ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় যুবককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর গ্রামে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাপস দেবনাথ (৩০) নামে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হেফুজ মিয়া নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে বিটঘর গ্রামে নিজ বাড়ির সামনের রাস্তায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাপস দেবনাথের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান অভিযুক্ত হেফুজ মিয়া। এতে তাপসের মাথায় দুটি স্থানে গুরুতর জখম হয়। আহত অবস্থায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে মাথার ক্ষতস্থানে দশটির বেশি সেলাই দিতে হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।পরিবারের দাবি, এ হামলার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা। প্রায় তিন মাস আগে অভিযুক্ত হেফুজ মিয়া তাপস দেবনাথের পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু পরিবারটি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।শুধু তাপস দেবনাথের পরিবারই নয়, বিটঘর গ্রামের অন্যান্য হিন্দু ধর্মাবলম্বী পরিবারের কাছ থেকেও অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।এমন পরিস্থিতিতে গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজের প্রতিনিধিদের অবহিত করেন। পরে তাঁদের মধ্যস্থতায় বিষয়টির একটি সামাজিক সমাধান হয় বলে জানা যায়। এরপর অভিযুক্ত হেফুজ মিয়া কিছুদিন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।তবে সম্প্রতি তিনি পুনরায় এলাকায় ফিরে এসে চাঁদা দাবি শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তাঁর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের অবহিত করা হলে তাঁরা অভিযুক্ত ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাঁর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগকারীদের দাবি।ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চাঁদাবাজির অভিযোগ, হুমকি এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনার ঘটনা বিটঘর গ্রামের অনেক বাসিন্দারই জানা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধের মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে তাপস দেবনাথের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।