হিন্দুস নিউজ

খেলা

সমালোচনা উড়িয়ে অধিনায়কত্বে বহাল থাকার ঘোষণা লিটনের

সমালোচনা উড়িয়ে অধিনায়কত্বে বহাল থাকার ঘোষণা লিটনের

এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট ইভেন্ট থেকে কোনো পদক না পেয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে, যা ক্রীড়ামোদী ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম হতাশার সৃষ্টি করেছে। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে ব্যর্থ হওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক লিটন দাস দলের টানা ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিলেও অধিনায়কত্ব ছাড়ার দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে পরাস্ত হয় বাংলাদেশ। এরপর শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে কোনো পদক ছাড়াই লজ্জাজনক বিদায় নিতে হয় দলকে। দুটি ম্যাচেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয় দল, যেখানে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন লিটন দাস নিজেও।​শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরাজয়ের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের পারফরম্যান্সের ঘাটতি এবং অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে লিটন দাস নিজের বাজে ফর্মের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। তিনি জানান যে দুটি ম্যাচেই তিনি ব্যাটে রান পাননি, যা দলকেও বড় চাপে ফেলেছে। তবে অধিনায়কত্ব ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান যে খেলায় জয়-পরাজয় ও উত্থান-পতন থাকবেই এবং খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে পদত্যাগ করার কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখেন না। উল্লেখ্য, টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে তিনি মাত্র ২ রান করেন এবং দ্বিতীয় ম্যাচে কোনো রান না করেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান।​দলের এমন বিপর্যয় ও ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে কোনো একটি বিশেষ মহল সাধারণ খেলোয়াড়দের ওপর অন্যায়ভাবে দায় চাপানোর চক্রান্ত করতে পারে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকার ও সর্বজনীন সুবিচারের দিক থেকে যেকোনো ক্ষেত্রে প্রতিটি ক্রীড়াবিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে লক্ষ্য পূরণের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি অধিনায়ক লিটন দাস স্বীকার করেছেন যে দল হিসেবে পুরো টুর্নামেন্টে তারা সঠিক ও মানসম্মত ক্রিকেট খেলতে পারেননি।​শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের কারিগরি বিশ্লেষণে লিটন তুলে ধরেন যে তাদের বোলাররা ম্যাচের প্রথম আট ওভারে বেশ ভালো নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। তবে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার এক ব্যাটারের ঝোড়ো ও অসাধারণ ব্যাটিং প্রদর্শনী পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলারদের ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলে। বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং ব্যর্থতাও এই বিপর্যয়ের অন্যতম বড় কারণ ছিল বলে অধিনায়ক মন্তব্য করেন। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে খালি হাতে ফিরতে হওয়ায় অধিনায়ক হিসেবে নিজের চরম হতাশার কথা জানিয়ে তিনি শেষ করেন যে, একটি বড় স্বপ্ন নিয়ে এসে তা পূরণ করতে না পারলে অধিনায়কের খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক নিয়তি।

হ্যাটট্রিক করে মেসির রেকর্ড ভাঙলেন রাফিনিয়া

লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন রাফিনিয়া। সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলের জয় এনে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে একুশ শতকে লা লিগার কোনো মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচে গোল করার দিক থেকে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। সেভিয়ার মাঠে শনিবার রাতে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে বার্সা। র‍্যামন সানচেজ স্টেডিয়ামে ১৯ মিনিটে ইউসুফ ফোফানার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। চার মিনিট পরই রাফিনিয়ার গোলে সমতায় ফেরে বার্সা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তারকা ফুটবলার। অনায়াস জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালান ক্লাবটি। লা লিগার চলতি মৌসুমে এটা বার্সার টানা সপ্তম জয়। ২১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল হান্সি ফ্লিকের দল। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে অবস্থান করছে রিয়াল মাদ্রিদ। এক ম্যাচ কম খেলেছে মাদ্রিদের ক্লাবটি। সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাট্রট্রিকের পর এবারের লা লিগায় রাফিনিয়ার গোলসংখ্যা এখন ১২। অপটার তথ্য অনুযায়ী, একুশ শতকে লা লিগার প্রথম সাত ম্যাচে মেসির চেয়ে বেশি গোল করেছেন তিনি। এই সময়ে রাফিনিয়ার চেয়ে বেশি গোল করার কীর্তি রয়েছে কেবল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে প্রথম সাত ম্যাচে ১৩ গোল করেছিলেন রোনালদো। সেই রেকর্ড ভাঙার সুযোগও তৈরি হয়েছিল রাফিনিয়ার সামনে। তবে ৭৬ মিনিটে তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেন ফ্লিক। ফলে রোনালদোর রেকর্ড স্পর্শ কিংবা ছাড়িয়ে যাওয়া হয়নি রাফিনিয়ার। বার্সার হয়ে সেরা সময় পার করছেন রাফিনিয়া। নাম্বার নাইনের ভূমিকায় দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। লা লিগায় লেভান্তের বিপক্ষে ম্যাচ ছাড়া চলতি মৌসুমে প্রতি ম্যাচেই গোল করেছেন। টানা দুই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বার্সায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইতিবাচক রাফিনিয়া। ক্লাবটির সঙ্গে নতুন চুক্তির আলোচনা এগোচ্ছে পরিকল্পনা অনুযায়ী। সাধারণ সভায় স্পোর্টিং ডিরেক্টর ডেকো জানিয়েছেন, দুই পক্ষ সমঝোতার খুব কাছাকাছি রয়েছে। নতুন চুক্তি হলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বার্সায় থাকবেন রাফিনিয়া। ক্লাব ও শহরে নিজেকে থিতু মনে করেন তিনি। সম্প্রতি রাফিনিয়া জানিয়েছেন, স্প্যানিশ ক্লাবটির জার্সি গায়েই ক্যারিয়ার শেষ করতে চান তিনি।

হ্যাটট্রিক করে মেসির রেকর্ড ভাঙলেন রাফিনিয়া

শীর্ষস্থান হারাল ভারত

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে ধবলধোলাই করে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে ইংল্যান্ড। ম্যানচেস্টারে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে লঙ্কানদের ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ভারতকে পেছনে ফেলে আবারও এক নম্বরে উঠে এসেছে ইংলিশরা। আফগানিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়ে কিছুদিন আগেই র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিল ভারত। ইংল্যান্ড সিরিজ জেতায় আবারও দুই নম্বরে নেমে গেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ব্যাট করতে নেমে ১২৪ রানে থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস। জবাবে ৬২ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। দল জেতানোর পথে ৩২ বলে ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন জস বাটলার। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে ৮৫ রানের জুটি গড়ে দলের সহজ জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ব্রুকের ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান। এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১১৯ রান এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ছয় উইকেটে জিতেছিল ইংল্যান্ড। সব মিলিয়ে সবশেষ ২৬ টি-টোয়েন্টির ২৩টিতেই জয়ের দেখা পেল তারা। র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়াকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন ব্রুক। তিনি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে আবারও বিশ্বের এক নম্বর হওয়া অসাধারণ এক অর্জন। এ জন্য দলের প্রত্যেকেরই গর্বিত হওয়া উচিত। সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়েছে, বিশেষ করে যারা খুব বেশি খেলার সুযোগ পায়নি।’ সিরিজে ১৭০ রান করেছেন ব্রুক। তিন সংস্করণেই ইংল্যান্ডের নিয়মিত খেলোয়াড় হওয়ায় চাপ থাকলেও দেশের হয়ে খেলাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি, ‘আমি ইংল্যান্ডের হয়ে যত বেশি সম্ভব ক্রিকেট খেলতে চাই। এটাই আমার প্রধান অগ্রাধিকার। এ কারণেই আমি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলি না।’ অন্যদিকে, টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য শ্রীলঙ্কার। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা বলেন, ‘ব্যাটিং ও বোলিং, দুই দিক থেকেই আমাদের জন্য এটি খুবই হতাশাজনক একটি সিরিজ ছিল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা দলগুলোর তুলনায় আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, তা বোঝার জন্য এই সিরিজটি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে।’

শীর্ষস্থান হারাল ভারত

রবার্তো কার্লোসের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার জল্পনা মিথ্যা

ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোসের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের যে গুঞ্জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে আনুষ্ঠানিকভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন এই তারকা। সম্প্রতি তুরস্কের শাসকদল একে পার্টির এক সংসদ সদস্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা ও গণমাধ্যমের কিছু সূত্রের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাপী তার ধর্মান্তরিত হওয়ার বার্তাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুরো বিষয়টি নাকচ করে কার্লোস স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে পেশ করা তথ্যাদি নিছক গুজব বৈ কিছু নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি সব ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধাবোধের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') অন্যদিকে মরক্কান নাগরিক তথা ফিফা অনুমোদিত ফুটবল এজেন্ট সুহাইলা এল তাহিরির সঙ্গে তার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন। তাদের পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিন্ন ধর্মীয় পটভূমির কথা বিবেচনায় রেখে অত্যন্ত সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধার পরিবেশেই তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো ক্যাথলিক ও ইসলামি উভয় রীতি মেনে সম্পন্ন হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্য ও অতিরঞ্জিত গুঞ্জনের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিশ্বখ্যাত এই ফুটবল তারকা সব ধর্মের প্রতি পারস্পরিক সহমর্মিতা ও উদার শ্রদ্ধাবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

রবার্তো কার্লোসের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার জল্পনা মিথ্যা

ঐতিহাসিক ‘মেন ইন ব্লু’ পরিচয় বদলে কি এবার গেরুয়া পোশাকে মাঠ কাঁপাবেন কোহলিরা?

​ভারতীয় ক্রিকেট দল বলতেই বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই চেনা নীল রঙের ক্যানভাস। ‘মেন ইন ব্লু’ নামেই বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। তারকাখচিত স্কোয়াড আর সোনালী ইতিহাসের পাশাপাশি এই নীল পোশাক কোটি ভারতীয় এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমর্থকদের আবেগ ও অনুভূতির এক অনন্য প্রতীক। তবে সম্প্রতি নেটদুনিয়ায় নতুন এক তথ্য নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। ঐতিহাসিক নীল পোশাক তুলে রেখে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিদের গায়ে নাকি উঠতে যাচ্ছে সনাতনী সংষ্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক ‘গেরুয়া’ রঙের নতুন জার্সি।​তবে এই গুঞ্জনে তাৎক্ষণিকভাবে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) এখনো এমন কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি। আপাতত পুরো বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ার চর্চা ও অনুমানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেটের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে এই নীল রঙের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। ১৯৮৩ সালের ঐতিহাসিক সাফল্য থেকে শুরু করে ২০১১ সালে ঘরের মাটিতে মহেন্দ্র সিং ধোনিদের বিশ্বজয়ের স্মৃতি—সবই এই নীল রঙের সাথে জড়িত। আইসিসির যেকোনো বড় আসরে নীল জার্সি দেখলেই বিশ্ব ক্রিকেট একনামে চিনে নেয় ভারতকে। তাই আচমকা এমন দৃশ্যপট পরিবর্তনের গুঞ্জনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। ​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​জার্সিতে গেরুয়া ছোঁয়া অবশ্য ভারতের জন্য একেবারেই অভূতপূর্ব নয়। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে নিয়ম অনুযায়ী ‘অ্যাওয়ে কিট’ হিসেবে কমলা-গেরুয়া রঙের বিকল্প জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন তৎকালীন অধিনায়ক বিরাট কোহলিরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুটি দলের পোশাকের রঙ একই হলে আইসিসির নিয়মানুযায়ী ‘অ্যাওয়ে কিট’ ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। এছাড়া নতুন স্পনসরশিপের শর্ত, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণের কৌশল হিসেবেও পোশাকে বৈচিত্র্য আনা হয়ে থাকে। বর্তমানে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এই খবর ঘিরে ভক্তদের মধ্যে দু’ধরনের মতামত দেখা যাচ্ছে। ঐতিহ্যপ্রেমী সমর্থকদের দাবি, নীল পোশাকই ভারতীয় ক্রিকেটের মূল পরিচয়। অন্যদিকে একদল তরুণের মতে, আধুনিক ডিজাইনে সনাতনী ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ছোঁয়া এনে নতুনত্বকে স্বাগত জানানো যেতে পারে। পরিশেষে, সব জল্পনা-কল্পনার ইতি টানতে বিসিসিআইয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই, কেননা এখন পর্যন্ত সব ফরম্যাটেই ভারতের প্রধান জার্সি হিসেবে নীল রঙই বহাল রয়েছে।

ঐতিহাসিক ‘মেন ইন ব্লু’ পরিচয় বদলে কি এবার গেরুয়া পোশাকে মাঠ কাঁপাবেন কোহলিরা?

কমনওয়েলথে ৭ স্বর্ণে ভারতের ঐতিহাসিক এক দিন

গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে বক্সিং রিংয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়েছে ভারত। ১০টি ফাইনালের মধ্যে সাতটিতেই স্বর্ণপদক জিতে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে ভারতীয় বক্সাররা। একদিনে সাতটি স্বর্ণ জয়ের এই কীর্তি শুধু পদক তালিকায় ভারতের অবস্থানই শক্তিশালী করেনি, বরং আন্তর্জাতিক বক্সিংয়েও দেশটির উত্থানের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।ফাইনালের সবচেয়ে নাটকীয় লড়াইটি ছিল পুরুষদের একটি ওজন শ্রেণিতে। ভারতের শচীন শচীন শেষ রাউন্ড পর্যন্ত নামিবিয়ার ট্রাইএগেইন মর্নিং এনদেভেলোর কাছে পিছিয়ে ছিলেন। তবে ম্যাচের একেবারে শেষ ঘুষিতে প্রতিপক্ষকে নকডাউন করে অবিশ্বাস্যভাবে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি।ভারতের এই সাফল্যের দিনে নারীদের ৫৭ কেজি বিভাগে আরেকটি ইতিহাস গড়েন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশ। ফাইনালে হেরে রৌপ্য জিতলেও তিনি কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রথম বক্সার হিসেবে চারটি পদক জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন।পদক জয়ের পর ওয়ালশ বলেন, "এটি আমার জন্য বিশাল অর্জন। এখনও পুরো বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারিনি। নিজের পারফরম্যান্সে আমি গর্বিত।"গ্লাসগো ২০২৬-এ ভারতের বক্সারদের ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করেছে, দেশটির বক্সিং এখন আর কেবল সম্ভাবনার জায়গায় নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তারা এখন অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। সাতটি স্বর্ণ জয়ের এই পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগেও ভারতীয় বক্সিংয়ের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।

কমনওয়েলথে ৭ স্বর্ণে ভারতের ঐতিহাসিক এক দিন

ম্যাচের আগে ধ্যান, মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, হলান্ডের সাফল্যের মন্ত্র যোগাসন

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার, নরওয়ের তারকা ফুটবলার আর্লিং হলান্ড শুধু গোল করার দক্ষতার জন্যই নন, মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্যও সমানভাবে প্রশংসিত। প্রায় সাড়ে ৬ ফুট উচ্চতার এই ফরোয়ার্ড একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তীব্র প্রতিযোগিতা, মানসিক চাপ ও উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে নিজেকে শান্ত ও মনোযোগী রাখতে তিনি নিয়মিত যোগাসন ও ধ্যানের চর্চা করেন।মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে, বিভিন্ন সময়েই হলান্ডকে পদ্মাসন বা সুখাসনের ভঙ্গিতে চোখ বন্ধ করে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে জ্ঞান মুদ্রায় ধ্যান করার এই অভ্যাস তাঁর মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। ম্যাচ শুরুর আগে, অনুশীলন শেষে কিংবা ড্রেসিংরুমে, সুযোগ পেলেই তিনি কয়েক মিনিটের জন্য যোগাসন ও ধ্যানের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করে নেন।হলান্ডের মতে, একজন ফুটবলারের জন্য শুধু শারীরিক সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। কঠিন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা এবং পুরো ম্যাচজুড়ে মনোযোগ ধরে রাখার জন্য মানসিক প্রশান্তি অপরিহার্য। আর সেই প্রশান্তি অর্জনের অন্যতম কার্যকর উপায় হিসেবে তিনি যোগব্যায়ামকে বেছে নিয়েছেন।বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগেও তাঁকে ধ্যান করতে দেখা গেছে। উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের আগে নিজের মনকে শান্ত রাখতে এই অনুশীলন তাঁর আত্মবিশ্বাস ও একাগ্রতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মাঠে হলান্ডের দুর্দান্ত গতি, আক্রমণাত্মক খেলার ধরণ এবং চাপের মুহূর্তেও ঠান্ডা মাথায় গোল করার ক্ষমতার পেছনে তাঁর এই মানসিক প্রস্তুতির বড় ভূমিকা রয়েছে।বিশ্বজুড়ে যোগব্যায়ামের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। ক্রীড়াবিদদের মধ্যে শারীরিক ফিটনেসের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতেও যোগাসন এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুশীলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আর্লিং হলান্ডের মতো বিশ্বমানের একজন ফুটবলারের নিয়মিত যোগচর্চা সেই বার্তাকেই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত যোগাসন ও ধ্যান মানসিক চাপ কমাতে, মনোযোগ বৃদ্ধি করতে, শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শরীরের ভারসাম্য উন্নত করতে সহায়ক। আধুনিক ক্রীড়াজগতে তাই যোগব্যায়াম এখন শুধু একটি ব্যায়াম নয়, বরং একজন অ্যাথলেটের সামগ্রিক পারফরম্যান্স উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও স্বীকৃত।

ম্যাচের আগে ধ্যান, মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, হলান্ডের সাফল্যের মন্ত্র যোগাসন

মহিমান্বিত 'পদ্মশ্রী' পদকে ভূষিত হলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা

ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বৈশ্বিক মঞ্চে সনাতনী গৌরবের এক উজ্জ্বল প্রতীক, ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক রোহিত শর্মা ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান 'পদ্মশ্রী' পদকে ভূষিত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত এক জাকজমকপূর্ণ দ্বিতীয় সিভিল ইনভেস্টিচার অনুষ্ঠানে ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। নিয়মানুযায়ী, কালো স্যুট পরিধান করে যথাযথ সম্মান ও রাষ্ট্রীয় নিয়ম মেনে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ পদক গ্রহণ করেন রোহিত। পদক গ্রহণের পর তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি গভীর সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। গৌরবময় এই মূর্তে রোহিত শর্মার সঙ্গে সার্বক্ষণিক অনুপ্রেরণা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী রিতিকা সাজদে।​ভারতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাটিং লাইনআপে রোহিত শর্মা দীর্ঘদিন ধরে এক অবিচল ভরসা ও সনাতনী নেতৃত্বের অদম্য ইচ্ছাশক্তির নাম। তাঁরই অনন্য ও দূরদর্শী অধিনায়কত্বে ভারত ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে এবং এর পরের বছর অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও ভারতের ঘরে আসে তাঁরই হাত ধরে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') বিশ্ব ক্রিকেটে একজন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি এবং আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পাঁচটি সেঞ্চুরির অভাবনীয় রেকর্ড রয়েছে এই ক্রিকেট তারকার। এবারের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রোহিত শর্মা ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন স্তরে অবদান রাখা মোট ৬৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পদকে ভূষিত করা হয়েছে।সনাতনী নারী শক্তির প্রতীক ও ভারতের নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরকেও ক্রিকেটে বিশেষ অবদানের জন্য 'পদ্মশ্রী' পদক প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে মানবাধিকার ও ক্রীড়া নৈপুণ্যের মেলবন্ধন ঘটানো টেনিস কিংবদন্তি বিজয় অমৃতরাজকে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান 'পদ্মভূষণ' পদকে ভূষিত করা হয়।

মহিমান্বিত 'পদ্মশ্রী' পদকে ভূষিত হলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা

ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ "কালো জাদুর" কবলে

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান করে নিয়েছে আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী কুসংস্কার ও কালো জাদুর হীন চর্চা। সম্প্রতি বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ড বনাম ঘানার মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটিতে শক্তিশালী ইংলিশ বাহিনীকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়েছে ঘানা। তবে মাঠের ফুটবলীয় নৈপুণ্যের চেয়েও বিশ্ববাসীকে স্তম্ভিত করেছে গ্যালারিতে ঘানার সমর্থকদের প্রকাশ্য ‘জুজু’ বা ঐতিহ্যবাহী কালো জাদু ও তান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপ। বিশেষ করে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেনের একের পর এক সহজ সুযোগ মিস করার পেছনে ঘানার এক কুখ্যাত ওঝার প্রকাশ্য অভিশাপ ও মন্ত্রপূত স্পেল কাজ করেছে বলে তীব্র বিতর্ক ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাচের আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘানার বিতর্কিত তান্ত্রিক নানা কিয়াঙ্কু বোন্সাম প্রকাশ্য দাবি করেছিলেন যে, তিনি হ্যারি কেনের ওপর এমন এক বিশেষ ‘স্পেল’ বা কালো জাদু প্রয়োগ করেছেন, যার কারণে ইংলিশ অধিনায়ক এই ম্যাচে কোনোভাবেই গোল করতে পারবেন না। মাঠের খেলার ফলাফলেও সেই কুসংস্কারাচ্ছন্ন চক্রান্তের প্রতিফলন দেখা যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে এক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') ​ম্যাচ চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, গ্যালারিতে অবস্থানরত কিছু ঘানিয়ান সমর্থক গায়ে সাদা পাউডার মেখে এবং বাতাসে তা ছিটিয়ে অদ্ভুত সব আচার-অনুষ্ঠান পালন করছেন। আফ্রিকান ঐতিহ্যে ‘জুজু’ নামে পরিচিত এই সনাতন-বিরোধী ও আদিম অন্ধকার বিশ্বাসভিত্তিক আচারটি স্টেডিয়ামের মতো পবিত্র ক্রীড়ামঞ্চে প্রদর্শন করায় সাধারণ দর্শকদের মধ্যে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়। খেলা শেষে ক্ষুব্ধ ইংল্যান্ড সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘানার সমর্থকেরা স্টেডিয়ামের ভেতরেই তাদের ওপর প্রকাশ্য কালো জাদু করেছে। আধুনিক ও সভ্য সমাজে এই ধরনের অন্ধকার ও অপয়া তান্ত্রিক চর্চা কেবল ক্রীড়াসুলভ মনোভাবকেই ক্ষুণ্ণ করে না, বরং তা স্টেডিয়ামে উপস্থিত সাধারণ দর্শকদের মানসিক অধিকার ও বৈশ্বিক মানবাধিকারের পরিপন্থী। প্রতিটি মানুষের যেমন স্বাধীন ও সুস্থ পরিবেশে বিনোদনের অধিকার রয়েছে, ঠিক তেমনি যেকোনো মঞ্চে সুস্থ সনাতন মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনা বজায় রাখা জরুরি। ক্রীড়াজগতে এমন আদিম কুসংস্কার ও জাদুটোনার অনুপ্রবেশ নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মী এবং সনাতনী দর্শনার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ "কালো জাদুর" কবলে

মাত্র ১৫ বছর বয়সে দ্রুততম ফিফটির বিশ্বরেকর্ড গড়লেন বৈভব সূর্যবংশী

ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক বিশ্বরেকর্ড গড়লেন তরুণ ব্যাটিং সেনসেশন বৈভব সূর্যবংশী। ডাম্বুলায় ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে মাত্র ১১ বলে ফিফটি করে ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন ১৫ বছর বয়সী এই কিশোর তারকা।রোববার (২১ জুন) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবদনে বলা হয়, শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিয়ে এই কিশোর ওপেনার ফিফটি পূর্ণ করেন একের পর এক বাউন্ডারির মাধ্যমে, যা প্রতিপক্ষকে রীতিমতো দিশেহারা করে দেয়। তার ইনিংসে রান আসে এভাবে- ৪, ৪, ৪, ৬, ৬, ০, ৬, ৪, ৪, ৬, ৬।এর আগে, স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ভারত ও আফগানিস্তানের ‘এ’ দল নিয়ে আয়োজিত এই ত্রিদেশীয় সিরিজে লঙ্কানদের বিপক্ষে ১৫ জুনের ম্যাচে ভিন্ন এক ঘটনায় সমালোচিত হয়েছিলেন সূর্যবংশী। ভারতের হেরে যাওয়া ম্যাচটিতে ধাক্কা দিয়েছিলেন বিশেন হালাম্বাগেকে।এবার সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন মাত্র ১১ বলে। শ্রীলঙ্কার কৌশল্য বীরারত্নের রেকর্ড ভেঙেছেন সূর্যবংশী। ২০০৫ সালে ১২ বলে ফিফটি করেছিলেন কৌশল্য। ভারতের বিহারে সূর্যবংশীর জন্ম সেই ঘটনার আরও ৬ বছর পর।বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নিজের পারফরম্যান্স আর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলার মাধ্যমে এমনিতেই ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন সূর্যবংশী। এত অল্প বয়সে মানসম্পন্ন বোলিং আক্রমণকে এভাবে দাপটের সঙ্গে সামলানোর সামর্থ্য তাকে দেশের সবচেয়ে আলোচিত প্রতিভাদের একজন বানিয়ে তুলেছে।ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে এই বিশ্বরেকর্ড গড়া ফিফটি তার দ্রুত উত্থানের পথটা আরও প্রশস্ত করলো বৈকি!

মাত্র ১৫ বছর বয়সে দ্রুততম ফিফটির বিশ্বরেকর্ড গড়লেন বৈভব সূর্যবংশী

অস্ট্রেলিয়ার কাছে একদিনে দুবার হারল বাংলাদেশ

ক্রীড়াবিশ্বে আজ বাংলাদেশের জন্য একটি চরম হতাশার দিন পার হলো। ক্রিকেটের মাঠে একই দিনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে দু-দুটি ম্যাচে পরাজিত হয়েছে লাল-সবুজরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের টাটকা স্মৃতি নিয়ে আজ চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে তাওহীদ হৃদয় ও তানজিদ হাসান তামিমদের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে সফরকারী অজিরা। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ দল। ইনিংসের এক ওভার বাকি থাকতেই মাত্র ১৩১ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন শেখ মেহেদী। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০ রান আসে ওপেনার সাইফ হাসানের ব্যাট থেকে এবং সৌম্য সরকার করেন ১৭ রান। বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতায় স্কোরবোর্ড আর বড় করা সম্ভব হয়নি। ১৩২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই অবশ্য জস ইংলিশ ও মিচেল মার্শকে হারিয়ে কিছুটা বিপদে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়াও। তবে তিনে নামা কুপার কনোলি এক প্রান্ত আগলে রেখে ৪৭ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন। শেষ দিকে টিম ডেভিড, ম্যাট রেনশ ও নিখিল চৌধুরীদের ছোট কিন্তু কার্যকরী ইনিংসগুলোর সৌজন্যে ১০ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। ​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​শুধু ছেলেদের ম্যাচেই নয়, আজ বিশ্বমঞ্চে মেয়েদের ক্রিকেট থেকেও এসেছে চরম দুঃসংবাদ। মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। কিন্তু অজি নারীদের শক্তির সামনে বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি টাইগ্রেসরা। ছেলেদের দলের মতো নারী দলও একই দিনে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত ২০ ওভারের পুরোটা ব্যাটিং করলেও ৮ উইকেট হারিয়ে মোটে ৭৭ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। সহজ এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া নারী দলকে কোনো বেগই পেতে হয়নি। ওপেনার বেথ মুনি দ্রুত ১০ রান করে বিদায় নিলেও অপর ওপেনার জর্জিয়া ভোল ৩২ বলে ৪৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। তিনে নামা এলিসা পেরির অপরাজিত ১৯ রানের ওপর ভর করে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে এবং ৬৩ বল হাতে রেখেই বিশাল জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। সব মিলিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সে দিনটি ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য ভীষণ বেদনার। একই দিনে দুই দলের এমন অসহায় আত্মসমর্পণ ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে গভীর হতাশার সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার, সমতা ও প্রতিটি জাতির আত্মমর্যাদার অধিকার প্রতিষ্ঠার এই যুগে ক্রীড়াঙ্গনেও প্রতিটি দলের সমান সুযোগ ও লড়াইয়ের মানসিকতা থাকা জরুরি, তবে আজকের মাঠের পারফরম্যান্সে সেই লড়াইয়ের বিন্দুমাত্র প্রতিফলন দেখা যায়নি।

অস্ট্রেলিয়ার কাছে একদিনে দুবার হারল বাংলাদেশ

বিশ্বমঞ্চে বীরদর্পে সনাতনী গৌরব: ফিফা উদ্বোধনীতে বাংলাদেশের পতাকা ও ঐতিহ্য তুলে ধরলেন সঞ্জয় দেব

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জমকালো উদ্বোধনী মঞ্চে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সনাতনী সন্তান, বিশিষ্ট ডিজে ও সংগীতশিল্পী সঞ্জয় দেব। বৈশ্বিক এই মহাসম্মেলনে তিনি কেবল নিজের প্রতিভাই তুলে ধরেননি, বরং নিজ মাতৃভূমির গৌরব ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে এক অনন্য উপায়ে উপস্থাপন করেছেন। শুক্রবার রাতে কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আয়োজিত বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন তিনি। সেখানে বিশ্বখ্যাত বলিউড তারকা নোরা ফাতেহি এবং ফরাসি পপ তারকা ভেজিড্রিমের সাথে যৌথভাবে মঞ্চ মাতান এই প্রতিভাবান শিল্পী।​অনুষ্ঠানে সঞ্জয় দেবের পরিহিত বিশেষ জ্যাকেটটি ছিল পুরো আয়োজনের অন্যতম মূল আকর্ষণ, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এক খণ্ড প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল। জ্যাকেটের ডান হাতের স্লিভে নিপুণ এম্ব্রয়ডারির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং সবুজের বুকে লাল বৃত্তে আঁকা জাতীয় পতাকা। পারফরম্যান্সের সময় সঞ্জয় বারবার নিজের স্লিভের নকশাগুলোর দিকে আঙুল নির্দেশ করে বিশ্ববাসীর সামনে নিজের জাতিগত পরিচয় ও দেশের ঐতিহ্যকে সগৌরবে প্রদর্শন করেন। তার এই অভিনব ও দেশপ্রেমমূলক উদ্যোগ সনাতনী সমাজসহ বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি বাংলাদেশির হৃদয়ে এক গভীর আবেগ ও গৌরবের জোয়ার এনে দিয়েছে। ​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় ও বিশ্ব মানবতার মেলবন্ধন তুলে ধরার এই মেগা মঞ্চে সঞ্জয় দেব ছাড়াও অংশ নেন বিশ্বখ্যাত কানাডিয়ান সংগীতশিল্পী মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট, আলিসিয়া কারা, জেসি রেয়েজ এবং ফিলিস্তিনি গায়িকা এলিয়ানা। এই বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনাটি ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এমন নান্দনিক উপস্থাপনার জন্য সঞ্জয় দেব সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন। মানবাধিকার ও সকল জাতির পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এই বৈশ্বিক মঞ্চে একজন সনাতনী যুবকের এমন গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা বিশ্বজুড়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার ও আত্মমর্যাদার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

বিশ্বমঞ্চে বীরদর্পে সনাতনী গৌরব: ফিফা উদ্বোধনীতে বাংলাদেশের পতাকা ও ঐতিহ্য তুলে ধরলেন সঞ্জয় দেব

ইউরোপ কাঁপানো এক সনাতনী ফুটবলার: জিদানদের ড্রেসিংরুম থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল

ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে ভারতীয় হিন্দু বংশোদ্ভূত একজন ফুটবলারের পদচারণা আজও অনেকের কাছে অজানা ইতিহাস। সেই বিরল কৃতিত্বের অধিকারী হলেন ফরাসি মিডফিল্ডার বিকাশ ধোরাসু। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দুটি আসর—উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল এবং ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের স্কোয়াডে জায়গা করে নেওয়া একমাত্র হিন্দু ফুটবলার হিসেবে তাঁর নাম বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।১৯৭৩ সালে ফ্রান্সে জন্মগ্রহণকারী বিকাশ ধোরাসুর পূর্বপুরুষদের শিকড় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এক তেলুগু হিন্দু পরিবারে প্রোথিত ছিল। ইউরোপের অভিজাত ফুটবলে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে তিনি ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিওঁর হয়ে টানা দুইবার ফরাসি লিগ 'লিগ ওয়ান' শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেন। মাঝমাঠে তাঁর অসাধারণ ড্রিবলিং, নিখুঁত পাসিং এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা তাঁকে সমসাময়িক সময়ের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডারে পরিণত করেছিল।ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন আসে ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এসি মিলানের হয়ে। ২০০৫ সালে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেই ঐতিহাসিক ফাইনালে তিনি মিলানের স্কোয়াডের অংশ ছিলেন, যে ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় ফাইনাল হিসেবে পরিচিত। পরবর্তীতে ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের (পিএসজি) হয়ে ২০০৬ সালে ফ্রেঞ্চ কাপ জয়ের স্বাদও পান তিনি।আন্তর্জাতিক ফুটবলেও ছিল তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। ফ্রান্স জাতীয় দলের জার্সিতে ১৮টি ম্যাচ খেলা বিকাশ ধোরাসু ২০০৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে জিনেদিন জিদানের নেতৃত্বাধীন ফরাসি দলের সদস্য ছিলেন। সেই আসরে ফ্রান্স ফাইনালে পৌঁছালেও টাইব্রেকারে ইতালির কাছে পরাজিত হয়ে রানার্স-আপ হয়।ভারতীয় হিন্দু বংশোদ্ভূত এই ফুটবলারের যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল থেকে বিশ্বকাপের ফাইনাল—দুটি মহামঞ্চের অভিজ্ঞতা অর্জন করা বিকাশ ধোরাসু ইতিহাসের পাতায় এক বিশেষ স্থান দখল করে আছেন, যা সনাতনী সমাজের জন্যও গর্বের এক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

ইউরোপ কাঁপানো এক সনাতনী ফুটবলার: জিদানদের ড্রেসিংরুম থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল

বিশ্বকাপের আগেই শেরপুরে মহাচমক: ১০ লিটার দুধে স্নান করে মেসির আর্জেন্টিনা ছাড়লেন শিবু

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা ও আবেগ ক্রমেই নতুন মাত্রা ধারণ করছে। সেই চেনা উন্মাদনায় এবার সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক আবহ তৈরি করেছেন শেরপুরের এক ফুটবল সমর্থক, যা স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত শিবু নামের এক যুবক এবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার আজীবনের ফুটবলীয় আনুগত্য পরিবর্তন করে ব্রাজিলের সমর্থক গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছেন। আর নিজের জীবনের এই ব্যতিক্রমী দলবদলকে আজীবন স্মরণীয় করে রাখতে তিনি সনাতন সংস্কৃতির অন্যতম শুদ্ধিকরণ প্রতীক ১০ লিটার পবিত্র দুধ দিয়ে গোসল সম্পন্ন করেছেন।​সোমবার (৮ জুন) রাতে শেরপুর জেলা শহরের চাপাতলি এলাকায় এক উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে এই প্রতীকী শুদ্ধি ও দলবদল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় শত শত মানুষের উপস্থিতিতে এই ব্যতিক্রমী দুধ-স্নান সম্পন্ন করার পর শিবু তার গা থেকে আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিটি খুলে ফেলেন এবং ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী হলুদ-সবুজ জার্সি গায়ে তুলে নেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত সনাতনী সমাজ ও স্থানীয় ব্রাজিল সমর্থকেরা বিপুল করতালির মাধ্যমে এবং উল্লাসের সাথে তাকে নিজেদের শিবিরে স্বাগত জানান। স্থানীয় বাজার থেকে প্রতি লিটার ৮০ টাকা দরে কেনা মোট ১০ লিটার দুধ ব্যবহার করে এই প্রতীকী ‘দলবদল’ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করা হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') ঘটনার পর পরই সেই দুধ দিয়ে গোসলের ছবি ও ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যে সারা দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।​কেন জীবনের দীর্ঘদিনের আবেগ আর্জেন্টিনা ছেড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের সমর্থক হলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে শিবু অত্যন্ত খোলামেলাভাবে তার মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের কথা জানান। তিনি বলেন, মূলত ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই তিনি এতদিন আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে আসছিলেন। তবে সময়ের অমোঘ নিয়মে ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে পারে মেসির ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। এর পাশাপাশি বর্তমান আর্জেন্টিনা দলে আগের মতো বিশ্বমানের তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড না থাকায় দলের প্রতি আগের সেই সুদৃঢ় আস্থা তিনি আর খুঁজে পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, ব্রাজিলের চিরচেনা শৈল্পিক ফুটবল এবং সাম্বা নৃত্যের মতো নান্দনিক খেলার ধরন, পাশাপাশি নেইমারের প্রতি ব্যক্তিগত ভালো লাগার বিষয়টি তাকে গভীরভাবে আকর্ষণ করেছে। এসব যৌক্তিক ও আবেগীয় কারণ বিবেচনা করেই তিনি ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের মিশনে শামিল হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।​শিবুর এই সাহসিকতাপূর্ণ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তার বন্ধুরা ও স্থানীয় ক্রীড়ামোদিরা। শিবুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কট্টর ব্রাজিল সমর্থক মো. আলিম বলেন, আর্জেন্টিনার প্রতি শিবুর ভালোবাসার মূল ভিত্তিই ছিলেন মেসি। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি যখন স্বাধীনভাবে নতুন করে ব্রাজিলকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখন তাদের সমর্থক গোষ্ঠী তাকে পরম আন্তরিকতায় আপন করে নিয়েছে। মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আরেক ব্রাজিল সমর্থক মেহের খান অপু বলেন, বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে সমর্থকদের এমন আবেগঘন সিদ্ধান্ত বা দল পরিবর্তনের ঘটনা মোটেই অস্বাভাবিক নয়। তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন এই সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে এবার সেলেসাওরা বিশ্বমঞ্চে ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা উঁচিয়ে ধরবে। বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যকার ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভাতৃত্ববোধ বহুদিনের পুরনো, আর শেরপুরের এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি সেই চিরন্তন ফুটবল আবেগেরই এক অনন্য ও অহিংস উদাহরণ হয়ে থাকবে।

বিশ্বকাপের আগেই শেরপুরে মহাচমক: ১০ লিটার দুধে স্নান করে মেসির আর্জেন্টিনা ছাড়লেন শিবু

তপু বর্মণের জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের

ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা খেললো বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এই ম্যাচের সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছেন তপু বর্মণ। একটা না, দুইটা গোল করলেন এই ডিফেন্ডার। শেষ পর্যন্ত তাঁর জোড়া গোলেই ম্যাচ জিতল থমাস ডুলির দল।শুক্রবার ফিফা প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দেয় সান মারিনো। স্তাদিও অলিম্পিকো সেরাভালে স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরেকবার জাল কাপান তপু। তাঁর জোড়া গোলের বিপরীতে সান মারিনোর হয়ে এক গোল শোধ দেন নিকোলাস জাকোপেত্তি।এই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশের ডাগ আউটে দাঁড়ান জার্মান কোচ থমাস ডুলি। শুরুর একাদশে সমিত সোম, ফাহামেদুল ইসলাম ও জায়ান আহমেদদের বসিয়ে রাখেন তিনি। তবে বিরতির পর একাদশে আনেন একাধিক পরিবর্তন। আর নিজের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেন তিনি।এদিন ম্যাচের ১৭তম মিনিটে প্রথম ভালো আক্রমণ শানায় বাংলাদেশ। তবে বক্সে জামাল ভূঁইয়ার শট আটকে যায় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বাঁধার মুখে। দুই মিনিট পর গোছালো আক্রমণে ডান দিক থেকে মোরছালিনের ক্রসে তপু বর্মণের হেডে লিড নেয় বাংলাদেশ।৩১ মিনিটে ম্যাচে সমতায় ফেরে সান মারিনো। ডান দিক দিয়ে বেরার্দি বক্সে ঢুকে তপুকে কাটিয়ে কাটব্যাক দেন। বাংলাদেশের তিনজন ডিফেন্ডার বক্সে থাকলেও কেউ ক্লিয়ার করতে পারেননি, সেখান থেকে লক্ষ্যভেদ করেন নিকোলাস জাকোপেত্তি।৩৮ মিনিটে সাদ উদ্দিনের সামনে ছিল কেবল গোলকিপার। কিন্তু এই ডিফেন্ডার উরিয়ে মারেন পোস্টের উপরে দিয়ে। বিরতির পর জামালের সঙ্গে তুলে নেওয়া হয় মোরছালিনকে। তাদের জায়গায় কোচ ডুলি মাঠে নামান সমিত সোম ও জায়ান আহমেদকে। আর ইসা ফয়সালের পরিবর্তে মাঠে নামেন জায়ান।৪৮ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ। হামজার দারুণ এক পাস ধরে এগিয়ে ডান দিক থেকে ক্রস দেন রফিকুল, কিন্তু গোলমুখের সামনে বলে পা ছোয়াতে পারেননি সোহেল রানা। তবে এই সময় দারুণ পাসিং ফুটবলের প্রদর্শনী দেখায় বাংলাদেশ। ৫৩ মিনিটে আরেকটি গোছালো আক্রমণের শেষটা সুন্দর হয়নি। ডান দিক থেকে এবার সাদের ক্রসে ফাহিম লাফিয়ে উঠে শট নিলেও গোলে রাখতে পারেননি। ৮ মিনিট পর কাপিচ্ছিয়োনির দারুণ ফ্রি কিক কর্ণারের বিনিমেয় ক্লিয়ার করেন মিতুল। খানিক পর বিশ্বনাথ ঘোষ ও ফাহিমেদুল ইসলামকে মাঠে নামান ডুলি। উঠে যান ফাহিম ও রফিকুল। বদলি হিসেবে বিশ্বনাথ নিজের নামের সঙ্গে সুবিচার করতে পারেননি। মাঠে নামার খানিক পরই ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার। কিন্তু বিশ্বনাথের সামনে কেবল প্রতিপক্ষের গোলকিপার থাকলেও তিনি শট লক্ষে রাখতে পারেননি। প্রীতি ম্যাচে সাধারণত ৮ জন খেলোয়াড় পরিবর্তনের নিয়ম আছে। তবে দুই দলের সম্মতিতে ১১টি পরিবর্তন করা যায়। খেলার ৭৬ মিনিটে সোহেল রানা সিনিয়রকে তুলে কাজেম শাহ কিরমানিকে মাঠে নামানো হয়। ৮৬ মিনিটে সেই তপুর দ্বিতীয় গোলে ফের এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বক্সের একটু সামনে কে হামজার নেওয়া ফ্রি কিকে কেউ পা ছোঁয়াতে পারেননি। সেখান থেকে বিশ্বনাথের সাইড ভলিতে মাথা ছোয়ান তপু। গোলের পর জার্সি খুলে বুনো উল্লাসে ফেটে পড়েন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। গ্যালারিতে বাংলাদেশী দর্শকেরাও মাতেন জয়ের আনন্দে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

তপু বর্মণের জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের

ঋতুপর্ণার দুর্দান্ত অলিম্পিক গোলে সমতায় বাংলাদেশ, স্বস্তির বিরতিতে লাল-সবুজ

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে শুরুটা একেবারেই পরিকল্পনামাফিক হয়নি বাংলাদেশের। প্রতিপক্ষের ধারাবাহিক আক্রমণে চাপে পড়ে ম্যাচের মাঝপথেই পিছিয়ে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ঋতুপর্ণা চাকমার অসাধারণ এক অলিম্পিক গোলে সমতায় ফিরে স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ এই সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নেপাল। বলের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ সৃষ্টিতে তারা ছিল অনেকটাই এগিয়ে। বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে বারবার কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে দেখা যায় নেপালি ফুটবলারদের।মাঝমাঠে প্রত্যাশিত ছন্দে দেখা যায়নি বাংলাদেশ অধিনায়ক মারিয়া মান্দাকে। তার স্বাভাবিক প্রভাবের অভাব কাজে লাগিয়ে নেপাল দ্রুতগতির আক্রমণে বাংলাদেশের ডিফেন্সে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ফলে প্রথমার্ধের বড় একটি সময় ব্যস্ত থাকতে হয় বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে।ক্রমাগত চাপের মুখে ২৩তম মিনিটে গোল হজম করে বাংলাদেশ। ডি-বক্সের ভেতরে সৃষ্ট জটিল পরিস্থিতিতে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন ডিফেন্ডাররা। সেই সুযোগে নেপালের গিতা রানা বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া নিখুঁত কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন।গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা শুরু করে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে নেপালের আধিপত্যের কারণে দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ গড়ার কৌশল নেয় দল। তবে সুসংগঠিত নেপালি রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করতে হচ্ছিল বাংলাদেশের আক্রমণভাগকে।যখন মনে হচ্ছিল পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হবে, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন ঋতুপর্ণা চাকমা। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে কর্নার কিক থেকে সরাসরি বল জালে জড়িয়ে অসাধারণ এক অলিম্পিক গোল করেন তিনি। তার সেই দৃষ্টিনন্দন গোলে ১-১ সমতায় ফিরে উজ্জীবিত বাংলাদেশ।ঋতুপর্ণার এই মুহূর্তের নৈপুণ্য শুধু ম্যাচে সমতা ফেরায়নি, বরং দ্বিতীয়ার্ধের জন্য দলকে নতুন আত্মবিশ্বাসও এনে দিয়েছে। ফাইনালে জায়গা করে নিতে এখন বাকি ৪৫ মিনিটে কঠিন লড়াইয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে প্রথমার্ধে নিজেদের আধিপত্য দেখানো নেপালও জয় ছিনিয়ে নিতে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়েই মাঠে নামবে।প্রথমার্ধ শেষে স্কোরলাইন: বাংলাদেশ ১-১ নেপাল।

ঋতুপর্ণার দুর্দান্ত অলিম্পিক গোলে সমতায় বাংলাদেশ, স্বস্তির বিরতিতে লাল-সবুজ