হিন্দুস নিউজ

প্রযুক্তি ও চিকিৎসা

আকাশে ডানা মেলল কার্বনমুক্ত বিমান, ইতিহাস গড়লেন চুয়েটের প্রাক্তন ছাত্রী দেবযানী

আকাশে ডানা মেলল কার্বনমুক্ত বিমান, ইতিহাস গড়লেন চুয়েটের প্রাক্তন ছাত্রী দেবযানী

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের উজ্জ্বল নাম দেবযানী ঘোষ। বিশ্ব পরিবেশ রক্ষায় এবং প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন চট্টগ্রামের বীর সন্তান সনাতনী কন্যা দেবযানী ঘোষ। ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্টুটগার্ট বিমানবন্দর থেকে সফলভাবে আকাশে ডানা মেলেছিল চার আসনের পরিবেশবান্ধব 'এইচওয়াই ৪' (HY4) বিমান। হাইড্রোজেন জ্বালানি কোষ ও ব্যাটারির সমন্বয়ে পরিচালিত এই উড়োজাহাজকে বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণমুক্ত বিমান তৈরির গবেষণায় এক মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হয়। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় মানবজাতির জন্য এই যুগান্তকারী প্রযুক্তি আবিষ্কারের নেপথ্যে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন বাংলাদেশি এই গবেষক।​চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম নেওয়া দেবযানী ঘোষের শিক্ষার হাতেখড়ি নিজ শহরেই। অপর্ণাচরণ উচ্চ বিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে সফলভাবে পড়াশোনা শেষ করে তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে কিছুদিন শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা অর্জনের পর তিনি বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান জার্মানিতে। সেখানে বিখ্যাত আরডব্লিউটিএইচ আচেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্ষমতা প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরবর্তীতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে উচ্চতর গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন।​জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টারের নেতৃত্বে এবং ইউনিভার্সিটি অব উলমের গবেষণা দলের অংশ হিসেবে 'এইচওয়াই ৪' প্রকল্পে পিএইচডি গবেষক হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন দেবযানী। এই ঐতিহাসিক প্রকল্পে তাঁর মূল দায়িত্ব ছিল ফুয়েল সেল ও ব্যাটারি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎকে দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহারের জন্য নতুন 'সিলিকন কার্বাইডভিত্তিক পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ব্যবস্থা' তৈরি করা। পাশাপাশি সম্পূর্ণ ব্যবস্থার বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ ও শক্তির প্রবাহ সফলভাবে ব্যবস্থাপনা করেন তিনি। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') বিশ্বমঞ্চে একজন নারী ও সনাতনী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধির এই অনন্য সাফল্য সমগ্র মানবজাতি ও বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয়। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে স্বমহিমায় ভাস্বর দেবযানীর এই সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক সুযোগ ও অধ্যবসায় থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বের উন্নতির ধারাকে পথ দেখাতে পারে আমাদের মেধাবী সন্তানরা।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে 'গুণী শিক্ষক' সম্মাননা পাচ্ছেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অরুণ কুমার বসাক

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বাংলাদেশের গর্ব ও প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একমাত্র ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘গুণী শিক্ষক অ্যাওয়ার্ড’ পেতে যাচ্ছেন। পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণায় অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এই বিরল সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন তিনি। পাবনার সন্তান অরুণ কুমার বসাকের বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে রাধানগর মজুমদার একাডেমী থেকে প্রথম বিভাগে মেট্রিকুলেশন পাশের মাধ্যমে। পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েটে সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে ১৯৬১ সালে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে অনার্স এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ সালে স্নাতকোত্তরেও ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট স্থান অর্জন করেন। ঐ বছরই তিনি নিজ বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দিয়ে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন।  ​১৯৬৫ সালে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ইম্পেরিয়াল কলেজে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ পেলেও তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে তাঁর পাসপোর্ট জব্দ করা হয় এবং তিনি বিদেশে যেতে বাধাগ্রস্ত হন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথ পোস্ট গ্রাজুয়েট স্কলারশিপ নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে গমন করেন এবং বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে সফলভাবে পিএইচডি অর্জন করেন। দীর্ঘ মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শেষে ২০০৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন এবং ২০০৯ সালে সম্মানজনক ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে ভূষিত হন।​তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ও 'স্কুল অব ফিজিকাল সায়েন্স' অনুষদের ডীন হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর হাত ধরেই কম্পিউটার সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে প্রথম কম্পিউটার স্থাপিত হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্ট ইউনিভার্সিটি ও সাউদর্ন ইলিনইস ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং ও রিসার্চ প্রফেসর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​নিউক্লীয় তত্ত্বের মৌলিক গবেষণায় তাঁর অবদান সর্বজনবিদিত। বাংলা একাডেমি থেকে তাঁর লেখা "ব্যবহারিক পদার্থবিজ্ঞান" বইটি প্রকাশিত হয়েছে। দেশ-বিদেশের মানসম্পন্ন জার্নালে তাঁর ১৩৯টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং তাঁর মোট সাইটেশন সংখ্যা ১৫৭১টি। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স গোল্ড মেডেল সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সম্মাননায় তিনি ভূষিত হয়েছেন। তাঁর নামে প্রতি বছর মেধাবী শিক্ষার্থীদের "প্রফেসর বসাক পুরস্কার ও বৃত্তি" প্রদান করা হয়। চরম প্রতিকূলতা ও বৈষম্য পেরিয়ে বিজ্ঞান সাধনায় অর্জিত তাঁর এই মহান অর্জন গোটা সনাতন সমাজ তথা সমস্ত জাতির জন্য এক পরম গৌরবের বিষয়।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে 'গুণী শিক্ষক' সম্মাননা পাচ্ছেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অরুণ কুমার বসাক

আর্তপীড়িত মানুষের সেবায় এক অনন্য মানবিক নাম বিকাশ চৌধুরী

কক্সবাজারের চকরিয়া ও লামা উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত প্রত্যন্ত ইউনিয়ন বমু বিলছড়ির বমুরমুখ এলাকা। যোগাযোগব্যবস্থা এবং উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রের দূরত্বজনিত কারণে এই জনপদের সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষজন জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ থেকে প্রায়শই বঞ্চিত হন। এই অবহেলিত অঞ্চলের অসহায়, শোষিত ও দরিদ্র মানুষের কাছে পরম আস্থার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক বিকাশ চৌধুরী। প্রচারপ্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে তিনি বছরের পর বছর ধরে নীরবে আর্তপীড়িতের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। পেশাগত দায়িত্বের চেয়ে মানবিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি দিন-রাত যেকোনো সময়েই অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্বস্তি ফিরিয়ে আনছেন।​পার্বত্য ও সমতলের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই প্রত্যন্ত জনপদের কোনো মানুষ রাতে বা অসময়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমেই স্মরণ করেন বিকাশ চৌধুরীকে। সামান্য অসুস্থতার জন্য দূরের হাসপাতালে যাওয়া যাদের পক্ষে ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে রোগমুক্তির পথ দেখান তিনি। আর্থিক সংকট কিংবা পারিবারিক দারিদ্র্যের কারণে কোনো রোগী ফিরে যান না তার দরজা থেকে; মানবিক বিবেচনায় তাদের চিকিৎসা প্রদান ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি কোনো রোগীর শারীরিক জটিলতা থাকলে তাকে সঠিক সময়ে উচ্চতর হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন তিনি। এই আন্তরিকতা ও মহানুভবতার কারণে স্থানীয় প্রতিটি সনাতনীসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে তিনি কেবল একজন চিকিৎসক নন, বরং চরম বিপদের বিশ্বস্ত আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​বিকাশ চৌধুরীর এই অবিরাম জনসেবা প্রমাণ করে যে, পদ-পদবি বা বাহ্যিক প্রচার ছাড়াও মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হওয়া যায়। কোনো লোভ বা অহংকার তাকে স্পর্শ করতে পারেনি, বরং রোগী ও তার স্বজনদের পরম মমতায় রোগব্যাধি বুঝিয়ে বলা এবং পরিবারের সদস্যের মতো খোঁজ নেওয়ার মানসিকতা তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। চকরিয়া ও লামা সীমান্তের পিছিয়ে পড়া এলাকার সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে তিনি যে ভূমিকা রাখছেন, তা সামগ্রিক মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বমুরমুখ ও এর আশপাশের অঞ্চলের মানুষের কাছে ‘নিজের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত এই পল্লী চিকিৎসকের মতো মানবিক মানুষের সুযোগ-সুবিধা এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা তদারকি করা গেলে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণের স্বাস্থ্যসুরক্ষা আরও জোরদার হবে।

আর্তপীড়িত মানুষের সেবায় এক অনন্য মানবিক নাম বিকাশ চৌধুরী

স্বামীর জীবন বাঁচাতে কিডনি দান করছেন শিক্ষিকা মন্দিরা রানী পাল

দাম্পত্য প্রেম ও আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরিশালের প্রধান শিক্ষিকা মন্দিরা রানী পাল। দীর্ঘদিন ধরে কঠিন কিডনি ব্যাধিতে আক্রান্ত স্বামী গৌরনদী উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক সুদাম পালের জীবন বাঁচাতে তিনি নিজের একটি কিডনি দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সুদাম পাল ২০০৪ সালে পটুয়াখালীর গলাচিপার বাসিন্দা মন্দিরা রানী পালের সাথে সনাতনী পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মন্দিরা রানী পাল বর্তমানে গৌরনদীর কটকস্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ধার্মিক ও আদর্শ দম্পতির সংসারে রয়েছে এক ছেলে হৃদম পাল এবং এক মেয়ে রাই পাল। ২০১৯ সালে প্রথম সুদাম পালের কিডনি জটিলতা ধরা পড়ার পর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা চললেও কোনো সুস্থতার পথ মেলেনি। সম্প্রতি দিল্লির ‘ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল’-এর চিকিৎসকেরা তাকে অতি দ্রুত কিডনি সংযোজনের পরামর্শ দেন। দীর্ঘদিন চেষ্টা চালিয়েও উপযুক্ত কোনো ডোনার না পাওয়ায় অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে স্বামীর প্রাণ রক্ষায় নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিলিয়ে দেওয়ার এই মহান সিদ্ধান্ত নেন মন্দিরা রানী পাল। সনাতন ধর্মে সহধর্মিণীকে পতিব্রতা ও বিপদের কান্ডারী হিসেবে যে স্থান দেওয়া হয়েছে, তা যেন বাস্তবে রূপ দিলেন এই নারী। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এরপর আদালত, আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে রবিবার সকাল ৮টায় সড়কপথে ভারতের দিল্লির উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেছেন এই শিক্ষক দম্পতি। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে দিল্লির হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের পরবর্তী চিকিৎসা প্রক্রিয়া ও কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সহধর্মিণীর এই অতুলনীয় ভালোবাসা ও ত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সর্বস্তরের মানুষ ও সনাতনী সমাজের পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষক মন্দিরা রানী পালের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও প্রশংসা ব্যক্ত করা হচ্ছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত এই জটিল যাত্রা সফল করতে এবং সুদাম পালের দ্রুত আরোগ্য লাভে সর্বস্তরের দেশবাসী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে আশীর্বাদ ও প্রার্থনা চেয়েছেন এই দম্পতি।

স্বামীর জীবন বাঁচাতে কিডনি দান করছেন শিক্ষিকা মন্দিরা রানী পাল

গুগলের ক্লাউড সাম্রাজ্যে দাপট দেখাচ্ছেন বুয়েট ফার্স্ট অনিক

চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান অনিক সরকার আজ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মেধা ও সক্ষমতার এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ছোটবেলা থেকেই গণিতের প্রতি অগাধ ভালোবাসা আর কঠোর পরিশ্রমকে সম্বল করে তিনি দেশের অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। ২০১৪ সালের বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় সারা দেশে প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি নিজের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও চট্টগ্রাম কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করা এই মেধাবী শিক্ষার্থী শুরু থেকেই ধাপে ধাপে তাঁর স্বপ্নের ভিত্তি গড়ে তোলেন।​বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর অনিকের পথচলা আরও বিস্তৃত হয়। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নিজেকে যুক্ত করেন আন্তর্জাতিক মানের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায়। ২০১৮ সালের সম্মানজনক গুগল কোড জ্যামে বিশ্বজুড়ে হাজারো প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি ৮৩০তম অবস্থান অর্জন করেন। পরবর্তী বছর আন্তর্জাতিক কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার (ICPC) ঢাকা আঞ্চলিক পর্বে তাঁর দল 'বুয়েট গিফটেড হাইপোক্রিটস' রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। কেবল প্রতিযোগিতাতেই নয়, প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা, ডেটা স্ট্রাকচার, গ্রাফ থিওরি ও অ্যালগরিদমের মতো জটিল বিষয়ে তাঁর মেধার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') স্নাতক পর্ব শেষ করার পর বুয়েটেই উচ্চতর গবেষণা ও শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি নিজের দক্ষতার ধার বাড়িয়ে নেন।​অনিকের এই ধারাবাহিক সাফল্য একসময় তাঁর জন্য উন্মুক্ত করে দেয় বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলের দরজা। ২০২০ সালে তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে অবস্থিত গুগলের কার্যালয়ে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। শুরুতে গুগলের ক্লাউডভিত্তিক বিশ্বস্ত ডাটা সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করলেও সময়ের সাথে সাথে তাঁর দায়িত্ব ও দক্ষতার পরিধি আরও বাড়ে। বর্তমানে তিনি সেখানে সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিগত নেতৃত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত সফলতার সাথে পালন করছেন। চট্টগ্রাম থেকে বুয়েট এবং বুয়েট থেকে গুগলের বিশ্বমানের প্রযুক্তি সাম্রাজ্যে অনিক সরকারের এই গৌরবময় যাত্রা প্রমাণ করে যে, নিষ্ঠা ও সততা থাকলে একটি সাধারণ শ্রেণিকক্ষ থেকেও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সনাতন সম্প্রদায়ের এই অদম্য মেধাবীর পথচলা আজ দেশের হাজারো তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার এক অনন্য উৎস।

গুগলের ক্লাউড সাম্রাজ্যে দাপট দেখাচ্ছেন বুয়েট ফার্স্ট অনিক

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সনাতনী মা মায়া রানী, চিকিৎসায় প্রয়োজন জরুরি আর্থিক সহায়তা

দিনাজপুরের অসহায় বিধবা নারী মায়া রানীর প্রাণ বাঁচাতে আকুল আকুতি জানিয়েছেন তার সন্তান ও স্থানীয় সনাতনী সমাজ। দীর্ঘদিন ধরে কঠিন ও জটিল শারীরিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছেন এই ধৰ্মপ্রাণ নারী। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি বর্তমানে তার হৃদ্‌যন্ত্রের গুরুতর অসুস্থতা, পেলভিক ও মূত্রনালির জটিলতা এবং চোখের রেটিনার পুরোনো রোগ তীব্র আকার ধারণ করেছে। তার জরুরি চিকিৎসায় অবিলম্বে প্রয়োজন বিপুল অর্থ, যা যোগাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে অসহায় পরিবারটি এখন বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​একসময় নিজের কঠোর পরিশ্রমে সন্তানদের আগলে রাখা এই নারীর স্বামী মারা যান বহু বছর আগে, যখন তার বড় ছেলে দুর্জয় অধিকারী শুভ কেবল পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন। পিতৃহীন পরিবারটির সমস্ত ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে সন্তানদের বড় করে তোলেন মায়া রানী। বড় ছেলে দুর্জয় ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক সম্পন্ন করলেও বর্তমানে তার কোনো স্থায়ী কাজ বা আয়ের সুযোগ নেই, আর ছোট ছেলেটি এখনো পড়াশোনা ও পরিবারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। মায়ের প্রাণ বাঁচাতে ইতোমধ্যেই পরিবারটি তাদের ভিটেমাটির বড় একটি অংশ বিক্রি করে চিকিৎসার খরচ চালিয়েছে। কিন্তু বর্তমান জটিল চিকিৎসা, একাধিক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ, ওষুধ এবং সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের জন্য চার থেকে পাঁচ লাখ টাকারও বেশি অর্থ প্রয়োজন, যা বর্তমানে তাদের সাধ্যের একেবারেই বাইরে। বাধ্য হয়েই নিজের গর্ভধারিনী মায়ের জীবন রক্ষায় দেশের বিত্তবান, মানবতাবাদী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আর্থিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন দুর্জয়। পরিবারটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আগ্রহীরা চাইলে চিকিৎসাসংক্রান্ত সমস্ত আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র ব্যক্তিগতভাবে যাচাই করতে পারবেন।​সহায়তা পাঠাবার মাধ্যম:​ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: DURJOY ADHIKARY SHUVO, অ্যাকাউন্ট নম্বর: 4011420001111, শাখা: Rangpur, Routing Number: 095851451​বিকাশ: +8801767389180​ভারত থেকে সহায়তার জন্য (UPI): obaid.mohtaseb26-1@okicici (Name: Obaid Mohtaseb)

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সনাতনী মা মায়া রানী, চিকিৎসায় প্রয়োজন জরুরি আর্থিক সহায়তা

হিন্দুস নিউজের সংবাদ প্রকাশের পর শ্রাবণীর পাশে বিএম হাসপাতাল

মিরসরাইয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত শ্রাবণী ভৌমিকের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বারইয়ারহাট বিএম হাসপাতাল। অর্থের অভাবে তাঁর চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে হিন্দুস নিউজে সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি বিভিন্ন মহলের নজরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) শ্রাবণীর বাড়িতে গিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রাবণীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিএম হাসপাতালে ভর্তি-সংক্রান্ত খরচ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাঁর চিকিৎসায় সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার শ্রাবণীর বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন বিএম হাসপাতালের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম মিয়াজী, ভাইস চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ওসমান গনি, নির্বাহী পরিচালক আব্দুল গফুর, ফিন্যান্স ডিরেক্টর শিহাব হাজারী এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মো. মোশারফ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।মিরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পশ্চিম হিঙ্গুলী গ্রামের দত্ত বাড়ির শ্রাবণী ভৌমিক প্রায় দেড় বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে তাঁকে প্রায় ১৪টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে।শ্রাবণীর বাবা ১১ বছর আগে মারা গেছেন। তিন বোনের পরিবারে উপার্জনক্ষম সদস্যের সংকট থাকায় তাঁর চিকিৎসার ব্যয় বহন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে অর্থের অভাবে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।এই পরিস্থিতিতে শ্রাবণীর চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে হিন্দুস নিউজে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর তাঁর অসুস্থতা ও পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি আরও মানুষের নজরে আসে। এরপর বারইয়ারহাট বিএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি শ্রাবণীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর চিকিৎসায় সহযোগিতার ঘোষণা দেয়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগে শ্রাবণীর পরিবারের চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশের চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আরও আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনরা।শ্রাবণীর পরিবার সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষদের তাঁর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।সহযোগিতার তথ্য: শ্রাবণী ভৌমিক — বিকাশ: ০১৮৫৩-৯৩৬৩২৪, নগদ: ০১৮৮০-৩৯১৪০০।

হিন্দুস নিউজের সংবাদ প্রকাশের পর শ্রাবণীর পাশে বিএম হাসপাতাল

যে ভিটামিনের অভাবে রাতে ঘুম হয় না

অনেকেই রাতে ঠিকঠাক ঘুমাতে পারেন না। সারাদিন পরিশ্রমের পরও সারারাত বিছানার এপাশ থেকে ওপাশে ফেরেন, কিন্তু চোখে ঘুম থাকে না। এ সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ইনসোমনিয়া বলা হয়। মূলত ভিটামিন ও খনিজের অভাবে মানুষ এ সমস্যায় ভোগে বলে জানানো হয়েছে নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে।  ভারতের পুষ্টিবিদ অনুশ্রী মিশ্র জানান, শরীরে দুটি ভিটামিন ও একটি খনিজের অভাবে রাতে ঘুম আসে না। এগুলো হলো ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২ ও ম্যাগনেশিয়াম।  কোন কোন খাবারে এই ভিটামিন ও খনিজের অভাব মিটবে ভিটামিন বি ১২ স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ভিটামিন বি ১২ অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন ২.৪ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন বি ১২ গ্রহণ করা জরুরি। ভিটামিন বি ১২-এর ঘাটতি হলে শুধু ভুলে যাওয়াই নয়, রক্তে আরবিসি-ও কমে যায়। পাশাপাশি ইনসোমনিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। ঘাটতি মেটাতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ, পালং শাক, বিট, দই, ছানার পানি, পনির রাখুন। ম্যাগনেশিয়াম সুস্থ থাকতে মিনারেল প্রয়োজন। আর ম্যাগনেশিয়াম হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল যা শরীরের ভেতরে চলতে থাকা নানা রকম রাসায়নিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে। ম্যাগনেশিয়াম কমে গেলে রাতে ঘুমও আসে না।  ভিটামিন ডি ভিটামিন-ডি একটি স্নেহপদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন। অনেকসময়-ই একে বলে ‘সাইশাইন ভিটামিন’। ভিটামিন ডি কমলে ঘুম কমে যায়। আজকাল বহু মানুষ এই ভিটামিনের অভাবে ভোগেন। অনেকেই মনে করেন, নির্দিষ্ট সময় সূর্যের আলোতে থাকলে ভিটামিন ডি'র ঘাটতি হবে না। কিন্তু বিষয়টা এতটাও সহজ নয়। সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যায় ঠিকই, তবে ত্বক থেকে তা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিভারে পৌঁছনো ও সেখান থেকে শরীরে ছড়িয়ে পড়ার যে পদ্ধতি, তা খুবই ধীর গতিতে হয়। সেক্ষেত্রে খাবার থেকেই সরাসরি ভিটামিন ডি শরীরে ঢোকে। ঘাটতি মেটাতে তৈলাক্ত মাছ খান। তৈলাক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকে। সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত খাদ্য ও ডিমে ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়। ইলিশ মাছ, রুই-কাতলার পেটি ও তেল, তেলাপিয়া ও সরপুঁটি, দানাশস্য ও ওটস, কিনোয়া, ডালিয়া, ফর্টিফায়েড দুধ ও দই ইত্যাদিতে ভরপুর ভিটামিন-ডি থাকে।   এছাড়া মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম মাশরুম থেকে প্রায় ৪৫০ আইইউ ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। যারা মাশরুম পছন্দ করেন না, তারা পালং শাক খেতে পারেন। এতেও ভিটামিন ডি থাকে। বিভিন্ন রকম বাদাম ও বীজে ভিটামিন ডি থাকে। কুমড়ো বীজ, সূর্যমুখীর বীজ থেকে ভরপুর মাত্রায় ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। কাঠবাদাম, আখরোটে ভিটামিন ডি থাকে। তবে আখরোট দিনে দু’টির বেশি নয়, কাঠবাদাম ৪-৫টিই যথেষ্ট।

যে ভিটামিনের অভাবে রাতে ঘুম হয় না

সায়েন্টিফিক আমেরিকান-এর প্রতিবেদন: বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব যেভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে

দেশের হাসপাতাল ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি হামের নজিরবিহীন এক প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছেন। জাতীয় পর্যায়ে অতীতে টিকাদানের ভালো সাফল্য থাকলেও সম্প্রতি টিকাদানের হার উদ্বেগজনকভাবে কমে যাওয়ায় ২০০৫ সালের পর বাংলাদেশে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামের মহামারি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’-এর এক বিস্তৃত প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশজুড়ে অন্তত ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এ সময় হাম ও হামজনিত নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১ হাজার ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের সিংহভাগই দুই বছরের কম বয়সী এবং টিকা না পাওয়া শিশু। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এই সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ অঞ্চলে চিকিৎসা ও টিকাদানের সুযোগ সীমিত থাকায় বহু ঘটনা হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে। কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ টিকাদানের সাফল্যের জন্য একটি উদাহরণ বা ‘পোস্টার বয়’ হিসেবে প্রশংসিত ছিল। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের জনসংখ্যা ও সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. আয়েশা মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার সময়ে আমরা কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর গভীর আস্থা রেখেছি। স্থানীয় ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সচেতনতা তৈরির শক্তিশালী ইতিহাস ছিল এ দেশে, যা ঘরে ঘরে টিকাদান নিশ্চিত করেছিল।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালেও বাংলাদেশে হামের প্রথম ডোজের টিকা পাওয়ার হার ছিল ৯৭ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রে তা ছিল ৯৩ শতাংশ। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলাদেশে প্রতিবছর হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০০ থেকে ৩০০-এর মধ্যে। এটি একটি রোগ নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু এরপরই পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে শুরু করে। টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য যোগাযোগ গবেষক এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের সাবেক কর্মকর্তা শাকিল ফয়েজউল্লাহ বলেন, ‘হামের মতো ভাইরাস কোনো দয়া দেখায় না। নিয়মিত টিকাদান প্রক্রিয়ায় সামান্যতম বিচ্যুতি বা ফাঁক তৈরি হলেই এটি দ্রুত থাবা বসায়—বাংলাদেশে ঠিক সেটাই ঘটেছে।’ বিশেষজ্ঞরা এই মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পেছনে একাধিক জটিল সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণকে দায়ী করেছেন, যাকে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারি বিশেষজ্ঞ ড. উইলিয়াম মস একটি ‘পারফেক্ট স্টর্ম’ বা বহুমুখী সংকটের সম্মিলিত ফল বলে বর্ণনা করেছেন। ১. মহামারির ধাক্কা: ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে সারা দেশেই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে প্রথম বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে। ২. সংগ্রহ বা প্রকিউরমেন্ট নীতিতে পরিবর্তন: ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর ওষুধ ও টিকা ক্রয়ের বহুদিনের পুরোনো প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়। এর ফলে টিকার মজুত হঠাৎ কমে যায়। ৩. রাজনৈতিক অস্থিরতা: ওই সময়ে দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পরিকল্পিত সম্পূরক হাম টিকাদান কর্মসূচিগুলো পিছিয়ে যায়। ৪. বৈদেশিক সাহায্য হ্রাস: মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএস এআইডি)-এর তহবিল কাটছাঁটের কারণে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়োগ এবং সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) বজায় রাখা ব্যাহত হয়। এর ফলে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে হামের টিকাদানের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৮৬ শতাংশে নেমে আসে। ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪ লাখ শিশু হামের জন্য প্রয়োজনীয় সবকটি ডোজ থেকে বঞ্চিত হয় এবং অন্তত ৭০ হাজার শিশু একটি টিকাও পায়নি। ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চল, শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি এবং বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমন্বয়ে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। রোগীকে মূলত উপসর্গভিত্তিক ও সহায়ক চিকিৎসা (সাপোর্টিভ কেয়ার) দেওয়া হয়। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যান্ডেমিক সেন্টারের পরিচালক ড. জেনিফার নুজো বলেন, হামের সাধারণ লক্ষণ লালচে র‍্যাশ ও জ্বরের মতো হলেও এটি নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কে মারাত্মক প্রদাহের (এনকেফালাইটিস) মতো জীবনঘাতী জটিলতা তৈরি করতে পারে। হামের সংক্রমণ পুরোপুরি ঠেকানোর একমাত্র উপায় হলো অন্তত ৯৫ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকাদানের আওতায় আনা, যাকে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা যৌথ বা সামাজিকভাবে অর্জিত প্রতিরোধ ক্ষমতা বলা হয়। ডব্লিউএইচও-র মতে, পরিপূরক দুই ডোজ টিকা নিলে শরীর দ্রুত রোগপ্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করে। আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে একটি বৃহৎ জরুরি টিকাদান অভিযান শুরু করে। এর ফলে সংক্রমণের গতি কিছুটা মন্থর হলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. উইলিয়াম মস সতর্ক করে বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ের টিকাদানের গড় হার অনেক সময় আসল চিত্র ঢেকে রাখে। কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা গোষ্ঠীর মধ্যে যদি টিকা না নেওয়া শিশু বেশি থাকে, তবে সেই ছোট পকেটগুলো থেকেই আবারও বড় মহামারির দাবানল ছড়িয়ে পড়তে পারে।’ বর্তমানে কেবল বাংলাদেশ নয়; যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মতো উন্নত দেশগুলোতেও হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে ৩ হাজার ২৯৪ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং পেনসিলভানিয়ায় সম্প্রতি চতুর্থ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের এই ঘাটতির কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। শাকিল ফয়েজউল্লাহ জানান, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সমস্যাটি মূলত সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়া এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাময়িক ব্যাঘাত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে টিকার সহজলভ্যতা থাকা সত্ত্বেও টিকাবিরোধী মনোভাব (অ্যান্টি-ভ্যাক্স) বা টিকা নিতে অনিচ্ছাই প্রধান কারণ। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জেনিফার নুজোও যোগ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যে কেউ চাইলেই টিকা পেতে পারে। বাংলাদেশে যা ঘটছে তা কোনোভাবেই টিকাবিরোধী মানসিকতার ফল নয়, বরং ব্যবস্থার ত্রুটি।’ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশে এই সংকটের মূল শিক্ষা হলো টিকাদান কর্মসূচিকে যেকোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা। দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক লক্ষ্যভিত্তিক টিকাদান জোরদার না করলে এই ধরনের ভাইরাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।

সায়েন্টিফিক আমেরিকান-এর প্রতিবেদন: বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব যেভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে

হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট ১০৪৮

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের হিসাব এটি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। একই সময়ে নতুন করে ৫২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৩৯৫ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৪৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন সংক্রমণের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭২৫ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, একই সময়ের মধ্যে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে মোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭১৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট ১০৪৮

হবিগঞ্জ মেডিকেলে প্রথম মরণোত্তর দেহদানের নজির লিটন দাশ

মরণের পরও মানবকল্যাণ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের সন্তান লিটন দাশ তালুকদার। নিজের পার্থিব জীবন অবসান ঘটিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনে দেহদান করে সনাতন ধর্মের মানবসেবা ও ত্যাগের এক অনন্য মহৎ রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। এটি হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পর চিকিৎসা শিক্ষার অগ্রগতিতে প্রথম কোনো মরণোত্তর দেহদানের ঐতিহাসিক নজির।​দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগে গত রোববার নিজ বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাবেক এই একনিষ্ঠ কর্মী ও বেসরকারি চাকরিজীবী। অসুস্থ থাকা অবস্থাতেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে মৃত্যুর পর প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তাঁর দেহ দাহ না করে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির স্বার্থে দান করে যাবেন। এই মহৎ সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় গত আগস্ট মাসেই যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল।​রোববার রাতে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাবেদ জিল্লুল বারি এবং এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়াতের দেহ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন তাঁর শোকসন্তপ্ত স্বজনরা। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ সময় তাঁর মহান ত্যাগ ও আদর্শের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) পক্ষ থেকে প্রয়াত লিটন দাশ তালুকদারকে লাল সালাম ও অন্তিম শুভেচ্ছা জানানো হয়। সনাতনী মূল্যবোধের পরম সত্য 'জীবে দয়া করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর'—এই বাণীকেই যেন নিজের জীবন ও মৃত্যুর মাধ্যমে চিরস্মরণীয় করে রেখে গেলেন তিনি। তাঁর এই মহান আত্মত্যাগ চিকিৎসাবিজ্ঞান, মানবকল্যাণ ও সমাজ ভাবনায় চিরকাল উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবে।

হবিগঞ্জ মেডিকেলে প্রথম মরণোত্তর দেহদানের নজির লিটন দাশ

রাউজানের হাজারো মেধাবীর অনুপ্রেরণা কৃতি ছাত্রী বিজয়া ভৌমিক এখন চিকিৎসক

চট্টগ্রামের রাউজানের গহিরা আব্দুল জব্বার ইয়াংমেন সোসাইটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতি ছাত্রী বিজয়া ভৌমিক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস (MBBS) ডিগ্রি অর্জন করে চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর এ সাফল্যে আনন্দিত ও গর্বিত রাউজানবাসী।শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন বিজয়া ভৌমিক। গহিরা আব্দুল জব্বার ইয়াংমেন সোসাইটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতিচ শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে ছিলেন অনুকরণীয়। পরবর্তীতে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের ফল হিসেবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন তিনি।বিজয়া ভৌমিকের এই অর্জন শুধু তাঁর পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, পুরো রাউজানের জন্যই গর্বের বিষয়।চ তাঁর সাফল্য রাউজানের হাজারো শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষা ও স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নবীন চিকিৎসক ডা. বিজয়া ভৌমিকের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, কর্মজীবনের সাফল্য এবং মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার জন্য আন্তরিক শুভকামনা জানিয়েছেন।চ

রাউজানের হাজারো মেধাবীর অনুপ্রেরণা কৃতি ছাত্রী বিজয়া ভৌমিক এখন চিকিৎসক

প্রয়াত সংগ্রামী শ্রমিকনেতা তপন দাস স্মরণে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রয়াত সংগ্রামী শ্রমিকনেতা তপন দাস স্মরণে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত২১ আগস্ট সকাল ১০টায় গ্লোবাল ক্যাপসুল লিমিটেড শ্রমিক ইউনিয়নের (প্রস্তাবিত) উদ্যোগে গ্লোবাল ক্যাপসুল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের শ্রমিকদের বিপদের বন্ধু ও ইউনিয়নের প্রয়াত সংগ্রামী সভাপতি তপন দাস স্মরণে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিকাল ৪ টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত মেডিকেল ক্যাম্পে ফ্রী চিকিৎসা দেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা.মনীষা চক্রবর্ত্তী। ক্যাম্পে দেড় শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ দেয়া হয়।উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গ্লোবাল ক্যাপসুল লি. শ্রমিক ইউনিয়ন (প্রস্তাবিত) গঠনতন্ত্র প্রনয়ণ কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল জলিল খান, উক্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা.মনীষা চক্রবর্ত্তী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারন সম্পাদক কমরেড ইমাম হোসেন খোকন,ফার্মাসিউটিক্যালস এমপ্লয়িজ এন্ড ওয়ার্কার্স ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম,সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার ক্রীড়া সম্পাদক গাজী মো. বেল্লাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারজানা আক্তার, বরিশাল রিক্সা-ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং খুলনা-২৩২৪) সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ দপদপিয়া ইউনিয়নের সভাপতি রমজান আকন, তপন দাসের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন তপন দাসের ভাগ্নে সুরঞ্জিত সেন, পদ্মা ব্লোয়িং লি. শ্রমিক ইউনিয়ন ( রেজিঃ নং বরিশাল-৬৩) সভাপতি জসিম গাজি, গ্লোবাল ক্যাপসুল লি. শ্রমিক ইউনিয়ন (প্রস্তাবিত) প্রচার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, ও এস এল ফার্মা লি. শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং বরিশাল-৭১)সভাপতি মিজানুর রহমান , মেডিমেট ফার্মাসিউটিক্যালস লি. শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং বরিশাল-৬১) সভাপতি মোসা.সোনিয়া আক্তার, অলিম্পিক সিমেন্ট এন্ড ফাইবার লি. শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন ( রেজিঃ নং বরিশাল-৫৪) সভাপতি মো. সেলিম সরদার, খানসন্স টেক্সটাইল লি. শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং বরিশাল-৬৬) সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজ হাওলাদার, প্রমুখ।অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত সংগ্রামী শ্রমিকনেতা তপন দাসের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।আলোচনা সভায় বক্তারা প্রয়াত তপন দাসের কর্মময় জীবন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে তাঁর ভূমিকা এবং শ্রমিকদের আন্দোলনে দৃঢ়চিত্তে নেতৃত্ব দেয়ার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার জন্য ক্যান্সার আক্রান্ত অসুস্থ শরীর নিয়েও তপন দাস ইউনিয়নের জন্য লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাঁর সংগ্রাম শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের ঐক্য ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়াই হবে প্রয়াত তপন দাসের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা। তাঁর আদর্শ ও শ্রমিকবান্ধব চেতনাকে ধারণ করে বাসদের নেতৃত্বে শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্র গড়ার সংগ্রাম চালিয়ে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।

প্রয়াত সংগ্রামী শ্রমিকনেতা তপন দাস স্মরণে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

‘এখনই মাকে হারানোর সময় হয়নি’: মাগুরার চিকিৎসাধীন নারীর চিকিৎসায় মানবতার হাত বাড়ান

মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার বুনাগাতি বাজারের বাসিন্দা, সনাতনী পরিবারের গৃহিণী ৫২ বছর বয়সী মিতা রানী সিংহ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি মরণব্যাধি লিভার ক্যানসারের (হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা বা HCC) সঙ্গে লড়াই করছেন। সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। তীব্র জ্বর, বুকে ব্যথা ও পেটের যন্ত্রণায় তিনি এখন শয্যাশায়ী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দেশে তাঁর চিকিৎসার প্রাথমিক সব ধাপই সম্পন্ন হয়েছে। এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে নতুন কোনো সার্জারি বা থেরাপি দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেই ব্যয়ভার বহন করা পরিবারের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তাঁর দেহে এই মরণব্যাধি ধরা পড়ে। এরপর থেকে তাঁকে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রেখে নানা থেরাপি ও ওষুধ দেওয়া হয়। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে। পরিবারের জমি-জমা, গাছপালা বিক্রি, বাবার জমানো পেনশন ও নিকটাত্মীয়দের সহায়তার পাশাপাশি শুভাকাঙ্ক্ষীদের কায়িক ও আর্থিক কন্ট্রিবিউশনে এ অর্থ জোগাড় করা হয়েছিল। তবে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসার খরচ চালাতে চালাতে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।​উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে ভারতের ব্যাঙ্গালোরের হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার ইনভাইটেশন লেটার সংগ্রহ করা হলেও ভারতীয় ভিসার স্লট পেতে দীর্ঘ বিলম্ব এবং আর্থিক সংকটের কারণে তাঁকে সময়মতো বিদেশে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মিতা রানী সিংহের সন্তান সৌমেন বিশ্বাস অনিক তাঁর মায়ের প্রাণরক্ষায় দেশ-বিদেশের সনাতনী সমাজ, দানশীল ব্যক্তি ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে বিনীত ও আকুল আবেদন জানিয়েছেন। একজন মায়ের জীবন বাঁচাতে মানবতাবাদী হৃদয়বান মানুষদের এগিয়ে আসার পাশাপাশি সামাজিক ও ব্যক্তি উদ্যোগে অর্থ জোগাড়ে সহায়তা করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।​সহায়তা পাঠানোর জন্য বিকাশ ও নগদ নম্বর: 01624488047 (সৌমেন বিশ্বাস অনিক)। ঠিকানা: শালিখা, মাগুরা, খুলনা, পোস্টাল কোড: ৭৬২০। সোনালী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: 2403401017780 (সৌমেন বিশ্বাস অনিক), বুনাগাতি বাজার শাখা, মাগুরা (রাউটিং নম্বর: 200550255, সুইফট কোড: BSONBDDH)। এছাড়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য গো-ফান্ড-মি লিংক: https://www.gofundme.com/f/support-a-mothers-battle।

‘এখনই মাকে হারানোর সময় হয়নি’: মাগুরার চিকিৎসাধীন নারীর চিকিৎসায় মানবতার হাত বাড়ান

বিষধর সাপের ছোবল, রাউজানে তান্ত্রিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

চট্টগ্রামের রাউজানে রাতের খাবার খাওয়ার সময় বিষধর সাপের কামড়ে রঘু দত্ত প্রকাশ রৈক্য বৈদ্য (৭০) নামে এক তান্ত্রিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ১১ নম্বর পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই দত্তপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।​নিহত রঘু দত্ত ওই এলাকার মৃত সারদা চরণ দত্তের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন রেখে গেছেন।​যেভাবে দুর্ঘটনা ঘটেস্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে পেশাগত কাজ শেষে ঘরে ফিরে নৈশভোজ করছিলেন রঘু দত্ত। এ সময় খাবার টেবিলের নিচে লুকিয়ে থাকা একটি বিষধর সাপ আকস্মিক তার পায়ে কামড় দেয়। তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।​সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।​এলাকায় শোকের ছায়াএলাকাবাসী জানান, রঘু দত্ত দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তান্ত্রিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ তার কাছে কবিরাজি ও তান্ত্রিক চিকিৎসার জন্য আসতেন। তার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিষধর সাপের ছোবল, রাউজানে তান্ত্রিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনস্টাইনের দরবার: সত্যেন বসুর ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষী ইতিহাসে জড়িয়ে আছে এমন কিছু গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, যা কেবল বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র বিশ্ববিজ্ঞানের গতিপথ বদলে দেওয়ার মহান ইতিহাস। এর মধ্যে অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র বিশিষ্ট বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত, নিবিড় পরিবেশেই তিনি সূচনা করেছিলেন এক কালজয়ী বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের, যা পরবর্তীকালে আধুনিক কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি সুদৃঢ় করে।​১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্নেই সত্যেন্দ্রনাথ বসু পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে এই নতুন বিদ্যাপীঠে এসে তিনি নিবিড় গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। ১৯২৪ সালে ঢাকায় অবস্থানকালেই তিনি আলো ও আলোককণার সূক্ষ্ম আচরণ নিয়ে তাঁর বিখ্যাত গবেষণাপত্র 'Planck’s Law and the Hypothesis of Light Quanta' রচনা করেন। আলোকের ফোটন কণার আচরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি এক অভিনব পরিসংখ্যানগত পদ্ধতির প্রবর্তন করেন, যেখানে কণাগুলোকে আলাদাভাবে না দেখে অভিন্ন সত্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বসুর এই বৈপ্লবিক চিন্তা তখনকার বৈজ্ঞানিক মহলকে গভীরভাবে আলোড়িত করে।​তবে এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের পথ সহজ ছিল না। ইউরোপীয় জার্নালে তাঁর গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যাখ্যাত হলে তিনি সরাসরি তৎকালীন সময়ের বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের শরণাপন্ন হন। আইনস্টাইন তাৎক্ষণিকভাবে বসুর গবেষণার গভীরতা ও বিশ্বজনীন গুরুত্ব অনুধাবন করেন। তিনি নিজ দায়িত্বে গবেষণাপত্রটি জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশ করেন এবং বসুর গাণিতিক পদ্ধতিকে ভরযুক্ত কণার ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত করেন। এভাবে যৌথ ভাবনার আলোয় জন্ম নেয় বিজ্ঞানের ইতিহাসে অমর 'Bose–Einstein statistics'।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​এই তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে অতি-নিম্ন তাপমাত্রায় পদার্থের এক বিশেষ অবস্থার ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়, যা আজ 'Bose–Einstein condensate' নামে পরিচিত। সত্যেন বসুর এই অনন্য অবদানের প্রতি চিরস্থায়ী সম্মান জানিয়ে বিজ্ঞানের জগতে Bose–Einstein statistics মেনে চলা সমস্ত কণাশ্রেণির নামকরণ করা হয় 'বোসন' (Boson)। আজ মহাবিশ্বের মৌলিক গঠন বুঝতে ব্যবহৃত ফোটন, গ্লুয়ন কিংবা বিখ্যাত হিগস বোসন কণাগুলো বাঙালির মেধা ও সত্যেন বসুর নামেরই জয়গান গায়।​যদিও নোবেল কমিটি এই মহান বিজ্ঞানীকে তাঁদের আনুষ্ঠানিক পদকে ভূষিত করেনি, কিন্তু বিশ্ববিজ্ঞান তাঁকে দিয়েছে নোবেলের চেয়েও স্থায়ী ও অমর স্বীকৃতি। মৌলিক কণার বুনিয়াদে খোদাই হয়ে গেছে এই বাঙালি মনীষীর নাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে বসে একজন বাঙালির বিশ্বজয়ের এই মহাকাব্য সনাতনী মেধা ও বাঙালি সংস্কৃতির এক অসামান্য অমলিন অহংকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনস্টাইনের দরবার: সত্যেন বসুর ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ে