হিন্দুস নিউজ

প্রযুক্তি ও চিকিৎসা

হিন্দুস নিউজের সংবাদ প্রকাশের পর শ্রাবণীর পাশে বিএম হাসপাতাল

হিন্দুস নিউজের সংবাদ প্রকাশের পর শ্রাবণীর পাশে বিএম হাসপাতাল

মিরসরাইয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত শ্রাবণী ভৌমিকের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বারইয়ারহাট বিএম হাসপাতাল। অর্থের অভাবে তাঁর চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে হিন্দুস নিউজে সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি বিভিন্ন মহলের নজরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) শ্রাবণীর বাড়িতে গিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রাবণীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিএম হাসপাতালে ভর্তি-সংক্রান্ত খরচ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাঁর চিকিৎসায় সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার শ্রাবণীর বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন বিএম হাসপাতালের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম মিয়াজী, ভাইস চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ওসমান গনি, নির্বাহী পরিচালক আব্দুল গফুর, ফিন্যান্স ডিরেক্টর শিহাব হাজারী এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মো. মোশারফ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।মিরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পশ্চিম হিঙ্গুলী গ্রামের দত্ত বাড়ির শ্রাবণী ভৌমিক প্রায় দেড় বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে তাঁকে প্রায় ১৪টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে।শ্রাবণীর বাবা ১১ বছর আগে মারা গেছেন। তিন বোনের পরিবারে উপার্জনক্ষম সদস্যের সংকট থাকায় তাঁর চিকিৎসার ব্যয় বহন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।এই পরিস্থিতিতে শ্রাবণীর চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে হিন্দুস নিউজে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর তাঁর অসুস্থতা ও পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি আরও মানুষের নজরে আসে। এরপর বারইয়ারহাট বিএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি শ্রাবণীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর চিকিৎসায় সহযোগিতার ঘোষণা দেয়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগে শ্রাবণীর পরিবারের চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশের চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আরও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনরা।শ্রাবণীর পরিবার সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষদের তাঁর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।সহযোগিতার তথ্য: শ্রাবণী ভৌমিক — বিকাশ: ০১৮৫৩-৯৩৬৩২৪, নগদ: ০১৮৮০-৩৯১৪০০।

যে ভিটামিনের অভাবে রাতে ঘুম হয় না

অনেকেই রাতে ঠিকঠাক ঘুমাতে পারেন না। সারাদিন পরিশ্রমের পরও সারারাত বিছানার এপাশ থেকে ওপাশে ফেরেন, কিন্তু চোখে ঘুম থাকে না। এ সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ইনসোমনিয়া বলা হয়। মূলত ভিটামিন ও খনিজের অভাবে মানুষ এ সমস্যায় ভোগে বলে জানানো হয়েছে নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে।  ভারতের পুষ্টিবিদ অনুশ্রী মিশ্র জানান, শরীরে দুটি ভিটামিন ও একটি খনিজের অভাবে রাতে ঘুম আসে না। এগুলো হলো ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ ও ম্যাগনেশিয়াম।  কোন কোন খাবারে এই ভিটামিন ও খনিজের অভাব মিটবে ভিটামিন বি ১২ স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ভিটামিন বি ১২ অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন ২.৪ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন বি ১২ গ্রহণ করা জরুরি। ভিটামিন বি ১২-এর ঘাটতি হলে শুধু ভুলে যাওয়াই নয়, রক্তে আরবিসি-ও কমে যায়। পাশাপাশি ইনসোমনিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। ঘাটতি মেটাতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ, পালং শাক, বিট, দই, ছানার পানি, পনির রাখুন। ম্যাগনেশিয়াম সুস্থ থাকতে মিনারেল প্রয়োজন। আর ম্যাগনেশিয়াম হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল যা শরীরের ভেতরে চলতে থাকা নানা রকম রাসায়নিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে। ম্যাগনেশিয়াম কমে গেলে রাতে ঘুমও আসে না।  ভিটামিন ডি ভিটামিন-ডি একটি স্নেহপদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন। অনেকসময়-ই একে বলে ‘সাইশাইন ভিটামিন’। ভিটামিন ডি কমলে ঘুম কমে যায়। আজকাল বহু মানুষ এই ভিটামিনের অভাবে ভোগেন। অনেকেই মনে করেন, নির্দিষ্ট সময় সূর্যের আলোতে থাকলে ভিটামিন ডি'র ঘাটতি হবে না। কিন্তু বিষয়টা এতটাও সহজ নয়। সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় ঠিকই, তবে ত্বক থেকে তা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিভারে পৌঁছনো ও সেখান থেকে শরীরে ছড়িয়ে পড়ার যে পদ্ধতি, তা খুবই ধীর গতিতে হয়। সেক্ষেত্রে খাবার থেকেই সরাসরি ভিটামিন ডি শরীরে ঢোকে। ঘাটতি মেটাতে তৈলাক্ত মাছ খান। তৈলাক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকে। সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত খাদ্য ও ডিমে ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়। ইলিশ মাছ, রুই-কাতলার পেটি ও তেল, তেলাপিয়া ও সরপুঁটি, দানাশস্য ও ওটস, কিনোয়া, ডালিয়া, ফর্টিফায়েড দুধ ও দই ইত্যাদিতে ভরপুর ভিটামিন-ডি থাকে।   এছাড়া মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম মাশরুম থেকে প্রায় ৪৫০ আইইউ ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। যারা মাশরুম পছন্দ করেন না, তারা পালং শাক খেতে পারেন। এতেও ভিটামিন ডি থাকে। বিভিন্ন রকম বাদাম ও বীজে ভিটামিন ডি থাকে। কুমড়ো বীজ, সূর্যমুখীর বীজ থেকে ভরপুর মাত্রায় ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। কাঠবাদাম, আখরোটে ভিটামিন ডি থাকে। তবে আখরোট দিনে দু’টির বেশি নয়, কাঠবাদাম ৪-৫টিই যথেষ্ট।

যে ভিটামিনের অভাবে রাতে ঘুম হয় না

সায়েন্টিফিক আমেরিকান-এর প্রতিবেদন: বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব যেভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে

দেশের হাসপাতাল ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি হামের নজিরবিহীন এক প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছেন। জাতীয় পর্যায়ে অতীতে টিকাদানের ভালো সাফল্য থাকলেও সম্প্রতি টিকাদানের হার উদ্বেগজনকভাবে কমে যাওয়ায় ২০০৫ সালের পর বাংলাদেশে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামের মহামারি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’-এর এক বিস্তৃত প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশজুড়ে অন্তত ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এ সময় হাম ও হামজনিত নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১ হাজার ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের সিংহভাগই দুই বছরের কম বয়সী এবং টিকা না পাওয়া শিশু। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এই সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ অঞ্চলে চিকিৎসা ও টিকাদানের সুযোগ সীমিত থাকায় বহু ঘটনা হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে। কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ টিকাদানের সাফল্যের জন্য একটি উদাহরণ বা ‘পোস্টার বয়’ হিসেবে প্রশংসিত ছিল। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের জনসংখ্যা ও সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. আয়েশা মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার সময়ে আমরা কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর গভীর আস্থা রেখেছি। স্থানীয় ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সচেতনতা তৈরির শক্তিশালী ইতিহাস ছিল এ দেশে, যা ঘরে ঘরে টিকাদান নিশ্চিত করেছিল।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালেও বাংলাদেশে হামের প্রথম ডোজের টিকা পাওয়ার হার ছিল ৯৭ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রে তা ছিল ৯৩ শতাংশ। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলাদেশে প্রতিবছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০০ থেকে ৩০০-এর মধ্যে। এটি একটি রোগ নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু এরপরই পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে শুরু করে। টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য যোগাযোগ গবেষক এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের সাবেক কর্মকর্তা শাকিল ফয়েজউল্লাহ বলেন, ‘হামের মতো ভাইরাস কোনো দয়া দেখায় না। নিয়মিত টিকাদান প্রক্রিয়ায় সামান্যতম বিচ্যুতি বা ফাঁক তৈরি হলেই এটি দ্রুত থাবা বসায়—বাংলাদেশে ঠিক সেটাই ঘটেছে।’ বিশেষজ্ঞরা এই মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পেছনে একাধিক জটিল সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণকে দায়ী করেছেন, যাকে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারি বিশেষজ্ঞ ড. উইলিয়াম মস একটি ‘পারফেক্ট স্টর্ম’ বা বহুমুখী সংকটের সম্মিলিত ফল বলে বর্ণনা করেছেন। ১. মহামারির ধাক্কা: ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে সারা দেশেই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে প্রথম বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে। ২. সংগ্রহ বা প্রকিউরমেন্ট নীতিতে পরিবর্তন: ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর ওষুধ ও টিকা ক্রয়ের বহুদিনের পুরোনো প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়। এর ফলে টিকার মজুত হঠাৎ কমে যায়। ৩. রাজনৈতিক অস্থিরতা: ওই সময়ে দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরিকল্পিত সম্পূরক হাম টিকাদান কর্মসূচিগুলো পিছিয়ে যায়। ৪. বৈদেশিক সাহায্য হ্রাস: মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএস এআইডি)-এর তহবিল কাটছাঁটের কারণে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়োগ এবং সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) বজায় রাখা ব্যাহত হয়। এর ফলে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে হামের টিকাদানের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৮৬ শতাংশে নেমে আসে। ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪ লাখ শিশু হামের জন্য প্রয়োজনীয় সবকটি ডোজ থেকে বঞ্চিত হয় এবং অন্তত ৭০ হাজার শিশু একটি টিকাও পায়নি। ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চল, শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি এবং বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমন্বয়ে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। রোগীকে মূলত উপসর্গভিত্তিক ও সহায়ক চিকিৎসা (সাপোর্টিভ কেয়ার) দেওয়া হয়। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যান্ডেমিক সেন্টারের পরিচালক ড. জেনিফার নুজো বলেন, হামের সাধারণ লক্ষণ লালচে র‍্যাশ ও জ্বরের মতো হলেও এটি নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কে মারাত্মক প্রদাহের (এনকেফালাইটিস) মতো জীবনঘাতী জটিলতা তৈরি করতে পারে। হামের সংক্রমণ পুরোপুরি ঠেকানোর একমাত্র উপায় হলো অন্তত ৯৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকাদানের আওতায় আনা, যাকে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা যৌথ বা সামাজিকভাবে অর্জিত প্রতিরোধ ক্ষমতা বলা হয়। ডব্লিউএইচও-র মতে, পরিপূরক দুই ডোজ টিকা নিলে শরীর দ্রুত রোগপ্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করে। আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে একটি বৃহৎ জরুরি টিকাদান অভিযান শুরু করে। এর ফলে সংক্রমণের গতি কিছুটা মন্থর হলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. উইলিয়াম মস সতর্ক করে বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ের টিকাদানের গড় হার অনেক সময় আসল চিত্র ঢেকে রাখে। কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা গোষ্ঠীর মধ্যে যদি টিকা না নেওয়া শিশু বেশি থাকে, তবে সেই ছোট পকেটগুলো থেকেই আবারও বড় মহামারির দাবানল ছড়িয়ে পড়তে পারে।’ বর্তমানে কেবল বাংলাদেশ নয়; যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মতো উন্নত দেশগুলোতেও হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে ৩ হাজার ২৯৪ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং পেনসিলভানিয়ায় সম্প্রতি চতুর্থ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের এই ঘাটতির কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। শাকিল ফয়েজউল্লাহ জানান, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সমস্যাটি মূলত সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়া এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাময়িক ব্যাঘাত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে টিকার সহজলভ্যতা থাকা সত্ত্বেও টিকাবিরোধী মনোভাব (অ্যান্টি-ভ্যাক্স) বা টিকা নিতে অনিচ্ছাই প্রধান কারণ। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জেনিফার নুজোও যোগ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যে কেউ চাইলেই টিকা পেতে পারে। বাংলাদেশে যা ঘটছে তা কোনোভাবেই টিকাবিরোধী মানসিকতার ফল নয়, বরং ব্যবস্থার ত্রুটি।’ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশে এই সংকটের মূল শিক্ষা হলো টিকাদান কর্মসূচিকে যেকোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা। দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক লক্ষ্যভিত্তিক টিকাদান জোরদার না করলে এই ধরনের ভাইরাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।

সায়েন্টিফিক আমেরিকান-এর প্রতিবেদন: বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব যেভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে

হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট ১০৪৮

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের হিসাব এটি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। একই সময়ে নতুন করে ৫২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৩৯৫ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৪৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন সংক্রমণের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭২৫ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, একই সময়ের মধ্যে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে মোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭১৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট ১০৪৮

হবিগঞ্জ মেডিকেলে প্রথম মরণোত্তর দেহদানের নজির লিটন দাশ

মরণের পরও মানবকল্যাণ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের সন্তান লিটন দাশ তালুকদার। নিজের পার্থিব জীবন অবসান ঘটিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনে দেহদান করে সনাতন ধর্মের মানবসেবা ও ত্যাগের এক অনন্য মহৎ রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। এটি হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর চিকিৎসা শিক্ষার অগ্রগতিতে প্রথম কোনো মরণোত্তর দেহদানের ঐতিহাসিক নজির।​দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগে গত রোববার নিজ বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাবেক এই একনিষ্ঠ কর্মী ও বেসরকারি চাকরিজীবী। অসুস্থ থাকা অবস্থাতেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে মৃত্যুর পর প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তাঁর দেহ দাহ না করে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির স্বার্থে দান করে যাবেন। এই মহৎ সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় গত আগস্ট মাসেই যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল।​রোববার রাতে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাবেদ জিল্লুল বারি এবং এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়াতের দেহ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন তাঁর শোকসন্তপ্ত স্বজনরা। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ সময় তাঁর মহান ত্যাগ ও আদর্শের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) পক্ষ থেকে প্রয়াত লিটন দাশ তালুকদারকে লাল সালাম ও অন্তিম শুভেচ্ছা জানানো হয়। সনাতনী মূল্যবোধের পরম সত্য 'জীবে দয়া করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর'—এই বাণীকেই যেন নিজের জীবন ও মৃত্যুর মাধ্যমে চিরস্মরণীয় করে রেখে গেলেন তিনি। তাঁর এই মহান আত্মত্যাগ চিকিৎসাবিজ্ঞান, মানবকল্যাণ ও সমাজ ভাবনায় চিরকাল উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবে।

হবিগঞ্জ মেডিকেলে প্রথম মরণোত্তর দেহদানের নজির লিটন দাশ

রাউজানের হাজারো মেধাবীর অনুপ্রেরণা কৃতি ছাত্রী বিজয়া ভৌমিক এখন চিকিৎসক

চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরা আব্দুল জব্বার ইয়াংমেন সোসাইটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্রী বিজয়া ভৌমিক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস (MBBS) ডিগ্রি অর্জন করে চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর এ সাফল্যে আনন্দিত ও গর্বিত রাউজানবাসী।শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন বিজয়া ভৌমিক। গহিরা আব্দুল জব্বার ইয়াংমেন সোসাইটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতিচ শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে ছিলেন অনুকরণীয়। পরবর্তীতে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন তিনি।বিজয়া ভৌমিকের এই অর্জন শুধু তাঁর পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, পুরো রাউজানের জন্যই গর্বের বিষয়।চ তাঁর সাফল্য রাউজানের হাজারো শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা ও স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নবীন চিকিৎসক ডা. বিজয়া ভৌমিকের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, কর্মজীবনের সাফল্য এবং মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার জন্য আন্তরিক শুভকামনা জানিয়েছেন।চ

রাউজানের হাজারো মেধাবীর অনুপ্রেরণা কৃতি ছাত্রী বিজয়া ভৌমিক এখন চিকিৎসক

প্রয়াত সংগ্রামী শ্রমিকনেতা তপন দাস স্মরণে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রয়াত সংগ্রামী শ্রমিকনেতা তপন দাস স্মরণে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত২১ আগস্ট সকাল ১০টায় গ্লোবাল ক্যাপসুল লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নের (প্রস্তাবিত) উদ্যোগে গ্লোবাল ক্যাপসুল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের শ্রমিকদের বিপদের বন্ধু ও ইউনিয়নের প্রয়াত সংগ্রামী সভাপতি তপন দাস স্মরণে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিকাল ৪ টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত মেডিকেল ক্যাম্পে ফ্রী চিকিৎসা দেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা.মনীষা চক্রবর্ত্তী। ক্যাম্পে দেড় শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ দেয়া হয়।উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গ্লোবাল ক্যাপসুল লি. শ্রমিক ইউনিয়ন (প্রস্তাবিত) গঠনতন্ত্র প্রনয়ণ কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল জলিল খান, উক্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা.মনীষা চক্রবর্ত্তী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারন সম্পাদক কমরেড ইমাম হোসেন খোকন,ফার্মাসিউটিক্যালস এমপ্লয়িজ এন্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম,সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার ক্রীড়া সম্পাদক গাজী মো. বেল্লাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারজানা আক্তার, বরিশাল রিক্সা-ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং খুলনা-২৩২৪) সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ দপদপিয়া ইউনিয়নের সভাপতি রমজান আকন, তপন দাসের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন তপন দাসের ভাগ্নে সুরঞ্জিত সেন, পদ্মা ব্লোয়িং লি. শ্রমিক ইউনিয়ন ( রেজিঃ নং বরিশাল-৬৩) সভাপতি জসিম গাজি, গ্লোবাল ক্যাপসুল লি. শ্রমিক ইউনিয়ন (প্রস্তাবিত) প্রচার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, ও এস এল ফার্মা লি. শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং বরিশাল-৭১)সভাপতি মিজানুর রহমান , মেডিমেট ফার্মাসিউটিক্যালস লি. শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং বরিশাল-৬১) সভাপতি মোসা.সোনিয়া আক্তার, অলিম্পিক সিমেন্ট এন্ড ফাইবার লি. শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন ( রেজিঃ নং বরিশাল-৫৪) সভাপতি মো. সেলিম সরদার, খানসন্স টেক্সটাইল লি. শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং বরিশাল-৬৬) সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজ হাওলাদার, প্রমুখ।অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত সংগ্রামী শ্রমিকনেতা তপন দাসের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।আলোচনা সভায় বক্তারা প্রয়াত তপন দাসের কর্মময় জীবন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে তাঁর ভূমিকা এবং শ্রমিকদের আন্দোলনে দৃঢ়চিত্তে নেতৃত্ব দেয়ার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার জন্য ক্যান্সার আক্রান্ত অসুস্থ শরীর নিয়েও তপন দাস ইউনিয়নের জন্য লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাঁর সংগ্রাম শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ঐক্য ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়াই হবে প্রয়াত তপন দাসের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা। তাঁর আদর্শ ও শ্রমিকবান্ধব চেতনাকে ধারণ করে বাসদের নেতৃত্বে শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্র গড়ার সংগ্রাম চালিয়ে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।

প্রয়াত সংগ্রামী শ্রমিকনেতা তপন দাস স্মরণে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

‘এখনই মাকে হারানোর সময় হয়নি’: মাগুরার চিকিৎসাধীন নারীর চিকিৎসায় মানবতার হাত বাড়ান

মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার বুনাগাতি বাজারের বাসিন্দা, সনাতনী পরিবারের গৃহিণী ৫২ বছর বয়সী মিতা রানী সিংহ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি মরণব্যাধি লিভার ক্যানসারের (হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা বা HCC) সঙ্গে লড়াই করছেন। সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। তীব্র জ্বর, বুকে ব্যথা ও পেটের যন্ত্রণায় তিনি এখন শয্যাশায়ী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দেশে তাঁর চিকিৎসার প্রাথমিক সব ধাপই সম্পন্ন হয়েছে। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে নতুন কোনো সার্জারি বা থেরাপি দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেই ব্যয়ভার বহন করা পরিবারের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তাঁর দেহে এই মরণব্যাধি ধরা পড়ে। এরপর থেকে তাঁকে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রেখে নানা থেরাপি ও ওষুধ দেওয়া হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। পরিবারের জমি-জমা, গাছপালা বিক্রি, বাবার জমানো পেনশন ও নিকটাত্মীয়দের সহায়তার পাশাপাশি শুভাকাঙ্ক্ষীদের কায়িক ও আর্থিক কন্ট্রিবিউশনে এ অর্থ জোগাড় করা হয়েছিল। তবে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসার খরচ চালাতে চালাতে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।​উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে ভারতের ব্যাঙ্গালোরের হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার ইনভাইটেশন লেটার সংগ্রহ করা হলেও ভারতীয় ভিসার স্লট পেতে দীর্ঘ বিলম্ব এবং আর্থিক সংকটের কারণে তাঁকে সময়মতো বিদেশে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মিতা রানী সিংহের সন্তান সৌমেন বিশ্বাস অনিক তাঁর মায়ের প্রাণরক্ষায় দেশ-বিদেশের সনাতনী সমাজ, দানশীল ব্যক্তি ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে বিনীত ও আকুল আবেদন জানিয়েছেন। একজন মায়ের জীবন বাঁচাতে মানবতাবাদী হৃদয়বান মানুষদের এগিয়ে আসার পাশাপাশি সামাজিক ও ব্যক্তি উদ্যোগে অর্থ জোগাড়ে সহায়তা করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।​সহায়তা পাঠানোর জন্য বিকাশ ও নগদ নম্বর: 01624488047 (সৌমেন বিশ্বাস অনিক)। ঠিকানা: শালিখা, মাগুরা, খুলনা, পোস্টাল কোড: ৭৬২০। সোনালী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: 2403401017780 (সৌমেন বিশ্বাস অনিক), বুনাগাতি বাজার শাখা, মাগুরা (রাউটিং নম্বর: 200550255, সুইফট কোড: BSONBDDH)। এছাড়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য গো-ফান্ড-মি লিংক: https://www.gofundme.com/f/support-a-mothers-battle।

‘এখনই মাকে হারানোর সময় হয়নি’: মাগুরার চিকিৎসাধীন নারীর চিকিৎসায় মানবতার হাত বাড়ান

বিষধর সাপের ছোবল, রাউজানে তান্ত্রিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

চট্টগ্রামের রাউজানে রাতের খাবার খাওয়ার সময় বিষধর সাপের কামড়ে রঘু দত্ত প্রকাশ রৈক্য বৈদ্য (৭০) নামে এক তান্ত্রিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ১১ নম্বর পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই দত্তপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।​নিহত রঘু দত্ত ওই এলাকার মৃত সারদা চরণ দত্তের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন রেখে গেছেন।​যেভাবে দুর্ঘটনা ঘটেস্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে পেশাগত কাজ শেষে ঘরে ফিরে নৈশভোজ করছিলেন রঘু দত্ত। এ সময় খাবার টেবিলের নিচে লুকিয়ে থাকা একটি বিষধর সাপ আকস্মিক তার পায়ে কামড় দেয়। তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।​সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।​এলাকায় শোকের ছায়াএলাকাবাসী জানান, রঘু দত্ত দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তান্ত্রিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ তার কাছে কবিরাজি ও তান্ত্রিক চিকিৎসার জন্য আসতেন। তার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিষধর সাপের ছোবল, রাউজানে তান্ত্রিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনস্টাইনের দরবার: সত্যেন বসুর ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষী ইতিহাসে জড়িয়ে আছে এমন কিছু গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, যা কেবল বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র বিশ্ববিজ্ঞানের গতিপথ বদলে দেওয়ার মহান ইতিহাস। এর মধ্যে অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র বিশিষ্ট বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত, নিবিড় পরিবেশেই তিনি সূচনা করেছিলেন এক কালজয়ী বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের, যা পরবর্তীকালে আধুনিক কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।​১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্নেই সত্যেন্দ্রনাথ বসু পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে এই নতুন বিদ্যাপীঠে এসে তিনি নিবিড় গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯২৪ সালে ঢাকায় অবস্থানকালেই তিনি আলো ও আলোককণার সূক্ষ্ম আচরণ নিয়ে তাঁর বিখ্যাত গবেষণাপত্র 'Planck’s Law and the Hypothesis of Light Quanta' রচনা করেন। আলোকের ফোটন কণার আচরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি এক অভিনব পরিসংখ্যানগত পদ্ধতির প্রবর্তন করেন, যেখানে কণাগুলোকে আলাদাভাবে না দেখে অভিন্ন সত্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বসুর এই বৈপ্লবিক চিন্তা তখনকার বৈজ্ঞানিক মহলকে গভীরভাবে আলোড়িত করে।​তবে এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের পথ সহজ ছিল না। ইউরোপীয় জার্নালে তাঁর গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যাখ্যাত হলে তিনি সরাসরি তৎকালীন সময়ের বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের শরণাপন্ন হন। আইনস্টাইন তাৎক্ষণিকভাবে বসুর গবেষণার গভীরতা ও বিশ্বজনীন গুরুত্ব অনুধাবন করেন। তিনি নিজ দায়িত্বে গবেষণাপত্রটি জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেন এবং বসুর গাণিতিক পদ্ধতিকে ভরযুক্ত কণার ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করেন। এভাবে যৌথ ভাবনার আলোয় জন্ম নেয় বিজ্ঞানের ইতিহাসে অমর 'Bose–Einstein statistics'।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে অতি-নিম্ন তাপমাত্রায় পদার্থের এক বিশেষ অবস্থার ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়, যা আজ 'Bose–Einstein condensate' নামে পরিচিত। সত্যেন বসুর এই অনন্য অবদানের প্রতি চিরস্থায়ী সম্মান জানিয়ে বিজ্ঞানের জগতে Bose–Einstein statistics মেনে চলা সমস্ত কণাশ্রেণির নামকরণ করা হয় 'বোসন' (Boson)। আজ মহাবিশ্বের মৌলিক গঠন বুঝতে ব্যবহৃত ফোটন, গ্লুয়ন কিংবা বিখ্যাত হিগস বোসন কণাগুলো বাঙালির মেধা ও সত্যেন বসুর নামেরই জয়গান গায়।​যদিও নোবেল কমিটি এই মহান বিজ্ঞানীকে তাঁদের আনুষ্ঠানিক পদকে ভূষিত করেনি, কিন্তু বিশ্ববিজ্ঞান তাঁকে দিয়েছে নোবেলের চেয়েও স্থায়ী ও অমর স্বীকৃতি। মৌলিক কণার বুনিয়াদে খোদাই হয়ে গেছে এই বাঙালি মনীষীর নাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে বসে একজন বাঙালির বিশ্বজয়ের এই মহাকাব্য সনাতনী মেধা ও বাঙালি সংস্কৃতির এক অসামান্য অমলিন অহংকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনস্টাইনের দরবার: সত্যেন বসুর ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ে

আপনার একটু সহযোগিতাই বাঁচাতে পারে চার মাসের শিশু জয়দীপের জীবন

বান্দরবানের লামা সদর এলাকার এক অসহায় সনাতনী দম্পতি আজ বড়ই বিপদে। তাদের কোলজুড়ে আসা নিষ্পাপ চার মাসের শিশু পুত্র, জয়দীপ চক্রবর্তী, একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। শিশুটির হার্টে বড় ছিদ্র ধরা পড়েছে, সাথে আছে তীব্র নিউমোনিয়া, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট এবং হার্নিয়া। বর্তমানে সে চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন।​পিতা কমল চক্রবর্তী ও মাতা অনিমা চক্রবর্তী দম্পতি মেরাখোলা হিন্দু পাড়ার বাসিন্দা। তারা অত্যন্ত দরিদ্র। অভাবের সংসারে দিন আনা দিন খাওয়া এই পরিবারের পক্ষে হাসপাতালের এই আকাশচুম্বী চিকিৎসা ব্যয় বহন করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সবটুকুই ব্যয় করে ফেলেছেন। টাকার অভাবে এখন শিশুটির চিকিৎসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। শিশুটির বর্তমান অবস্থা এতই আশঙ্কাজনক যে, সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা না পেলে এক বড়সড় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে। এই অসহনীয় পরিস্থিতি তাদের পুরো পরিবারকে এক গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।​[News copied from- 'হিন্দুস নিউজ'] ​এহেন অবস্থায়, শিশুটির বাবা-মা সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, বিশেষ করে দয়াবান ও সহৃদয় সনাতনী ভাই-বোনদের কাছে সাহায্য ও করুণ প্রার্থনা জানিয়েছেন। তারা বিশ্বাস করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই নিষ্পাপ প্রাণটি রক্ষা করা সম্ভব। শিশু জয়দীপকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আপনাদের সামান্য সাহায্যও বড় অবদান রাখতে পারে।​সরাসরি আর্থিক সাহায্য পাঠাতে পারেন শিশুটির মা অনিমা চক্রবর্তীর এই বিকাশ নম্বরে: 01812-919584 (পার্সোনাল)। এছাড়া চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন তাদের প্রতিবেশী জন্টু বসাকের সাথে, যার নম্বর: 01874-201077। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াই এবং নিষ্পাপ শিশুটির জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসি। আপনার সাহায্যই হতে পারে তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।

আপনার একটু সহযোগিতাই বাঁচাতে পারে চার মাসের শিশু জয়দীপের জীবন

ধর্ম ও সংস্কৃতির ধারক আজ হাসপাতালের বিছানায় অর্থকষ্টে জর্জরিত: গীতাপাঠক নান্টু দেবনাথের চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহ্বান

যিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের সুমধুর কণ্ঠ, সংগীত এবং অনন্য সাধনার মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্তরে গীতার অমিয় বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন, সেই সুপরিচিত গীতাপাঠক ও বাউল শিল্পী নান্টু দেবনাথ আজ এক কঠিন জীবনযুদ্ধের মুখোমুখি। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কোনপুরা গ্রামের এই গুণী মানুষটি একাধারে কয়েকটি গীতা স্কুলের শিক্ষক হিসেবে সনাতনী শিশুদের মাঝে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার আলো বিলিয়ে আসছিলেন। সুর ও বাণীর মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করা এই সাধক আজ নিজেই মরণব্যাধি কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এক অন্ধকার সময় পার করছেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত ভারতে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই মারাত্মক ব্যাধির সাথে লড়াই করতে গিয়ে নান্টু দেবনাথের পরিবার আজ সম্পূর্ণ নিঃস্ব। সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা তো দূরের কথা, বর্তমানে মারাত্মক অর্থকষ্টের কারণে তাঁর নিত্যদিনের চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ ক্রয়ের প্রক্রিয়াও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সনাতনী ঐতিহ্য রক্ষা, সংস্কৃতির বিকাশ এবং মানবতার সেবায় যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, আজ তাঁর এই চরম সংকটে গোটা পরিবার বাংলাদেশের সকল সনাতনী বিত্তবান, সহৃদয় ব্যক্তিবর্গ এবং মানবিক চেতনাসম্পন্ন মানুষের দিকে চাতকের মতো চেয়ে আছেন। একজন ধর্মপ্রাণ গীতাপাঠক এবং সমাজের সম্পদ এই বাউল শিল্পীর জীবন প্রদীপ এভাবে নিভে যেতে পারে না। সনাতনীদের অধিকার, অস্তিত্ব রক্ষা এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের মানবিকতাবোধ জাগ্রত করার এখনই সময়। আসুন, আমরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা নিয়ে এই গুণী শিল্পীর পাশে দাঁড়াই, যেন সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও আমাদের মাঝে গীতার বাণী ও বাউল গানের সুধা বর্ষণ করতে পারেন।​নান্টু দেবনাথের সাথে সরাসরি যোগাযোগের এবং আর্থিক সাহায্য পাঠানোর বিকাশ (পার্সোনাল) নম্বর: ০১৭৭৭৫৯৮৪৪৭ এবং নগদ (পার্সোনাল) নম্বর: ০১৮২২৫৩৪৯৪৭। আপনার সামান্যতম সহযোগিতাও একজন সনাতনী সাধকের জীবন বাঁচাতে এবং তাঁকে সুস্থ পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে।

ধর্ম ও সংস্কৃতির ধারক আজ হাসপাতালের বিছানায় অর্থকষ্টে জর্জরিত: গীতাপাঠক নান্টু দেবনাথের চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহ্বান

সনাতনী সভ্যতার বিশ্বজয়: এডিনবার্গে শল্যচিকিৎসার জনক মহর্ষি সুশ্রুতের ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ স্মারক

মানবসভ্যতার সুদীর্ঘ ইতিহাসে বিজ্ঞান, দর্শন ও চিকিৎসার আদি উন্মেষভূমি হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশের ঐতিহ্য সর্বজনবিদিত। আজ থেকে প্রায় ২,৬০০ বছর আগে যখন আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির কোনো নামনিশানাও ছিল না, তখন এই পুণ্যভূমিতে সনাতন সংস্কৃতির মহান মনীষী ও ঋষিকুল মানবকল্যাণে সৃষ্টি করেছিলেন শল্যচিকিৎসার অমোঘ বিজ্ঞান। প্রাচীন চিকিৎসা শাস্ত্রের সেই গৌরবময় ইতিহাস ও বিশ্বজনীন অবদানকে সম্মান জানিয়ে ২০২৬ সালের ১৯ জুন এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করলো স্কটল্যান্ড। দেশটির রাজধানী এডিনবার্গের বিশ্বখ্যাত এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস’ (RCSEd) প্রাঙ্গণে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে শল্যচিকিৎসা এবং প্লাস্টিকসার্জারির আদি জনক মহর্ষি সুশ্রুতের একটি বিশাল ব্রোঞ্জ ভাস্কর্য। প্রায় ৯০ কেজি ওজনের এই স্মারক ভাস্কর্যটি স্থাপনের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা বিশ্ব প্রকারান্তরে সনাতনী জ্ঞান বিজ্ঞান ও বিশ্বমানবতার সেবায় প্রাচীন ঋষিদের অনন্য কীর্তিকেই পরম শ্রদ্ধায় স্বীকৃতি জানালো।​মহর্ষি সুশ্রুতকে বিশ্বব্যাপী শল্যচিকিৎসা এবং পুনর্গঠনমূলক বা প্লাস্টিক সার্জারির আদি পিতা হিসেবে গণ্য করা হয়, যিনি খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৬০০ অব্দে এই ধরাধামে সনাতন ধর্মের অহিংসা ও মানবসেবার ব্রত নিয়ে চিকিৎসা শাস্ত্রের এক কালজয়ী বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘সুশ্রুত সংহিতা’ কেবল চিকিৎসার কোনো সাধারণ পুঁথি নয়, বরং এটি মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রথম সুসংগঠিত শল্যচিকিৎসার এক বিস্ময়কর বিশ্বকোষ। এই কালজয়ী গ্রন্থে মহর্ষি সুশ্রুত মানবদেহের নিখুঁত অঙ্গসংস্থান, অস্থিবিদ্যা, ট্রমা বা আঘাতজনিত ক্ষত এবং জটিল সব অস্ত্রোপচারের এমন চুলচেরা বিশ্লেষণ করে গেছেন যা আধুনিক বিজ্ঞানকেও প্রতিনিয়ত চমৎকৃত করে।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') ​প্রাচীন এই সনাতন সংহিতায় ৩০০টিরও বেশি অত্যাধুনিক অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, ১,১২০টি রোগ ও শারীরিক জটিলতার সুনির্দিষ্ট লক্ষণ এবং ৭০০-এরও বেশি ভেষজ ওষুধের গুণাগুণ লিপিবদ্ধ রয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজ থেকে আড়াই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে মহর্ষি সুশ্রুত ১২০টিরও বেশি নিখুঁত সার্জিক্যাল যন্ত্রের নকশা প্রণয়ন করেছিলেন, যার অনেকগুলোর মৌলিক গঠনশৈলী আজকের আধুনিক অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির সাথে হুবহু মিলে যায়। প্লাস্টিক সার্জারির ক্ষেত্রে তাঁর অবদান এতটাই সুদূরপ্রসারী ছিল যে, প্রাচীনকালে ক্ষতিগ্রস্ত নাক পুনর্গঠনের জন্য তাঁর আবিষ্কৃত ‘রাইনোপ্লাস্টি’ পদ্ধতিটি আজও চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনুসরণ করা হয়। এছাড়াও চোখের ছানি অপারেশন, দন্তচিকিৎসা, মূত্রথলির পাথর অপসারণ এবং ফোঁড়া বা অর্শরোগের মতো জটিল ব্যাধি নিরাময়ে তিনি যে ব্যবহারিক পথ দেখিয়েছিলেন, তা সর্বকালের সকল মানুষের মৌলিক অধিকার ও সুস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এক শাশ্বত অবদান। ​চিকিৎসা শিক্ষার বিস্তারেও মহর্ষি সুশ্রুতের মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অনন্য, যেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ফল, সবজি এবং মৃত প্রাণীর দেহে ব্যবহারিক অস্ত্রোপচার অনুশীলনের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বিশ্বখ্যাত এডিনবার্গের এই রয়্যাল কলেজে মহর্ষির ভাস্কর্য স্থাপন প্রমাণ করে যে, সনাতন সভ্যতার জ্ঞান-বিজ্ঞান কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখায় আবদ্ধ নয়, বরং তা সমগ্র মানবজাতির এক অমূল্য সম্পদ। বৈষম্যহীন ও অধিকারভিত্তিক বিশ্ব গঠনে এবং বিজ্ঞানচর্চার আদি শিকড় সন্ধানে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি উপমহাদেশের হিন্দু সমাজ তথা সমগ্র সনাতনীদের আত্মমর্যাদাকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় আসীন করেছে। বিশ্বকে আরোগ্য ও সুস্থতার আলোকবর্তিকা দেখানো এই মহান ঋষির গৌরবগাথা চিরকাল মানবতার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

সনাতনী সভ্যতার বিশ্বজয়: এডিনবার্গে শল্যচিকিৎসার জনক মহর্ষি সুশ্রুতের ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ স্মারক

প্রযুক্তিকে মানবসেবায় রূপান্তর প্রীতম পালের।

প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে কাজে লাগিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী প্রীতম পাল। দুর্ঘটনায় হাত হারানো কিংবা জন্মগতভাবে হাতবিহীন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সহায়তা করতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কৃত্রিম বায়োনিক (Robotic/Bionic) হাত প্রদান করার উদ্যোগ নিয়েছে তাঁর সহ-প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বঙ্গ রোবটিক্স’।ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এই শিক্ষার্থী প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন। তাঁর সহ-প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ‘বঙ্গ রোবটিক্স’-এর মাধ্যমে নেওয়া এই উদ্যোগকে একটি মানবিক প্রযুক্তি-প্রকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।প্রাথমিকভাবে এই উদ্যোগের আওতায় দেশের ১০ জন অসচ্ছল ও প্রয়োজনমতো ব্যক্তিকে বিনামূল্যে বায়োনিক হাত প্রদান করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যও রয়েছে তাঁদের।জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই বায়োনিক হাত ব্যবহার করে উপকারভোগীরা দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রয়োজনীয় কাজ সহজে সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে শুধু শারীরিক সক্ষমতাই নয়, বরং তাঁদের মানসিক শক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযোগও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে এমন ব্যক্তিদের, যারা দুর্ঘটনা কিংবা জন্মগত কারণে কনুইয়ের নিচের অংশ হারিয়েছেন এবং আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কৃত্রিম হাত সংগ্রহে সক্ষম নন। আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত সুবিধাভোগীদের নির্বাচন করা হবে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের প্রযুক্তি খাতে তরুণদের এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিকে শুধু উদ্ভাবন বা বাণিজ্যের সীমায় না রেখে মানবসেবার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করার একটি বাস্তব উদাহরণ তৈরি হচ্ছে।উদ্যোক্তারা সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের এই উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি উপযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে তথ্যটি পৌঁছে দিতে সবাইকে সচেতন ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।উদ্যোক্তাদের ভাষায়, “আপনার একটি শেয়ারই বদলে দিতে পারে একজন মানুষের জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে তার স্বাভাবিক চলাফেরা ও আত্মবিশ্বাস।”

প্রযুক্তিকে মানবসেবায় রূপান্তর প্রীতম পালের।

মানবতার জয়ে বিজ্ঞানের নতুন ‘ব্রহ্মাস্ত্র’, ক্যানসার রোগীদের যন্ত্রণামুক্তি দেবে এই বিশেষ লিকুইড গোল্ড

জাপানের Tohoku ইউনিভার্সিটির একদল গবেষকের এই যুগান্তকারী আবিষ্কার চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। সোনার ন্যানোপার্টিক্যাল বা অতি ক্ষুদ্র কণা দিয়ে তৈরি এই বিশেষ প্রযুক্তিকে বিজ্ঞানীরা ‘স্মার্ট মেটেরিয়াল’ বা বুদ্ধিমান পদার্থ হিসেবে অভিহিত করছেন, যা মানবদেহের ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। সনাতন ঐতিহ্য ও দর্শনে সোনাকে কেবল অলঙ্কার বা ধাতু নয়, বরং পরম পবিত্র, শুদ্ধ এবং আরোগ্যদায়ক উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয়। বৈদিক যুগ থেকেই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ‘স্বর্ণভস্ম’ ব্যবহারের মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও জটিল ব্যাধি নিরাময়ের যে চর্চা ছিল, আধুনিক বিজ্ঞান যেন আজ সেই প্রাচীন প্রজ্ঞাকেই ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় নতুনভাবে প্রমাণ করল। এই আবিষ্কারের ফলে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধি দমনে মানবতার এক নতুন জয়যাত্রা শুরু হলো, যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের সুস্বাস্থ্যের অধিকার ও জীবন বাঁচানোর লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে।​গবেষণাগারে বিজ্ঞানী ড. রিনা সাতো এবং অধ্যাপক কিয়োশি কানির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তৈরি এই বিশেষ তরল সোনা মূলত সাধারণ কোনো গলিত ধাতু নয়। গবেষকরা সোনার অত্যন্ত সূক্ষ্ম ন্যানোকণাকে জল ও বাতাসের ইন্টারফেসে স্থাপন করে তার ওপর দুটি বিশেষ জৈব অণুর আস্তরণ দিয়েছেন। এর ফলে বাইরের তাপমাত্রা ও চাপের সামান্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই এই সোনার কণাগুলো জীবন্ত কোষের মতো স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। সাধারণ অবস্থায় এই কণাগুলো জলের ওপর বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো ছড়িয়ে থাকে, কিন্তু চারপাশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানো মাত্রই কণাগুলো অলৌকিক জাদুবলে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি শক্তিশালী জাল বা নেটওয়ার্ক তৈরি করে ফেলে। আবার এই জালের ওপর সামান্য চাপ প্রয়োগ করা হলে তা ভেঙে পুনরায় আগের মতো আলাদা আলাদা দ্বীপে পরিণত হয়, যা এই মেটেরিয়ালের অনন্য অভিযোজন ক্ষমতাকে প্রমাণ করে।​চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ক্যানসার চিকিৎসায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার বর্তমান ধারায় একটি ঐতিহাসিক বিপ্লব আনতে চলেছে। মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা যেখানে ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে ক্যানসার আক্রান্ত টিউমারের চারপাশের তাপমাত্রা সাধারণত কিছুটা বেশি থাকে, যা এই তরল সোনার রূপান্তরের তাপমাত্রা অর্থাৎ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রচলিত কেমোথেরাপি বা ক্যানসার চিকিৎসার প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো, তা ক্যানসার কোষ ধ্বংস করার পাশাপাশি শরীরের সুস্থ ও ভালো কোষগুলোকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু এই লিকুইড গোল্ড প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি স্মার্ট ড্রাগ বা ওষুধ সুস্থ কোষে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকবে এবং রক্তে ভাসতে ভাসতে যখনই ক্যানসার আক্রান্ত টিউমারের তাপীয় সংকেত পাবে, তখনই সেখানে নেটওয়ার্ক তৈরি করে সুনির্দিষ্টভাবে শুধু ক্যানসার কোষটির ওপরেই ওষুধ প্রয়োগ করবে। মানবজাতির সুরক্ষায় বিজ্ঞানের এই অনন্য আশীর্বাদ ক্যানসার রোগীদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে চিরতরে মুক্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মানবতার জয়ে বিজ্ঞানের নতুন ‘ব্রহ্মাস্ত্র’, ক্যানসার রোগীদের যন্ত্রণামুক্তি দেবে এই বিশেষ লিকুইড গোল্ড

৭ মিনিটে দূর হবে ক্যানসার! ভারতে এলো নতুন ইনজেকশন

মাত্র সাত মিনিটে প্রয়োগযোগ্য নতুন এক ইমিউনোথেরাপি ইনজেকশন এনে ফুসফুসের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে ভারত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রযুক্তি ক্যানসার চিকিৎসাকে আরও দ্রুত, সহজ এবং রোগীবান্ধব করে তুলবে।দেশটিতে প্রথমবারের মতো ‘টেসেন্ট্রিক’ নামের এই নতুন ওষুধ বাজারে এনেছে রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া। প্রচলিত ইমিউনোথেরাপির মতো দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থেকে শিরায় (আইভি) ইনফিউশন নেওয়ার পরিবর্তে নতুন এই ইনজেকশন সরাসরি ত্বকের নিচে প্রয়োগ করা যায়। পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে মাত্র সাত মিনিট।চিকিৎসকদের মতে, নতুন এ পদ্ধতিতে রোগীদের ভোগান্তি কমবে এবং হাসপাতালের ওপর চাপও হ্রাস পাবে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী এবং দূরবর্তী অঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষ বেশি উপকৃত হবেন।এই চিকিৎসা মূলত নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার (এনএসসিএলসি) রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হবে, যা ভারতে ফুসফুসের ক্যানসারের সবচেয়ে প্রচলিত ধরন।নতুন ইনজেকশনে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাটেজোলিজুমাব নামের একটি ওষুধ। এটি শরীরের ‘পিডি-এল১’ নামের একটি প্রোটিনকে ব্লক করে দেয়। সাধারণত ক্যানসার কোষ এ প্রোটিন ব্যবহার করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয়। তবে প্রোটিনটি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে শরীরের প্রতিরোধ কোষ ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব রোগীর টিউমারে পিডি-এল১-এর মাত্রা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় অর্ধেক এনএসসিএলসি রোগী এ থেরাপির জন্য উপযুক্ত হতে পারেন।চিকিৎসকরা আরও জানান, প্রচলিত কেমোথেরাপির তুলনায় ইমিউনোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম। কারণ কেমোথেরাপি সুস্থ কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, অন্যদিকে ইমিউনোথেরাপি শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করে।তবে আধুনিক এ চিকিৎসার বড় চ্যালেঞ্জ এর উচ্চ ব্যয়। ইনজেকশনটির প্রতি ডোজের মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার রুপি। একজন রোগীর সাধারণত ছয়টি ডোজ প্রয়োজন হয়। ফলে পুরো চিকিৎসার ব্যয় কয়েক লাখ রুপিতে পৌঁছাতে পারে।এ কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য চিকিৎসাটি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খরচ কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামে একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। পাশাপাশি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের (সিজিএইচএস) আওতায়ও এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।তারপরও বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি এবং কম খরচের বিকল্প ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।

৭ মিনিটে দূর হবে ক্যানসার! ভারতে এলো নতুন ইনজেকশন