কেশবপুর-কলাগাছি সড়কের নুড়িতলা এলাকায় মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের মর্মান্তিক সংঘর্ষে মারাত্মক আহত হয়ে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন ২৩ বছর বয়সী তরুণ চন্দন পালিত। গত বুধবার রাতে খুলনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর অকালপ্রয়াণ ঘটে। নিহত চন্দন পালিত উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের পরিমল পালিতের সন্তান এবং কেশবপুরের 'স্টেট ফার্স্ট কুরিয়ার সার্ভিস'-এ কর্মরত ছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক বিয়োগে পরিবারসহ সমগ্র সনাতনী সম্প্রদায়ের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত সোমবার সকালে চন্দন নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথিমধ্যে নুড়িতলা নামক স্থানে অসাবধানতাবশত একটি বাইসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় ও শরীরে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন। স্থানবাসীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে স্বজনেরা তাঁকে দ্রুত খুলনায় স্থানান্তরিত করেন। সেখানে টানা দু'দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে বুধবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম পাটোয়ারী সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর অকালমৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
মাত্র এক বছর আগেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন চন্দন পালিত। এবারের শারদীয় উৎসবের প্রতিটি ক্ষণ স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে প্রতিমা দর্শন ও আনন্দ ভাগাভাগি করার এক বুক স্বপ্ন বেঁধেছিলেন তিনি। কিন্তু আকস্মিক এই সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর সব সুন্দর পরিকল্পনা ও সংসারজীবনের স্বপ্নকে মুহূর্তের মধ্যে চুরমার করে দিল। যে পরিবারে মা দুর্গার আগমনী আনন্দে মুখরিত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবলই স্বজনদের কান্না আর করুণ আর্তনাদ। সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং আকস্মিক দুর্ঘটনায় এভাবে এক সম্ভাবনাময় সনাতনী তরুণের অকালমৃত্যু স্থানীয় সনাতন সমাজ ও মানবাধিকার সচেতন প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটে গেছে।
মতামত