হিন্দুস নিউজ

শিক্ষা

যতদিন প্রাণ আছে দুর্গা মন্দিরেই শিক্ষা দেব’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মাননা পেয়ে রমণী কান্ত

যতদিন প্রাণ আছে দুর্গা মন্দিরেই শিক্ষা দেব’: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মাননা পেয়ে রমণী কান্ত

দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে প্রতিদানহীন ভালোবাসায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এক অনন্য শিক্ষককে সম্মানিত করা হলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বরিশালের আগৈলঝাড়ার প্রবীণ শিক্ষাব্রতী রমণী কান্ত বেপারীর এই দীর্ঘ ত্যাগের স্বীকৃতি নিশ্চিত করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একজন নিঃস্বার্থ সনাতনী গৃহী হিসেবে জীবনযাপন করলেও রমণী কান্তের এই শিক্ষা বিপ্লব পুরো অঞ্চলের অগণিত দরিদ্র পরিবারের শিশুদের অন্ধকার কাটিয়ে আলোর পথ দেখিয়েছে। ১৯৭৩ সালে চাঁদশী ঈশ্বর চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক পাস করার পর সরকারি গৌরনদী কলেজে ভর্তি হলেও পরিবারের তীব্র আর্থিক অনটনের কারণে উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনো সম্ভব হয়নি তাঁর। মেধার জোরে সে সময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ আসলেও গ্রামের দুস্থ শিশুদের মুখের দিকে তাকিয়ে তিনি সেই চাকরি গ্রহণ করেননি। সরকারি চাকরির মোহ ত্যাগ করে নিজের গ্রামের শিশুদের শিক্ষাদানেই তিনি জীবনের পরম সার্থকতা খুঁজে নেন। রাজিহার-চাঁদশী সড়কের পাশে রাংতা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের আঙিনা ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে তাঁর সাধনার তীর্থস্থান, যা স্থানীয় মানুষের কাছে আজ ‘রমণী কান্তের পাঠশালা’ নামে সর্বজনবিদিত। প্রতি শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে চলে এই কোমলমতি শিশুদের আনন্দের পাঠদান। এই পাঠশালায় শিশুদের কোনো মাসিক বেতন গুণতে হয় না, দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা যেন অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে ঝরে না পড়ে, সেটাই তাঁর জীবনের একমাত্র ব্রত।​দীর্ঘ এই কর্মযজ্ঞের মাঝেও রমণী কান্তের ব্যক্তিগত জীবন অত্যন্ত সাদাসিধে ও দারিদ্র্যপীড়িত। স্ত্রী রুম্পা বেপারীকে নিয়ে একটি জীর্ণ দোচালা টিনের ঘরেই কাটে তাঁর দিন যাপন, আর একমাত্র ছেলে তাপস বেপারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সামান্য বেতনে কর্মরত রয়েছেন। কিছুটা কৃষিজমি আর সীমাহীন অভাব-অনটনের মাঝেও অন্ন-বস্ত্রের চিন্তা ভুলে শিশুদের পড়ানোর মহান আনন্দকেই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মনে করেন এই আলোকের দিশারী।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট থেকে পাওয়া এই অভাবনীয় রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রাপ্তি প্রসঙ্গে আবেগপ্লুত রমণী কান্ত জানান, স্বাধীনতার পূর্বকাল থেকে এই দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে বসে তিনি এলাকার শিশুদের পাঠদান করে আসছেন এবং যতদিন দেহে প্রাণ আছে, এভাবেই ভালোবাসার আলো ছড়াতে চান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সম্মান ও মর্যাদা তাঁকে দিয়েছেন, তাতে তাঁর এই সুদীর্ঘ শিক্ষক জীবন সার্থক হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই প্রসঙ্গে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপম মজুমদার গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে বলেন, রমণী কান্তের এই ঐতিহ্যবাহী পাঠশালার পাঠদান পদ্ধতি যে কাউকে মুগ্ধ করে এবং এমন নিঃস্বার্থ ও মহৎ ব্যক্তিত্ব সমাজে বিরাজ করছেন বলেই আমাদের দেশ ও সংস্কৃতি আজও এত সুন্দর ও সমৃদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে 'গুণী শিক্ষক' সম্মাননা পাচ্ছেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অরুণ কুমার বসাক

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বাংলাদেশের গর্ব ও প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একমাত্র ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘গুণী শিক্ষক অ্যাওয়ার্ড’ পেতে যাচ্ছেন। পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এই বিরল সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন তিনি। পাবনার সন্তান অরুণ কুমার বসাকের বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে রাধানগর মজুমদার একাডেমী থেকে প্রথম বিভাগে মেট্রিকুলেশন পাশের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েটে সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে ১৯৬১ সালে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে অনার্স এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ সালে স্নাতকোত্তরেও ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট স্থান অর্জন করেন। ঐ বছরই তিনি নিজ বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দিয়ে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন।  ​১৯৬৫ সালে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ইম্পেরিয়াল কলেজে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ পেলেও তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে তাঁর পাসপোর্ট জব্দ করা হয় এবং তিনি বিদেশে যেতে বাধাগ্রস্ত হন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথ পোস্ট গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে গমন করেন এবং বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে সফলভাবে পিএইচডি অর্জন করেন। দীর্ঘ মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শেষে ২০০৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন এবং ২০০৯ সালে সম্মানজনক ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে ভূষিত হন।​তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ও 'স্কুল অব ফিজিকাল সায়েন্স' অনুষদের ডীন হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর হাত ধরেই কম্পিউটার সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে প্রথম কম্পিউটার স্থাপিত হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্ট ইউনিভার্সিটি ও সাউদর্ন ইলিনইস ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং ও রিসার্চ প্রফেসর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​নিউক্লীয় তত্ত্বের মৌলিক গবেষণায় তাঁর অবদান সর্বজনবিদিত। বাংলা একাডেমি থেকে তাঁর লেখা "ব্যবহারিক পদার্থবিজ্ঞান" বইটি প্রকাশিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের মানসম্পন্ন জার্নালে তাঁর ১৩৯টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং তাঁর মোট সাইটেশন সংখ্যা ১৫৭১টি। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স গোল্ড মেডেল সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সম্মাননায় তিনি ভূষিত হয়েছেন। তাঁর নামে প্রতি বছর মেধাবী শিক্ষার্থীদের "প্রফেসর বসাক পুরস্কার ও বৃত্তি" প্রদান করা হয়। চরম প্রতিকূলতা ও বৈষম্য পেরিয়ে বিজ্ঞান সাধনায় অর্জিত তাঁর এই মহান অর্জন গোটা সনাতন সমাজ তথা সমস্ত জাতির জন্য এক পরম গৌরবের বিষয়।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে 'গুণী শিক্ষক' সম্মাননা পাচ্ছেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অরুণ কুমার বসাক

মীরসরাইয়ে নতুন প্রজন্মের মাঝে গীতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বিতরণ

 নতুন প্রজন্মের মাঝে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও সনাতন ধর্মীয় জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা দান ও বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ গীতা পরিষদ, মীরসরাই উপজেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গীতা শিক্ষা নিকেতনের শিক্ষার্থীদের হাতে ধর্মগ্রন্থ তুলে দেওয়া হয়।শুক্রবার (২ অক্টোবর) মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ এলাকার গোপীনাথপুর শিশু কিশোর গীতা শিক্ষা নিকেতনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে গীতা পরিষদের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সনাতনী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ গীতা শিক্ষা নিকেতনের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও স্থানীয় গ্রামবাসী অংশ নেন।আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ গীতা পরিষদ ও শারজাহ্ গীতা সংঘের সহযোগিতায় এ গীতা দান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাতে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা তুলে দেওয়া হয়। শিশু-কিশোরদের নিয়মিত গীতা পাঠে আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি গীতার শিক্ষা তাদের দৈনন্দিন জীবনে ধারণ করার বিষয়ে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।ছবি:সংগৃহীতআয়োজকদের মতে, বর্তমান প্রজন্মকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বর্ণিত কর্ম, কর্তব্য, আত্মসংযম, জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে শিশু-কিশোরদের পরিচিত করে তুলতে গীতা শিক্ষা কেন্দ্রগুলো ভূমিকা রাখছে। সেই ধারাবাহিকতায় গোপীনাথপুর শিশু কিশোর গীতা শিক্ষা নিকেতনের শিক্ষার্থীদের হাতে গীতা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।ছবি:সংগৃহীত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মীরসরাই উপজেলার সাবেক সভাপতি সুভাষ সরকার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গোপীনাথপুর শিশু কিশোর গীতা শিক্ষা নিকেতনের সভাপতি সুজিত সরকার, সাধারণ সম্পাদক রনি রায়, গোপীনাথপুর সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরের মহিলা সম্পাদিকা প্রিয়াংকা দাশ এবং বাংলাদেশ গীতা পরিষদ, চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল দাশ।বাংলাদেশ গীতা পরিষদ, মীরসরাই উপজেলা কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপজেলা সভাপতি অসীম সেন, সাধারণ সম্পাদক হৃদয় দাশ, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সজীব নাথ, অন্তু বৈদ্য, সেতু বণিক ও পার্থ দাশ।এ সময় গীতা শিক্ষা নিকেতনের ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবক এবং আশপাশের এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী গ্রামবাসীরাও উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের হাতে গীতা তুলে দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুরো আয়োজন ধর্মীয় ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।সংশ্লিষ্টরা জানান, শিশু বয়স থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ গঠনে সহায়ক হতে পারে। গীতা শিক্ষা নিকেতনের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ ও এর শিক্ষা সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে শুধু ধর্মগ্রন্থ পাঠ নয়, গীতার মানবিক ও নৈতিক শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর বিষয়েও শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।বাংলাদেশ গীতা পরিষদ মীরসরাই উপজেলা কমিটির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান উপস্থিত অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, মীরসরাইয়ের বিভিন্ন এলাকার গীতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সনাতনী শিশু-কিশোরদের মধ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মগ্রন্থ বিতরণ এবং ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।আয়োজকদের পক্ষ থেকেও নতুন প্রজন্মের কাছে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শিক্ষা পৌঁছে দিতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে গীতা শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।ছবি:সংগৃহীত

মীরসরাইয়ে নতুন প্রজন্মের মাঝে গীতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বিতরণ

মিরসরাইয়ে বিদায়ী শিক্ষক সজল নাথকে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিল শিক্ষার্থীরা

দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে যাঁর হাতে ছিল চক আর সামনে ছিল উৎসুক শিক্ষার্থীদের মুখ, পাঠদানের পাশাপাশি যিনি স্নেহের পরশে গড়ে তুলেছেন শত শত সুনাগরিক সেই প্রিয় শিক্ষক সজল কান্তি নাথ কর্মজীবন থেকে অবসর নিলেন। তাঁর বিদায়লগ্নে এক অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী জোরারগঞ্জ জে.বি. উচ্চ বিদ্যালয়ে।২০০০ সালে এই বিদ্যালয়ে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেছিলেন সজল কান্তি নাথ। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান শেষে তিনি অবসর নেন। বিদায়ের দিন সকালে শেষবারের মতো হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন এবং প্রিয় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে গিয়ে শেষ পাঠদান করান। এরপর তাঁর সম্মানে এক বর্ণাঢ্য বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু তুষার কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক সুভাষ সরকারের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সহকারী শিক্ষক সুব্রত বড়ুয়া, হেড মাওলানা আনোয়ার হোসেন, টুংকেল বড়ুয়াসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। স্মৃতিচারণকালে বক্তারা সজল কান্তি নাথের শিক্ষকতা জীবনের নানা অবদান তুলে ধরেন। এ সময় তাঁর হাতে বিদায়ী উপহার তুলে দেওয়া হয় এবং কেক কেটে দিনটি উদযাপন করা হয়।আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিদায়ের মুহূর্তে তৈরি হয় এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ। বিদ্যালয়ের স্কাউট দল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফুল ছিটিয়ে প্রিয় শিক্ষককে অভিবাদন জানায়। এ সময় সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের চোখে জল নেমে আসে।সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা ঘটে শিক্ষক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার পর সজল কান্তি নাথকে বহনকারী গাড়িটির পেছনে পেছনে কাঁদতে কাঁদতে স্কুল থেকে তাঁর বাড়ি পর্যন্ত ছুটে যায় একদল শিক্ষার্থী। প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের এমন নিঃস্বার্থ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার দৃশ্য দেখে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

মিরসরাইয়ে বিদায়ী শিক্ষক সজল নাথকে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিল শিক্ষার্থীরা

রাউজানে বিদ্যার্থী বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ অনুষ্ঠিত

“জ্ঞান, শিক্ষা ও ধর্মীয় চেতনার নৈতিকতার আলোয় এগিয়ে যাক আমাদের আগামী প্রজন্ম”—এই প্রত্যয়ে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ (এসবিএস), চট্টগ্রাম উত্তর জেলার উদ্যোগে রাউজান শাখায় ‘বিদ্যার্থী বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাউজান সরকারি কলেজ ও নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হয়। এবারের পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি থেকে বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, এবারের পরীক্ষায় শুধু হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনী (MCQ) পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষার সময় ছিল ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।রাউজানের দুটি কেন্দ্রে এ বছর মোট প্রায় ২ হাজারের অধিক  শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। প্রধান পরীক্ষক শিক্ষক সুজন দাশ ও শিখা রাণী দে-এর তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করেন।পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন রাউজান সরকারি কলেজের প্রভাষক দীপেন দাশ ও নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  মোহাম্মদ জানে আলম, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি শ্রীমান দাশ শুভ, শান্তু বণিক, শানু কুমার দে ও আকাশ মজুমদারসহ সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে বিদ্যার্থী বৃত্তি ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক বলেন, “আমরা চাই মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন পাক। এই পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হবে।”পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসু পালিত ও সাধারণ সম্পাদক সুমন দাশ গুপ্ত, পৌর কমিটির সভাপতি সুদীপ দে, দীপ্ত চৌধুরী, বিপ্লব চৌধুরী, টিটু দাশ, এসবিএস রাউজান শাখার সভাপতি রাখাশ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক পুষ্পক রায়।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাপ্পা কুমার দাশ, বিনায়ক দে, প্রসঞ্জিত দে, পার্থ দে, বিজয় দে, লিটন শর্মা, ভোমর দাশ, অমর কৃষ্ণ দাশ, নিলয় ভট্টাচার্য, হিমাদ্রি পাল ইমন ও পাভেল চৌধুরীসহ রাউজান উপজেলা শাখার উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের সকল সদস্য।আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়ন, জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই এ বৃত্তি পরীক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলে আগামী প্রজন্মকে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।

রাউজানে বিদ্যার্থী বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ অনুষ্ঠিত

স্বপ্ন থেকে সাফল্য—মাধবপুরের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মৈত্রী রায়

মেধা, পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছেন মৈত্রী রায়। বর্তমানে তিনি হবিগঞ্জের মাধবপুরে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তাঁর এই অর্জন তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, মৈত্রী রায়ের পথচলা তারই উদাহরণ।একটি সম্মানজনক পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগও তৈরি হয়েছে তাঁর। সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে কর্মজীবনে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।মৈত্রী রায়ের আগামী দিনের কর্মজীবন আরও সাফল্যমণ্ডিত ও গৌরবময় হোক—এই কামনায় তাঁকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

স্বপ্ন থেকে সাফল্য—মাধবপুরের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মৈত্রী রায়

কুবিতে কাশের দোলায় শরৎ নামে

মাথার ওপরে নীল আকাশ, সাদা মেঘের ভেলা। আর নিচে বাতাসের দোলায় দুলছে সাদা কাশফুল। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পাশ দিয়ে হাঁটলেই চোখে পড়ে এই দৃশ্য। লালমাটির বুকে সাদা কাশের শিষ যেন আমাদের শরতের বার্তা জানিয়ে দিচ্ছে। ক্লাস শেষ করে কেউ হাঁটছেন। কেউ আবার থেমে দাঁড়াচ্ছেন। মুঠোফোনে তুলে রাখছেন কাশফুলের ছবি। কেউ ছবিটি দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শরতের সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্যগুলোর একটি কাশফুল। কুবির লালমাটির ক্যাম্পাসে খোলা জায়গার পাশে ফুটে থাকা সাদা কাশফুল সেই পরিচয় আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে সাদা মেঘ আর কাশফুলের মধ্যে তৈরি হয় দারুণ এক মিল। নীল আকাশের নিচে সাদা কাশফুল যেন প্রকৃতির নিজস্ব সাজ। এই সময়টায় শিক্ষার্থীদের কাছেও ক্যাম্পাসটি একটু অন্য রকম লাগে। প্রতিদিনের ক্লাস, পরীক্ষা, সংগঠনের কাজ কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার ব্যস্ততার মাঝেও কাশফুলের দিকে চোখ পড়ে। কুবির লালমাটির পথ ধরে হাঁটলে বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় কাশফুল। কোথাও গাছের আড়ালে। কোথাও খোলা জায়গায়। আবার কোথাও পথের একেবারে কাছেই দুলছে সাদা শিষ। বাতাস এলেই কাশফুলগুলো একসঙ্গে দুলে ওঠে। কখনো ধীরে, কখনো একটু জোরে। মনে হয়, মাঠের পাশে সাদা ঢেউ উঠেছে। শুধু কাশফুল নয়, ক্যাম্পাসের আরও অনেক দৃশ্যই ঋতু বদলের কথা বলে। আকাশের রং, বাতাসের গতি, রোদ-বৃষ্টি, গাছের পাতা কিংবা মাঠে খেলতে থাকা শিক্ষার্থীরাও সেই পরিবর্তনের সাক্ষী। বিকেলে কোনো সংগঠনের আয়োজন কিংবা কয়েকজন তরুণের আড্ডাও যেন ক্যাম্পাসের ঋতুর ছবিতে নতুন কিছু যোগ করে। তবে এই কাশফুল বেশি দিন থাকবে না। কিছুদিন পর সাদা শিষগুলো হারিয়ে যাবে। বদলে যাবে ক্যাম্পাসের চেনা দৃশ্য। আবার কোনো সকালে কুয়াশার ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ঋতুর নতুন রূপ দেখবে শিক্ষার্থীরা। গ্রীষ্মের রোদে গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়েও টের পাওয়া যাবে সময়ের বদল।

কুবিতে কাশের দোলায় শরৎ নামে

সরকারি তিতুমীর কলেজে নবীন সনাতনী শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে প্রচার বুথ ও ভজন-কীর্তন অনুষ্ঠিত

সরকারি তিতুমীর কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস উপলক্ষে নবীন সনাতনী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে প্রচার বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি তিতুমীর কলেজ মন্দির সনাতন সোসাইটি ফর কালচার অ্যান্ড এডুকেশনের উদ্যোগে কলেজ প্রাঙ্গণে এ বুথ স্থাপন করা হয়।মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ওরিয়েন্টেশনে আসা নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনাতনী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হন আয়োজকেরা। এ সময় তাদের কলেজ মন্দিরের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হয়। পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ সম্পর্কেও অবহিত করা হয়।আয়োজকেরা জানান, নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি, কলেজ মন্দিরের কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের পরিচিত করা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। প্রচার বুথের মাধ্যমে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কেও নবীনদের ধারণা দেওয়া হয়।এ সময় সনাতনী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভজন, কীর্তন ও সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এতে কলেজ প্রাঙ্গণে তৈরি হয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহ। ওরিয়েন্টেশনে আসা নবীন সনাতনী শিক্ষার্থীরাও এসব আয়োজনে অংগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।আয়োজকদের মতে, ওরিয়েন্টেশনের মতো আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ফলে তাদের কলেজ মন্দিরের কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বিভিন্ন সুযোগ সম্পর্কেও তারা অবহিত হয়েছেন।সনাতন সোসাইটি ফর কালচার অ্যান্ড এডুকেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি তিতুমীর কলেজে নবীন সনাতনী শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে প্রচার বুথ ও ভজন-কীর্তন অনুষ্ঠিত

‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের সেই বিউটি রানি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের তালে হাঁটার ভিডিও করে আলোচনায় আসা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রানি পাল জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদের সই করা এক স্মারকের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষকদের তথ্য বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাছাই করা শিক্ষকদের মধ্য থেকে এবার চারজনকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত করা হয়েছে।শিক্ষক বিউটি রানির পাশাপাশি আরো তিন শিক্ষক শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ।বিউটি রানি পাল ছাড়াও সিলেট সদর উপজেলার জহিরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন লস্কর, ওসমানীনগর উপজেলার আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর চৌধুরীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আদরী রানী দাস এই তালিকায় রয়েছেন।গত ২৩ জুলাই বিউটি রানি পাল ফেসবুকে কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন।সেখানে নীল শাড়ি পরে আঁচল উড়িয়ে হাঁটার ওই ভিডিওতে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানটি ব্যবহার করায় ট্রলের শিকার হন তিনি।এর প্রতিবাদে ওই গানটিকেই প্রতীকী প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনব প্রতিবাদ শুরু করেন দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষকরা।সমালোচনার মুখে পড়ার পরও পাশে থেকে সমর্থন দেওয়ায় দেশবাসী, পরিবার এবং সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন বিউটি রানি।এর আগে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৩ আয়োজনে সিলেট জেলায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিউটি রানি পাল।

‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের সেই বিউটি রানি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

২৬ বছরের সেবার স্বীকৃতি, হিমাংশু দত্তের বিদায়ে আবেগঘন গুজরা শ্যামাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়

চট্টগ্রামের রাউজানে গুজরা শ্যামাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিমাংশু দত্তের ২৬ বছরের কর্মজীবনের অবসান হয়েছে। অবসর উপলক্ষে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে তাঁকে দেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী ও সম্মানজনক বিদায় সংবর্ধনা।গত ৩১ আগস্ট বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হিমাংশু দত্তকে অবসরকালীন বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ২০০০ সালে পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের বাসিন্দা হিমাংশু দত্ত গুজরা শ্যামাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি নিয়ম অনুযায়ী অবসরে যান।বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সদস্য সচিব কনক দাশ গুপ্ত। প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক শেখ মোহাম্মদ আলাউদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাউজান প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নেজাম উদ্দিন রানা ও প্রবাসী মোহাম্মদ হারুন।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিপ্লব কুমার ধর, সিনিয়র শিক্ষক শম্ভুনাথ পারিয়াল, বাপ্পী দাশ, শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য মোহাম্মদ গোলাম ফারুক, প্রভাস কুমার ধর, লাবনী প্রভা দত্ত, পিংকী শীল, সহকারী শিক্ষক সুমন বড়ুয়া, সুমন কান্তি দাশ, আশিষ দাশ, দীপিতা দেব ও মোস্তেকা খাতুন।বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহেলা কাশেম আর্থী ও সৌম্য আকতারের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আলিফা খানম। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা দীপিতা দেব ও তাঁর দল এবং শিক্ষার্থী মুন দে সংগীত পরিবেশন করেন।অনুষ্ঠানে হিমাংশু দত্তকে ফুলের মালা পরিয়ে ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ২৬ বছরের কর্মজীবনে এই প্রথমবারের মতো তিনি অতিথির আসনে বসেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের উপস্থিতিতে তাঁকে ঘিরেই সাজানো হয় পুরো বিদায় আয়োজন।বিদায়ের আবেগঘন মুহূর্তে বক্তব্য দিতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিদ্যালয়ের প্রতি হিমাংশু দত্তের দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও সহজ-সরল আচরণের বিষয়টি বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে।বিদায় অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় বিদ্যালয়ের ঘণ্টা বাজানোর সময়। প্রতিদিনের মতো শেষ কর্মদিবসেও তিনি বিদ্যালয়ের ঘণ্টা বাজান। তবে এদিনের ঘণ্টাধ্বনি ছিল তাঁর ২৬ বছরের কর্মজীবনের শেষ ঘণ্টাধ্বনি।ঘণ্টা বাজানোর পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা তাঁকে বিদ্যালয়ের ফটক পর্যন্ত এগিয়ে দেন। সেখানে বিদ্যালয়ের সভাপতির পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে সাজানো একটি গাড়ি রাখা হয়। ওই গাড়িতে করে তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।গাড়িতে ওঠার আগে দীর্ঘদিনের কর্মস্থলের দিকে শেষবারের মতো তাকান হিমাংশু দত্ত। ২৬ বছরের কর্মজীবনে বিদ্যালয়ের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও স্মৃতির আবেগে গাড়ি বিদ্যালয় চত্বর ছাড়ার সময় তাঁর চোখে পানি চলে আসে।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন আয়োজনকে স্থানীয়রা একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকারী প্রত্যেক মানুষের শ্রম ও অবদান সম্মানের দাবিদার। হিমাংশু দত্তের বিদায় আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই মূল্যবোধেরই প্রতিফলন ঘটেছে।দীর্ঘ ২৬ বছরের কর্মজীবন শেষে হিমাংশু দত্ত অবসরে গেলেও গুজরা শ্যামাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের স্মৃতি ও সম্পর্ক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টদের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

২৬ বছরের সেবার স্বীকৃতি, হিমাংশু দত্তের বিদায়ে আবেগঘন গুজরা শ্যামাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়

FAF Scholarship Foundation-এর বৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম আরাধ্যা, ট্যালেন্টপুলে জয়ী কৃষ্ণ কলি

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা খাসেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী FAF Scholarship Foundation আয়োজিত ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে দুই শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জনের পাশাপাশি প্রথম স্থান লাভ করেছে শিক্ষার্থী আরাধ্যা দাস। একই পরীক্ষায় শ্রী জয়ী কৃষ্ণ কলি ৭ম শ্রেণি থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে।আরাধ্যা দাসের এ অর্জন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ৯ম শ্রেণি থেকে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আর কোনো সুযোগ না থাকায় FAF Scholarship Foundation-এর এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগটিই ছিল তার জন্য নিজের মেধা ও যোগ্যতা প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও মনোযোগের মাধ্যমে সে পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে এবং প্রথম স্থান লাভ করে।অন্যদিকে, ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রী জয়ী কৃষ্ণ কলিও একই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেছে। তার এই সাফল্যও শিক্ষাজীবনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।দুই শিক্ষার্থীর এমন সাফল্যে তাদের পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে বৃত্তি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করার সুযোগ পায় এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল করার জন্য উৎসাহিত হয়।এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, প্রতিভা অন্বেষণ এবং তাদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে FAF Scholarship Foundation-এর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। নিয়মিত এ ধরনের বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আরাধ্যা দাসের প্রথম স্থান অর্জন এবং শ্রী জয়ী কৃষ্ণ কলির ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ তাদের মেধা ও পরিশ্রমেরই প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও তারা পড়াশোনায় আরও ভালো ফলাফল করে পরিবার, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করবে—এমন প্রত্যাশা সবার।

FAF Scholarship Foundation-এর বৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম আরাধ্যা, ট্যালেন্টপুলে জয়ী কৃষ্ণ কলি

৩৭ বছরের শিক্ষকতা শেষে বিপুল চন্দ্র দে- কে রাজসিক বিদায়

দীর্ঘ ৩৭ বছরের আলোকময় ও গৌরবোজ্জ্বল শিক্ষকতা জীবন শেষে এক অভাবনীয় ভালোবাসায় রাজকীয় বিদায় নিলেন জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিপুল চন্দ্র দে। শিক্ষকতা নামক ব্রতকে জীবিকা নয়, জীবনের পরম সত্য ও ভালোবাসা হিসেবে আঁকড়ে ধরা এই সনাতনী শিক্ষকের বিদায়ে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক আনন্দ-অশ্রুর আবেগঘন পরিবেশ। শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মানসূচক স্যালুট ও অশ্রুসজল সংগীতে প্রিয় শিক্ষককে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বাড়ি পৌঁছে দেন সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।​রোববার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী সংবর্ধনায় স্কাউট টিম ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা করতালির মাধ্যমে লাল গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন। প্রাত্যহিক সমাবেশে জানানো হয় বিশেষ স্যালুট এবং পরিবেশন করা হয় হৃদয়স্পর্শী বিদায় সংগীত। পরবর্তীতে মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জাতির আলোকবর্তিকা এই শিক্ষকের হাতে মানপত্র, উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। ১৯৮৯ সালের ১ আগস্ট করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে গণিত বিষয়ের মাধ্যমে তিনি কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ ২২ বছর সেখানে দায়িত্ব পালনের পর ২০১১ সালের ১ অক্টোবর তিনি জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানে টানা ১৫ বছর ধরে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে অবদান রাখেন।​News copied from- 'হিন্দুস নিউজ'​দীর্ঘ সততা ও দায়িত্বশীলতার সুফল হিসেবে ২০২৫ সালে তিনি বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন এবং ২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন। বিদায়বেলায় বাপাচ্ছন্ন কণ্ঠে শিক্ষক বিপুল চন্দ্র দে জানান, শিক্ষকতা তাঁর কাছে শুধু পেশা নয়, জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা ছিল। তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফলের দিকে না ছুটে সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করে প্রকৃত মানুষ হওয়ার আহ্বান জানান। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আবুল হাশেম ভূঁইয়া এবং প্রধান শিক্ষক সাইফুল আলম তাঁদের বক্তব্যে বিপুল চন্দ্র দে-কে কেবল একজন আদর্শ ও দক্ষ শিক্ষকই নয়, বরং বিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে অভিহিত করেন এবং জাতি গঠনে একজন আলোকিত গুরুর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মত প্রকাশ করেন।

৩৭ বছরের শিক্ষকতা শেষে বিপুল চন্দ্র দে- কে রাজসিক বিদায়

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়ার সুযোগ পেলেন চুনারুঘাটের দীপ্তিতা দাশ

বিশ্বসেরা আইন বিদ্যাপীঠ যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালায়ের আইন অনুষদে পড়ার দুর্লভ সুযোগ অর্জন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের কৃতী সন্তান দীপ্তিতা দাশ। ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি কেবল নিজ পরিবারকে নয়, বরং সমগ্র সনাতন সমাজ তথা পুরো দেশবাসীকে এক অনন্য গৌরবে ভূষিত করেছেন। চুনারুঘাটের মধ্যবাজারের পরিচিত ব্যক্তিত্ব প্রয়াত নিরঞ্জন দাশের নাতনি এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দিলীপ দাশ ও মিতা দাশ দম্পতির কন্যা দীপ্তিতা ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও লক্ষ্যমুখী। হার্ভার্ডের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে তার এই অনন্য সুযোগ প্রাপ্তির খবর চুনারুঘাট পৌর এলাকায় পৌঁছালে বইতে শুরু করে আনন্দের বন্যা, আনন্দ-উল্লাসের পাশাপাশি স্থানীয় সনাতনী সমাজ ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।​বিশ্বের অন্যতম সেরা ও মর্যাদাপূর্ণ এই আইন অনুষদ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট রাদারফোর্ড বি. হেইসের মতো জাঁদরেল বিশ্বনেতারা। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এহেন বিদ্যাপীঠে একজন বঙ্গতনয়ার স্থান করে নেওয়া নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে দীপ্তিতার চাচা সজল দাস জানান, বিশ্ব দরবারে দীপ্তিতার এই অসাধারণ সাফল্য তাদের পরিবারের জন্য যেমন পরম আনন্দের, তেমনি সমগ্র এলাকার জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয়। মুঠোফোনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থী দীপ্তিতা দাশ পরমেশ্বরের কৃপা ও সকলের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, হার্ভার্ডে উচ্চতর আইন শিক্ষা গ্রহণ শেষে তিনি অর্জিত জ্ঞান ও মেধা দিয়ে নিজ মাতৃভূমি ও দেশের মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে চান। মানবাধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দেশসেবার প্রত্যয় নিয়ে তার এই পথচলা আগামী প্রজন্মের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়ার সুযোগ পেলেন চুনারুঘাটের দীপ্তিতা দাশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতে সারাদেশে প্রথম নোয়াখালীর অপরাজিতা বণিক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের সমন্বিত ফলাফলে গণিত বিভাগে সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করে অনন্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন নোয়াখালীর চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী অপরাজিতা বণিক।প্রকাশিত ফলাফলে তিনি ৪.০০-এর মধ্যে পূর্ণ ৪.০০ সিজিপিএ অর্জন করেছেন। জাতীয় পর্যায়ে গণিত বিভাগে এমন অসাধারণ ফলাফল অর্জন করে তিনি নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও নিজ এলাকার জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।অপরাজিতা বণিক নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ৩ নম্বর সুখচর ইউনিয়নের কৃতী সন্তান। তাঁর এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।শিক্ষাজীবনে অধ্যবসায়, নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার মাধ্যমে অপরাজিতা এই সাফল্য অর্জন করেছেন বলে জানা গেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ফলাফলে গণিত বিভাগে সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের মেধা ও যোগ্যতার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন।অপরাজিতার এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নোয়াখালীর জন্যও একটি গৌরবের বিষয়। তাঁর এমন ফলাফল জেলার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উচ্চশিক্ষা ও ভালো ফলাফলের জন্য অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের আরও সাফল্য কামনা করেছেন। পাশাপাশি তাঁর এই কৃতিত্বকে নোয়াখালীর শিক্ষাঙ্গনে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতে সারাদেশে প্রথম নোয়াখালীর অপরাজিতা বণিক

৮৫ বছরের বঞ্চনা: খোলা আকাশের নিচে চলছে সিরাজগঞ্জের লোচনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান!

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ১৩ নম্বর জালালপুর ইউনিয়নের লোচনাপাড়া এলাকায় অবস্থিত লোচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৮৫ বছরেও কোনো স্থায়ী ভবন নির্মিত হয়নি। ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টি চরম অবহেলা ও কাঠামোগত সংকটের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমান যুগেও কোমলমতি শিশুদের খোলা আকাশের নিচে কিংবা একটিমাত্র জীর্ণ কক্ষে গাদাগাদি করে পাঠদান করা হচ্ছে, যা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার ও শিক্ষার অধিকারের চরম লঙ্ঘন। তীব্র রোদ, ভ্যাপসা গরম আর বর্ষার বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এই দৈনন্দিন সংগ্রাম যেন রাষ্ট্রযন্ত্রের চরম উদাসীনতার এক জীবন্ত দলিল।​বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক মিলে শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের ভিত গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু একটিমাত্র কক্ষ থাকায় সেখানে একসঙ্গে অফিস ও একাধিক শ্রেণির পাঠদান চালাতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিরাপত্তার অভাব, কারণ বিদ্যালয়টির কোনো সীমানাপ্রাচীর নেই। স্থানীয়দের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে এই বিদ্যালয়ে একটি দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণের সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে পুরোনো টিনের ঘরটি নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অজুহাত দেখিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করেনি। ফলে পুরোনো ঘর হারিয়ে বিদ্যালয়ের সংকট আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।​News copied from- 'হিন্দুস নিউজ'​শিক্ষার এমন মানবেতর পরিবেশের কারণে দিন দিন এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির হার দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। বহু অভিভাবক বাধ্য হয়ে তাদের সন্তানদের দূরে অন্য স্কুলে পাঠাচ্ছেন কিংবা চরম হতাশায় পড়াশোনা থেকে দূরে সরিয়ে রাখছেন। অথচ লোচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান প্রশংসনীয় এবং এখানকার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বৃত্তি পেয়ে আসছে। শুধু উপযুক্ত অবকাঠামো ও অনুকূল পরিবেশের অভাবে একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্মের শিক্ষাজীবন আজ হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় অভিভাবক মুক্তি খাতুন ও উর্মি খাতুনের মতো সাধারণ মানুষেরা তাদের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিদিন গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা অবিলম্বে এই অমানবিক অবস্থার অবসান চান। এদিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর সুফল পাননি। তবে শাহজাদপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন জানিয়েছেন যে বিদ্যালয়টিতে ভবন নির্মাণের জন্য নতুন প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তের প্রতিটি শিশুর মানসম্মত ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। ৮৫ বছরের এই বঞ্চনার ইতিহাস মুছে ফেলে অবিলম্বে একটি আধুনিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের মাধ্যমে লোচনাপাড়ার কোমলমতি শিশুদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

৮৫ বছরের বঞ্চনা: খোলা আকাশের নিচে চলছে সিরাজগঞ্জের লোচনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান!

আধুনিক শিক্ষার সাথে সনাতন মূল্যবোধের মেলবন্ধন: আইআইটি কানপুর ও ইসকনের ঐতিহাসিক চুক্তি

শিক্ষার্থীদের আত্মিক ও চারিত্রিক উন্নতির মাধ্যমে একটি সুস্থ ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) এবং ভারতের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) কানপুর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্প্রতি দুই বছরের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটানো। এই সমঝোতার আওতায় আইআইটি কানপুরের শিক্ষার্থীদের জন্য আত্ম-ব্যবস্থাপনা, মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, আত্মমর্যাদা বোধ জাগ্রতকরণ এবং সর্বোপরি নৈতিক চরিত্র গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর ঐচ্ছিক সার্টিফিকেট কোর্স পরিচালনা করা হবে। আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষার পাশাপাশি সনাতন ভারতীয় দর্শন ও নৈতিকতার এই সমন্বয় শিক্ষার্থীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।​প্রকৃত শিক্ষা কেবল পেশাগত দক্ষতা অর্জন বা উচ্চতর ডিগ্রি লাভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি একজন মানুষের অন্তরের মানবিক গুণাবলী, উন্নত মূল্যবোধ, আত্মসংযম এবং জীবন সম্পর্কে গভীর বোধের বিকাশ ঘটায়। এই সত্যকে উপলব্ধি করেই আইআইটি কানপুরের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সনাতন সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ইসকনের সাথে এই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। এই উদ্যোগ শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে দেবে। আধুনিক শিক্ষার সাথে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের এই মেলবন্ধন সমাজ গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​এই যৌথ উদ্যোগে জ্ঞান ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে উঠবে আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক, যারা একটি মানবিক ও সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। সনাতনীদের অধিকার এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই ধরনের পদক্ষেপকে আমরা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখি এবং বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন উদ্যোগের প্রসার কামনা করি।

আধুনিক শিক্ষার সাথে সনাতন মূল্যবোধের মেলবন্ধন: আইআইটি কানপুর ও ইসকনের ঐতিহাসিক চুক্তি