হিন্দুস নিউজ

আন্তর্জাতিক

প্রেমানন্দজি মহারাজের শিষ্যের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘর থেকে উদ্ধার রক্তমাখা বস্তু

প্রেমানন্দজি মহারাজের শিষ্যের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘর থেকে উদ্ধার রক্তমাখা বস্তু

শ্রীধাম বৃন্দাবনে শ্রী রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তি সাধনার পবিত্র তীর্থভূমিতে ঘটে গেল এক পরম মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রখ্যাত সন্ত শ্রী প্রেমানন্দজি মহারাজের শিষ্য ২৫ বছর বয়সী তরুণ সাধু দীপক ওরফে রসিক দুলারী শরণের রহস্যাবৃত মৃত্যু সনাতন ধর্মপ্রাণ সমাজ তথা নিখিল ভক্তমণ্ডলীকে গভীর শঙ্কা ও বেদনায় নিমজ্জিত করেছে। বৃন্দাবনের বরাহঘাট এলাকার ‘গুরু কৃপা কুঞ্জ’ আশ্রমে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। আশ্রমের চারতলার ভবন থেকে আচমকা পড়ে যাওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত সর্বোদয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি প্রাণ ত্যাগ করেন। শ্রীধামের মতো পরম বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্রে এবং ধর্মপ্রাণ সনাতনীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে একজন নবীন সাধুর এই নিদারুণ পরিণতি শুধু একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়, বরং সমগ্র সনাতনী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় পরিবেশের সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।​আশ্রম সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সদ্যপ্রয়াত রসিক দুলারী শরণ বিগত দুই বছর ধরে পরম শ্রদ্ধেয় প্রেমানন্দজি মহারাজের অনুচরবর্গের অংশ হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে সেবাব্রতে নিয়োজিত ছিলেন। সন্ত প্রেমানন্দজির থেকে দীক্ষা গ্রহণের পর তিনি রাধা বাটিকার নিকটস্থ উক্ত চারতলা আশ্রমে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার হঠাৎ চারতলা থেকে তাঁর পতনের শব্দে আশ্রমের অন্যান্য সাধু ও অনুগামীরা ছুটে যান এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করান। তবে ঘটনার পর পুলিশি তদন্তে যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, তা পুরো বিষয়টি সাধারণ আত্মহত্যার সম্ভাবনাকে ছাপিয়ে এক গভীর ষড়যন্ত্রের দিকে নির্দেশ করছে। নিহতের ঘর তল্লাশি করে পুলিশ একটি রক্তমাখা শিলনোড়া, রক্তভেজা গ্রাইন্ডিং মেশিন এবং একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিহতের দেহে একাধিক রহস্যজনক আঘাতের চিহ্ন এবং যৌনাংশে মারাত্মক ক্ষত পাওয়া গেছে, যা কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি বা কেবল উপর থেকে পতনের কারণে সৃষ্ট আঘাতের লক্ষণ হতে পারে না।​সনাতন ধর্মের কেন্দ্রস্থল বৃন্দাবনে বৈষ্ণব সাধুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং হিন্দু ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর পবিত্র ভাবাবেগ রক্ষায় প্রশাসনিক তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বৃন্দাবন কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে এবং এটিকে স্রেফ দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টিকোণ থেকেও তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সনাতনী মূল্যবোধ ও বিশ্বজনীন মানবাধিকারে বিশ্বাসী যেকোনো সচেতন নাগরিকের দাবি, এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে যদি কোনো অশুভ চক্রান্ত বা অপরাধমূলক চক্রান্ত লুকিয়ে থাকে, তবে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত তার উন্মোচন ঘটুক। News copied from- 'হিন্দুস নিউজ' এবং পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে অবস্থানরত সমস্ত সাধু-সন্ত ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হোক, যাতে সনাতন ধর্মের ধারক-বাহকদের পবিত্র সাধনা ক্ষেত্র নিরাপদ থাকে।

'চাকরি যোগ্যতা কাড়ে না, সম্মান দেয়'— ডাবল মাস্টার্স করেও চঞ্চলের হাতে ফুটছে দেবীর রূপ

ডিগ্রি অর্জনের শেষ নেই, যোগ্যতা অনুযায়ী একাধিক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে ঝুলিতে, তাও ভাগ্যে জোটেনি কাঙ্ক্ষিত সরকারি চাকরি। যেখানে একটি সম্মানজনক চাকরির মাধ্যমে মানুষের সামাজিক মর্যাদা ও সম্মান নির্ধারিত হয়, সেখানে শত চেষ্টা করেও ভাইভা টেবিল থেকে বারবার খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে। কথা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির সুপরিচিত ও নিপুণ মৃৎশিল্পী চঞ্চল পালকে নিয়ে। আর্থিক অনটন সত্ত্বেও সন্তানকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে দেখার যে স্বপ্ন নরেন পাল দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নপূরণে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন চঞ্চল। জলপাইগুড়ির আনন্দচন্দ্র কলেজ অফ কমার্স থেকে অ্যাকাউন্টেন্সিতে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে বি.কম এবং পরবর্তীতে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে এম.কম পাস করেন তিনি। পরবর্তীতে ইন্দিরা গান্ধী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে ফের মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।​১৯৯৮ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্টাফ সিলেকশন কমিশন, স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং ব্যাঙ্কিং সার্ভিস রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মতো বহু প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। একাধিকবার লিখিত পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে উত্তীর্ণ হলেও অদৃশ্য কোনো কারণে ভাইভা পার হতে পারেননি (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')। পরবর্তীতে পরিবার চালাতে সামান্য বেতনে চাটার্ড ফার্ম ও বেসরকারি সংস্থায় কাজ করলেও সংসারের অনটন ঘোরেনি। অগত্যা বাবার মৃৎশিল্পের পেশাতেই তাকে হাত পাকাতে হয়। ২০১৭ সালে বাবার মৃত্যুর পর থেকে প্রতিমা গড়াই তার মূল পেশা হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে ৪৮ বছর বয়সেও জলপাইগুড়ি শহরের ভাটিয়া বিল্ডিং এলাকায় নিজের কারখানায় একা হাতে নিপুণ দক্ষতায় দুর্গাপ্রতিমা গড়ে তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি বেরুবাড়িতে একটি টিউটোরিয়াল হোমে ছাত্রছাত্রীদের পড়িয়ে নিজের বিদ্যাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। যোগ্য মেধা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত সম্মান না পাওয়া এবং বাবার স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার আক্ষেপ আজ জীবনের অন্যতম বড় বিষাদ হয়ে রয়ে গেছে চঞ্চলের মনে।

'চাকরি যোগ্যতা কাড়ে না, সম্মান দেয়'— ডাবল মাস্টার্স করেও চঞ্চলের হাতে ফুটছে দেবীর রূপ

অ্যান্টার্কটিকায় বরফের গণেশ প্রতিমা তৈরি বিজ্ঞানীদের, আরতি শেষে বিসর্জন

অ্যান্টার্কটিকার বরফের দেশে গণেশ চতুর্থী উদ্যাপনে দেখা গেল অভিনব দৃশ্য। ভারতের মৈত্রী গবেষণা কেন্দ্রে কর্মরত বিজ্ঞানীরা বরফ দিয়ে তৈরি করলেন গণেশের প্রতিমা। বাড়ি থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও উৎসবের আয়োজন করলেন ন্যাশনাল সেন্টার ফর পোলার অ্যান্ড ওশান রিসার্চের (এনসিপিওআর) গবেষকেরা।উদ্যাপনের একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন মৈত্রী কেন্দ্রে কর্মরত চিকিৎসক অনিরুদ্ধ ধর। ভিডিওতে দেখা যায়, একসঙ্গে বরফ গড়ে গণেশের প্রতিমা তৈরি করছেন দলের সদস্যরা। প্রস্তুতি শেষ হলে সেই প্রতিমাকে ঘিরেই শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। প্রতিমার সামনে তারা আরতি করেন। এরপর প্রতিমাটি নিয়ে বিসর্জনের জন্য এগিয়ে যান গবেষকেরা। বিসর্জন শেষে তারা একসঙ্গে মোদক খান। দূরের গবেষণা কেন্দ্রে উৎসব পালনের এসব মুহূর্ত ধরা পড়েছে ভিডিওতে।ইনস্টাগ্রামের পোস্টে অনিরুদ্ধ লেখেন, বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরে তাদের এই আয়োজন পরিবেশবান্ধব বিসর্জনের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। হাতে তৈরি বরফের প্রতিমাটিকে যতটা সম্ভব টেকসই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পোস্টে 'গণপতি বাপ্পা মোরিয়া' লিখে প্রতিমা তৈরির কৃতিত্ব দেন অরবিন্দ হোসালকর ও কার্তিক পি-কে।আরতি, বিসর্জন ও মোদক খাওয়ার মধ্য দিয়ে মৈত্রী কেন্দ্রে উৎসবের পরিচিত রীতিগুলোই পালন করেছেন গবেষকেরা। তবে এই আয়োজনের বিশেষত্ব ছিল বরফের প্রতিমা। সেটি তৈরির মুহূর্ত থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত তাঁদের উদ্যাপনের ঝলক উঠে এসেছে অনিরুদ্ধের শেয়ার করা ভিডিওতে।

অ্যান্টার্কটিকায় বরফের গণেশ প্রতিমা তৈরি বিজ্ঞানীদের, আরতি শেষে বিসর্জন

নব্বই পেরিয়েও কাঁধে ঢাক, জীবিকার লড়াইয়ে রাজকিশোর

বয়স নব্বই ছাড়িয়েছে। হাঁটাচলায়ও দেখা দিয়েছে সমস্যা। তবু ঢাক বাজিয়ে বাড়তি কিছু উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির বাসিন্দা রাজকিশোর মাহাতো। পুজোর মরশুমে আরও বেশি বায়না পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন প্রবীণ এই ঢাকশিল্পী।জলপাইগুড়ির দুই নম্বর ঘুমটি এলাকায় থাকেন রাজকিশোর। বয়সজনিত শারীরিক অসুবিধা নিয়েও কাঁধে ঢাক তুলে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাজান তিনি। সেখান থেকে পাওয়া সামান্য অর্থ তাঁর বাড়তি আয়ের অন্যতম ভরসা।দুর্গাপূজাকে ঘিরে ঢাকের চাহিদা বাড়লে কাজের সুযোগও বাড়বে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর। বেশি ডাক পেলে উপার্জন কিছুটা বাড়বে, এই আশাতেই পুজোর দিনগুলোর দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।উৎসবের আনন্দে ঢাকের বাদ্য যাঁরা যোগ করেন, তাঁদের নিজেদের জীবনেও থাকে নানা টানাপোড়েন। নবতিপর রাজকিশোরের প্রতিদিনের পরিশ্রম সেই জীবিকার সংগ্রামকেই সামনে নিয়ে আসে।

নব্বই পেরিয়েও কাঁধে ঢাক, জীবিকার লড়াইয়ে রাজকিশোর

জবলপুরে হিন্দু নাবালিকা শিক্ষার্থীকে ধর্ম পরিবর্তনের চাপ ও অশ্লীল ছবি পাঠাতে বাধ্য করার অভিযোগ,মুসলিম শিক্ষক গ্রেপ্তার

ভারতের মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে এক হিন্দু নাবালিকা শিক্ষার্থীকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ এবং অশ্লীল ছবি পাঠাতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে তারই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পকসো আইনে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।অভিযোগ অনুযায়ী, জবলপুরের সেন্ট অ্যালয়সিয়াস স্কুলের শিক্ষক সৈয়দ ফয়জান হুসেন ওই নাবালিকা শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে চাপ দিতেন। তাকে বলা হতো, ‘এখন তুমি আমার স্ত্রী, আমাকে তোমার নগ্ন ছবি পাঠাও, সনাতন ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহণ করো।’পরিবারের দাবি, একপর্যায়ে ওই ছাত্রী বাড়িতে নিয়মিত পূজা-অর্চনা করা বন্ধ করে দেয়। এতে তার বাবা-মায়ের সন্দেহ হয়। পরে তারা মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিক্ষক কর্তৃক চাপ ও কথোপকথনের বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ করে সে।এরপর নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং পকসো আইনে শিক্ষক সৈয়দ ফয়জান হুসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের পাশাপাশি মামলার তদন্ত ও আদালতীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

জবলপুরে হিন্দু নাবালিকা শিক্ষার্থীকে ধর্ম পরিবর্তনের চাপ ও অশ্লীল ছবি পাঠাতে বাধ্য করার অভিযোগ,মুসলিম শিক্ষক গ্রেপ্তার

চাকরি ছেড়ে করলেন ফালুদার দোকান, সেখান থেকেই ৯ কোটি রুপির ব্যবসা

উচ্চ বেতনের করপোরেট চাকরি ছেড়ে নিজের শহরে মাত্র ১০×১০ ফুটের একটি ছোট কিয়স্ক দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন ভারতের উদ্যোক্তা প্রদীপ কান্নান। আজ তাঁর সেই উদ্যোগ ‘দ্য ফালুদা শপ’ ভারতের পাশাপাশি দুবাইতেও বিস্তৃত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ব্র্যান্ডটির বার্ষিক রাজস্ব ৯ কোটি রুপির বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রদীপ কান্নান কর্মজীবনের একপর্যায়ে ওরাকলে কাজ করতেন। স্থিতিশীল করপোরেট ক্যারিয়ার থাকা সত্ত্বেও নিজের কিছু করার স্বপ্ন থেকে ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে নিজ শহর তামিলনাড়ুর কারুরে ফিরে যান। সেখানেই ফালুদা ও আইসক্রিমভিত্তিক ব্যবসার যাত্রা শুরু করেন তিনি।তাঁর লক্ষ্য ছিল প্রচলিত ফালুদাকে শুধু একটি সাধারণ মিষ্টান্ন হিসেবে না দেখে আধুনিক ও ব্র্যান্ডেড ডেজার্ট হিসেবে তুলে ধরা। ছোট কিয়স্ক থেকেই শুরু হয় সেই পরিকল্পনা।শুরুটা ছোট হলেও ব্যবসার মডেল ছিল বড় পরিসরে সম্প্রসারণের উপযোগী। ফালুদার স্বাদ ও উপকরণের মান এক রাখার পাশাপাশি রেসিপি ও প্রস্তুতপ্রণালিকে নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসেন প্রদীপ। এর ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে একের পর এক নতুন আউটলেট চালু করা সহজ হয়।সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দ্য ফালুদা শপের ১৮টি আউটলেটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি দুবাইয়েও রয়েছে এর উপস্থিতি। একই সঙ্গে উত্তর ভারতে নতুন আউটলেট সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও সামনে এসেছে।সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্র্যান্ডটি শুধু প্রচলিত ফালুদায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিভিন্ন ধরনের ফালুদা, আইসক্রিম, মিল্কশেকসহ তরুণ প্রজন্মের উপযোগী নতুন ডেজার্ট পণ্যও যুক্ত হয়েছে।একসময় যে ব্যক্তি করপোরেট চাকরিতে স্থিতিশীল ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছিলেন, তিনিই নিজের স্বপ্নকে অনুসরণ করে ছোট একটি কিয়স্ক থেকে শুরু করেন ব্যবসা। সেই উদ্যোগই কয়েক বছরের মধ্যে পরিণত হয়েছে একাধিক আউটলেটের একটি ডেজার্ট ব্র্যান্ডে।

চাকরি ছেড়ে করলেন ফালুদার দোকান, সেখান থেকেই ৯ কোটি রুপির ব্যবসা

ইরানের প্রেসিডেন্ট কি আসলেই পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছেন সনাতনী ধর্মগুরুকে?

ব্রিকস সম্মেলন পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে নানা বিভ্রান্তি ও ভুল ব্যাখ্যা। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, সম্মেলন শেষে ভারতের এক হিন্দু সনাতনী ধর্মগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উদারতার প্রতীক হিসেবে ভিডিওটি বহু সামাজিক অ্যাকাউন্টে প্রচারিত হলেও প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য। সত্যতা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা যায়, কোনো ধর্মীয় প্রথা পালন বা প্রণামের ঘটনা এখানে ঘটেনি।​অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, অনুষ্ঠান চলাকালীন জৈন ধর্মযাজকের দেওয়া একটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা ডকুমেন্ট দুর্ঘটনাবশত ইরানের প্রেসিডেন্টের হাত থেকে নিচে পড়ে যায়। সেই কাগজটি মাটি থেকে কুড়িয়ে নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং উক্ত ধর্মগুরু—উভয়েই একই সময়ে একসাথে নিচের দিকে ঝুঁকেছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তটির একটি অংশ কেটে বা অপব্যাখ্যা করে একশ্রেণির নেটিজেন এটিকে 'পা ছুঁয়ে প্রণাম' করার দৃশ্য বলে প্রচার শুরু করেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা ও ‘ইসমাট টিভি’র মতো মাধ্যমগুলো জানায়, এটি কেবলই পড়ে যাওয়া একটি নথি কুড়িয়ে নেওয়ার স্বাভাবিক ঘটনা ছিল, যা কেবল ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে ছড়ানো হয়েছে।​সংবাদটির সত্যতা নিশ্চিত করতে পরবর্তীতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ সরাসরি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত জৈন ধর্মযাজকের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। সেখানে ধর্মযাজক নিজেই স্পষ্ট করে জানান যে তাঁর হাত থেকে দেওয়া ডকুমেন্টটি নিচে পড়ে যাওয়ায় মানবিক ও সৌজন্যমূলক খাতিরেই পেজেশকিয়ান নিচু হয়ে সেটি তুলে নেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেকোনো ধর্ম, প্রথা বা জাতির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা যেমন মানবাধিকারের অংশ, তেমনি সত্যকে আড়াল করে বিভ্রান্তি ছড়ানোও অনুচিত। সামগ্রিক বিচারে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মাধ্যমে যে দাবি করা হচ্ছিল তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য।

ইরানের প্রেসিডেন্ট কি আসলেই পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছেন সনাতনী ধর্মগুরুকে?

বোনকে হত্যার প্রতিশোধে ভগ্নিপতিকে কুপিয়ে হত্যা

ইউটিউবার স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভারতে তেলেঙ্গানায় প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন, পরে জামিনে মুক্ত হন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে রাস্তার পাশের খাবারের দোকানের কাছে ২৬ বছর বয়সী চিত্তারি হরিবাবু নামের ওই ব্যক্তির ওপর হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। স্থানীয় পুলিশ জানায়, গাড়িতে করে আসা তিন থেকে চারজন ব্যক্তির মধ্যে একজন নেমে ডাবের দা দিয়ে হরিবাবুর ঘাড় ও মাথায় কোপ দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।পরে নিহতের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিজামাবাদের গভর্নমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ হামলাকারীদের ধরতে ব্যাপক অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু করেছে।চলতি বছরের ১৭ মার্চ জগতিয়াল জেলায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ইউটিউবার গন্ধম বৈষ্ণবীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। অতিরিক্ত যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগে বৈষ্ণবীর পরিবারের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জুলাই মাসে জামিনে মুক্তি পান হরিবাবু।এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বৈষ্ণবীর ভাই সন্তোষ জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক সেলফি ভিডিওতে সন্তোষ খুনের দায় স্বীকার করে বলেন, ‘আমি আমার বোনকে খুন করা লোকটিকে হত্যা করেছি।’ভিডিওতে সন্তোষ জানান, সরকারের বিচারের জন্য অপেক্ষা করেও কোনো ফল না পেয়ে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। অন্য কাজে যাওয়ার পথে নিজামাবাদে হরিবাবুকে দেখতে পেয়ে তিনি এই আক্রমণ চালান। তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র বহন করছিলেন বলে দাবি করেন এবং পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানান।স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে উল্লেখ করে মৃত্যুদণ্ড এড়াতে জনগণের সহযোগিতা চেয়েছেন সন্তোষ। তবে পুলিশ ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চালাচ্ছে। গর্ভবতী নারী ও ইউটিউবার বৈষ্ণবী হত্যাকাণ্ডের পর এই প্রতিশোধমূলক খুনের ঘটনা পুরো তেলেঙ্গানায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

বোনকে হত্যার প্রতিশোধে ভগ্নিপতিকে কুপিয়ে হত্যা

ওমান রুই সৎসঙ্গের উদ্যোগে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব দিবস উদযাপন

যুগ পুরুষোত্তম পরম প্রেমময় শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মসূচির আয়োজন করেছে সৎসঙ্গ ওমান রুই কেন্দ্র।বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (৩০শে ভাদ্র) সৎসঙ্গ ওমান রুই কেন্দ্রের সকল শ্রদ্ধেয় গুরুভাই ও মমতাময়ী মায়েদের অংশগ্রহণে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।দিনের শুরুতে ভোর ৫টায় উষা কীর্তন এবং ৫টা ৫৬ মিনিটে সম্মিলিত প্রাতঃকালীন প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭টা ৫ মিনিটে আবির্ভাব মুহূর্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর নাম ধ্যান, পবিত্র গ্রন্থ পাঠ, সঙ্গীত, ভজন, কীর্তন ও যাজনের আয়োজন করা হয়।সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে সম্মিলিত সন্ধ্যাকালীন বিনীত প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাত ৭টা ৩০ মিনিটে সৎসঙ্গ, নামধ্যান, পবিত্র গ্রন্থ পাঠ, সঙ্গীত, ভজন, কীর্তন ও যাজন অনুষ্ঠিত হয়।দিনব্যাপী ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আয়োজন শেষে রাত ৯টায় প্রসাদ সেবন (ভাণ্ডারা) অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আবির্ভাব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সৎসঙ্গের ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক আবহ বিরাজ করে।

ওমান রুই সৎসঙ্গের উদ্যোগে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব দিবস  উদযাপন

কপালে তিলক, গলায় পবিত্র অঙ্গবস্ত্র, গণপতি আরাধনায় সর্বধর্ম সমন্বয়ের পাঠ ‘সেক্যুলার’ সালমনের

আম্বানি পরিবারের ঐতিহ্যবাহী মেগাবাজেট গণপতি উৎসবে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বলিপাড়ার শীর্ষ তারকাদের সমাগম ঘটেছে। তবে সব আকর্ষণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বলিউড সুপারস্টার সলমন খান। শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির বাসভবন 'অ্যান্টিলিয়া'য় আয়োজিত গণেশ পুজোয় উপস্থিত হয়ে সম্পূর্ণ ভক্তিভরে শ্রীগণেশের আরাধনায় অংশ নেন তিনি। পুজো প্রাঙ্গণে পৌঁছানো মাত্রই অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে খালি পায়ে প্রতিমার দিকে এগিয়ে যান ভাইজান। সেখানে উপস্থিত পূজনীয় পুরোহিত মহারাজ অত্যন্ত সম্মানपूर्वक তাঁর কাঁধে উত্তরীয় তথা পবিত্র অঙ্গবস্ত্র পরিয়ে দেন এবং ললাটে চন্দনের তিলক এঁকে দেন। এরপর শ্রীগণেশের চরণে পুষ্প অর্পণ করে ভক্তিভরে আরতি সম্পন্ন করেন তিনি। সনাতন ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে সলমন খানের এই আধ্যাত্মিক অংশগ্রহণ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। অনেক নেটিজেন ও ভক্ত তাঁর এই আচরণকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য নজির হিসেবে উল্লেখ করেছেন।​বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যম হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি যে—বিশ্বের সকল জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষের নিজস্ব ধর্মীয় উৎসব পালনের এবং একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মৌলিক মানবাধিকার রয়েছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') বলিউডের খান পরিবারে দীর্ঘদিন ধরেই গণেশ চতুর্থীর এই উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে, যেখানে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সকলেই একসূত্রে গ্রথিত হন। আম্বানিদের আয়োজনে সলমনের এই অংশগ্রহণ আরও একবার প্রমাণ করে যে ধর্ম যার যার, কিন্তু সার্বজনীন উৎসবের আনন্দ ও ভক্তি সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে সোশাল মিডিয়ায় যখন তাঁর এই ঐতিহ্যবাহী পুজোর মুহূর্ত নিয়ে প্রশংসার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই সলমন খানের একটি রহস্যময় বার্তা ভক্তদের মনে কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া সেই বার্তায় তিনি প্রকাশ করেছেন, “যখন অল্প পেয়েছিলাম, তখন খুশি ছিলাম। এখন বেশি পাচ্ছি, তাতে দুঃখ কেন? কাল যা চেয়েছিলাম, আজ তা পাওয়ার পরে অপ্রয়োজনীয় কেন মনে হলো?” একদিকে সনাতন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন, অন্যদিকে মনের গহীনের এই আক্ষেপের অনুভূতি—সব মিলিয়ে বর্তমানে বিনোদন জগতে চর্চায় রয়েছেন এই তারকা।

কপালে তিলক, গলায় পবিত্র অঙ্গবস্ত্র, গণপতি আরাধনায় সর্বধর্ম সমন্বয়ের পাঠ ‘সেক্যুলার’ সালমনের

মেহেদি পরলেই এক বছরের মধ্যে বিয়ে! অনন্য বিশ্বাসের গণপতি মন্দির

জয়পুরের বিখ্যাত মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে সিঞ্জারা উৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত মেহেদি বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভক্তদের এক অভূতপূর্ব মহাসমাগম পরিলক্ষিত হয়েছে। সনাতনী বিশ্বাসের ঐতিহ্য ও ভক্তির এক অনন্য নিদর্শন ফুটে উঠেছে এই উৎসবে, যেখানে ভক্তদের মাঝে এক গভীর ধর্মীয় আস্থা প্রতিফলিত হতে দেখা যায়। লোকমুখের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস অনুযায়ী, মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরের এই বিশেষ মেহেদি হাতে ধারণ করলে এক বছরের মধ্যে শুভ বিবাহের যোগ তৈরি হয়। এই পবিত্র বিশ্বাস ও মঙ্গল কামনায় হাজার হাজার সনাতনী পুণ্যার্থী মন্দির প্রাঙ্গণে একত্রিত হন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর মন্দিরে বিশেষ মেহেদি বিতরণের বার্তা ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই জয়পুরসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্তরা সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন। এমনকি দিল্লি ও চণ্ডীগড়ের মতো দূরদূরান্তের শহর থেকেও বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী এই প্রসাদতুল্য মেহেদি গ্রহণের উদ্দেশ্যে জয়পুরে পৌঁছান, যার মধ্যে অনেকেই নিয়মানুবর্তিতা ও ভক্তি প্রকাশে আগের রাতে এসে মন্দিরের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় এবং তাদের সুসংগঠিত উৎসাহ সামাল দিতে মন্দির কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের আগেই মেহেদি বিতরণ কার্যক্রম শুরু করতে বাধ্য হয়। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধাবোধের এই বিশাল মিলনমেলায় মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কেজি পবিত্র মেহেদি ভক্তদের মাঝে বিতরণ করা হয় বলে মন্দিরের নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে জানানো হয়েছে। সনাতনীদের এই ঐতিহ্যবাহী আচার কেবল শুভ বিবাহের প্রার্থনাই নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আস্থার এক অপূর্ব রূপ তুলে ধরেছে।

মেহেদি পরলেই এক বছরের মধ্যে বিয়ে! অনন্য বিশ্বাসের গণপতি মন্দির

পাকিস্তানে দুই হিন্দু কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্মান্তরিত করে জোরপূর্বক বিয়ে

পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে অপহরণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বিয়ের অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরও পরিবারের কাছে ফিরতে পারেনি দুই হিন্দু নাবালিকা। আদালতের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়ে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছে ১৩ ও ১৪ বছর বয়সি দুই কিশোরী। সম্পর্কে তারা দুই বোন বলে জানা গেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, সীতা ও রূপী নামে ওই দুই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়। তারা কাচ্চি কোলহি জনজাতির সদস্য। পরে তাদের জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার পর আমজাদ সোলাঙ্গি ও মনসুর সোলাঙ্গির সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার আবেদন জানিয়ে দুই কিশোরী আদালতের দ্বারস্থ হয়। তবে তাদের আবেদনের পর বিচারক তাদের পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে সরকারি হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের সিদ্ধান্তের পর বাইরে বেরিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে দুই কিশোরী। এ সময় তারা হাত জোড় করে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য আকুতি জানায়।পাকিস্তানি সাংবাদিক ও সমাজকর্মী ভীনগাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। ভিডিওতে দুই কিশোরীকে কান্নারত অবস্থায় হাত জোড় করে ‘দয়া করে আমাদের বাড়ি যেতে দিন’—এমন আকুতি জানাতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।ঘটনাটি পাকিস্তানে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। দেশটির সংখ্যালঘু অধিকার, বিশেষ করে হিন্দু কিশোরীদের অপহরণ, ধর্মান্তর ও বিয়ের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়ে আসছে।এদিকে ভীনগাসের দাবি, গত ৯ সেপ্টেম্বর সিন্ধের টান্ডো আল্লাহইয়ার এলাকা থেকে প্যানসি কোহলি নামে ১৪ বছর বয়সি আরও এক হিন্দু কিশোরীকে অপহরণ করা হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, সিন্ধু প্রদেশে গত ১০ দিনের মধ্যে ছয়জন হিন্দু কিশোরীকে অপহরণ করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং প্রতিটি ঘটনার স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে সাংবাদিক ও সমাজকর্মীর উত্থাপিত দাবিগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।দুই নাবালিকার আদালতের বাইরে কান্নার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানের সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নাবালিকাদের সম্মতি, পরিবারের কাছে ফেরার আবেদন এবং ধর্মান্তর ও বিয়ের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত ও আইনি সুরক্ষার দাবি সামনে এসেছে।

পাকিস্তানে দুই হিন্দু কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্মান্তরিত করে জোরপূর্বক বিয়ে

অস্ট্রেলিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়কে গণেশোৎসবের শুভেচ্ছা অ্যান্থনি অ্যালবানিজের

গণেশোৎসব উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। দেশজুড়ে পরিবার ও বিভিন্ন হিন্দু সম্প্রদায় যখন ২০২৬ সালের গণেশোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এক শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি এ উৎসবের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।১০ দিনব্যাপী এই উৎসব উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় অ্যান্থনি অ্যালবানিজ হিন্দু ধর্মের ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর সমাজ ও দেশের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক জীবনে হিন্দু অস্ট্রেলীয়দের অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি।ভগবান গণেশকে উৎসর্গ করা গণেশোৎসব হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে নতুন সূচনা, জ্ঞান ও বাধা দূর করার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রার্থনা, ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পারিবারিক-সামাজিক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহর ও আঞ্চলিক এলাকাতেও প্রতিবছর ব্যাপকভাবে এ উৎসব পালিত হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেন, ১০ দিনব্যাপী এই ধর্মীয় আয়োজন অস্ট্রেলিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা আচার ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।তিনি বলেন, “এই ১০ দিনের ভক্তিমূলক আয়োজনে আমি জানি, অস্ট্রেলিয়ার হিন্দু সম্প্রদায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে লালন করে আসা প্রিয় আচার ও ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করবে।”গণেশোৎসবের প্রতীকী তাৎপর্যের কথাও তুলে ধরেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। ভগবান গণেশকে নতুন শুরুর দেবতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশা, নবায়ন, জন্ম ও পুনর্জাগরণের সঙ্গে যুক্ত এই সময়ের সঙ্গে গণেশের নতুন সূচনার প্রতীকের গভীর মিল রয়েছে।অ্যান্থনি অ্যালবানিজের এই শুভেচ্ছাবার্তা এমন সময়ে এলো, যখন অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু সম্প্রদায় গণেশোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মন্দির, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং পরিবারগুলো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নানা আয়োজনের মাধ্যমে উৎসবটি পালন করবে।অনেকের কাছে গণেশোৎসব শুধু ধর্মীয় আচার পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও বৃহত্তর সমাজের মানুষের সঙ্গে মিলিত হওয়ারও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সংগীত, নৃত্য ও সামাজিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।গত কয়েক দশকে অস্ট্রেলিয়ায় হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে হিন্দু অস্ট্রেলীয়দের অবদানও বাড়ছে। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন বড় শহর থেকে শুরু করে আঞ্চলিক এলাকাতেও হিন্দু ধর্মীয় উৎসবগুলো নিয়মিতভাবে পালিত হচ্ছে।শুভেচ্ছাবার্তায় অস্ট্রেলিয়ার এই বৈচিত্র্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন অ্যালবানিজ। তিনি দেশটির সমাজে হিন্দু অস্ট্রেলীয়দের অবদান এবং তাদের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রশংসা করেন।অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার বৈচিত্র্যময় হিন্দু সম্প্রদায় যখন একত্র হয়ে প্রার্থনা ও আনন্দে অংশ নিচ্ছে, তখন আমি আপনাদের কঠোর পরিশ্রম, আকাঙ্ক্ষা এবং দেশের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে আমাদের জাতিতে যে অবদান রেখেছেন, তা স্বীকার করছি।”গণেশোৎসবের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভক্তির পাশাপাশি এই উৎসব পরিবার, বন্ধু এবং সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।শুভেচ্ছাবার্তার শেষে গণেশোৎসবে অংশ নেওয়া সবার জন্য শুভকামনা জানান অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। তিনি বলেন, “গণেশোৎসবে আপনারা যে বিশ্বাস ও বন্ধুত্ব উদযাপন করছেন, তা আপনাদের হৃদয়কে আনন্দে ভরিয়ে তুলুক।”২০২৬ সালের গণেশোৎসব অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় আচার, পারিবারিক মিলন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত থাকার বিষয়টিও প্রতিফলিত হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়কে গণেশোৎসবের শুভেচ্ছা অ্যান্থনি অ্যালবানিজের

ইসকন মন্দির থেকে ১৭ তরুণী উদ্ধারের দাবি, নেপথ্যে আসল সত্য

ধর্মীয় সংগঠন ইসকনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর একটি প্রচেষ্টা চিহ্নিত করেছে অনুসন্ধানী বিশ্লেষক দল। সম্প্রসারণবাদী হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইসকন মন্দিরের ভূগর্ভস্থ কক্ষ থেকে ১৭ জন তরুণীকে উদ্ধারের বানোয়াট দাবি ছড়িয়ে একটি চিহ্নিত কুচক্রী মহল সনাতনী সম্প্রদায়ের ওপর বিদ্বেষ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যের নিরপেক্ষ মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, ভিডিওটির সাথে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকনের কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই। প্রকৃতপক্ষে, এটি ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ভারতের মুম্বাইয়ের আন্ধেরি এলাকার একটি ড্যান্সবারে পুলিশের পরিচালনা করা অভিযানের দৃশ্য। তদানীন্তন সময়ে ‘দীপা ড্যান্স বার’ নামের ওই বিনোদনকেন্দ্রের আয়নার পেছনে সুকৌশলে তৈরি করা গোপন স্থান থেকে ১৭ জন নারীকে উদ্ধার করেছিল স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। পুরোনো ও সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ফৌজদারি ঘটনার দৃশ্য ধারণকৃত ভিডিও কৃত্রিমভাবে সম্পাদনা করে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হচ্ছে। (News copied from- 'hindus news') কোনো প্রকার সত্যতা যাচাই ছাড়াই নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় ও তাদের পরিচালিত পবিত্র উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া স্পষ্টতই একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ। সাধারণ মানুষ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে এমন সংবেদনশীল ইস্যুতে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো বন্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ইসকন মন্দির থেকে ১৭ তরুণী উদ্ধারের দাবি, নেপথ্যে আসল সত্য

ইউরোপের বুকে সনাতনী ঐতিহ্যের জয়গান: প্যারিসে বিশাল স্বামী নারায়ণ মন্দির উদ্বোধন করলেন মোদি

ইউরোপের বুকে আছড়ে পড়লো সনাতনী সংস্কৃতি ও হাজার বছরের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক বার্তা। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অদূরে বুসি-সাঁ-জর্জ এলাকায় নির্মিত স্বামী নারায়ণ মন্দিরের শুভ উদ্বোধন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি ঐতিহাসিক এই মন্দিরের দ্বার উন্মোচন করেন। এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি ধর্মীয় কাঠামোর সূচনা নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে সনাতন ধর্ম, সর্বজনীন সংস্কৃতি ও মানবাধিকারের বৈশ্বিক বার্তার এক মহান নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই মন্দির ভারত ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের গভীরতা বাড়াবে এবং সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।​প্যারিসের বুক ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপত্যটি ভারত-ফ্রান্সের সুদৃঢ় সম্পর্কের প্রতীক। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষের সহাবস্থান এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায় সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান অত্যন্ত জরুরি। মোদি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের সম্পর্ক আজ আর কেবল কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই; প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও বিশ্বকে নতুন পথ দেখাচ্ছে। তিনি ফরাসি পণ্ডিতদের সংস্কৃত চর্চা, রম্যাঁ রোলাঁর রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ বিষয়ক লেখা এবং শ্রী অরবিন্দ আশ্রমের ‘দ্য মাদার’-এর আধ্যাত্মিক অবদানের কথা স্মরণ করে ঐতিহাসিক সেতুবন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​প্যারিসের এই সুদৃশ্য মন্দিরটি মূলত ‘মেড ইন ইন্ডিয়া, বিল্ট ইন ফ্রান্স’-এর এক অনন্য নিদর্শন। রাজস্থান ও ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা বিশেষ পাথরে দক্ষ কারিগরদের সূক্ষ্ম খোদাই কাজের পর তা ফ্রান্সে নিয়ে মূল কাঠামোটি গড়ে তোলা হয়। ইউরোপে সনাতনী মূল্যবোধ, বৈশ্বিক শান্তি ও সনাতনী ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে এই মহতী উদ্যোগ নতুন দিশা দেখাবে। পরম পূজনীয় মহন্ত স্বামী মহারাজ মন্দিরের বিগ্রহে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি সনাতনী ও মানবাধিকারপ্রেমী মানুষের জন্য এই ঘটনা আত্মমর্যাদা ও গর্বের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করলো।

ইউরোপের বুকে সনাতনী ঐতিহ্যের জয়গান: প্যারিসে বিশাল স্বামী নারায়ণ মন্দির উদ্বোধন করলেন মোদি

প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয়েও হার মানল মৃত্যু: ধসে পড়া ভবনে ১০ দিন আটকে থেকে বেঁচে ফিরলেন চণ্ডিকা

প্রকৃতির তাণ্ডবলীলার মুখেও কখনও কখনও মানুষকে স্তব্ধ করে দেয় অলৌকিক জীবনের জয়গান। যেখানে ধ্বংসের বিপুল স্তূপ আর মৃত্যুর নিস্তব্ধতা গ্রাস করে নিয়েছিল সবকিছু, সেখানেই জীবনের এক অবিশ্বাস্য প্রতীক হয়ে ফুটে উঠলেন ৬৪ বছরের বৃদ্ধা চণ্ডিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা। হিমালয়ের কোলে ঘটে যাওয়া এক প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয়ের টানা ১০ দিন পর, কোনো অন্ন কিংবা পানীয় জল ছাড়াই 'মৃত্যুকূপ' থেকে সম্পূর্ণ জীবিত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী যখন ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজদের ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ঠিক তখনই এই অলৌকিক ঘটনা বিশ্ববাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। নুয়াকোটের একটি চারতলা ধসে পড়া ভবনের কাদা ও মাটিতে মাখামাখি ধ্বংসাবশেষের গভীর থেকে উদ্ধারকারীরা হঠাৎ একটি অত্যন্ত ক্ষীণ কণ্ঠস্বর শুনতে পান। বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করে উদ্ধার অভিযানে নামেন দুই নেপালি যুবক ও একজন চীনা শ্রমিক। তাঁদের যৌথ ও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে পরম মমতায় বাইরে নিয়ে আসা হয় ওই বৃদ্ধাকে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা চণ্ডিকা কুমারীকে তৎক্ষণাৎ সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে এয়ারলিফ্ট করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য সেনা ব্যারাকে পাঠানো হয়েছে।​হিমালয় সংলগ্ন এই অঞ্চলে প্রতিনিয়ত প্রকৃতির এই ভয়াল থাবায় বিপন্ন হচ্ছে হাজারো নিরন্ন ও অসহায় মানুষ। ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমানা অতিক্রম করে এই চরম মানবিক সংকটে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে এগিয়ে এসেছে প্রতিবেশী দেশ ভারতও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। সাম্প্রতিক প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেখানকার ত্রিশূলি বাজার অঞ্চল থেকে এক পাঁচ বছরের নিষ্পাপ শিশুসহ তিনজন ভারতীয় নাগরিককে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এ পর্যন্ত অন্তত ১৬৯ জন ভারতীয়কে বিপর্যয় এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে নেপালে অবস্থানরত ১,৯০৭ জন ভারতীয় নাগরিক সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছেন। তবে প্রকৃতির এই তাণ্ডবে এখনও পর্যন্ত ২৭৫ জন মানুষের কোনো সন্ধান মেলেনি, যাদের খোঁজে এবং জীবন রক্ষার প্রার্থনায় উদ্বিগ্ন হয়ে রয়েছে বহু পরিবার। মানবিকতার এই চরম দুর্যোগে প্রতিটি বিপন্ন জীবনের পাশে দাঁড়ানোই এখন সমকালের সবচেয়ে বড় আহ্বান।

প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয়েও হার মানল মৃত্যু: ধসে পড়া ভবনে ১০ দিন আটকে থেকে বেঁচে ফিরলেন চণ্ডিকা