ভালুকায় রবীন্দ্র ঋষি হত্যার বিচার ও পীরগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে বিএসপির সংবাদ সম্মেলন
ময়মনসিংহের ভালুকায় নরসুন্দর রবীন্দ্র ঋষি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং রংপুরের পীরগঞ্জে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি (বিএসপি)।বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৪টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সনাতন পার্টির উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।বাংলাদেশ সনাতন পার্টির সভাপতি অনুপ কুমার দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধর্মযাজক প্রণবানন্দ মহারাজ, সন্তোষ চন্দ্র দাস, টনি মল্লিক, সুবীর কান্তি ধর, মানিক চন্দ্র সাহা, বিশ্বজিৎ সরকার, প্রসনজিৎ বকশী, আশুতোষ ঘোষ, সুজিত দাস, সুজন বিশ্বাসসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় বলেন, ময়মনসিংহের ভালুকায় নরসুন্দর রবীন্দ্র ঋষি হত্যাকাণ্ড এবং রংপুরের পীরগঞ্জে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সনাতন সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বাংলাদেশ সনাতন পার্টি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত।তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ উঠলে তার বিচার অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের মাধ্যমে হতে হবে। কোনো অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, রংপুরের পীরগঞ্জে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তিনটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং পুলিশ গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে। অন্যদিকে, ভালুকায় রবীন্দ্র ঋষি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সংগঠনের নেতারা।তবে শুধু গ্রেপ্তার নয়, প্রতিটি ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।সংবাদ সম্মেলনে ভালুকার হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ববিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা, পরিকল্পিত হামলা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে তদন্তের প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানায় সংগঠনটি।এ সময় বাংলাদেশ সনাতন পার্টির পক্ষ থেকে মোট নয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্র ঋষি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পীরগঞ্জে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও ক্ষয়ক্ষতির প্রতিকার নিশ্চিত করা।এ ছাড়া ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনানুগ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের ওপর হামলা প্রতিরোধ, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সব নাগরিকের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।শারদীয় দুর্গাপূজার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন নেতারা। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।পাশাপাশি দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়, প্রতিমা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর ও আগাম নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় আরও বলেন, ধর্ম, জাতি, পেশা কিংবা পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদে বসবাস করার অধিকার রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।এ সময় সদ্য সমাপ্ত শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সরকার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিরোধী দল এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি।একই সঙ্গে দুর্গাপূজার সময় দেশের বিভিন্ন স্থানের সংবাদ তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করায় গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানানো হয়।সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, ভালুকার রবীন্দ্র ঋষি হত্যাকাণ্ড, পীরগঞ্জের হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট এবং দুর্গাপূজার আগে সংঘটিত প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগগুলোও গণমাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরা হবে।সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ সনাতন পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘাত, প্রতিশোধ কিংবা সহিংসতা নয়, বরং শান্তি, সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল প্রত্যাশা।সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, “আমরা কোনো প্রতিশোধ চাই না; আমরা চাই ন্যায়বিচার। আমরা কোনো সংঘাত চাই না; আমরা চাই আইনের শাসন। আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না; আমরা চাই সকল নাগরিকের সমান নিরাপত্তা ও অধিকার।”এ সময় সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষ করা হয়।