন মাপার যন্ত্র রাখলে ডেলিভারির সময় সহজেই যাচাই করা সম্ভব। ওজন কম হলে সেই সিলিন্ডার গ্রহণ না করাই শ্রেয়।কম আঁচে রান্নার অভ্যাস গড়ে তুলুন,উচ্চ তাপে রান্না করলে যেমন গ্যাস বেশি খরচ হয়, তেমনি খাবারের পুষ্টিগুণও নষ্ট হয়। কম আঁচে ধীরে রান্না করলে গ্যাসের ব্যবহার কমে এবং খাবারের মানও ভালো থাকে। বিশেষ করে প্রতিদিনের সাধারণ রান্নায় বেশি আঁচ ব্যবহারের কোনো বাস্তব প্রয়োজন নেই।খাবার ঢেকে রান্না করুন, প্রেশার কুকার ব্যবহার করুন,ঢাকনা দিয়ে রান্না করলে তাপ ভেতরে আটকে থাকে, ফলে খাবার দ্রুত সিদ্ধ হয়। এতে রান্নার সময় কমে এবং গ্যাসের সাশ্রয় হয়।এ ছাড়া ডাল, মাংস বা শক্ত খাবার রান্নার ক্ষেত্রে প্রেশার কুকার ব্যবহার করলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস বাঁচানো সম্ভব।দানাশস্য আগে ভিজিয়ে রাখুন,চাল, ডাল, ছোলা বা অন্যান্য দানাশস্য রান্নার আগে কিছু সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সেগুলো নরম হয়ে যায়। এরপর চুলায় বসালে দ্রুত সিদ্ধ হয়। এতে রান্নার সময় যেমন কমে, তেমনি গ্যাসের খরচও হ্রাস পায়।সঠিক বার্নার ব্যবহার ও পরিষ্কার রাখুন,বার্নারে ময়লা বা তেল জমে থাকলে গ্যাস ঠিকমতো বের হয় না। ফলে রান্না হতে বেশি সময় লাগে এবং গ্যাস বেশি খরচ হয়। নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার রাখা এবং পাত্রের আকার অনুযায়ী সঠিক বার্নার ব্যবহার করা জরুরি।রান্নার আগে সব উপকরণ প্রস্তুত রাখুন,রান্না শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় সব উপকরণ হাতের কাছে রাখুন। গ্যাস জ্বালিয়ে রেখে উপকরণ খুঁজতে গেলে অপ্রয়োজনে গ্যাস নষ্ট হয়।এ ছাড়া ভেজা কড়াই বা পাত্র সরাসরি চুলায় বসানো ঠিক নয়। পাত্র ভেজা থাকলে পানি শুকাতে বাড়তি গ্যাস লাগে। শুকনো পাত্র ব্যবহার করলে সময় ও গ্যাস—দুটোই সাশ্রয় হয়।উপসংহার,বর্তমান গ্যাস সংকট ও মূল্য অস্থিরতার বাস্তবতায় গৃহস্থালির খরচ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে রান্নার ক্ষেত্রে সচেতনতা ও কিছু নিয়ম মেনে চললে গ্যাসের অপচয় কমানো সম্ভব। এতে পরিবারের মাসিক ব্যয় কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া যাবে।

সিলিন্ডার গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা: সংকট সামাল দিতে রান্নায় আনুন পরিবর্তন

ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক সমাধান: নিম পাতায় মিলছে ব্রণ থেকে অ্যান্টি-এজিং পর্যন্ত একাধিক উপকার

ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষা ও নানা সমস্যার সমাধানে প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এসব উপাদানের মধ্যে অন্যতম হলো নিম পাতা। যুগ যুগ ধরে আয়ুর্বেদ ও লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই পাতা শুধু রোগ প্রতিরোধেই নয়, ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতেও কার্যকর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে নিম পাতা ত্বকের একাধিক সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে।ব্রণ ও দাগছোপ দূর করতে কার্যকরব্রণ ও ব্রণের দাগ অনেকের জন্যই বড় সমস্যা। নিম পাতায় থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের জীবাণু ধ্বংস করে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত নিম পাতার পেস্ট বা নিম পানি দিয়ে মুখ ধুলে ব্রণের প্রকোপ কমে এবং ধীরে ধীরে দাগছোপ হালকা হতে শুরু করে।মুখের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব নিয়ন্ত্রণে সহায়কতৈলাক্ত ত্বকের কারণে অনেক সময় ব্রণ ও রোমকূপ বড় হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। নিম পাতা ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে মুখকে রাখে পরিষ্কার ও সতেজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, তৈলাক্ত ও মিশ্র ত্বকের জন্য নিম পাতা বিশেষভাবে উপকারী হলেও এটি সব ধরনের ত্বকে ব্যবহার করা যেতে পারে।বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা কমাতে সাহায্য করেচুলকানি, ফুসকুড়ি, র‍্যাশ কিংবা সংক্রমণ—এ ধরনের ত্বকের সমস্যায় নিম পাতার অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ বেশ কার্যকর। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে এবং ত্বক সুস্থ থাকতে সহায়তা করে।পিগমেন্টেশন ও কালো দাগ কমায়সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি, দূষণ কিংবা হরমোনজনিত কারণে অনেকের মুখে পিগমেন্টেশন দেখা দেয়। নিম পাতা ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে এবং ধীরে ধীরে কালো দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক দেখায় আরও উজ্জ্বল ও সমান টোনের।প্রাকৃতিক স্কিন টোন বজায় রাখতে ভূমিকাকেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনীর বদলে নিয়মিত নিমের ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে, যার ফলে স্কিন টোন হয় আরও প্রাণবন্ত।অ্যালার্জি ও চুলকানি প্রতিরোধে উপকারীনিম পাতার শীতল প্রভাব ত্বকের জ্বালাপোড়া, চুলকানি ও অ্যালার্জির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে গরমের সময় বা অ্যালার্জিপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে নিম পাতা আরাম দেয়।অ্যান্টি-এজিং গুণে ভরপুরনিম পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এর ফলে বয়সের ছাপ, বলিরেখা ও ফাইন লাইনের উপস্থিতি ধীরে ধীরে কমতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক থাকে টানটান ও প্রাণবন্ত।ব্যবহারে সতর্কতা জরুরিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক হলেও নিম পাতা ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা জরুরি। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহার না করে পানি বা অন্য প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়াই নিরাপদ।সব মিলিয়ে, সহজলভ্য এই প্রাকৃতিক উপাদানটি নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ত্বকের যত্নে হতে পারে কার্যকর ও নিরাপদ সমাধান।

ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক সমাধান: নিম পাতায় মিলছে ব্রণ থেকে অ্যান্টি-এজিং পর্যন্ত একাধিক উপকার

“সম্পর্কে বিপদ সংকেত: নীচু মানের পুরুষ চেনার সতর্ক লক্ষণ”

প্রথম দেখায় অনেক মানুষই আকর্ষণীয় ও ভদ্র মনে হতে পারে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আচরণ ও মানসিকতার প্রকৃত রূপ ধরা পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুল মানুষ নির্বাচন মানসিক চাপ, আত্মসম্মানহানি এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই শুরুতেই কিছু আচরণগত সংকেত চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি।মনোবিজ্ঞানী ও সম্পর্ক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে—কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য প্রায়ই একজন নীচু মানের পুরুষের পরিচায়ক হয়ে ওঠে।তাদের মধ্যে অন্যতম হলো—অন্যদের বিশেষ করে নারীদের ছোট করে দেখা। যারা নারীদের “উচ্চমানের পুরুষের যোগ্য নয়” বলে মন্তব্য করে, তারা সাধারণত ক্ষমতার ভারসাম্য ও সম্মানের ধারণায় ব্যর্থ।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো, নিজেকে বারবার ‘ভাল মানুষ’ হিসেবে জাহির করা। বাস্তবে দায়িত্বশীল ও নৈতিক মানুষকে নিজের প্রশংসা করতে হয় না—তার আচরণই কথা বলে।সম্পর্কে হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া বা ‘ঘোস্টিং’ করাও বড় ধরনের সতর্ক সংকেত।। পরিণত মানুষ সম্পর্ক শেষ হলেও ন্যূনতম ব্যাখ্যা দিতে জানে।এছাড়া অতিরিক্ত অভিযোগপ্রবণতা, সবকিছুতে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, নিজের ভুলের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানো—এসব আচরণ সম্পর্ককে বিষাক্ত করে তোলে।।বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যারা অন্যদের ব্যবহার করে গর্ববোধ করে, ছোটখাটো মিথ্যা বলতে দ্বিধা করে না, অথবা সম্পর্ক থেকে শুধু নিতে জানে—তারা আবেগগতভাবে অনির্ভরযোগ্য।।শুধু নিজের পছন্দের বা আকর্ষণীয় নারীদের প্রতি সম্মান দেখানো, কৃপণতা এবং কৃতজ্ঞতার অভাবও নীচু মানসিকতার প্রতিফলন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মতো সাধারণ মানবিক আচরণে যারা ব্যর্থ, তারা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না।।সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—সম্পর্কে ভালোবাসার পাশাপাশি যুক্তিবোধ বজায় রাখা জরুরি। কারণ নীচু মানের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক মানেই দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও ক্ষতির ঝুঁকি।।

“সম্পর্কে বিপদ সংকেত: নীচু মানের পুরুষ চেনার সতর্ক লক্ষণ”