সিলেটে ‘শিশুকে শ্লীলতাহানি’র অভিযোগ তুলে মব সৃষ্টি করে ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঈদের ছুটিতে গত শুক্রবার রাতে সিলেট নগরের শিবগঞ্জ সেনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শাহপরান থানায় ২১ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন আহত ব্যবসায়ীর ছেলে রুবেল দাস।
মবের শিকার খগেন্দ্র চন্দ্রের ছেলে রুবেল দাস জানান, তাঁর বাবার মালিকানাধীন ‘রানী স্টোরে প্রথমে কয়েকজন গিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। তাঁরা পরে আরো লোকজন নিয়ে তাঁর বাবাকে মারধর করেন। দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যান হামলাকারীরা।
মারধরে খগেন্দ্র গুরুতর আহত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় খুরশেদের ছেলে আরিফ ও তাঁর সহযোগীরা এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হামলার শিকার ব্যবসায়ী খগেন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, ‘একটি শিশুকে ফ্রিজের সামনে থেকে সরে দাঁড়াতে বলাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। পরে শিশুটির মা এসে অভিযোগ করেন এবং কিছুক্ষণ পর কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে হামলা চালানো হয়।’
তাঁর দাবি, ‘দোকানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার ভিডিও চিত্র রয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।’
এ ঘটনার পর সিলেট জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ নেতারা ছাড়াও সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী হাসপাতালে মারধরের শিকার খগেন্দ্রকে দেখতে যান।
তাঁরা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত মব সহিংসতা উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর ও গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে যৌন হয়রানির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে হামলা চালানো হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাকিতে পণ্য না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই হামলা করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। হামলার তথ্য পাওয়া গেছে, যা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।’ এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো সাত-আটজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।
এরই মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মব সৃষ্টি করে আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মতামত