জরাজীর্ণ ঘরে ৭০ বছরের নিঃস্ব বিধবা কনক হালদারের মানবেতর জীবন
বরিশালের গৌরনদীতে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন ৭০ বছর বয়সী নিঃসন্তান বিধবা কনক হালদার। উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পশ্চিম সোমাদ্দারপাড় গ্রামে সোমাদ্দারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন জরাজীর্ণ এক ছোট্ট ঘরে কোনোমতে দিনযাপন করছেন প্রয়াত দীনবন্ধু হালদারের এই বয়োবৃদ্ধ স্ত্রী। স্বামী ও সন্তানহীন এই অবহেলিত সনাতনী নারীর জীবনে এখন নিত্যসঙ্গী শুধুই দুশ্চিন্তা আর ক্ষুধা। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর একমাত্র আশ্রয়স্থল ঘরটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে সামান্য ঝোড়ো বাতাস বইলেই তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটে। বর্ষার দিনে চাল চুইয়ে পড়ে পানি আর শীতের রাতে ঘরে ঢুকে পড়ে হাড়কাঁপানো হিমেল হাওয়া, যা প্রতিনিয়ত তাঁর বেঁচে থাকার আকুতির ওপর এক নির্মম আঘাত হানছে।স্থানীয়দের সহায়তায় কোনোমতে দুবেলা খেয়ে না-খেয়ে দিন পার করলেও বয়সের ভারে ন্যুব্জ কনক হালদারের নিজের বলতে এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। সনাতন ধর্মাবলম্বী এ বৃদ্ধার নিরাপদ আশ্রয়ের তীব্র প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় পরিবেশকর্মী সৈয়দ মাজারুল ইসলাম রুবেল জানান, নিঃস্ব এই নারীর নিরাপদে মাথা গোঁজার একটি ঠাঁইও নেই। সরকারি-বেসরকারি অনুদান কিংবা বিত্তবানদের সামাজিক ও মানবিক সহযোগিতায় তাঁর জন্য একটি বাসযোগ্য ছোট ঘরের ব্যবস্থা করা গেলে জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি হয়তো একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারতেন। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') এ কারণে সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বৃদ্ধা কনক হালদারের মানবিক অধিকার রক্ষায় দ্রুত এগিয়ে আসার জন্য জোরালো আকুল আবেদন জানানো হচ্ছে। জীবনের শেষ বেলায় ঝড়-বৃষ্টি আর অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচার মতো কেবল একটি ছোট্ট নিরাপদ আশ্রয়ই কনক হালদারের একমাত্র নিঃশব্দ কান্না ও আকুতি।