হিন্দুস নিউজ

আন্তর্জাতিক

নরেন্দ্র মোদিকে 'বড় ভাই' ও 'বিষ্ণুর অবতার' আখ্যা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর

নরেন্দ্র মোদিকে 'বড় ভাই' ও 'বিষ্ণুর অবতার' আখ্যা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বরাজনীতির আঙিনায় নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে এবার এক অভূতপূর্ব ও শ্রদ্ধাপূর্ণ মন্তব্য ভেসে এলো প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানের দরবার থেকে। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ভারত তথা সনাতন মূল্যবোধ ও প্রজ্ঞার যে অনন্য বিকাশ ঘটছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। ভারতের রাষ্ট্রনেতাকে নিজের 'বড় ভাই' হিসেবে সম্বোধন করার পাশাপাশি তিনি মোদিকে হিন্দু শাস্ত্রীয় ভাবধারায় বিষ্ণুর শেষ অবতার 'কল্কি'-র সাথে তুলনা করেছেন। ধরণীতে বিশৃঙ্খলা দূর করে ধর্ম ও ন্যায়নীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার নিরিখে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী নেতৃত্বকে তিনি এক পবিত্র ঐশ্বরিক ভূমিকার মতো বলে মনে করেন।​রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির টানা ২৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন এবং বলিষ্ঠ সেবার প্রশংসা করতে গিয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোদির নেতৃত্বে 'বিকশিত ভারত'-এর গুরুত্ব কেবল ভারতের ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ নয়, বরং তা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ভ্রাতৃত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে মোদি সর্বদা এক সুদৃঢ় অগ্রাধিকার নীতি বজায় রেখেছেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নেতাদের তালিকায় স্থান পাওয়া নরেন্দ্র মোদি যেভাবে 'গ্লোবাল সাউথ'-এর কণ্ঠস্বরকে বিশ্বমঞ্চে জোরালো করেছেন এবং আফ্রিকান ইউনিয়নকে জি-২০ জোটের স্থায়ী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন, তারও বিশেষ উল্লেখ করেন শেরিং তোবগে। মোদির সাহস, প্রজ্ঞা ও গভীর মানবিক সহমর্মিতার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন যে, বৈশ্বিক জটিলতার মাঝে মোদির গৃহীত পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়াসহ সমগ্র বিশ্বের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক কল্যাণের পথকে সুগম করছে। ভারত-ভুটানের এই সুগভীর আত্মিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আগামী দিনেও গোটা অঞ্চলের সৌহার্দ্য রক্ষা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর, ‘হেট ক্রাইম’ হিসেবে তদন্তের দাবি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রিচমন্ড হাইটস এলাকার শ্রী স্বামীনারায়ণ ধাম হিন্দু মন্দিরে হামলার ঘটনায় মন্দির ভবনের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন (HAF)।ঘটনাটি সামনে আসার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কোনো ধর্মীয় বিদ্বেষ কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন।হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনের দাবি, রিচমন্ড হাইটস এলাকার শ্রী স্বামীনারায়ণ ধাম হিন্দু মন্দিরে হামলার ঘটনায় মন্দিরের ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাটিকে সাধারণ ভাঙচুর হিসেবে দেখার পরিবর্তে সম্ভাব্য ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হামলা বা ‘হেট ক্রাইম’ হিসেবে তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।হিন্দু সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধর্মীয় উপাসনালয়ে এ ধরনের হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি হামলার উদ্দেশ্যও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামলাটিকে ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত বা ‘হেট ক্রাইম’ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। হামলার পেছনে ধর্মীয় বিদ্বেষ কাজ করেছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে মন্দিরসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর, ‘হেট ক্রাইম’ হিসেবে তদন্তের দাবি

প্রেমানন্দের আশ্রমে শিষ্যের মৃত্যুতে তুঙ্গে প্রশ্ন ও জল্পনা

ভারতের মথুরায় প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে শিষ্য রাসিক দুলারির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক নতুন ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর আশ্রমের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে রাসিকের মৃত্যু হয়, যা প্রথমদিকে পুলিশ আত্মহত্যা বলে ধরে নিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে স্পষ্ট ফুটে ওঠে রাসিক রক্তমাখা পোশাক পরা অবস্থায় নিজ কক্ষ থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে যান এবং সেখানে কিছুক্ষণ শুয়ে-বসে থেকে নিচে পড়ে যান। এই ভয়াবহ ঘটনার আগে তার শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার বিষয়টি মৃত্যুর আসল কারণ নিয়ে গুরুতর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে এবং মানবসত্তা ও অধিকারের জায়গা থেকে ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলছে।​মথুরা পুলিশ বর্তমানে এই রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে পরিদর্শনের পাশাপাশি ৮৫ জনের বক্তব্য গ্রহণ করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আশ্রমে নতুন কেউ যোগ দেওয়ার পর তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হতো এবং নতুন ফোন ও সিম কার্ড প্রদান করা হতো। শিষ্যদের মোবাইল ব্যবহারে এমন কঠোর বিধিনিষেধের পেছনে কোনো নজরদারি কিংবা কোনো মানসিক চাপ ছিল কি না, তা এখন গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবার এবং পুরোনো বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ তদন্তকারীদের বিশেষভাবে ভাবিয়ে তুলছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​রাসিক দুলারির পরিবার ও তার ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি তার মানসিক চাপ, পুরোনো ফোন, নতুন সিম ও ডিজিটাল কল রেকর্ডের তথ্য এখন পরীক্ষার টেবিলে। তার রক্তে কোনো মাদক কিংবা বিষাক্ত ওষুধের উপস্থিতি ছিল কি না, তা জানতেও নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। কোনো আশ্রম বা ধর্মীয় পরিমণ্ডলে শিষ্যদের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি আজ এক বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। প্রকৃত সত্য উন্মোচন করে রাসিক দুলারির অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার দিকেই আজ তীক্ষ্ণ নজর রাখছে সবাই।

প্রেমানন্দের আশ্রমে শিষ্যের মৃত্যুতে তুঙ্গে প্রশ্ন ও জল্পনা

সিডনিতে বিপিএ-র দশম মহালয়া উদ্‌যাপন

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে উৎসবমুখর, ধর্মীয় আবহাওয়া ও অত্যন্ত শ্রদ্ধাঘন পরিবেশে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)-র দশম মহালয়া উদ্‌যাপিত হয়েছে। গত ৪ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার নিউ সাউথ ওয়েলসের বিক্রফটে অবস্থিত রোজলিয়া কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাঙালির মহাসমাগম ঘটে। শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বারতাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাঙালিদের আত্মিক টান, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা এবং সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।​অনুষ্ঠানের সূচনায় বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট উপস্থিত সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি মহালয়ার ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সংক্ষেপে বর্ণনা করেন এবং ২০১৬ সালে সিডনির কোগারাহ স্কুল অব আর্টসে সীমিত পরিসরে শুরু হওয়া বিপিএ-র মহালয়া আয়োজনের এক দশকের পথচলার স্মৃতিতর্পণ করেন। দীর্ঘ এই সময়ে সংগঠনটির নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াসে এই উদ্যোগ প্রবাসের মাটিতে অন্যতম প্রধান শারদীয় উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।​সুমিতা দে ও অনুপম গোস্বামীর দক্ষ পরিচালনা ও দিকনির্দেশনায় চণ্ডীপাঠ, আগমনী গান, আবৃত্তি ও নান্দনিক মঞ্চায়নের মাধ্যমে দেবীপক্ষের চিরায়ত আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল জ্যোতি বিশ্বাসের সুললিত কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ এবং জন্মেজয় রায়ের জীবন্ত তবলা সংগত, যা সমগ্র মিলনায়তনে এক গভীর আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') বহু দূরে প্রবাসে বাস করেও এই পরিবেশনা উপস্থিত সর্বস্তরের সনাতনী ও সুধী সমাজকে বাংলার আবহমান সংস্কৃতির শিকড়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।​এই আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের মাঝে নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য, আচার-অনুষ্ঠান ও মানবিক সম্প্রীতির শিক্ষা সঞ্চালিত করার এক প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়। সিডনির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত সাধারণ মানুষের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে, যেখানে বিভিন্ন জাতি ও ধর্ম-বর্ণের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিকতা এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।​অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সংগঠনের সেক্রেটারি দিবাকর সমদ্দার উপস্থিত ভক্ত ও দর্শক, শিল্পী, কলাকুশলী, স্বেচ্ছাসেবী এবং সকল শুভানুধ্যায়ীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে এবং প্রবাসের বুকে বাঙালির এই নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভ সূচনা ঘোষণা করা হয়।

সিডনিতে বিপিএ-র দশম মহালয়া উদ্‌যাপন

তৃণমূলের সাংসদ পদ ত্যাগ করে বিজেপি প্রার্থী কোয়েল মল্লিক

পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার ফাঁকা আসনে আসন্ন উপনির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের। চলতি বছরের এপ্রিলে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কার্যকালে কোনো সংসদীয় অধিবেশনে উপস্থিত না থেকে হঠাৎ করেই জুলাই মাসে পদত্যাগ করেন তিনি। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন এই শূন্য আসনে আগামী ১৬ অক্টোবর উপনির্বাচনের দিন নির্ধারণ করে, যা কাকতালীয়ভাবে এ বছরের দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর দিন পড়েছে।​প্রখ্যাত জ্যেষ্ঠ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের কন্যা কোয়েল মল্লিক শিক্ষাগত যোগ্যতায় সাইকোলজিতে বিএসসি ডিগ্রিধারী। ২০১৩ সালে প্রযোজক নিশপাল সিংয়ের সাথে তাঁর বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন হয়। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় এই মুখটি কিছুদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়ে তিনি এখন রাজ্যর প্রধান বিরোধী দল বিজেপির প্রার্থী হিসেবে পুনরায় রাজ্যসভার উচ্চকক্ষে পৌঁছাতে চাইছেন। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারায় কোয়েল মল্লিকের এই প্রত্যাবর্তন রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে এবং পুজো আবহেই ভোটের ময়দানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তৃণমূলের সাংসদ পদ ত্যাগ করে বিজেপি প্রার্থী কোয়েল মল্লিক

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি আর নেই

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম যুদ্ধাহত নারী মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা গাইবান্ধার রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি আর নেই। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতির বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের উত্তরপাড়ায়। তিনি প্রয়াত কুশিরাম সরকার ফসিয়ার স্ত্রী। স্বামী-সন্তান নিয়ে অত্যন্ত দরিদ্রতার মধ্যে জীবন কাটিয়েছেন এই বীরাঙ্গনা। দাম্পত্য জীবনে চার ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন তিনি। ১৯৮৮ সালে স্বামী কুশিরাম সরকার ফসিয়ার মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেন ফুলমতি।ফুলমতির ছেলে মনিরাজ কুমার জানান, তার মা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তার ডান হাত-পা অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি অনেকটা শয্যাশায়ী ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হবে।পরিবারের সদস্য সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় একদিন পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা ফুলমতিদের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ঘর থেকে বের করে নির্যাতন করে। মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়াবহ স্মৃতি বুকে নিয়েই দীর্ঘ জীবন পার করেন তিনি।রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে ফুলমতিকে দীর্ঘ ৪৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। সরকারি দপ্তর ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে দীর্ঘদিন ধরনা দেওয়ার পর ২০১৬ সালের মার্চে বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান তিনি। স্বীকৃতি পাওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল তাঁর জীবনে।ফুলমতির মৃত্যুতে সাদুল্লাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ আজমী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে ফুলমতির আত্মত্যাগ ও নির্যাতনের ইতিহাস অত্যন্ত বেদনাদায়ক। স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন তিনি স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অনেক চেষ্টা ও আবেদনের পর ২০১৬ সালে তার স্বীকৃতি মেলে।বার্ধক্যজনিত কারণে বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, তার চিকিৎসার বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে আরও সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল। তবে তিনি কিংবা তার পরিবারের সদস্যরা কারও কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতেননি। শেষ দিন পর্যন্ত আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছেন এই সংগ্রামী নারী।এদিকে, ফুলমতির মৃত্যুতে সাদুল্লাপুর উপজেলা ও জেলার মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, ফুলমতি শুধু একজন নারী নন, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস। তার জীবনের নির্যাতন, সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আত্মমর্যাদার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। তার স্মৃতি সংরক্ষণে সমাধিস্থলে একটি স্মৃতিফলক বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি আর নেই

চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবিতে কলকাতার রাজপথে সন্ন্যাসীদের মহামিছিল

বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, বিশ্বজুড়ে সনাতনী সমাজের অধিকার রক্ষা এবং সর্বস্তরের মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিতকরণের ধারাবাহিকতায় কলকাতার রাজপথে জোরালো আওয়াজ উঠেছে। চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক আইনজীবী হত্যার ঘটনায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর অন্যায় গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং দ্রুত মুক্তির দাবিতে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন ঘেরাও কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শনিবার বিবেকানন্দ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শিয়ালদহ রেল স্টেশন থেকে এক বিশাল মিছিল বাংলাদেশ মিশনের দিকে ধাবিত হয়। মিছিলে শতাধিক হিন্দু সন্ন্যাসী, সন্ন্যাসিনী ও নাগরিক অধিকার কর্মীরা অংশ নেন, যাদের মূল দাবি ছিল বাংলাদেশে সনাতনী ধর্মাবলম্বী ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জানমালের পরিপূর্ণ নিরাপত্তা এবং চিন্ময় প্রভুর অবিলম্বে নিংশর্ত মুক্তি।​মিছিলটি মিশনে প্রবেশের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হতে থাকলে পার্ক সার্কাস সংলগ্ন এলাকায় কলকাতা পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেয়। এসময় ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয় এবং সমগ্র এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যার ফলে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও সনাতনীদের সুদৃঢ় অবস্থানের মুখে পুলিশ প্রতিনিধিদল পাঠাতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') বাংলাদেশ মিশন কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে পাঁচজনের এক প্রতিনিধিদল ভেতরে প্রবেশ করে একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন। এতে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর চলা নিপীড়ন বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী সব নাগরিকের সম-অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরেও মিশন প্রাঙ্গণে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আন্দোলনকারীরা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করেন। এর আগে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে বারবার উত্তপ্ত হয়েছিল কলকাতার বাংলাদেশ মিশন, যা নির্বাচিত সরকার আসার পরও থামেনি এবং সনাতনীদের ন্যায্য বিচার ও সুরক্ষার দাবিতে প্রতিবাদের তীব্রতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবিতে কলকাতার রাজপথে সন্ন্যাসীদের মহামিছিল

মন্দিরের জমি দখলে দুই সাধুকে হত্যা করে মরদেহে আগুন

ভারতের উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে মন্দিরের জমি ও কর্তৃত্ব দখলের লোভে দুই প্রবীণ সনাতনী সাধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তাঁদের মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার এক বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। গত ১ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকালে জেলার খুদাগঞ্জ থানার সুথা গ্রামে এই মর্মান্তিক ও ঘৃণ্য অপরাধের চিত্র সামনে আসে। নিহত প্রবীণ সাধুদ্বয় হলেন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বাবা গোপাল দাস (৭০) এবং বাবা বিহারী দাস (৬০)। দীর্ঘকাল ধরে তাঁরা উক্ত মন্দিরের সেবা ও ধর্মীয় কার্য পরিচালনা করে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমিথ সিং নামের এক দুষ্কৃতী মন্দিরের পবিত্র সম্পত্তি ও সার্বিক নিয়ন্ত্রণ নিজের কবজায় নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই নিরীহ সাধুদের ওপর নানামুখী মানসিক চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিল। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, গত ১ অক্টোবর অভিযুক্ত ব্যক্তি সুপরিকল্পিতভাবে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে সাধু দুজনকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে। পরবর্তীতে অপরাধের আলামত ও প্রমাণ সম্পূর্ণ ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিহত সাধুদের দেহাবশেষে আগুন ধরিয়ে দেয় অভিযুক্ত দুষ্কৃতী। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত সুমিথ সিংকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এবং সাধুদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও নৃশংস ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও মানবাধিকার কর্মীদের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সার্বিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির জোরালো দাবি উঠেছে।

মন্দিরের জমি দখলে দুই সাধুকে হত্যা করে মরদেহে আগুন

সিপিআইএম নেতার বিতর্কিত মন্তব্য: "হনুমান চালিশা পাঠকারীরা হনুমান

সম্প্রতি একটি দলীয় জনসভায় সিপিআই(এম)-এর এক বরিষ্ঠ নেতার বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওই নেতা দাবি করেন, "যারা প্রতিদিন হনুমান চালিশা পাঠ করেন, তারা প্রকৃতপক্ষে হনুমান।" তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও এবং খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।বামপন্থী রাজনৈতিক আদর্শের অংশ হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা ও যুক্তিবাদী চিন্তার কথা বলা হলেও, এক জ্যেষ্ঠ নেতার মুখ থেকে ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান কেন্দ্রিক এমন মন্তব্য কেন এলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও সনাতন সংস্কৃতির ওপর এটি একটি সরাসরি আঘাত। বিরোধী নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ওই নেতার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।অন্যদিকে, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের একাংশও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনেকের মতে, কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ বা স্তোত্র পাঠ করা একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার বিষয়। তা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করা একজন দায়িত্বশীল নেতার পক্ষে অনুচিত।বিতর্ক বাড়ার পর সিপিআই(এম) দলীয় সূত্রের খবর, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তবে এই নিয়ে দলের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা স্পষ্ট বিবৃতি জারি করা হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে বা স্পর্শকাতর সামাজিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে দলটিকে কোনো সুবিধা দেওয়ার বদলে জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।বর্তমানে এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তর্কা-তর্কি ও বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।

সিপিআইএম নেতার বিতর্কিত মন্তব্য: "হনুমান চালিশা পাঠকারীরা হনুমান

বিমানে সহ-পাইলটের ছুরি হামলা: ১৮০ যাত্রীর ‘জীবন বাঁচানো’ সেই পাইলট ‘ভারতীয়’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইটের ককপিটে সহ পাইলটের ছুরিকাঘাতে আহতাবস্থাতেও তাকে প্রতিহত করে যাত্রীদের সাবধান করা প্রধান পাইলট একজন ভারতীয় বলে দাবি করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভির খবরে দাবি করা হয়, মাঝআকাশে ককপিটে তুমুল মারামারির সময় সহকারী পাইলটের সাবোটাজ চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া সেই ‘বীর’ পাইলট একজন ভারতীয়। তার নাম ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। কো-পাইলটের আক্রমণ প্রতিহত ও বিমানের যন্ত্রাংশ অকেজো করে তা ধ্বংসের চেষ্টা তিনি রুখে দিয়েছেন।ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার এর মাধ্যমে বিমানটিতে ১৮০ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা করেন।তবে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, হামলাকারী কো-পাইলট ও মূল পাইলট দুজনই ওমানের নাগরিক। বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের পর হামলাকারী কো-পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে আহত পাইলটকে নেওয়া হয়েছে হাসপাতারে। তবে তার পরিচয় দেওয়া হয়নি।এনডিটিভির খবরে বলা হয়, সংঘর্ষের সময় কো-পাইলটের ছুরিকাঘাতে রক্তে ভেসে যান ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা তাকে ‘বীর’ বলে অভিবাদন জানাচ্ছেন।কথা বলতে কষ্ট হতে থাকা ওই পাইলটকে যাত্রীরা বলছিলেন, আপনি পুরো বিমানটি বাঁচিয়েছেন, আপনি দুর্দান্ত কাজ করেছেন.মাঝ আকাশে এই সংঘর্ষের কারণে প্রথমে বিমানটি ছিনতাই হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও দ্রুত তা নাকচ করা হয়। পরবর্তীতে বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা আরেকজন পাইলট দ্রুত ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করিয়ে বিমানটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান তিনি।কে এই ক্যাপ্টেন মাচ্ছার?এনডিটিভি বলছে, ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার গত চার বছর ধরে আরব আমিরাত সরকারের মালিকানাধীন ‘ফ্লাইদুবাই’ এয়ারলাইনসে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি টানা দশ বছর ভারতের স্পাইসজেট এয়াললাইনসে কাজ করেছিলেন।তার লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, বোয়িং ৭৩৭ বহরে ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের ১৩ বছরেরও বেশি বাণিজ্যিক উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ‘লাইন ট্রেইনিং ক্যাপ্টেন’ হিসেবেও ব্যাপকভাবে অভিজ্ঞ। তার ৯ হাজার ৭৫০ ঘণ্টারও বেশি উড্ডয়নের রেকর্ড রয়েছে।ক্যাপ্টেন মাচ্ছার ২০১১ সালে স্পাইসজেটে যোগ দেন। ভারতের এই বাজেট এয়ারলাইন্সে লাইন ট্রেইনিং ক্যাপ্টেন ও সিনিয়র কমান্ডারসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০২২ সালের জুনে তিনি স্পাইসজেট ছেড়ে ‘ডাইরেক্ট এন্ট্রি ক্যাপ্টেন’ হিসেবে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন।এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, বিমানটি মাঝআকাশে থাকা অবস্থায় এক পাইলট বিমানে ধ্বংসাত্মক কাজ চালানোর চেষ্টা করেন। ক্যাপ্টেন মাচ্ছার তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যাপ্টেন মাচ্ছার মাটিতে পড়ে আছেন এবং তার মুখ ও হাত রক্তে ভেসে যাচ্ছে।নেতানিয়াহু বলেন, “ফ্লাইট চলাকালীন বিমানটি ইসরায়েলের দিকে এগোতে থাকলে এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন এবং সবাইকে নিয়ে বিমানটি ক্র্যাশ করার চেষ্টা করেন। তবে এক কেবিন ক্রু ও এক যাত্রী ককপিটের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে অভিযুক্ত কো-পাইলটকে কাবু করতে সক্ষম হন।ককপিটে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের দুই মিনিটের মধ্যে বিমানটি ১৭ হাজার ৪০০ ফুটেরও বেশি নিচে নেমে গিয়েছিল।

বিমানে সহ-পাইলটের ছুরি হামলা: ১৮০ যাত্রীর ‘জীবন বাঁচানো’ সেই পাইলট ‘ভারতীয়’

সাধুসন্তদের অপমান করলেই সোজা জেল: শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে স্বাধীনভাবে সনাতন ধর্ম পালন এবং সাধুসন্তদের সর্বোচ্চ মর্যাদা নিশ্চিত করার এক অভূতপূর্ব ও কড়া বার্তা দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। রোববার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে 'বাঙুর জাগরণ মঞ্চ' আয়োজিত ঐতিহাসিক '১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠ' অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সনাতন ধর্মের ধর্মগুরু, সাধুসন্ত কিংবা মহারাজদের কোনো ধরনের অবমাননা এখন থেকে আর বিন্দুমাত্র বরদাস্ত করা হবে না। কোনো ব্যক্তি যদি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে কিংবা সন্তদের অপমান করে, তবে তাকে অবিলম্বে অপরাধী হিসেবে সরাসরি হাজতে পাঠানো হবে। সম্প্রতি হাওড়ার লিলুয়ায় বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পুড়িয়ে অসম্মান জানানোর একটি অনভিপ্রেত ঘটনা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ ইতোমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং জড়িত মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত শক্ত ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, জমানা এখন বদলেছে; তাই স্বাধীন ভারতে সনাতন ঐতিহ্যের প্রতীক সাধুসন্তদের ছবি পোড়ানো বা অবমাননাকর বিক্ষোভ প্রদর্শনের মতো অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সনাতনী সমাজকে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা দ্বিধা ছাড়াই নিজস্ব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের জোর আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, এখন থেকে রাজ্যে মন খুলে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও হনুমান চালিশা পাঠ এবং দেবালয়ে শাঁখ-মৃদঙ্গ বাজাতে কারও কোনো বাধা বা ভয় থাকবে না। সন্ত-মহন্তরা সম্পূর্ণ স্বাধীন ও অবাধ পরিবেশেই সনাতন ধর্মের মাহাত্ম্য বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেবেন; কারও এই আদর্শ অপছন্দ হলে তিনি তা গ্রহণ নাও করতে পারেন, কিন্তু ধর্মীয় কোনো প্রতীকের অবমাননা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া হবে না। একইসাথে সনাতনী চেতনার এই জাগরণকে আরও সুসংহত করতে আগামী ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১০ লাখ কণ্ঠে ঐতিহাসিক মেগা গীতাপাঠের মহাআয়োজন, যেখানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত উপস্থিত থাকতে পারেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।

সাধুসন্তদের অপমান করলেই সোজা জেল: শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারি

বাংলাদেশী জঙ্গিবাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগে বর্ধমানে ইমাম গ্রেপ্তার

​(নিউজ কপিড ফ্রম- ‘হিন্দুস নিউজ’)​মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের একটি মসজিদ থেকে ইমাম পিয়ার মহম্মদ শেখকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এনআইএ সূত্রের খবর, ইমামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) শাখা আইএমকে-র সাথে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এনআইএ-র একটি দল স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় ওই মসজিদে হানা দিয়ে ইমাম শেখকে আটক করে। মঙ্গলকোট থানায় দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে কলকাতার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।​তদন্তকারীরা ইমামের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, একটি ডায়েরি, বেশ কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং আসামের একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছেন। তদন্তকারীদের একটি সূত্র জানিয়েছে যে, ইমামের মোবাইল ফোনে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ফোন নম্বর মিলেছে। আধিকারিকরা তাঁর বাংলাদেশে আসা-যাওয়ার বিবরণ এবং পাসপোর্টের তথ্য খতিয়ে দেখছেন এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সাথে তাঁর যোগসূত্র এবং যোগাযোগের গভীরতা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশী জঙ্গিবাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগে বর্ধমানে ইমাম গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ গোকুল দামোদর, সন্ধান পেতে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন মেরিল্যান্ডের পোটোম্যাক এলাকা থেকে গোকুল দামোদর (Gobi Arumugam), বয়স ৪০ বছর, নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁর নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা। তাঁকে খুঁজে পেতে সর্বসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছে Montgomery County Police Department (MCPD)।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ তাঁকে মেরিল্যান্ডের পোটোম্যাক এলাকার 10300 block of Oaklynn Drive-এ দেখা যায়। এরপর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।গোকুল দামোদরের নিখোঁজের ঘটনায় তাঁর বন্ধু, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মেরিল্যান্ড, ওয়াশিংটন ডিসি ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের তাঁর সন্ধানে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।কেউ যদি গোকুল দামোদরের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জেনে থাকেন বা তাঁকে কোথাও দেখে থাকেন, তাহলে দ্রুত Montgomery County Police-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ গোকুল দামোদর, সন্ধান পেতে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ

মাকে বাঁচাতে জ্বলন্ত বাসেই রয়ে গেলেন ছেলে, প্রাণ গেল দুজনেরই

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের গ্রেটার নয়ডায় যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মা-ছেলেসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মহোবার বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী সুনীতা গুপ্ত এবং তার ২৮ বছর বয়সী ছেলে শশাঙ্ক।সবাই চিৎকার করে বলছিলেন, দ্রুত নেমে আসুন। আগুন ছড়াচ্ছে। কিন্তু নামতে পারলেন না সুনীতা গুপ্ত (৪৭)। মাকে ছেড়ে নামলেন না ছেলেও। ফলে বাসের ভিতরেই ঝলসে মৃত্যু হল মা-ছেলে দু’জনেরই। কর্মসূত্রে হরিয়ানার গুরুগ্রামে থাকতেন শশাঙ্ক। তিনি ইন্ডিগোতে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় এক মাস আগে চিকিৎসার জন্য ছেলের কাছে গিয়েছিলেন সুনীতা। তার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। সম্প্রতি শশাঙ্কের কাকা হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ট্রেনের টিকিট না পাওয়ায় তারা একটি এসি বাসের টিকিট কাটেন। মায়ের আরামের কথা ভেবে বাসের পেছনের দিকের আসন বুক করেছিলেন শশাঙ্ক।  বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে দিল্লির কাশ্মীরি গেট থেকে বাসে ওঠেন মা-ছেলে। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় ৩৩ কিলোমিটার মার্কারের কাছে, জেবরের দয়ানতপুর এলাকায় বাসটিতে আগুন ধরে যায়। বাসে দুই চালক ও এক কন্ডাক্টরসহ মোট ৩৫ জন ছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, আগুনের সূত্রপাত হয় চালকের কেবিন থেকে। পরে তদন্তে বাসটির দুটি জরুরি নির্গমনপথ বন্ধ অবস্থায় পাওয়ার কথাও জানানো হয়।আগুন ছড়িয়ে পড়তেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়। অনেকেই জানালার কাচ ভেঙে বাইরে লাফ দেন। স্থানীয়দের সহায়তায় ২৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে শশাঙ্ক ও তার মা সুনীতা বাসের পেছনের দিকে ছিলেন।  প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর শশাঙ্ক মাকে নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কারণে সুনীতা দ্রুত হাঁটতে পারছিলেন না। এদিকে বাসের ভেতর ধোঁয়া বাড়তে থাকে। বাইরে থেকে যাত্রীরা দ্রুত নেমে আসার জন্য চিৎকার করছিলেন। কিন্তু মাকে ফেলে একা বেরিয়ে আসেননি শশাঙ্ক।  প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি বলেছিলেন, মা না নামতে পারলে আমিও নামব না। মাকে নিয়েই নামব। শেষ পর্যন্ত দু’জনই বাসের ভেতর আটকা পড়েন। ধোঁয়ায় জ্ঞান হারানোর পর আগুনে পুড়ে তাদের মৃত্যু হয়।  শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পরিবারের সদস্যরা সুনীতা ও শশাঙ্কের মরদেহ শনাক্ত করেন। সুনীতার উচ্চতা এবং শশাঙ্কের হাতে থাকা আংটি দেখে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।  মহোবার চরখড়ির বাড়িতে রয়েছেন শশাঙ্কের বাবা নীরজ গুপ্ত এবং তার ছোট ভাই নিখিল, যিনি বর্তমানে কলেজে পড়াশোনা করছেন।

মাকে বাঁচাতে জ্বলন্ত বাসেই রয়ে গেলেন ছেলে, প্রাণ গেল দুজনেরই

লাভ জিহাদের শিকার হিন্দু তরুণীকে হত্যা করে তারই বিধর্মী প্রেমিক

ভারতের গুয়াহাটিতে একটি হোমস্টের কক্ষ থেকে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নিমিশা ঠাকুরিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার ২৬ বছর বয়সী প্রেমিক আসিফ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।গ্রেপ্তার আসিফ আলীর দাবি, ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। তবে তার বক্তব্য নিয়ে পুলিশ সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।গুয়াহাটি পুলিশ কমিশনার দেওরি বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং পুলিশ সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে।তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। নিহতের পরিবারের এক বন্ধুর দাবি, ওই তরুণী তার মাকে কল করে জানিয়েছিলেন, তিনি এক বন্ধুর বাড়িতে রাত কাটাবেন। কিন্তু গভীর রাতে হঠাৎ মাকে ফোন করে বলেন, ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ এরপর সম্ভবত ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়। তবে তার এই বক্তব্যকে এখনো খতিয়ে দেখা বাকি।অন্যদিকে, হোমস্টের তত্ত্বাবধায়কের বক্তব্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, রাতে এক ব্যক্তির চিৎকার শুনেছিলেন। ওই ব্যক্তি কাউকে উঠতে বলছিলেন।তিনি আরও বলেন, তিনি একটি পুরুষ কণ্ঠে দাদা ওঠো, ওঠো বলে চিৎকার শুনতে পান।নিহত তরুণীটি ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং যুবকটি ছিল মুসলিম। এ ঘটনাকে ঘিরে কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা ঘটনাটিকে কথিত ‘লাভ জিহাদ’ বলে অভিযোগ করেন। ‘লাভ জিহাদ’ মূলত হিন্দুত্ববাদী কিছু গোষ্ঠীর প্রচারিত একটি ষড়যন্ত্র, যেখানে দাবি করা হয়, মুসলিম পুরুষরা ধর্মান্তরিত করার উদ্দেশে হিন্দু নারীদের প্রেমের সম্পর্কে জড়ান।বিক্ষোভকারীরা এক পর্যায়ে সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের ঘটনাস্থলে গিয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পরে অবরোধ সরিয়ে নেওয়া হয়।

লাভ জিহাদের শিকার হিন্দু তরুণীকে হত্যা করে তারই বিধর্মী প্রেমিক

প্রেমানন্দজি মহারাজের শিষ্যের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘর থেকে উদ্ধার রক্তমাখা বস্তু

শ্রীধাম বৃন্দাবনে শ্রী রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তি সাধনার পবিত্র তীর্থভূমিতে ঘটে গেল এক পরম মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রখ্যাত সন্ত শ্রী প্রেমানন্দজি মহারাজের শিষ্য ২৫ বছর বয়সী তরুণ সাধু দীপক ওরফে রসিক দুলারী শরণের রহস্যাবৃত মৃত্যু সনাতন ধর্মপ্রাণ সমাজ তথা নিখিল ভক্তমণ্ডলীকে গভীর শঙ্কা ও বেদনায় নিমজ্জিত করেছে। বৃন্দাবনের বরাহঘাট এলাকার ‘গুরু কৃপা কুঞ্জ’ আশ্রমে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। আশ্রমের চারতলার ভবন থেকে আচমকা পড়ে যাওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত সর্বোদয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি প্রাণ ত্যাগ করেন। শ্রীধামের মতো পরম বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্রে এবং ধর্মপ্রাণ সনাতনীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে একজন নবীন সাধুর এই নিদারুণ পরিণতি শুধু একটি মৃত্যুর ঘটনা নয়, বরং সমগ্র সনাতনী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় পরিবেশের সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।​আশ্রম সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সদ্যপ্রয়াত রসিক দুলারী শরণ বিগত দুই বছর ধরে পরম শ্রদ্ধেয় প্রেমানন্দজি মহারাজের অনুচরবর্গের অংশ হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে সেবাব্রতে নিয়োজিত ছিলেন। সন্ত প্রেমানন্দজির থেকে দীক্ষা গ্রহণের পর তিনি রাধা বাটিকার নিকটস্থ উক্ত চারতলা আশ্রমে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার হঠাৎ চারতলা থেকে তাঁর পতনের শব্দে আশ্রমের অন্যান্য সাধু ও অনুগামীরা ছুটে যান এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করান। তবে ঘটনার পর পুলিশি তদন্তে যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, তা পুরো বিষয়টি সাধারণ আত্মহত্যার সম্ভাবনাকে ছাপিয়ে এক গভীর ষড়যন্ত্রের দিকে নির্দেশ করছে। নিহতের ঘর তল্লাশি করে পুলিশ একটি রক্তমাখা শিলনোড়া, রক্তভেজা গ্রাইন্ডিং মেশিন এবং একটি ব্যক্তিগত ডায়েরি উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিহতের দেহে একাধিক রহস্যজনক আঘাতের চিহ্ন এবং যৌনাংশে মারাত্মক ক্ষত পাওয়া গেছে, যা কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি বা কেবল উপর থেকে পতনের কারণে সৃষ্ট আঘাতের লক্ষণ হতে পারে না।​সনাতন ধর্মের কেন্দ্রস্থল বৃন্দাবনে বৈষ্ণব সাধুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং হিন্দু ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর পবিত্র ভাবাবেগ রক্ষায় প্রশাসনিক তৎপরতা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বৃন্দাবন কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে এবং এটিকে স্রেফ দুর্ঘটনা বা আত্মহত্যা হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টিকোণ থেকেও তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সনাতনী মূল্যবোধ ও বিশ্বজনীন মানবাধিকারে বিশ্বাসী যেকোনো সচেতন নাগরিকের দাবি, এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে যদি কোনো অশুভ চক্রান্ত বা অপরাধমূলক চক্রান্ত লুকিয়ে থাকে, তবে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত তার উন্মোচন ঘটুক। News copied from- 'হিন্দুস নিউজ' এবং পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে অবস্থানরত সমস্ত সাধু-সন্ত ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হোক, যাতে সনাতন ধর্মের ধারক-বাহকদের পবিত্র সাধনা ক্ষেত্র নিরাপদ থাকে।

প্রেমানন্দজি মহারাজের শিষ্যের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘর থেকে উদ্ধার রক্তমাখা বস্তু